October 28, 2026

খেলাধুলা

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আন্তঃবিভাগ দাবা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

আজ সোমবার ( ২৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান।

এ সময় অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদের, কাজেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সুন্দর করে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করবো একটু একটু করে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

সমাজবিজ্ঞান বনাম বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বনাম ফিশারিজ ও মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই দাবা প্রতিযোগিতায় মোট ৩২টি দল অংশগ্রহণ করছে। শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তর আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬।

নীলফামারী প্রতিনিধি:

খেলাধুলা যুবসমাজকে মাদক ও জুয়া থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে নীলফামারী শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ফ্রেন্ডস ব্যাচ-২১ আয়োজিত সিক্স-এ-সাইড ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

টুর্নামেন্টে ২৪টি দল অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে শাহীপাড়া ব্রাজিল টি স্টল ফুটবল একাদশ ১-০ গোলে সিংদই মাঝাপাড়া ফুটবল একাদশকে হারায়।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

দূর্গাপূজার বিজয়া দশমীর আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘাঘর নদীতে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

এ নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দু’পাড়ে কয়েক হাজার লোকের সমাগম ঘটে।

শত বছরেরও বেশী সময় ধরে চলে আসা এ নৌকা বাইচ প্রতিবছর বিজয়া দশমীর দিনে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের আয়োজন ছাড়াই এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

এ বছর কোটালীপাড়ার আশপাশের এলাকা ছাড়াও মাদারীপুর বাগেরহাট, বরিশাল জেলা থেকে অসংখ্য দর্শক এ নৌকা বাইচ উপভোগ করতে আসেন। এ বাইচে অংশ নিয়ে ছিল ১৪ টি বাচারী নৌকা।

নান্দনিক এ নৌকা বাইচ দেখার জন্য প্রতি বছর এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করে নানা ধর্ম বর্ণের মানুষ।

কোটালীপাড়ার অনেকে গ্রামের বাইরে গিয়ে নানা কাজে জীবন যাপন করেন। কিন্তু, এদিন তারা পরিবার নিয়ে কাটান একেবারেই গ্রাম্য পরিবেশ আর গ্রামীন সাংস্কৃতির সঙ্গে।

কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার হাওলাদার বলেন, কথিত আছে যে আজ থেকে প্রায় দেড়শত বছর আগে যশোরের বিঘাপতির জমিদার খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ঘাঘর নদীতে দূর্গা পূজার বিজয়া দশমীর দিন এখানে মেলা ও নৌকা বাইচের আয়োজন করেছিলেন। সেখান থেকেই প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় এখানে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

কোটালীপাড়া উপজেলার সকল ধর্মের জনগন এই নৌকা বাইচে অংশ গ্রহন করেন।

গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, নদী খাল বিল বেষ্টিত কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শত বছর ধরে বিশ্বকর্মা, দূর্গা ও লক্ষ্মী পূজায় নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এই বাইচ কেউকে আয়োজন করতে হয় না। এই নৌকা বাইচে কাউকে পুরস্কারও দেওয়া হয় না।কোটালীপাড়ার এই নৌকা বাইচ একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন। আগামীতে এই নৌকা বাইচ যাতে টিকে থাকে আমি সে বিষয়ে সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

নিউজ ডেস্ক:

আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। ম্যাচটি আয়োজনের পেছনে আর্থিক উদ্দেশ্য রয়েছে—এমন আশঙ্কা থেকেই শুরুতে এই ম্যাচে খেলতে আগ্রহী ছিলেন না আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

বুধবার ভোরে বুয়েনস এইরেসে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষবার মাঠে নামবেন মেসি। এটিই জাতীয় দলের হয়ে তার ২০৮তম ও শেষ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।

মেসির বিদায়ী ম্যাচের প্রতিপক্ষ হতে রাজি হয়েছে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ৯৩ নম্বরে থাকা বেনিন। তবে ম্যাচটি আয়োজনের বিষয়ে মেসি ও আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি—দুজনেরই শুরুতে কিছুটা আপত্তি ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইতালির সংবাদমাধ্যম গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ট জানিয়েছে, বিদায়ী ম্যাচটির আর্থিক উদ্দেশ্য নিয়ে মেসির আপত্তি ছিল। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসির মনে হয়েছিল—আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তার জনপ্রিয়তা ও নাম ব্যবহার করে আরও একবার বিপুল অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসি শুরুতে বিদায়ী ম্যাচের ধারণা নিয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। তার আশঙ্কা ছিল, তার বিদায়কে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি খেলতে সম্মতি দেন মেসি। আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনা ঘরের মাঠে কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গাজেত্তার দাবি, এএফএ এমন প্রতিপক্ষ খুঁজে বের করতে কলম্বিয়ার একটি এজেন্সিকে দায়িত্ব দিয়েছিল, যারা ম্যাচ খেলার জন্য কোনো পারিশ্রমিক দাবি করবে না।

বেনিনও মেসির বিদায়ী ম্যাচে খেলতে সম্মতি দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসির মতো একজন কিংবদন্তির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের অংশ হতে পারাটাকেই তারা বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখেছে।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অনন্য মেসি

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানেও তিনি অনন্য। ২০৮ ম্যাচ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০-এর বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের তালিকায় তিনি অন্যতম।

জাতীয় দলের হয়ে মেসি বিশ্বকাপের পাশাপাশি দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছেন। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জয় করে।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির গোলসংখ্যা ১২৫, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার চেয়ে তার গোল ৬৯টি বেশি।

জাতীয় দলের হয়ে মেসির ম্যাচ সংখ্যাও অনন্য। আর্জেন্টিনার হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলেছেন জাভিয়ের মাসচেরানো। তার চেয়ে মেসি ৬১টি বেশি ম্যাচ খেলেছেন।

মেসির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদরিচও দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মদরিচ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যায় মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও তৈরি করেছেন।

আবেগঘন বিদায়

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্তকে বেদনাদায়ক বলেছিলেন মেসি। তার ভাষায়, আর্জেন্টিনাকে দেওয়ার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।

অবসরের সিদ্ধান্তের সময় মেসি বলেছিলেন, তিনি সবসময় আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন। শুধু সাম্প্রতিক সময়ে শিরোপা জয়ের সময় নয়, তার আগেও জাতীয় দলের হয়ে তিনি সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করেছেন।

মেসির কথায়, দেশের মানুষকে আনন্দ দেওয়া এবং ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টাইন হওয়ার গর্ব অনুভব করানোই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও অসংখ্য ব্যক্তিগত অর্জনের পর মেসির বিদায়ী ম্যাচ তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়; এটি আর্জেন্টিনা ও বিশ্ব ফুটবলের একটি স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
নদীমাতৃক বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাথে লোকজ উৎসব ‘নৌকা বাইচ’ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একসময় বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ বাংলায় যখন চারিদিক জলে ভেসে যেত এবং কৃষিভিত্তিক জীবনে কর্মহীনতার একটি অলস সময় তৈরি হতো, তখন বিনোদন আর সামাজিক ঐক্যের প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠত নদীবক্ষে বাইচের নৌকার গর্জন। তবে কালক্রমে নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্যবাহী বাইচের নৌকা আর সারিগানের মধুর সুর আজ বিলুপ্তির পথে। এই ম্লান হতে বসা ঐতিহ্যকে পুনরায় নতুন উদ্যমে জাগিয়ে তুলেছে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বাগুয়ার চর গ্রামের “মায়ের দোয়া” নৌকা ও তার দামাল বাইছারেরা। বাগুয়ার চর গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরেই খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় পুরো অঞ্চলে বিশেষ পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তারা যা করে দেখিয়েছে, তা শুধু নিজেদের গ্রামের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো রৌমারী উপজেলা তথা কুড়িগ্রাম জেলাকে দেশজুড়ে এক অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। সম্প্রতি নিজস্ব উদ্যোগ ও স্থানীয়দের সাহসিকতায় বাগুয়ার চরের “মায়ের দোয়া” নৌকা বাইচ দল রৌমারী থেকে দূরবর্তী মানিকগঞ্জে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এবং সেখানে দেশের বাঘা বাঘা নৌকাকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এই অর্জনের পেছনের পথটি একেবারেই মসৃণ ছিল না। রৌমারী থেকে মানিকগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার। একটি বিশাল বাইচের নৌকা নিয়ে এই দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করতে তাদের সময় লেগেছে টানা তিন দিন! উত্তাল নদীপথে প্রতিকূল আবহাওয়া, বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, বাইছারদের ঠিকমতো খাওয়ার ও বিশ্রামের অভাব এবং পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্নতার মতো বহুবিদ সংকট মোকাবিলা করে তারা গন্তব্যে পৌঁছায়। এমনকি প্রতিযোগিতা শেষে স্রোতের প্রতিকূলে নদীপথে বাড়ি ফিরতেও সময় লেগেছে প্রায় পাঁচ দিন। এমনি এক বোঝা কষ্ট ও অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কেবল অদম্য ইচ্ছাশক্তি, দৃঢ় মানসিক সংকল্প এবং সামাজিক ঐক্যের মাধ্যমেই সম্ভব। বাগুয়ার চরের বাইছার ও পরিচালনা কর্তৃপক্ষ প্রমাণ করেছেন—ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও ঐতিহ্যকে ভালোবাসার শক্তি থাকলে যেকোনো অসাধ্যকে সাধন করা যায়। আজ যখন গ্রামীণ খেলাধুলা ও উৎসব হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন বাগুয়ার চরের এই উদ্যম আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখায়। জেলা ও উপজেলাবাসীর উচিত এই সাহসী ও ঐতিহ্যপ্রেমী দলটির পাশে দাঁড়ানো, তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং মানসিকভাবে উৎসাহিত করা। “মায়ের দোয়া” নৌকার সকল বাইছার, পরিচালক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি রৈল আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। আগামী দিনেও নদীবক্ষে বাগুয়ার চরের “মায়ের দোয়া” বিজয়ের নিশান উড়িয়ে কুড়িগ্রামের নাম আরও উঁচুতে তুলে ধরুক—এই প্রত্যাশা।

চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি: আহমদ রেজা

স্থানীয় যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করা এবং তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহযোগিতার অংশ হিসেবে আমানউল্লাহ পাড়া এফসির খেলোয়াড়দের মাঝে নতুন জার্সি উপহার দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আগামী ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হায়দার চৌধুরীর সৌজন্যে এসব জার্সি প্রদান করা হয়।

গতকাল রাতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমানউল্লাহ পাড়া এফসির খেলোয়াড়দের হাতে অফিসিয়াল জার্সি তুলে দেওয়া হয়। নতুন জার্সি পেয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন— AOWAL (১), SHAJAN (২), FAHIM (৩), BABU (৪), TU HIN (৭), MORSHED (১১), SHAHIL (১৩), SMAIL (১৪), AR AKASH (১৬), ASIF (১৭), MANIK (১৮), TAREK (১৯), HRIDOY (২২), SARJIL (২৪) ও EMON (২৬)।

জার্সি প্রদানকালে ইকবাল হায়দার চৌধুরী বলেন, “তরুণদের মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। আমানউল্লাহ পাড়ার কৃতি ফুটবলাররা যেন আরও ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এলাকার মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতে এই দলের যেকোনো প্রয়োজনে আমি এবং আমার সংগঠন পাশে থাকব।”

এ সময় আমানউল্লাহ পাড়া এফসির নেতৃবৃন্দ, খেলোয়াড় ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। জার্সি উপহার দেওয়ায় তারা ইকবাল হায়দার চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মুক্তাদির হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার

কাবাডির মাঠে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কালীগঞ্জের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম। জাতীয় আন্তঃস্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কাবাডি ইভেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে সে এ সাফল্য অর্জন করে। জারিনের এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জাতীয় আন্তঃস্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কাবাডি ইভেন্টে অংশ নেয় মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম। ঢাকা শাহ্ আলী থানা জাতীয় আন্তঃস্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ৫৩তম জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সে নিজের দক্ষতা ও ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখে। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপে দারুণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জারিন তাসনিম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ শাহ্ আলী থানা জাতীয় আন্তঃস্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সনদপত্র তুলে দেন।
জারিন তাসনিমের এ সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকেরা তার অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য কামনা করেন।
জারিন তাসনিম জানায়, জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া তার জন্য গর্বের ও আনন্দের। ভবিষ্যতে কঠোর পরিশ্রম ও অনুশীলনের মাধ্যমে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করে দেশের সুনাম বয়ে আনতে চায় সে। জারিনের এই সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, তার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও গর্বের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ মুক্তাদির হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার।

গাজীপুর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের আয়োজনে কাবাডি প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের বালক কাবাডি দল।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরস্থ শহীদ বরকত স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডের খেলায় কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের বালক দল মুখোমুখি হয় গাজীপুর সদর থানা কমিউনিটি পুলিশের দলের। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলায় গাজীপুর সদরকে পরাজিত করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে কালীগঞ্জের দলটি।
উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের বালক দল গাজীপুর সদর থানা কমিউনিটি পুলিশের দলকে পরাজিত করে। এ জয়ের মধ্য দিয়ে দলটি প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হয়।
খেলায় কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের বালক দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তুমুলিয়া বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আমিরুল ইসলাম। দলের ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন নাদিমুল ইসলাম। জয়ের পর কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজারের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
জয়ের পর কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের প্রধান উপদেষ্টা গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন, কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার ও সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বাবলু।
তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপেও কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের বালক কাবাডি দল তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে।

ছাইম খান টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে সাংবাদিক জসিম মুন্সীর উদ্যোগে জমজমাট চার দলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এ খেলাকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

টুর্নামেন্টে চারটি দল অংশ নেয়। খেলা শুরুর আগে লটারির মাধ্যমে দলগুলোর প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করা হয়। প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ি ও বর্ণী পূর্বপাড়া দল। দুই দলের মধ্যে চলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে জয়লাভ করে দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ি দল ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ বাশুড়িয়ার নেয়ামত শেখের দল ও বর্ণী খাড়াপাড়ার হাবিবুরের দল। উত্তেজনাপূর্ণ এ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে দক্ষিণ বাশুড়িয়ার নেয়ামত শেখের দল।

পরে ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ির সাংবাদিক জসিম মুন্সীর দল ও দক্ষিণ বাশুড়িয়ার নেয়ামত শেখের দল। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মাঠজুড়ে ছিল উত্তেজনা ও দর্শকদের উচ্ছ্বাস।

শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে ১ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে সাংবাদিক জসিম মুন্সীর দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ি দল। দুর্দান্ত খেলায় জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয় দলটি।

খেলাটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন স্থানীয়ভাবে পরিচিত জনপ্রিয় হাডুডু খেলোয়াড় ও রেফারি কালু টাইগার। তাঁর দক্ষ রেফারিং, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং পুরো ম্যাচে সতর্ক নজর রাখার কারণে আয়োজনটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।

খেলা দেখতে বর্ণী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত নৈপুণ্য, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং ফাইনালের টানটান উত্তেজনায় পুরো মাঠ ছিল উৎসবমুখর।

আয়োজক সাংবাদিক জসিম মুন্সী বলেন, “গ্রামীণ জনপদে হাডুডুসহ দেশীয় খেলাধুলার ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং তরুণদের মাঠমুখী করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও স্থানীয় খেলাধুলার উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।”

খেলাটি সুন্দরভাবে পরিচালনা করায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে রেফারি কালু টাইগারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়। আয়োজকরা বলেন, খেলোয়াড়দের প্রতি তাঁর আন্তরিক আচরণ, দক্ষতা ও সুন্দর রেফারিংয়ের কারণে পুরো খেলাটি মনোরম পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয়দের কাছে ‘কালু টাইগার’ নামে পরিচিত এই জনপ্রিয় হাডুডু খেলোয়াড় বর্তমানে বিভিন্ন হাডুডু ম্যাচে রেফারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সুন্দর রেফারিংয়ের প্রশংসা করে আয়োজক ও খেলোয়াড়রা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর জন্য সর্বোচ্চ দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেন।

সাইফুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) উৎসবমুখর পরিবেশে আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি প্রত্যাশা করেন, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান। এছাড়া ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মিনারুল ইসলাম, প্রক্টর ড. এসএম আহসান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক গাজী মোহাম্মদ মাহবুবসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২টি বিভাগের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আইন বিভাগ ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ মুখোমুখি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালনায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ আগামী ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।