স্থানীয় যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করা এবং তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহযোগিতার অংশ হিসেবে আমানউল্লাহ পাড়া এফসির খেলোয়াড়দের মাঝে নতুন জার্সি উপহার দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আগামী ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হায়দার চৌধুরীর সৌজন্যে এসব জার্সি প্রদান করা হয়।
গতকাল রাতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমানউল্লাহ পাড়া এফসির খেলোয়াড়দের হাতে অফিসিয়াল জার্সি তুলে দেওয়া হয়। নতুন জার্সি পেয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।
দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন— AOWAL (১), SHAJAN (২), FAHIM (৩), BABU (৪), TU HIN (৭), MORSHED (১১), SHAHIL (১৩), SMAIL (১৪), AR AKASH (১৬), ASIF (১৭), MANIK (১৮), TAREK (১৯), HRIDOY (২২), SARJIL (২৪) ও EMON (২৬)।
জার্সি প্রদানকালে ইকবাল হায়দার চৌধুরী বলেন, “তরুণদের মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। আমানউল্লাহ পাড়ার কৃতি ফুটবলাররা যেন আরও ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এলাকার মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতে এই দলের যেকোনো প্রয়োজনে আমি এবং আমার সংগঠন পাশে থাকব।”
এ সময় আমানউল্লাহ পাড়া এফসির নেতৃবৃন্দ, খেলোয়াড় ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। জার্সি উপহার দেওয়ায় তারা ইকবাল হায়দার চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার অনন্তপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬ বোতল স্কাফ সিরাপসহ তানজিনা বেগম নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর শশীদল ইউনিয়নের অনন্তপুর পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামি তানজিনা বেগম (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের বালিউরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আলম খানের স্ত্রী। থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর শশীদল ইউনিয়নের অনন্তপুর পশ্চিমপাড়ায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মোখলেছের পানির ডিপের পাশের পাকা সড়ক থেকে ১৬ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই সময় তানজিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হাসনাৎ মোঃ জহিরুল ইসলাম ভূঁঞা-এর বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ হলরুমে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকবৃন্দের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে নবনিয়োগপ্রাপ্ত নবীন সহকারী শিক্ষকদের বরণ এবং ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আনিছুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ নূরুল আলম সিদ্দিকী, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ হাফিজুর রহমান চৌধুরী তুহিন, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জ্যোতিষ রঞ্জন দাশ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ একরামুল কবির এবং সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস-১২০৬৮ সহকারী শিক্ষক সমিতির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল কাদির এবং ভূনবীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছয়ফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ইয়াকুব আলী, সাবেক সভাপতি ও সদস্য মোহাম্মদ মোছাব্বির আলী (মুন্না), সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মকসুদ আলী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ শামীম আহমদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ মহিউদ্দীন জারু, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন, দৈনিক জনসংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক মোঃ জালাল উদ্দিন এবং ইউপিইটিসির ইন্সট্রাক্টর এস.এম ফয়সাল হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মীরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক চম্পক পাল এবং রাধাকৃষ্ণ মনিপুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুসরাত জাহান সুস্মিতা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অনিতা দেব। বক্তারা বিদায়ী সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হাসনাৎ মোঃ জহিরুল ইসলাম ভূঁঞা-এর দায়িত্বকালীন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন। পরে তাঁর হাতে স্মরণীয় সম্মাননা স্মারক ও আকর্ষণীয় ক্রেস্ট তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। এ সময় নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী এলাকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী নুরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে কক্সবাজার আল ফুয়াদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন হোয়াইক্যং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইন।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) তিনি কক্সবাজার আল ফুয়াদ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন নুরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তার চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইন- নুরুল ইসলামের দ্রুত সুস্থতা ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করেন। পাশাপাশি তার চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও নুরুল ইসলামের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নুরুল ইসলামের দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।
গাজীপুরের সারদাগঞ্জে পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ কম্বল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে ৫ জন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ আয়নাল মার্কেটের পশ্চিম পাশে একটি বসতবাড়িতে গতকাল রাতে দুটি বাসে করে আনা হয় বিপুল পরিমাণ কম্বলের চালান। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। উদ্ধার করা হয় প্রায় দুই ট্রাকভর্তি কম্বল এবং সেগুলো পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি বাস।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে, যাদের মধ্যে রয়েছে ওয়াসিম নামে এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি সংঘবদ্ধ চোরাই বা অবৈধ কেনাবেচা চক্রের কাজ।
এই ঘটনার মূলহোতা কে, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কাশিমপুর থানা পুলিশ। মালামালগুলোর প্রকৃত উৎস, আসল মালিক এবং কী উদ্দেশ্যে এখানে আনা হয়েছিল—সবকিছুর রহস্য উন্মোচনে আটককৃতদের চলছে জোর জিজ্ঞাসাবাদ।
আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বের হয়ে আসবে এই ঘটনার আসল নেপথ্য কাহিনি।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের মানুষের নানা সমস্যা ও সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ প্রকাশ করে আসা সাংবাদিক নাদিরুজ্জামান আজমল নিজের সাংবাদিকতা, অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক মানসিক ক্লান্তির কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘মানুষের কথা বলতে গিয়ে একদিন একা হয়ে গেলে সাহস দেবে কে?’
পোস্টে নাদিরুজ্জামান আজমল লেখেন, গত কয়েক দিন ধরে তিনি নিজেকেই প্রশ্ন করছেন—‘আমি কি সত্যিই থেমে যাব?’
তিনি জানান, একটা সময় কোনো ঘটনা ঘটলেই তার ভেতর থেকে তাগিদ আসত বিষয়টি নিয়ে লিখতে হবে। মানুষের সমস্যা তুলে ধরতে হবে। যে মানুষটি নিজের কথা বলতে পারছেন না, তার হয়ে অন্তত কয়েকটি শব্দ লেখার চেষ্টা করতে হবে।
অষ্টগ্রামের সড়কের দুরবস্থা, মানুষের দুর্ভোগ, কৃষকের সমস্যা, স্বাস্থ্যসেবার সংকট ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ করেছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অন্যায়ের শিকার মানুষের কথাও তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বলে জানান।
তবে সবসময় এসব প্রতিবেদন বা প্রশ্নের পর কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাননি বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, অনেক সময় লিখেছেন, কিন্তু কোনো উত্তর আসেনি; প্রশ্ন করেছেন, কিন্তু পেয়েছেন নীরবতা। মানুষের জন্য দাঁড়ানোর পর সেই মানুষদের অনেককেই পরে পাশে না পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নাদিরুজ্জামান আজমল বলেন, সাংবাদিকতা তার কাছে শুধু পেশা নয়; মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মাধ্যম এবং নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকার চেষ্টা।
সাংবাদিকতা করতে গিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ও সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে ব্যক্তিগত আক্রোশ, প্রশ্ন তুললে কারও ইন্ধনে কাজ করা কিংবা অনিয়ম তুলে ধরলে শত্রুতার অভিযোগ ওঠে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘তাহলে একজন সাংবাদিক একসময় নিজের কাছেই প্রশ্ন করে, আমি আসলে কার জন্য লিখছি?’
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আজমল বলেন, কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত যুদ্ধ করা তার উদ্দেশ্য নয়। কাউকে ছোট করা বা অপমান করে নিজেকে বড় করার ইচ্ছাও নেই। অষ্টগ্রামের সাধারণ মানুষের কথা আরও দূরে পৌঁছে দেওয়াই তার উদ্দেশ্য।
হাওরের মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন সংকটের কথাও পোস্টে তুলে ধরেন তিনি। বর্ষায় মানুষের জীবনযাপন, পানি কমে গেলে যোগাযোগের দুর্ভোগ, রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ভোগান্তি এবং কৃষকদের অনিশ্চয়তার বিষয়গুলো সামনে আনার কথা উল্লেখ করেন।
তার মতে, একটি সংবাদ দিয়ে পৃথিবী বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে একটি সংবাদ কখনো একজন মানুষের জন্য একটি দরজা খুলে দিতে পারে। একটি প্রতিবেদন কোনো কর্তৃপক্ষকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করতে পারে। আবার একটি প্রশ্ন এমন কোনো বিষয় সামনে আনতে পারে, যা অনেকেই দেখেও এতদিন না দেখার ভান করেছেন।
দীর্ঘদিনের এই পথচলায় বর্তমানে কিছুটা ক্লান্তি এসেছে জানিয়ে আজমল লিখেছেন, কখনো কখনো মনে হয় সব ছেড়ে দেবেন। কলম পাশে রেখে দেবেন, ক্যামেরা বন্ধ করে দেবেন এবং আর কোনো অভিযোগ শুনবেন না।
তবে অষ্টগ্রামের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অষ্টগ্রাম শুধু একটি উপজেলা নয়—এটি তার জন্মস্থান, কর্মক্ষেত্র এবং নিজের মানুষের জায়গা। তাই চাইলেও পুরোপুরি দূরে সরে যেতে পারবেন না।
নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি চুপ থাকলেও মানুষের সমস্যাগুলো কি থেমে থাকবে? অন্যায় কি থেমে যাবে? তার উত্তর—না।
সাংবাদিকতা কোনো পদ-পদবি, পুরস্কার কিংবা কাউকে খুশি করার জন্য করেননি বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন আজমল। তার ভাষায়, নিজের ভেতরের তাগিদ থেকেই তিনি লিখেছেন।
পোস্টের শেষদিকে তিনি লেখেন, ‘একজন সাংবাদিক যদি মানুষের কথা বলতে গিয়ে একদিন একা হয়ে যায়, তাহলে তাকে কে সাহস দেবে?’ এ প্রশ্নের উত্তর তিনি জানেন না। তবে এমন একজনের অপেক্ষায় আছেন, যিনি একদিন এসে বলবেন—‘ভাই, আপনি থামবেন না। আপনি লিখুন। আমরা আপনার সঙ্গে আছি।’
মানুষের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আহত, ক্লান্ত বা অভিমানী হতে পারেন, কিন্তু অষ্টগ্রামের মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতাকে সহজে শেষ করে দিতে পারবেন না।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লিখেছেন, ‘আমি জানি না আমি থামব কি না। তবে এটুকু জানি, আমাকে থামিয়ে দিলেও মানুষের প্রশ্নগুলো থামবে না।’
শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেওয়া ওই ফেসবুক পোস্টের পর সাংবাদিকতা ও অষ্টগ্রামের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার দীর্ঘদিনের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রেস-ক্লাব ট্রাস্টের, ঢাকা বিভাগ এর দক্ষিণ-অঞ্চলের, ফরিদপুর জেলার (সাবেক) ৫ জেলা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর শরীয়তপুর এই জেলা গুলোর প্রধান কার্যালয় এখন ফরিদপুরের বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রেস-ক্লাব ট্রাস্টের সেন্ট্রাল (চেয়ারম্যান) মাননীয়, জনাব: লায়ন মোঃ হেলাল উদ্দিন হিলু স্যার ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মোঃ মাসুম বিল্লাহ স্যার, এই দুইজনের সমতিক্রমে এই পাঁচ জেলার প্রধান কার্যালয় ফরিদপুর ঘোষণা করেন, এই কমিটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন, জনাব- এ, এফ, এম, কাইয়ুম জঙ্গি সিনিয়র- সাংবাদিক ও জেনারেল-সেক্রেটারি নির্বাচিত হলেন, প্রবীর কুমার তালুকদার সুজিৎ, সিনিয়র-সাংবাদিক, এই পাঁচটি জেলা সহ সকল উপজেলায় কমিটি নিয়োগ সহ সকল প্রকার নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া হইল, প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল সেক্রেটারি দয়দেরকে, তাই কমিটির প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল-সেক্রেটারি, আন্তর্জাতিক প্রেস-ক্লাব ট্রাস্টের মাননীয় (চেয়ারম্যান) জনাব, লায়ন মোঃ হেলাল উদ্দিন হিলু স্যার ও সিনিয়র (যুগ্ম-মহাসচিব) মোঃ মাসুম বিল্লাহ স্যারকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ যাপন করছে, বলে জানিয়েছেন। এদিকে আন্তরিক প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের পক্ষ থেকে এই পথচলা কে স্বাগত জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন সাংবাদিক গড়তে সকলে মিলে সুন্দর একটা বাংলাদেশ গড়বো। ইনশাআল্লাহ!
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা মডেল থানার একটি চোরাচালান মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি মামুন রশিদ (৪০)কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার আনু ফকির দোকান বাজার এলাকার বাসু দাশের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-৩ (বান্দরবান ক্যাম্প) এর একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মামুন রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতকানিয়া উপজেলার ৭ নম্বর মাদার্শা ইউনিয়নের মধ্যম মাদার্শা এলাকার মৃত জাগির হোসেনের ছেলে।
মামলার নথি অনুযায়ী, পতেঙ্গা মডেল থানার চোরাচালান মামলায় আদালত মামুন রশিদকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দেওয়া হয়।
এসআরবি-১৫-এর ভাষ্য, রায় ঘোষণার পর প্রায় ২১ বছর ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে নাম-পরিচয় পরিবর্তন করে পলাতক ছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর মামুন রশিদকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুমিল্লা গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ, রাস্তা ও নগরীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের প্রধান রতনসহ ৫৯ জনকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ, রাস্তা ও নগরীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ রতনসহ ৫৯ জনকে গ্রেফতার করে।
ওসি জানান, কুমিল্লা নগরীর মিশনারি স্কুলের সামনে ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাহাদাত হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামি ও কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের প্রধান রতনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর রতনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, রতনের বিরুদ্ধে শাহাদাত হত্যা মামলাসহ অস্ত্র ও অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রতন পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন।
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ওসি তৌহিদুল আনোয়ার।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে মিশনারি স্কুলের সামনে কিশোর গ্যাংয়ের ‘ঈগল গ্রুপ’ ও ‘রতন গ্রুপের’ মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় শাহাদাত নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় রতনকে প্রধান আসামি করা হয়।
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে নির্জন স্থানে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুটিকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কিশোরকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে ভূল্লী থানা পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ভূল্লী উপজেলার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের লাউথুতি নরেশ মেম্বারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় শিশুটি বাড়িতে খেলছিল। পাশের বাড়ির একটি শিশুর ডাকে সে বাইরে খেলতে যায়। একপর্যায়ে সবার অগোচরে অভিযুক্ত কিশোর হৃদয় বর্মন শিশুটিকে বাড়ির পেছনের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। শিশুটির চিৎকার শুনে তার মা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি। ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতেই ছিল। পরে বৃহস্পতিবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত হৃদয় বর্মন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের দেউলি রথবাজার এলাকার বৈশাখু বর্মনের ছেলে। সে ভূল্লীতে তার নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভূল্লী থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ অক্টোবর শনিবার ভোরে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ এলাকা থেকে হৃদয় বর্মনকে গ্রেপ্তার করে। ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কিশোরকে বীরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।