October 28, 2026

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

জুনিয়র শিক্ষার্থীকে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের আত্মরক্ষায় লাঠি হাতে নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থী ও তাঁর ভাইয়ের বাগ্‌বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার রূপ নেয়। রাত আড়াইটা পর্যন্ত এ নিয়ে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জায়েদ জামান দাবি করেন, ঘটনার রাতে মুক্তমঞ্চে বসে ছিলেন তাঁর মেজো ভাই অয়েজ জামান। তিনি আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ সময় বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে আইন বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাঁর ভাইকে মা-বাবা নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হয়রানি ও লাঞ্ছিত করেন।

অভিযোগে জায়েদ জামান আরও উল্লেখ করেন, দূর থেকে বিষয়টি দেখে তিনি এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁকেও গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের দিকে তেড়ে এসে মারধর করেন। এ সময় আইন বিভাগের ইমরান, জনি, সাইমুম, জয় শিকদার, মেহেদী, সাজিদ ও রাফি নামের শিক্ষার্থীরা তাঁকে ও তাঁর ভাইকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী তাঁদের দুজনকে আলাদা করে বাড়িতে চলে যেতে সহায়তা করেন। এরপর পরিসংখ্যান বিভাগের সহপাঠীরা এসে তাঁদের একটি অটোরিকশায় তুলে দেন। কিন্তু আইন বিভাগের মেহেদী এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিপ্র অটোরিকশাচালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তাঁদের নামিয়ে দেন এবং ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা এসে তাঁদের সরিয়ে নেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পরিসংখ্যান বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে গেলে তাঁদের সঙ্গেও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন জায়েদ জামান।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রক্টর দপ্তরে যান। এ সময় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের গেটের সামনে অবস্থান নেন।

পরবর্তী সময়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের হস্তক্ষেপে তাঁরা পেছনে সরে যান। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও লাঠি হাতে নিয়ে প্রক্টর দপ্তরের সামনে অবস্থান করেন।

পরে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাজিউর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দুই বিভাগের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের সমাধানে প্রক্টর দপ্তরে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আহসান বলেন, “গতকাল রাতে আইন বিভাগের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আইন বিভাগ ও পরিসংখ্যান বিভাগের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় আমি থানায় অবস্থান করছিলাম। বিষয়টি শুনে দ্রুত সেখানে চলে আসি।”

তিনি বলেন, “মেইন গেটে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাই এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলি। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেখানে এলে আমরা তাঁদের হাদি চত্বরে নিয়ে আসি। এরপর হাদি চত্বর থেকে তাঁদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়।”

প্রক্টর আরও বলেন, “এরপরও দেখা যায়, আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাদি চত্বরে অবস্থান করছেন। সেখানে আমরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পাঠাই। পাঠানোর পরও দেখা যায়, প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থানরত পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ধাওয়া করা হয়।”

ঘটনাটিকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “খুবই তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। আমি তাঁদের আশ্বস্ত করেছি যে, সোমবার বিকেল ৪টার মধ্যে আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হবে না। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

মোঃ রফিকুল ইসলাম সোহাগ, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কোরবান নগর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবুল কালাম স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ ও মতবিনিময় কার্যক্রম শুরু করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ইউনিয়নের মাইজবাড়ি বদিপুর গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন হাজি মো. নুরমিয়া মিয়া। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবুল কালাম বলেন, কোরবান নগর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মতামত, ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে তিনি আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর, আধুনিক ও সমৃদ্ধ কোরবান নগর ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চান। এ লক্ষ্যে তিনি আগামী নির্বাচনে সবার সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন আজাদ মাস্টার, আরছব আলী, সেক্রেটারি আবুল কালাম, মনির উদ্দিন, মনির আলী আকবর, আবু বক্কর সিদ্দিক, মেহেরাজ আলী, শফিকুল ইসলাম, ইমান আলী, ইউসুফ আলী, ফারুক মিয়া, সৈকত আলী, কালাই মিয়া, সোওয়াব আলী, সফর আলীসহ মাইজবাড়ি বদিপুর গ্রামের স্থানীয় সামাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সভায় উপস্থিত বক্তারা কোরবান নগর ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের মতবিনিময় সভা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগাযোগ ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময়ের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

লৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ:

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) ঢাকা দক্ষিণ বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির নেতা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পিন্টু মিত্রকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পুস্তক ব্যবসায়ী নেতারা। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বাপুসের ঢাকা দক্ষিণ বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির সাবেক সভাপতি ও গোপালগঞ্জের পুস্তক ব্যবসায়ী নেতা বিকাশ চন্দ্র গোলদার।

সম্প্রতি এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় বিকাশ চন্দ্র গোলদার বলেন, পিন্টু মিত্র একজন দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী নেতা। তাঁকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

বিকাশ চন্দ্র গোলদার অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পিন্টু মিত্রকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, পুস্তক প্রকাশনা ও বিক্রয় খাত শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের হয়রানির শিকার হতে হলে তাঁদের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

প্রতিবাদ বার্তায় পিন্টু মিত্রের মুক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে সারাদেশের পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতারা কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন বলেও সতর্ক করা হয়।

তবে পিন্টু মিত্রের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, মামলার বিবরণ এবং গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাবে।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ,কক্সবাজার।

কক্সবাজারের টেকনাফে ২১ নম্বর চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ক্যাম্পের এ/০৭ ব্লকের রাস্তা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম ফয়সাল আহমদ (৩০)। তিনি উখিয়া উপজেলার পশ্চিম ফারির বিল এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম বাদশা মিয়া এবং মায়ের নাম আয়েশা বেগম।

১৬ এপিবিএনের ২১ নম্বর চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্পের ইনসিডেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ক্যাম্পের এ/০৭ ব্লকের রাস্তায় এক অপরিচিত ব্যক্তির ঘোরাফেরার খবর পাওয়া যায়। পরে চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে।

পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ফয়সাল আহমদ মানসিকভাবে অসুস্থ এবং গত ৬ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ক্যাম্পে উপস্থিত হন।

প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ২১ নম্বর চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর–কৃষ্ণনগর সড়কের কৃষ্ণনগর বাজারসংলগ্ন অংশটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে যায়। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী, অটোরিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষ্ণনগর বাজারসংলগ্ন সড়কের বেশ কিছু অংশে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় গর্তগুলো আরও গভীর হয়েছে। পানির নিচে গর্তের অবস্থান বোঝা না যাওয়ায় অনেক সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

আজ ০৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সরজমিনে স্থানীয়রা জানান, সড়কের খানাখন্দে পড়ে কখনো অটোরিকশার মালামাল উল্টে যাচ্ছে, আবার কখনো যাত্রীসহ যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষও প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে এই পথ ব্যবহার করছেন।

নবীনগরের বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা নিয়ে এর আগেও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। ২০২৫ সালে জিনোদপুর বাজার থেকে দশমৌজা বাজার পর্যন্ত একটি সড়কের খানাখন্দ ও বর্ষাকালে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের দুর্ভোগের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

এদিকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সিতারামপুর সেতু থেকে কৃষ্ণনগর বাজার পর্যন্ত সড়ক পরিদর্শন করেছিলেন তৎকালীন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

সে সময় সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে জানা যায়, আশুগঞ্জ থেকে সদর পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

তবে কৃষ্ণনগর বাজারসংলগ্ন অংশের বর্তমান দুর্ভোগ নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই ভোগান্তির শেষ হবে কবে? আর কতদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে হবে?
স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও যাত্রীরা দ্রুত সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে টেকসই মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট নয়—দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়কটি সংস্কার করা হলে তবেই এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম):

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাউজানে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) রাউজান উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, চলতি বছর রাউজান উপজেলায় সর্বমোট ২৩৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম রাহাতুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অং চিং মারমা এবং রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, রাউজান পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জাফর চৌধুরী এবং রাউজান পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জুরুল হক।

এ সময় রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুণ পালিত বাসু, সাধারণ সম্পাদক সুমন দাশ গুপ্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু দে, রাউজান উপজেলা সনাতন ঐক্যবদ্ধ সমাজের সভাপতি ডাঃ লিটন শর্মা, সাংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পা কুমার দাশ, রাউজান উপজেলা জাগো হিন্দু পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিমাদ্রি পাল ইমন, অর্থ সম্পাদক ভোমর দাশ, বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি (বাগীশিক) রাউজান উপজেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক পাভেল চৌধুরী, মানস সরকার, ডাঃ জনি দাশ, সৈকত দে ও হৃদয় চক্রবর্তী, ছোটন ঘোষ, প্রান্ত,সোহেল দাশ, রূপস দাশ গুপ্ত, দোলন দে ত্রিপাল চৌধুরী, শংকর দে,বিশ্বজিৎ দাশ, সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মন্দির ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা সভায় অংশ নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। উৎসবকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে রাউজানে শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ আনন্দঘন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব হবে।

এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কুমিল্লা মহানগর জাসাস এর বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮অক্টোবর) বিকাল ৪টায় কুমিল্লা মহানগর জাসাস এর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু।

কুমিল্লা মহানগর জাসাসের সভাপতি ডা. আফসান আনিস ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেলের নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর জাসাসের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ পল্লবসহ মহানগর জাসাস ও এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এসময় বক্তারা বলেন -আওয়ামী লীগ বিগত ১৭ বছর আমাদের বিনা কারণে অসংখ্য মামলা, বাড়িঘরে হামলা ও ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান লুট করে আমাদের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করেছে।
২০২৫ সালের মে মাস থেকে বাংলাদেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এর পর থেকেই দলটির বিভিন্ন কথিত অপতৎপরতা ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সহ সকল সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।আজকের আয়োজন তারই একটি অংশ বিশেষ।

বক্তারা আরো বলেন- আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে পলাতক ফ্যাসিস্টদের অপতৎপরতা, বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, যুবলীগ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিত ভাবে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই সংঘটিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
১২ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর গুপ্তভাবে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। শুধু তাই নয়, তারা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নামে বিভিন্ন কুৎসা রটাচ্ছে। তাই শেষবারের মত সাবধান করে দিলাম ভবিষ্যতে যদি আপনারা এসব অপতৎপরতা করেন তাহলে কুমিল্লা মহানগর জাসাসের নেতাকর্মীরা এর দাঁত ভাঙা জবাব দেবে।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো প্রদক্ষিন শেষে কুমিল্লা কান্দিরপাড়ে অবস্থিত বিএনপির কুমিল্লা মহানগর ও দক্ষিণ জেলা কার্যালয়ে এসে সমাপ্ত করা হয়।

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের কেশবপুরে হারিয়ে যাওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিয়েছে কেশবপুর থানা পুলিশ। পুলিশের আন্তরিকতা, তৎপরতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এর মালিক।

উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটির মালিক উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের দশকাউনিয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৮)। মোবাইলটি হারিয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে তা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে কেশবপুর থানা পুলিশ।

বুধবার কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও এএসআই ইসরাফিল হোসেন-এর তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে মোবাইলটি হস্তান্তর করা হয়।

হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন কেশবপুর থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি পুলিশের এমন আন্তরিক উদ্যোগ ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

স্থানীয়রা জানান, হারানো বা চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেশবপুর থানা পুলিশের এমন দায়িত্বশীল কার্যক্রম জনসেবামূলক পুলিশের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কেশবপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হারানো সম্পদ উদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে পুলিশ সর্বদা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ ফারুক আহমদ:

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে বেক্সিমকো গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা। এ ঘটনায় কারখানা এলাকায় চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে কারখানার সাধারণ শ্রমিকরা ১০ দফা দাবি নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বেতন পরিশোধ করে না। অনেক সময় দুই মাস পরপর বেতন দেওয়া হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের ওভারটাইমের পারিশ্রমিকসহ অন্যান্য পাওনাও নিয়মিত পরিশোধ করা হয় না। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন, কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও তারা কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, তাদের সব ধরনের বেতন-ভাতা ও পাওনা পরিশোধ করতে হবে। বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করে কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই করা যাবে না। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

দাবিগুলো নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে তারা কারখানার প্রধান ফটকের সামনে আন্দোলনে নামেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়ে বুধবার বিকেলের মধ্যে মালিকপক্ষের কাছ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা সভাকক্ষে আজ ৮ই অক্টোবর অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের আনুষ্ঠানিক যোগদান, বরণ ও ওরিয়েন্টেশন কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পারভেজের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক এবং মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী। এছাড়াও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার মানোন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ নবীন শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা হলো একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার মূল ভিত্তি। নতুন শিক্ষকদের মেধা ও সততার মাধ্যমেই প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত হবে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে নতুন শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। তারা দলমত নির্বিশেষে উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুশাসন এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে কোমলমতি শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন।
নবীন শিক্ষকদের উচ্ছ্বাস

আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হতে পেরে নতুন শিক্ষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। তারা প্রত্যেকেই বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিজেদের নিয়োজিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মিষ্টি মুখ ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।