October 28, 2026

মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রাম সদরে নিজ শোয়ার ঘর থেকে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ( ১ অক্টোবর ) সকালে লাশ উদ্ধার করে পুলিশকে সংবাদ দেয় স্থানীয়রা।

সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বালাকুড়া মাদ্রাসা পাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবকের নাম নাজমুল ইসলাম (২২) । সে ওই এলাকার নজরুল ইসলামের নাতি। জন্মের পর থেকে সে তার নানার বাড়িতে থাকে। নাজমুল ইসলাম খলিলগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি দিনমজুরি কাজ করে সে।

পরিবারের দাবি আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু কি কারণে করেছে তা কেউ জানাতে পারেনি। পরিবারের কারো সাথে কলহের বিষয়েও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্ত কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম থানার এস আই আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাস্থলে আমি আছি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা আত্মহত্যা।

কুড়িগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়না তদন্ত হবে না।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

মিঠাপুকুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয়-এর নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আজ ৩০শে সেপ্টেম্বর সকালে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের উচ্চশিক্ষা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং অবকাঠামোর টেকসই ও সুষম উন্নয়নে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির সাথে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন কেবল সাধারণ নির্মাণকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘস্থায়ী, মানসম্মত এবং পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। তিনি তাঁর বক্তব্যে ঐতিহ্যবাহী মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয়ের বিভিন্ন গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও উন্নয়নমূলক চাহিদার কথা প্রতিমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এমপি গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এবং মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন আবশ্যক। নতুন এই একাডেমিক ভবন নির্মাণের ফলে এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক সাইফুল ইসলাম এবং মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম নিক্সন। এছাড়াও এলজিইডির প্রকৌশলীবৃন্দ, মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তাঁর বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন, জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন করা আমাদের লক্ষ্য।অবকাঠামোগত যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম, ধীরগতি বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা পরিষদ ও এলজিইডির সমন্বিত প্রচেষ্টায় রংপুরের গ্রামীণ যোগাযোগ ও শিক্ষা অবকাঠামো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আলোচনা সভা শেষে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলক উন্মোচন করে নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সবশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, অগ্রগতি এবং নির্মাণাধীন প্রকল্পের সফল সমাপ্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, কক্সবাজার,

কক্সবাজারের টেকনাফে তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি সৈয়দ হাছান ওরফে হোছনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) জাদিমুড়া ক্যাম্প।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে জাদিমুড়া বাজারসংলগ্ন ফারুকের বিকাশ দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৬ এপিবিএনের জাদিমুড়া ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি সৈয়দ হাছানকে আটক করা হয়। পরে তাকে ক্যাম্পে নেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার সৈয়দ হাছান জাদিমুড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখের সাজা পরোয়ানা নং-৪০/২৬ জারি হয়। মামলার জিআর নম্বর ৬০৯/১৩ (টেকনাফ) এবং বৈদেশিক নাগরিক সম্পর্কিত আইনের ১৪ ধারায় তাকে তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে বলে এপিবিএন সূত্র জানিয়েছে।

পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় জাদিমুড়া এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

আল-মামুন খান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :

একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রথম ধাপ প্রাথমিক শিক্ষা। জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি তৈরি হয় এই স্তরেই। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কোথাও শিক্ষকের অনিয়মিত উপস্থিতি, কোথাও পাঠদানে অনীহা, আবার কোথাও প্রশাসনিক দুর্বলতা—সব মিলিয়ে সংকটে পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষক নিয়মিত ও নির্ধারিত সময়ে পাঠদান করেন না। কেউ দেরিতে বিদ্যালয়ে আসেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় সময় পাচ্ছে না এবং তাদের শেখার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।

শুধু উপস্থিতিই নয়, পাঠদানের মান নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া পাঠদান, শিক্ষার্থীদের বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী পাঠ উপস্থাপন না করা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত মনোযোগের অভাবে অনেক শিশু ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা হওয়া উচিত আনন্দময়, অংশগ্রহণমূলক ও শিশুবান্ধব। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে একঘেয়ে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হলে তাদের শেখার আগ্রহ কমে যেতে পারে।

দেশে প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়লেও বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের অনেক শিশু বিভিন্ন কারণে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার আগেই ঝরে পড়ে।

অভিভাবকদের একটি অংশের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষা, বই ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থাকলেও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত না হওয়ায় তারা সন্তানদের বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহী হচ্ছেন। অনেক পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও সন্তানের ভালো শিক্ষার আশায় বাড়তি খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

কিছু বিদ্যালয়ে সরকারি বরাদ্দ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অভিযোগও রয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কারণ নির্দিষ্ট কোনো বিদ্যালয় বা শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ তুলে ধরা যেমন অনুচিত, তেমনি অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত না করাও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।

অভিভাবকদের অভিযোগ, কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশও যথাযথভাবে বজায় রাখা হয় না। বিদ্যালয়কে শিশুবান্ধব ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ব্যক্তিগত বা আবাসিক পরিবেশের মতো ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ঘাটতি, কর্মপরিবেশ ও অন্যান্য বাস্তব সমস্যাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তাই শুধু শিক্ষকদের দায়ী না করে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক ও শিশুবান্ধব পাঠদান পদ্ধতি, কার্যকর মূল্যায়ন এবং ভালো কাজের জন্য প্রণোদনার পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি, সরকারি বরাদ্দের ব্যবহার এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ—সবকিছু নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে।

অভিভাবকদের অভিযোগ ও মতামত গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থাও থাকা দরকার। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।

প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। এই ভিত্তি দুর্বল হলে দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব পড়ে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর। তাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় এবং মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি সেই বিনিয়োগের সুফল শিশুদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না—তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা প্রশাসন, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী—সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। জবাবদিহিমূলক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠলেই প্রাথমিক শিক্ষা সত্যিকার অর্থে জাতির শক্ত ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ:

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা- ২০২৬ উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলার পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

আজ বুধবার দুপুর ১৪.০০ ঘটিকায় উপস্থিত ছিলেন, গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে আসন্ন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা- ২০২৬ অত্যন্ত আনন্দমুখর, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এক বিশেষ সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ হাবীবুল্লাহ, বিপিএম-সেবা, পুলিশ সুপার, গোপালগঞ্জ।

জেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সুসংহত রাখার লক্ষ্যে সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে । পুলিশ সুপার মহোদয় জানান, প্রতিটি পূজা মন্ডপকে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। পূজা চলাকালীন মন্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পোশাকধারী পুলিশ এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিতে সাদা পোশাকে বিশেষ দল নিয়োজিত থাকবে।

এছাড়াও তিনি প্রতিমা বিসর্জনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও রুট কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনাসহ প্রতিটি মন্ডপসমূহে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন কমিটিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব বা উসকানিমূলক পোস্ট ছড়িয়ে যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে না পারে, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে। কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং গোপালগঞ্জ পুলিশ কন্ট্রোল রুম ০১৩২০১০০২৯৮ -এ যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে একটি উৎসবমুখর, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পূজা উদযাপনে গোপালগঞ্জ জেলার সকল স্তরের নাগরিক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যম কর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন পুলিশ সুপার, গোপালগঞ্জ।

উক্ত সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তাদির হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার

কাবাডির মাঠে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কালীগঞ্জের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম। জাতীয় আন্তঃস্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কাবাডি ইভেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে সে এ সাফল্য অর্জন করে। জারিনের এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জাতীয় আন্তঃস্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কাবাডি ইভেন্টে অংশ নেয় মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম। ঢাকা শাহ্ আলী থানা জাতীয় আন্তঃস্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ৫৩তম জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সে নিজের দক্ষতা ও ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখে। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপে দারুণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জারিন তাসনিম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ শাহ্ আলী থানা জাতীয় আন্তঃস্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সনদপত্র তুলে দেন।
জারিন তাসনিমের এ সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকেরা তার অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য কামনা করেন।
জারিন তাসনিম জানায়, জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া তার জন্য গর্বের ও আনন্দের। ভবিষ্যতে কঠোর পরিশ্রম ও অনুশীলনের মাধ্যমে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করে দেশের সুনাম বয়ে আনতে চায় সে। জারিনের এই সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, তার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও গর্বের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোহাম্মদ সবুর শেখ, ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার ফুলতলায় বিভিন্ন প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে লাইসেন্সসহ বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানের বৈধ লাইসেন্স না থাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফুলতলা উপজেলায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফুলতলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশতিয়াক আহমেদ এবং সহকারী সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল্লাহ আরাফাত।
অভিযানকালে ফুলতলার শতাব্দী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বৈধ লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে অভিযান চলাকালে ইউএফএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ পাওয়া যায়। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ অভিযানের সময় গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, এ গফুর মেমোরিয়াল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ আজকের অভিযানে যাচাই বা নিষ্পত্তি করা হয়নি। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সঠিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, বুধবারের অভিযানটি মূলত প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর লাইসেন্স ও অনুমোদন যাচাইকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তীতে আলাদাভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম বন্ধে এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু কাগজপত্র যাচাই নয়—স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর চিকিৎসাসেবার মান, অনুমোদন ও রোগীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হোক।

এ আর আল মামুন, স্টাফ রিপোর্টার।

গাজীপুর মহানগরের গাছা মেট্রো থানার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন নিজ এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়ে মাদক নির্মূলে চলমান সরকারি উদ্যোগের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন।
কামাল উদ্দিন বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। মাদকের বিরুদ্ধে নিজের আত্মীয়-স্বজনসহ কারও ক্ষেত্রেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদার করতে হবে।
মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি আফজাল মিয়া

বিশ্বনাথে দি ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটালের উদ্যোগে ও হাসপাতালের ফাউন্ডার মেম্বার, যুক্তরাজ্যের রাজপরিবার কর্তৃক ডেপুটি ল্যাফটেনেন্ট খেতাব প্রাপ্ত প্রবাসী কমিউনিটি নেতা মাকরাম আলী আফরোজের অর্থায়নে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হতদরিদ্রসহ বিভিন্ন শ্রেণীর প্রায় সাড়ে ৫ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে ব্যবস্থাপত্র ও ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে নির্মাণাধীন দি ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটালে উক্ত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চক্ষু, হৃদরোগ,মেডিসিন, ডায়াবেটিস, এলার্জি, গাইনিসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। দি ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটালের উদ্যোগে নিজ এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পেয়ে খুশি সেবা গ্রহনকারীরা।

দি ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ডাক্তার শানুর আলী মামুনের সভাপতিত্বে মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. নাসির উদ্দিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের সিভিল সার্জন বলেন, হাসপাতালের নাম শুনে খুব ভাল লেগেছে। আমি দাওয়াত পেয়ে বলেছি হাসপাতালে যাব। প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাসপাতাল হয় এটা কিন্তু আপানাদের জন্য গর্বের বিষয়। এখানে যারা ভূমি দাতা ও অন্যান্য দানশীল ব্যক্তিরা আছেন আমি সবাইকে বলব এখানে একটি হাসপাতাল হলে এটার মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে। গবীর-অসহায় মানুষেরা চিকিৎসা সেবা পাবে। আমার স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আমি সব ধরনের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। আমি চাই এটা জনগণের স্বাস্থ্য সেবার আওতায় আসুক।
দি ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটালের বিশ^নাথ কো-অর্ডিনেটর, সাংবাদিক তজম্মুল আলী রাজু’র পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ^নাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাশেম, প্রধান বক্তা বক্তব্য রাখেন হসপিটালের বাংলাদেশ কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর, বিশিষ্ঠ চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী, ওয়ান পাউন্ড হসপিটালের সাবেক ট্রাস্টি ও ফাউন্ডার মেম্বার শেখ হারুনুর রশীদ, হাসপাতালের পেট্রন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সুলেমান খান, ফাউন্ডার মেম্বার রফিক মিয়া, হসপিটালের স্থানীয় উপদেষ্ঠা ও বিশ^নাথ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার, যুক্তরাজ্য প্রবাসী লাকি মিয়া, রাগীব-রাবেয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহাব, সন্ধানী ডায়াগনস্টির সেন্টারের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আবু নাছের, সমাজসেবক আসাদুজামান নূর আসাদ, রুমেল আলী, দিলোয়ার হোসেন সজিব, আব্দুস শহিদ, আব্দুল হালিম শিকদার, আব্দুল মালিক শিকদার, বিআরবি ক্যাবলের ডিজিএম খন্দকার আবুল কালাম আজাদ। দি ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ডাক্তার শানুর আলী মামুন তাঁর বক্তব্যে বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে হসপিটাল চালু না হওয়া পর্যন্ত এরকম মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে এই প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য সেবায় এই অঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, হসপিটালের অফিস সেক্রেটারি ও হিসাব রক্ষক গোলাম মোস্তফা, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অফিসার ওহিদুর রহমান সাগরসহ বিশ^নাথ থানা পুলিশের কর্মকর্তাবৃন্দ।
ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাক্তার জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী, প্রফেসর ডাক্তার আব্দুল মজিদ মিয়া, জি এম আনোয়ার হোসাইন, প্রফেসর ডাক্তার ফাতেমা বেগম মিলি, সাইফুর রহমান রিপন, মাহমুদুল আমীন, ডাক্তার এম. শানুর আলী মামুন, ডাক্তার এম এ কুদ্দুছ চৌধুরী, ফারহানা বেগম সুমা।

মোঃ আফজাল মিয়।
সিলেট বিশ্বনাথ উপজেলা সংবাদদাতা
বিশ্বনাথ পৌরসভা
মোবাঃ ০১৭২৬৬৬০০০০।

লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ:

সাংবাদিক ফাতেমার হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি,
বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ-অবিলম্বে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের আহ্বান।
বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অর্থ ও দপ্তর সম্পাদিকা মোছাম্মদ ফাতেমা আক্তারকে গাজীপুরে নিজ বাসার সামনে সন্ত্রাসীরা বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুরুতর আহত ফাতেমা আক্তার বর্তমানে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
একজন সাংবাদিক নেত্রীকে তাঁর নিজ বাসার সামনে প্রকাশ্যে হামলা ও মারধরের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে, শারীরিকভাবে আঘাত করে কিংবা হামলার মাধ্যমে তাদের পেশাগত দায়িত্ব থেকে দূরে রাখার যে কোনো অপচেষ্টা গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশের জন্য হুমকি।
অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি
ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় যদি দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে। তাই তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে নিরপেক্ষভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সংগঠনের সভাপতি
কে এম আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রাসেল, সহসভাপতি এম টি রহমান মাহমুদ ও মহিলা সম্পাদিকা তাহমিনা মাহমুদ সহ সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ফাতেমা আক্তারের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কে এম আবুল হোসেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সাংবাদিকরা মানুষের কথা বলেন, অন্যায়-অনিয়ম তুলে ধরেন এবং সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি জনসম্মুখে আনেন। সেই সাংবাদিকই যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে সাধারণ মানুষের অধিকার ও সত্য প্রকাশের পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন এখন সময়ের দাবি’
কে এম আবুল হোসেন একই সঙ্গে দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হামলা, হুমকি ও হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং বিচার নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা শুধু সাংবাদিক সমাজের দাবি নয়-এটি স্বাধীনভাবে তথ্য প্রকাশ, জনগণের জানার অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিরাপত্তাহীনতায় সাংবাদিক সমাজ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নানা ধরনের চাপ, হুমকি ও হামলার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে।
গণমাধ্যমকর্মীদের মতে, একটি সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক আক্রান্ত হলে তার প্রভাব শুধু ব্যক্তির ওপর পড়ে না; এর মাধ্যমে অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। ফলে অনুসন্ধানী ও সাহসী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার ঘটনাতেও দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম।
হামলার বিচার না হলে প্রশ্ন উঠবে নিরাপত্তা নিয়ে
একজন সাংবাদিক নেত্রী নিজ বাসার সামনে হামলার শিকার হয়েছেন-এমন অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। হামলার প্রকৃত কারণ, কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনে কোনো পেশাগত বা ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কি না-তদন্তে তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমাণের আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম একই সঙ্গে আহত ফাতেমা আক্তারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে এবং তাঁর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দেওয়ার জন্য হামলা কোনো সমাধান নয়। সত্য প্রকাশের পথ নিরাপদ রাখা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারই এখন সাংবাদিক সমাজের প্রধান দাবি। একজন নারী সাংবাদিক তাঁর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্নীতি সন্ত্রাস বিভিন্ন মুখোশ উন্মোচনের জন্য কাজ করেন সমাজকে আলোকিত করতে। নারী সাংবাদিকের উপর যারা হামলা চালিয়েন অতি দ্রুত আইনের আওতায় এনে এদের বিচার দাবী সাংবাদিক সমাজ। হোক প্রতিবাদ!