রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০৫ পিস কমলা রঙের ট্যাপেন্ডাটল ট্যাবলেটসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে ভূল্লী উপজেলাধীন বালিয়া ইউনিয়নের বড় বালিয়া মণ্ডলপাড়া জামে মসজিদের পাশের পাকা সড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার টিকাপাড়া গ্রামের মো. মকবুল হোসেনের ছেলে মো. ফাহিম মোর্শেদ গালিব (৩৩) এবং বরুনাগাঁও গ্রামের মো. নিজামউদ্দিনের ছেলে মো. রানা (৩৫)। পুলিশ জানায়, ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ভূল্লী থানা পুলিশের টানা ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে তাদের আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ১০৫ পিস ট্যাপেন্ডাটল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভূল্লী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক)/৪১ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়, যার নম্বর-০৫। ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, মাদক উদ্ধার, মাদক মামলার আসামি এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, টেকনাফ: কক্সবাজারের টেকনাফে ক্যাম্প-২৭ জাদিমুড়া এলাকা থেকে অপহৃত এক রোহিঙ্গা যুবককে অপহরণের প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ক্যাম্প-২৭-এর বি/৪ ব্লকের আবদুল আমিনের চায়ের দোকানের সামনে থেকে সৈয়দ আমিন (৩৪) নামে ওই যুবককে ১০ থেকে ১২ জনের একটি অজ্ঞাত সশস্ত্র দল জোরপূর্বক অপহরণ করে বলে জানিয়েছে এপিবিএন।
ঘটনার খবর পেয়ে জাদিমুড়া এপিবিএন পুলিশ ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) হরিদাস মন্ডল তাৎক্ষণিকভাবে রাত্রীকালীন ডিউটি পার্টি ও এসআই (নিঃ) শাহীনসহ ১৫ সদস্যের একটি আভিযানিক দল গঠন করেন। পরে দলটি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
এপিবিএন সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালে ক্যাম্পের বি/১৩ ব্লকের কাঁটাতারসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা সৈয়দ আমিনকে ছেড়ে দিয়ে গহিন পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। পরে অভিযানকারী দল ঘটনাস্থল থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর সৈয়দ আমিনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া সৈয়দ আমিন ক্যাম্প-২৭ জাদিমুড়ার বি/১৩ ব্লকের বাসিন্দা। তার বাবার নাম ইন্না আমিন।
এ ঘটনায় জাদিমুড়া এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপহরণে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রামের রাউজানে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও গুণী ব্যক্তিত্ব প্রয়াত নির্মল পালিতের স্মরণে স্মৃতিচারণ ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাউজান উপজেলার ১৪ নম্বর বাগোয়ান ইউনিয়নের গশ্চি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাধাকৃষ্ণ মন্দির বাড়ির বরদা ভবনে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ নূর নবী। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাউজান উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জিসা চাকমা,রাউজান উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, রাউজান উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সীমা রাণী সেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন রাউজান উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি লিটন মহাজন লিটু।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি দোলন কৃষ্ণ ঘোষ, দক্ষিণ রাউজান কেন্দ্রীয় গঙ্গা মন্দির উৎসব কমিটির সভাপতি দুলাল কান্তি দাশ, দক্ষিণ রাউজান কেন্দ্রীয় গঙ্গা মন্দির পরিচালনা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক টিটু তালুকদার, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি অনিরুদ্ধ অপু, রাউজান প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক এ কে বাবর, রাউজান উপজেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সহ-দপ্তর সম্পাদক শিবু প্রসাদ ভট্টাচার্য, রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রচার সম্পাদক এস বি সুজন এবং দক্ষিণ রাউজান কেন্দ্রীয় গঙ্গা মন্দির পরিচালনা পরিষদের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুজন দাশসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক সমিতির দক্ষিণ রাউজান শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন দাশ গুপ্ত। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ রাউজান শিক্ষক সমিতির সভাপতি পবন চক্রবর্তী, শিক্ষক সঞ্জিত নন্দী, শিক্ষক রূপন চক্রবর্তী, শিক্ষক শ্যামল দে, শিক্ষক সত্যরঞ্জন দাশসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীরা।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উত্তম পালিত ও উৎপল পালিত।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, প্রয়াত নির্মল পালিত ছিলেন একজন সৃজনশীল, সমাজসচেতন ও আলোকিত মানুষ। সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তাঁর মৃত্যুতে সমাজ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
বক্তারা আরও বলেন, নির্মল পালিতের কর্মময় জীবন, সমাজের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ এবং মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ ও ভালো কাজগুলো অনুসরণ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
স্মরণসভা শেষে প্রয়াত নির্মল পালিতের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয় এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
গতকাল রবিবার দুপুর গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় “স্বচ্ছতা” সম্মেলন কক্ষে উপস্থিতি ছিলেন, সম্মানিত জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ আরিফ-উজ-জামান মহোদয়ের সভাপতিত্বে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সমস্যা নিরসন সংক্রান্তে ইজিবাইক মোটর চালক ও বাজার সমিতির সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব ডাঃ কে এম,বাবর গোপালগঞ্জ-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য (এমপি), জনাব মোঃ হাবীবুল্লাহ,বিপিএম-সেবা, পুলিশ সুপার, গোপালগঞ্জ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকজ্জামান মহোদয়।
সভায় জেলার সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও অধিকতর শৃঙ্খলাপূর্ণ, জনবান্ধব ও নিরাপদ করে তোলার জন্য সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেন পুলিশ সুপার, গোপালগঞ্জ। পাশাপাশি, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের বিভিন্ন যৌক্তিক সমস্যা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত নিরসনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার মহোদয় কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই বৈধ পরিবহন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং সাধারণ জনগণের যেকোনো ধরনের ভোগান্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক, শ্রমিকসহ সকল অংশীজনের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন , গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও গোপালগঞ্জ পরিবহন খাতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলায় বৈচিত্র্য, সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক মেলা। গান, খেলাধুলা, গল্প শেয়ারিং ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঙালি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামাজিক সংহতি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় হ্নীলা বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাইক্লোন সেন্টারের নিচতলায় এ সাংস্কৃতিক মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ‘Cultural Fair for Promoting Diversity and Peace’ শীর্ষক এ আয়োজনটি ‘Youth-Led Peacebuilding and Social Cohesion Initiatives in Bangladesh & Myanmar’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করে সুজলা মহিলা সমিতি (Suzala Mahila Samiti)। এতে সহযোগিতা করে SHED ও ActionAid এবং অর্থায়নে ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাহেদুল ইসলাম। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন নুরুল আমিন। এরপর রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে স্টোরি শেয়ারিং পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে হোস্ট ও রোহিঙ্গা হিসেবে বক্তব্য দেন ইরফাত ও বিবি জাহান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজলা মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া কামাল। SHED-এর পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আসিফ তাইজুল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপের রাখাইন সম্প্রদায়ের সভাপতি মন্টিং অং। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন। সাংস্কৃতিক মেলার অংশ হিসেবে দুটি খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল চেয়ার খেলা ও পলি পাশিং। খেলাধুলায় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী অংশগ্রহণকারীরা উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে কক্সবাজার থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনায় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গান পরিবেশন করা হয়। এতে মেলা প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া মেলায় বাঙালি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবারের স্টল সাজানো হয়। এসব স্টলে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, পুলি পিঠা, পাকান পিঠা, নারকেলের পিঠা, নকশি পিঠা ও বিভিন্ন স্থানীয় মুখরোচক খাবার প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রার সঙ্গে একে অপরকে পরিচিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় বাঙালি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সামাজিক সংহতি আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
রংপুরের মিঠাপুকুরে নবনিয়োগপ্রাপ্ত ৮৩ জন সহকারী শিক্ষকের পাঁচ দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কোর্স শুরু হয়েছে। আজ ৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে আগামী ৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং জীবনপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে এই ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে প্রধান সমন্বয়ক ও নির্দেশক হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র রায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিও) মোঃ শাহেদুল হক।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা এবং প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর ধারণা দেওয়াই এই ওরিয়েন্টেশনের মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আরও আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক পরিবেশে পাঠদান করাতে পারবেন।
ওরিয়েন্টেশন কোর্সে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র রায় এবং বিশেষ অতিথি এটিও মোঃ শাহেদুল হক নতুন শিক্ষকদের স্বাগত জানিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠাবান, আন্তরিক ও তথ্যপ্রযুক্তিবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন এই শিক্ষকদের হাত ধরে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও গুণগত পরিবর্তন, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং একটি আলোকিত আগামী গড়ে উঠবে।
গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলায় এক স্কুল শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করায় কবির শেখ(৩৫)নামে এক যুবককে মারধর করা হয়েছে।
মারধরে আহত কবিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন।আজ রোববার উপজেলার কুশলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার কবির শেখ বিরামের কান্দি গ্রামের সরোয়ার শেখের ছেলে। জানাগেছে , গত ৬ মাস ধরে স্কুলে যাওয়া আসার পথে কবির শেখ প্রায়ই ওই স্কুল শিক্ষকাকে উত্ত্যক্ত করতো।এ বিষয় নিয়ে ওই শিক্ষিকা কবিরের পরিবারের কাছে জানিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি।
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অফিযোগ দিলেও তারা কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে কবির শেখ ওই শিক্ষিকার পথরোধ করলে তাঁর আত্মীয় স্বজন এগিয়ে এসে মারধর করে কবিরকে ফেলে রেখে যায়।
খবর পেয়ে কবিরের পরিবারের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
মারধরের শিকার কবির শেখের ভাতিজি জোসনা বেগম বলেন,আমার চাচার একটু মাথায় সমস্যা আছে।সে আগে অটো চালাইতো।এই অটোতে যাওয়া আসার সময় ওই শিক্ষিকার সাথে পরিচয় হয়। এরপর থেকে সে ওই শিক্ষিকাকে বিয়ে করার জন্য পাগলামী শুরু করে।তবে তাকে এ ভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি।
কবির শেখের উত্ত্যক্তের শিকার ওই শিক্ষিকা বলেন, আমি স্কুলে যাওয়া আসার পথে কবির প্রায়ই আমাকে উত্ত্যক্ত করতো। পথরোধ করতো। মাঝে মাঝে স্কুলে যাওয়ার পথে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিতো। আমি সামাজিক ভাবে এলাকাবাসীকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি।ওর উত্ত্যক্তের কারণে অনেক সময় ভয়ে ছুটি নিতাম।উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাইনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওই শিক্ষিকা বলেন, কারা কবির শেখকে কে মারধর করেছে তা আমি জানি না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জণ ভক্ত বলেন , ওই শিক্ষিকা আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ছিলেন।এরপর ইউএনও স্যারকে নিয়ে কবির ও তার পরিবারের লোকজনদের ডেকে আনা হয়েছিল। তারা ওই শিক্ষিকাকে আর উত্ত্যক্ত করবে না বলে কথা দিয়েছিলেন।
কোটালীপাড়া থানার অফিসার এস আই সুকুমার কুন্ড বলেন , এ বিষয়ে কোন পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও সুয়েজ ক্যানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মেরিটাইম হাবে বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা, ট্রানজিট, ক্রু-চেঞ্জ, শিপ-জয়েনিং ও সাইন-অফ সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনে সরকারের প্রতি জরুরি কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মেরিটাইম খাতের প্রতিনিধিরা।
শনিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলায় মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মার্চেন্ট মেরিনার, মেরিন অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী। তাদের দাবি, একজন দক্ষ মেরিন অফিসার বা ইঞ্জিনিয়ার প্রায় ৫০ জন সাধারণ বা অদক্ষ শ্রমিকের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম।
বক্তারা জানান, বাংলাদেশি মেরিনাররা প্রতি বছর প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ কোটি মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি মেরিনার কর্মরত রয়েছেন।
তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ে কোনো বাংলাদেশি নাবিক জাহাজে যোগ দিতে না পারলে জাহাজ মালিককে বিকল্প নাবিক নিয়োগ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ওই বিকল্প নাবিক অন্য দেশের নাগরিক হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কর্মসংস্থানের সুযোগ অন্য দেশের শ্রমবাজারে চলে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ, ট্রানজিট ও ক্রু-চেঞ্জ অনুমোদন, মিশরের ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং পোর্ট সাঈদ ও সুয়েজ ক্যানেল অঞ্চলে সাইন-অন ও সাইন-অফের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বাংলাদেশি নাবিকরা সমস্যায় পড়ছেন।
বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ে ভিসা অনুমোদন না পাওয়ায় নিশ্চিত নিয়োগ থাকা সত্ত্বেও শত শত নাবিক সময়মতো জাহাজে যোগ দিতে পারছেন না। এর ফলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাচ্ছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
তাদের দাবি, বাংলাদেশি ক্রু, মেরিন অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারদের পরিবর্তে ভারত ও ফিলিপাইনের নাবিকরা এসব চাকরিতে নিয়োগ পাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম দেশগুলোতে বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে মেরিটাইম কাউন্সিলর নিয়োগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, মেরিটাইম কাউন্সিলর নাবিকদের জরুরি ভিসা সমস্যা গ্রহণ, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, ভিসা বাতিল বা দীর্ঘসূত্রতার কারণ চিহ্নিতকরণ, আটকে পড়া নাবিকদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং বিদেশি কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে নাবিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারেন।
বক্তারা বলেন, “আমরা কোনো দেশের অভিবাসন নীতির প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করতে চাই না। আমরা চাই পারস্পরিক সহযোগিতা, কার্যকর কূটনৈতিক সমাধান এবং বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ভিসা ও ক্রু পরিবর্তন ব্যবস্থা।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ সালেহকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের চেয়ারম্যান চিফ ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, রিলায়েন্স শিপিং সার্ভিসের সিইও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবুল খায়ের, ইউনিকর্ন শিপিং সার্ভিসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন সৈয়দ আমির হোসেন, বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ সালেহ, সাংগঠনিক সম্পাদক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মইন আহমেদ এবং এরিস্টোক্রাট মার্চেন্ট মেরিন সার্ভিস লিমিটেডের ডিজিএম সুমন সিকদার।
কে,এম,জাকির রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি নদীমাতৃক বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাথে লোকজ উৎসব ‘নৌকা বাইচ’ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একসময় বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ বাংলায় যখন চারিদিক জলে ভেসে যেত এবং কৃষিভিত্তিক জীবনে কর্মহীনতার একটি অলস সময় তৈরি হতো, তখন বিনোদন আর সামাজিক ঐক্যের প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠত নদীবক্ষে বাইচের নৌকার গর্জন। তবে কালক্রমে নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্যবাহী বাইচের নৌকা আর সারিগানের মধুর সুর আজ বিলুপ্তির পথে। এই ম্লান হতে বসা ঐতিহ্যকে পুনরায় নতুন উদ্যমে জাগিয়ে তুলেছে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বাগুয়ার চর গ্রামের “মায়ের দোয়া” নৌকা ও তার দামাল বাইছারেরা। বাগুয়ার চর গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরেই খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় পুরো অঞ্চলে বিশেষ পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তারা যা করে দেখিয়েছে, তা শুধু নিজেদের গ্রামের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো রৌমারী উপজেলা তথা কুড়িগ্রাম জেলাকে দেশজুড়ে এক অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। সম্প্রতি নিজস্ব উদ্যোগ ও স্থানীয়দের সাহসিকতায় বাগুয়ার চরের “মায়ের দোয়া” নৌকা বাইচ দল রৌমারী থেকে দূরবর্তী মানিকগঞ্জে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এবং সেখানে দেশের বাঘা বাঘা নৌকাকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এই অর্জনের পেছনের পথটি একেবারেই মসৃণ ছিল না। রৌমারী থেকে মানিকগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার। একটি বিশাল বাইচের নৌকা নিয়ে এই দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করতে তাদের সময় লেগেছে টানা তিন দিন! উত্তাল নদীপথে প্রতিকূল আবহাওয়া, বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, বাইছারদের ঠিকমতো খাওয়ার ও বিশ্রামের অভাব এবং পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্নতার মতো বহুবিদ সংকট মোকাবিলা করে তারা গন্তব্যে পৌঁছায়। এমনকি প্রতিযোগিতা শেষে স্রোতের প্রতিকূলে নদীপথে বাড়ি ফিরতেও সময় লেগেছে প্রায় পাঁচ দিন। এমনি এক বোঝা কষ্ট ও অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কেবল অদম্য ইচ্ছাশক্তি, দৃঢ় মানসিক সংকল্প এবং সামাজিক ঐক্যের মাধ্যমেই সম্ভব। বাগুয়ার চরের বাইছার ও পরিচালনা কর্তৃপক্ষ প্রমাণ করেছেন—ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও ঐতিহ্যকে ভালোবাসার শক্তি থাকলে যেকোনো অসাধ্যকে সাধন করা যায়। আজ যখন গ্রামীণ খেলাধুলা ও উৎসব হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন বাগুয়ার চরের এই উদ্যম আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখায়। জেলা ও উপজেলাবাসীর উচিত এই সাহসী ও ঐতিহ্যপ্রেমী দলটির পাশে দাঁড়ানো, তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং মানসিকভাবে উৎসাহিত করা। “মায়ের দোয়া” নৌকার সকল বাইছার, পরিচালক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি রৈল আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। আগামী দিনেও নদীবক্ষে বাগুয়ার চরের “মায়ের দোয়া” বিজয়ের নিশান উড়িয়ে কুড়িগ্রামের নাম আরও উঁচুতে তুলে ধরুক—এই প্রত্যাশা।
রিমন হোসেন, সৌদি আরব সৌদি আরবে গৃহকর্মী বা ‘খাদ্দামা’ ভিসায় কর্মরত প্রবাসী নারী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। দালালদের মিথ্যা প্রলোভন, চুক্তিভঙ্গ এবং কঠোর কাফালা পদ্ধতির বেড়াজালে পড়ে এসব নারীর জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। সরেজমিনে রিয়াদ ও এর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে অভিবাসন খাতের এই নগ্ন চিত্র ও করুণ বাস্তবতার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দালালের প্রলোভন ও প্রতারণার শিকার নারীরা অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের অসাধু দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সহজ-সরল নারীদের ভালো কাজ ও আকর্ষণীয় বেতনের লোভ দেখিয়ে সৌদিতে পাঠায়। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতির সাথে বাস্তবতার কোনো মিল থাকে না। রিয়াদে অবস্থানরত ভুক্তভোগী সাথী বেগম দালালের মাধ্যমে সৌদিতে এসেছিলেন। তাকে খাদ্দামা পেশায় দেওয়া হলেও কাজের নির্দিষ্ট কোনো ডিউটি ঘণ্টা ছিল না। উপরন্তু চলে নানামুখী মানসিক নির্যাতন। সহ্য করতে না পেরে তিনি কর্মস্থল থেকে পালিয়ে আসেন। পরবর্তীতে দালাল ও বিভিন্ন অপরাধচক্রের ফাঁদে পড়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। বর্তমানে তিনি পার্ক ও অলিগলিতে হকারি করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আরেক ভুক্তভোগী তানিয়া আক্তার, যিনি পেশায় একজন কেয়ারগিভার ছিলেন। তাকেও খাদ্দামা ভিসায় রোগীর সেবা করার কথা বলে আনা হয়েছিল। কিন্তু কফিলের বাসায় ১০ জনের রান্না সহ একটানা ১৪ ঘণ্টা কাজ করানো হতো। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি কাজের খোঁজে অন্যত্র চলে গেলে কফিল তাকে ‘হুরুপ’ (পলায়নপর ঘোষণা) দেয়। বর্তমানে তিনিও অত্যন্ত অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবন পার করছেন। একইভাবে মিসেস রোজিনা নামের আরেক ভুক্তভোগী খাদ্দামা কাজ করতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অথচ কফিল তাকে দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে না। উল্টো চিকিৎসার সমস্ত খরচ তাকে নিজের বহন করতে হচ্ছে এবং অসুস্থ অবস্থায় কাজ না করলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এই সংকটের দায়ভার কার? বিশ্লেষকদের মতে, এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দায় কোনো একক পক্ষের নয়। এর পেছনে রয়েছে— দালাল ও মানবপাচার চক্র: যারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারীদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ঠেলে দিচ্ছে। কঠোর কাফালা পদ্ধতি: যার কারণে শ্রমিকরা কফিলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাকরি বদলাতে পারেন না এবং সামান্য প্রতিকার চাইতে গিয়ে অবৈধ হয়ে পড়েন। প্রশাসনিক নজরদারির অভাব: দেশত্যাগ ও বিদেশে যাওয়ার পর নিয়মিত মনিটরিংয়ের ঘাটতি। ভুক্তভোগী ও প্রবাসীদের জোরালো দাবি সৌদি আরবের অলিগলিতে হকারি করা, পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ডিটেনশন সেন্টারে দিন কাটানো এবং শেষ পর্যন্ত জোরপূর্বক দেশে ফেরত যাওয়া এসব নারীর ভবিষ্যৎকে অন্ধকার করে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী ও সচেতন প্রবাসী সমাজ বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিকট জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ১. মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের পাচারকারী দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স বাতিল এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। ২. রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও সেফ হোমের কার্যক্রম আরও গতিশীল করে বিপদগ্রস্ত নারীদের দ্রুত উদ্ধার এবং আইনি সহায়তা দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা। ৩. অসুস্থ ও নির্যাতিত কর্মীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং তাদের ওপর নির্যাতনকারী কফিলদের বিরুদ্ধে সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। প্রবাসে নারী শ্রমিকদের এই অমানবিক পরিস্থিতি রোধে এখনই কার্যকর ও কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ না নিলে এই ট্র্যাজেডি থামানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।