October 28, 2026

মিলন বৈদ্য শুভ,চট্টগ্রাম (প্রতিনিধি):

“যা বিলীন হয়, তা কেবল রূপ; যা অনাদি থেকে অনন্ত, তাই অস্তিত্ব”—এই চেতনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যকে ধারণ করে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানার সতীশ বাবু লাইন পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়া শুভসূচনা অনুষ্ঠিত হয়।

শুভ মহালয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন সতীশ বাবু লাইন পূজা উদযাপন পরিষদেরপ্রধান সমন্বয়কারী সুজিত সরকার,
প্রধান উপদেষ্টা মিলন কান্তি দাশ, দীপক কুমার পালিত, সভাপতি কাঞ্চন দত্ত, সাধারণ সম্পাদক রাজীব চক্রবর্তী এবং অর্থ সম্পাদক অনুপ সেনসহ পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সঞ্চালনায় ছিলেন প্রিয়পম আচার্য্য,
মহালয়া সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী অদিতি বিশ্বাস,

“শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬। এবারের দুর্গোৎসবের গৌরবের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে ৮ দিনব্যাপী নানা ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও আচার-অনুষ্ঠানের বর্ণাঢ্য আয়োজন।

৯ অক্টোবর শুক্রবার মনোজ্ঞ ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, নৃত্য প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।

১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়া শুভসূচনা ও দেবপক্ষে বরণ এবং মাযের পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন , উলুধ্বনি প্রতিযোগিতা,শঙ্খধ্বনি প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ , ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ।

১৭ অক্টোবর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী মা দুর্গার সপ্তমীপূজা, পূজার শুভারম্ভ, পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন ও মহাপ্রসাদ বিতরণ।

১৮ ও ১৯ অক্টোবর রবিবার ও সোমবার অনুষ্ঠিত হবে মহাষ্টমী পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে মহানবমী পূজা, পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন ও অন্নপ্রসাদ বিতরণ।

সবশেষে ২১ অক্টোবর বুধবার অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী মা দুর্গার বিজয়া দশমী। এদিন পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন, দেবীর বিদায় পূজা ও দুর্গোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সম্প্রীতি ও উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবারের আয়োজনকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সতীশ বাবু লাইন পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গোৎসবের সকল ধর্মপ্রাণ ভক্ত, দর্শনার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের যথাসময়ে উপস্থিত থেকে উৎসবকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য বিনীত আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩৫৩ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও অপরাধপ্রবণতার অভিযোগ রয়েছে—এমন বিভিন্ন স্থানকে অভিযানের আওতায় আনা হয়। অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।
পুলিশ জানায়, অভিযানে আটক ৩৫৩ জনের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পুলিশ আরও জানায়, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা এবং কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন রাজশাহী

রাজশাহীতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ বৃক্ষ বিতরণ করেছে রাজশাহী মহানগর যুবদল।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজশাহী মহানগর যুবদলের উদ্যোগে নগরীর চন্দ্রিমা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আল আরাফা একাডেমির শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব বৃক্ষ বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম জনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব মো. রফিকুল ইসলাম রবি, আল আরাফা একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. সাদেক আলী, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল রানা ও মুজিবুল হক মিলন এবং সদস্য মোফাজ্জল হোসেন শুভ ও তানভীর হোসেন হীরা।

চন্দ্রিমা থানা যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচির সমন্বয় করেন চন্দ্রিমা থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান মানিক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এরশাদ আলী, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আকতার হোসেন, বিএনপি নেতা সিরাজ আলী ও জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ১৯ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক মো. শাহিন আলী, সদস্যসচিব মো. ইউসুফ আলী সনি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক শুভ, চন্দ্রিমা থানা যুবদল নেতা রানান ও শিয়াম, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু, মহানগর যুবদল নেতা আল ফারাবি রাজ, ওয়াসিম ও রকি।

কর্মসূচিতে চন্দ্রিমা থানা ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ সিমান্ত তালুকদার

কুমিল্লায় আলোচিত জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার কথিত প্রেমিক রাজুকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর তাকে কক্সবাজার থানা নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে রাজুকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী রাজুকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমিন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রাজুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাজমিনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন এই কথিত প্রেমিক রাজু। রাজুর দাবি, রাতে তাজমিন কুমিল্লা শহরের বাসায় গিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ দেখতে পায়। পরে মা-বাবাকে ফোন করেও সাড়া না পেয়ে বিষয়টি তাকে জানায়।

তাজমিনের সঙ্গে অটোরিকশায় শেষ কী কথা হয়েছিল, চাঞ্চল্যকর তথ্য জানালেন রাজু
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসায় ঢুকতে না পেরে তাজমিন পরে এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে। সকালে বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা জানালে তিনি তাজমিনকে ভিডিও কল করেন। এ সময় তাজমিনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পান তিনি। পরে এ নিয়ে তাজমিনকে বকাঝকা করেন বলে দাবি করেন ওই ব্যক্তি।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মুন্সি মণ্ডলের টোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৭টি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫, রাজশাহীর যৌথ আভিযানিক দল। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে সদর থানাধীন ৫ নম্বর মহারাজপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সি মণ্ডলের টোলা এলাকার একটি লেবুবাগানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসআরবি-৫-এর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সহযোগিতায় ককটেলগুলো উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আভিযানিক দল পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা ককটেলগুলো ওই স্থানে মজুত করে রেখেছিল। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব ককটেল সেখানে রেখেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। উদ্ধার করা
ককটেলগুলো পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের সাহেবনগরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী সততা ব্রিকস ফিল্ডে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে স্পিডবোট ও নৌকাযোগে আসা প্রায় ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ইটভাটায় হানা দিয়ে নাইটগার্ড ও দুই ম্যানেজারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভাটার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, ডাকাত দলের সদস্যরা ইটভাটার বিদ্যুতের খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার, দুটি মেশিন, চারটি মোটর, সাতটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ সময় ভাটার নাইটগার্ড আলফাজ মিয়ার হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। পাশাপাশি ভাটার দুই ম্যানেজারসহ কর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে ডাকাত দলের সদস্যরা।

ভাটার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ডাকাতি শেষে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় ডাকাত দলের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভাটার মালিকপক্ষ ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

ভাটার নাইটগার্ড আলফাজ মিয়া বলেন, “ডাকাতরা আমাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। ডাকাতির পর আমাদের মেরে ফেলার হুমকিও দিয়ে গেছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাতে সলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির নিয়মিত টহল না থাকায় মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রাজিব কান্তি নাথ বলেন, “এ বিষয়ে আমরা অবগত নই। এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।”

এদিকে, সততা ব্রিকস ফিল্ডের মালিকপক্ষের লোকজন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার মধ্যে নবীনগর থানায় ডাকাতির মামলা দায়ের করা হবে।

মেঘনা নদীর তীরবর্তী একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধ ডাকাতির এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্পিডবোট ও নৌকাযোগে এসে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটের অভিযোগ ওঠায় নদীপথে নিরাপত্তা ও নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি উঠেছে।

ভাটার মালিকপক্ষ ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রান্তিক মানুষরাই দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে পারে

বর্তমান বাজার ব্যবস্থা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে, ব্যক্তিস্বার্থের জন্য, ব্যবসায়িক লাভের জন্য আমরা একজন আরেকজনকে বিষ খাওয়াচ্ছি। কেননা বাজার থেকে আমরা যা কিছু খাই, বেশিরভাগই বিষযুক্ত।
নানা ধরনের কীটনাশক, হরমোন প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদিত। জটিল এই পরিস্থিতি থেকে যারা নানামুখী উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত, এই প্রান্তিক মানুষরাই দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে পারে।

আজ রোববার বিকেল ৪ টায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) গোপালগঞ্জ আয়োজিত শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান ।

তিনি আরো বলেন, সবাই সবাইকে যখন ঠকানোয় ব্যস্ত, সেই জায়গায় সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে প্রথম পর্যায়ের উৎপাদনকারীরা । যারা অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ, পশুপালনের মাধ্যমে আমাদের সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে। কেননা খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে মানবদেহে জটিল সব রোগের দেখা দিচ্ছে। যার চিকিৎসা সহজলভ্য হচ্ছে না।

অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, ‘বিসিকে যারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন, তারা কখনোই ভাববেন না, ক্ষুদ্র মানেই অমর্যাদার। বরং আপনাদের অবদান হতে পারে অনস্বীকার্য। ‘

বিসিকের জরিপ ও তথ্য কর্মকর্তা অর্ক সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক এ.কে.এম কামরুজ্জামান, প্রমোশন কর্মকর্তা সুজাল আহমেদ।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথম ব্যাচের ২৬ প্রশিক্ষণার্থীর অংশগ্রহণে ৫ দিন দিনব্যাপী শুরু হওয়া এই দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ।

ডেইলি জনতার ডায়েরি | নিউজ ডেস্ক

রংপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। সরকারি বিভিন্ন কমিটিতে সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধি না রাখা এবং সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তিনি প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় রংপুরের চারটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বেলাল বলেন, “আপনারা এমপিদের পাত্তা দিচ্ছেন না কেন? আপনারা কি আসমান থেকে এসেছেন, নাকি মঙ্গলগ্রহ থেকে এসেছেন? আমাদের এ দেশের জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।”

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কমিটিতে তাঁদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামতে বাধ্য হবেন বলেও জানান তিনি।

এ সময় ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খালের দ্রুত সংস্কার, শহরের যানজট নিরসন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান জোরদারের দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

বেলালের বক্তব্যের জবাবে সভার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি জেলার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এখানে সরকারি কর্মকর্তাসহ সবার পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে আলোচনা করা উচিত। বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে শব্দচয়নের বিষয়ে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

ডেইলি জনতার ডায়েরি
নিরপেক্ষ সংবাদ,সবার অধিকার

মোঃ সিমান্ত তালুকদার

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং তরুণদের মধ্যে সৃজনশীল চিন্তা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৯ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৪ টায় রাজধানীর মিরপুর রূপনগরের আরামবাগ ঈদগাহ্ মাঠে মিরপুর বন্ধুসভার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় পাঠচক্র, কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে পাঠচক্রের আলোচ্য বই ছিল বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ ‘রূপসী বাংলা’। পাশাপাশি জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য ও জীবন, বাংলাদেশ এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে চারজনকে বিজয়ী ঘোষণা করে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

পুরস্কার বিতরণী পর্বে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া ও পাঠচক্র সম্পাদক অভি মল্লিক। তাঁদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ ধরনের স্বীকৃতি অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যতে আরও বেশি জ্ঞানচর্চা, বই পাঠ ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে।

উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদন ও ব্যস্ততার কারণে অনেকের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে। বই পাঠ মানুষের চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বিকাশে সহায়তা করে। পাঠচক্র, কুইজ প্রতিযোগিতা ও জ্ঞানভিত্তিক আড্ডার মতো আয়োজন তরুণদের বইমুখী করতে এবং গঠনমূলক আলোচনা ও সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কুইজ প্রতিযোগিতা সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি চর্চা এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এ দুই ধরনের কার্যক্রমের সমন্বয় তরুণদের জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী করে তোলার একটি কার্যকর উপায়।

পাঠচক্র সম্পাদক অভি মল্লিক বলেন, মিরপুর বন্ধুসভা দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, সামাজিক দায়বদ্ধতা জাগ্রত করা এবং সৃজনশীল ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ সম্প্রসারণের জন্য মিরপুর বন্ধুসভার এই আয়োজন। শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কিংবা পুরস্কার অর্জন নয়, বরং বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, নতুন কিছু শেখা এবং অন্যের চিন্তাভাবনা থেকে সমৃদ্ধ হওয়ার মধ্যেই পাঠচক্রের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।

বন্ধু জিতু সিংহ বলেন, মিরপুর বন্ধুসভার বিভিন্ন সৃজনশীল উদ্যোগ তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির চর্চাকে উৎসাহিত করে। পাঠচক্র ও কুইজ প্রতিযোগিতার মতো আয়োজনের মাধ্যমে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে জানার এবং ভাবনার একটি সুযোগ তৈরি হলো। মিরপুর বন্ধুসভার নিয়মিত এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে তরুণদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য ও সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে জানার পরিধি বিস্তার হবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার, প্রকাশ্যে ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন বন্ধ এবং চিহ্নিত মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী র‍্যালি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (১১ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সচেতন জনগণের উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। এ সময় তাঁদের হাতে ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ ও ‘মাদক নয়, জীবন চাই’ স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উদয়ন মোড়, জিয়ানগর, প্রান্তিকপাড়া, হাড্ডিপট্টি, চণ্ডীতলা ও রেলবাগান এলাকায় সম্প্রতি মাদকের বিস্তার বেড়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এসব এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের কারণে তরুণ ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন যুবদল নেতা মো. শওকত আলী। এ সময় তিনি ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারী মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিবাদী র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে শতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা। বক্তারা আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।