October 28, 2026

ফারুক আহমদ, স্টাফ রিপোর্টার:

গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের পালের পাড়ায় নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি গ্যাসের চুলা ব্যবহারের অভিযোগে আলহাজ আব্দুল জলিলের বাড়ির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একই ঘটনায় বাড়ির মালিককে না পেয়ে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে জরিমানার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) গাজীপুরের পালের পাড়ার জলিল মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। বাড়িটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এবিসি চক্ষু হাসপাতালের পেছনে।

স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটিতে বৈধ গ্যাস সংযোগ থাকলেও অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি চুলা ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে ছিলেন না ম্যাজিস্ট্রেট ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা

গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় প্রতিবেদকের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রম দেখা যায়। তবে ওই সময় ঘটনাস্থলে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা যৌথ বাহিনীর সদস্যকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।

সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী কর্মীদের কাছে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেটের নাম জানতে চাওয়া হলেও তা জানা সম্ভব হয়নি। কর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্যত্র চলে যান। ফলে ঘটনাস্থলে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে, বাড়ির মালিক আলহাজ আব্দুল জলিলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

যাচাইয়ের অপেক্ষায় জরিমানার তথ্য

বাড়ির মালিককে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করার তথ্য পাওয়া গেলেও জরিমানার আদেশ, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাম এবং এর আইনগত ভিত্তি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘কৃষি শ্রমিক সমাবেশ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি খামার শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার বিপুলসংখ্যক কৃষি শ্রমিক ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ‘কৃষি শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি খামার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাঃ মনিমুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ গোলাম রব্বানী। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা আবুজার গিফারী, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুস সবুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ কৃষিজীবি শ্রমিক ইউনিয়ন পৌর সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম। সমাবেশে বক্তারা কৃষি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, “কৃষি শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।” দেশের কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতিতে কৃষি শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরে তিনি তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কৃষি শ্রমিকদের নিরাপদ ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, ন্যায্য মজুরি প্রদান এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা আবুজার গিফারী বলেন, কৃষি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। দেশের কৃষি ও অর্থনীতির উন্নয়নে কৃষি শ্রমিকদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

“অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব-সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি” এই স্লোগানে গোপালগঞ্জে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস উদযাপিত হয়েছে।

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই’র গোপালগঞ্জ কার্যালয় আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) এসএম তারেক সুলতান।

বিএসটিআই গোপালগঞ্জ কার্যালয়ের প্রধান ও উপ-পরিচালক প্রকৌশলী খালিদ রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও পরিদর্শক (মেট্রোলোজি) তাসনীম দোহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সহকারী পরিচালক (সিএম) গোবিন্দ কুমার ঘোষ সহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, পণ্য ও সেবার মান নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিল্প উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরিয়তপুর জেলায় পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক মান প্রণয়নে উৎসাহ দিতে বিএসটিআই কাজ করছে। নিম্নমানের বা ভেজাল পণ্যের ব্যবসা রোধ করে নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি বা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যগুলো ত্বরান্বিত করতে বিএসটিআইকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে আলোচনা সভায় বক্তারা জানান।

এতে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার শিল্প উদ্যোক্তা, বেকারি মালিক, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বেড়াপাড়া ও ক্লাবের হাটে অভিযান চালিয়ে দুই সার ব্যবসায়ীকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি, লাইসেন্স ছাড়া সার ও বীজ বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক রাখার অভিযোগে তাঁদের এ জরিমানা করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত পুলিশ ও উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ। অভিযানে বেড়াপাড়ার খুচরা সার বিক্রেতা মো. মজিবুর রহমানকে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের ক্লাবের হাটে লাইসেন্স ছাড়া সার ও বীজ বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক রাখার অভিযোগে অপর এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুনাইন বিন জামান ও অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আনিসুল হক মাহমুদ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুনাইন বিন জামান জানান, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সার ও কৃষি উপকরণের সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সার ও বীজের বাজারে অনিয়ম রোধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রি, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষি উপকরণ বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রাখার মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি:

রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে পড়ে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত চারজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে পীরগঞ্জ পৌরসভা ভবনের সম্প্রসারিত অংশের বারান্দার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত শ্রমিকরা হলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আছাদুল হক এবং রংপুর সদর উপজেলার শিহাব উদ্দিন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে পৌরসভা ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। ঢালাই চলাকালীন হঠাৎ অস্থায়ী সাটারিং (খুঁটি ও কাঠ) ভেঙে পুরো ছাদটি নিচে ধসে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।

খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও স্থানীয় জনতা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেন। এছাড়া আহত অবস্থায় আরও চারজনকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন। সাংবাদিকদের দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, পৌরসভা ভবনের মতো একটি সরকারি স্থাপনা নির্মাণের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক যে অসাবধানতা ও গাফিলতির কারণে দুটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল। তদন্ত করে এই দুর্ঘটনার সাথে জড়িত দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি নিহত দুই শ্রমিকের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যেক নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকীউল বারী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটির নির্মাণকাজ পরিচালনা করে আসছিল। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভবন নির্মাণে কোনো ধরনের অবহেলা বা ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

‘ফখরুল বলেছেন, এটাই তাঁর শেষ নির্বাচন—এবার দেলাওয়ারকে বিজয়ী করতে হবে’

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে প্রচারণায় নেমে বিএনপির ভোটারদেরও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান। তাঁর দাবি, বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের আগে নিজের শেষ নির্বাচনের কথা বলেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে দেলাওয়ারকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ প্রধান বলেন, “শুধু জামায়াত নয়, এবার বিএনপিও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে।” তাঁর ভাষ্য, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের উন্নয়ন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের অগ্রগতির জন্য দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করা প্রয়োজন।
‘চাঁদাবাজি-দুর্নীতিমুক্ত ঠাকুরগাঁও চাই’
নির্বাচনী সভায় রাশেদ প্রধান বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের মতো উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তাঁর মতে, দেলাওয়ার হোসেন নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, “আমরা এই ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন করে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি দেখতে চাই না।” অবহেলিত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপির প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে জাগপা মুখপাত্র বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড, ঘরে ঘরে চাকরি এবং দেশের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
রাশেদ প্রধানের অভিযোগ, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের বেশি বিল দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, লুটপাট এবং কৃষকদের সার নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের বড় একটি অংশ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। সারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ নিয়ে অনিয়ম কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‘মজলুমের কষ্ট মজলুমই বোঝে’
দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাশেদ প্রধান বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে হলে সাধারণ মানুষের বাস্তবতা বুঝতে হবে। তাঁর দাবি, দেলাওয়ার হোসেন নিজেও নির্যাতিত মানুষের কষ্ট বোঝেন।
তিনি দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারার আহ্বান
নির্বাচনের ফলাফল সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাশেদ প্রধান বলেন, ভোটগ্রহণের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটার ও সমর্থকদের সতর্ক থাকতে হবে। ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান করে ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর বাড়ি ফেরার আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য, ভোটের ফলাফল যেন কেউ পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি ছেড়ে দিলে ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনে আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ এবং জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, কাদেমুল ইসলাম, আবদুল আলীম নিজামী ও হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
পরে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন মির্জা ফয়সল আমীন। ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি সদর, রুহিয়া ও নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। আসনটিতে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে।
উপনির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোটের সমীকরণ নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। এর মধ্যে রাশেদ প্রধানের বিএনপির ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেছেন, আমরা পুত্র সন্তানদের যে ভাবে যত্ন নেই ঠিক একই ভাবে
কন্যা শিশুদেরও যত্ন নিতে হবে।

শিক্ষা, খেলাধুলা চাকরীর ক্ষেত্রে ছেলেদের পাশাপাশি আমাদের কন্যা সন্তানেরাও সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই সন্তানদের বাল্য বা শিশু বিয়ে রোধে আমাদের কাজ করতে হবে।

বাল্য বিয়ে বর্তমানে সমাজে একটি ব্যাধিতে পরিনত হয়েছে।এই ব্যাধি প্রতিরোধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।বাল্য বিয়ের বিষয়ে কোন ছাড় নেই।খবর পেলেই আমাদেরকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত জাতীয় কন্যা শিশু দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ-উল-আরেফীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভা শেষে এস এম জিলানী জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এর আগে শিশু কন্যাদের অংশ গ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদে গিয়ে একটি আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ :

কক্সবাজারের উখিয়ায় পৃথক অভিযানে ২ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি এবং মাদক পাচারে ব্যবহৃত বিশেষ কৌশলের ডুবন্ত কাঠের ক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এ তথ্য জানায়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী বিওপির একটি টহল দল উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়ার মনিরের ঘের এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে একটি মাচাংঘরের পাশে সন্দেহভাজন চার থেকে পাঁচজনকে দেখতে পেয়ে চ্যালেঞ্জ করলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বেলাল উদ্দিন (৩৫) ও খোরশেদ আলম (২৬) নামে দুজনকে আটক করা হয়।

পরে ঘটনাস্থল ও ঘেরের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, একটি মোবাইল ফোন, নয়টি কপিকল, কাঠের তৈরি একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ার, ক্যারিয়ার টানার জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি ব্যাটারি, একটি বৈদ্যুতিক মোটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির দাবি, কাঠের তৈরি ডুবন্ত ক্যারিয়ারটি ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইয়াবা পাচার করা হতো। বৈদ্যুতিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সমন্বয়ে খালপথের বিভিন্ন বাঁক অতিক্রম করে ক্যারিয়ারটি দেশের ভেতরে নিয়ে আসার কৌশল ব্যবহার করছিল চোরাকারবারিরা। বিজিবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ক্যারিয়ারে একসঙ্গে আনুমানিক ৩০ লাখ পিস ইয়াবা পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমার দিক থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় মো. রকি আহমেদ (২৬) নামে একজনকে আটক করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে মালিকবিহীন আরও ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি। এ নিয়ে পৃথক অভিযানগুলোতে মোট দুই লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, চলতি বছর এ পর্যন্ত ব্যাটালিয়নটি আনুমানিক এক কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং মাদক চোরাচালানের অভিযোগে ২২৮ জনকে আটক করেছে।

তিনি বলেন, মাদক চোরাকারবারিরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করলেও বিজিবি পেশাদারত্ব, দক্ষতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)–এর অভিযানে ৫০ বোতল নেশাজাতীয় ইস্কাফ সিরাপসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জব্দ করা আলামতের সিজার মূল্য ৮১ হাজার টাকা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত পিলার ১৮৫/এমপি থেকে আনুমানিক পাঁচ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের দানিয়াল গাছি গ্রামে জনৈক মুক্তার বিশ্বাসের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৫০ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও দুটি মোবাইল ফোনসহ টুটুল (২৬) ও ছবি বেগম (৪২) নামে দুজনকে আটক করে বিজিবি। আটক ব্যক্তিরা গোমস্তাপুরের বেনীচক এলাকার বাসিন্দা বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আল-আমিন অপু অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করছে। সব ধরনের মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় শ্রীশ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টানা ১৭ ঘণ্টার অভিযানে চোর শনাক্ত থেকে মালামাল উদ্ধারের পুরো ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সিসিটিভি ফুটেজ।

মন্দিরে চুরির ঘটনার পর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জার্সি পরা ফাহিম নামে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর ফাহিম চুরির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা অন্য ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য দেয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আবারও অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে বড় বাজার এলাকার জারু ওরফে খাটোজন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশ। সেখানে বাড়ির ভেতরে তালাবদ্ধ অবস্থায় তাকে পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের অভিযান টের পেয়ে জারুকে রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল তার পরিবারের সদস্যরা। তবে পুলিশের তৎপরতায় সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরে জারুকে আটক এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের কথা জানা যায়।

এ ঘটনায় হাসিব নামে আরেক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যিনি আখাউড়ার মালদার পাড়া এলাকায় থাকেন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া তাজুল নামে আরও একজনের পলাতক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও মামলার নথি থেকে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এর আগে আখাউড়ার শ্রীশ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরের পেছনের দিকের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার, ছয়টি মূর্তি এবং দানবাক্সের টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

চুরির ঘটনায় টানা ১৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে মালামাল উদ্ধার ও দুইজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আখাউড়া থানা পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।

মন্দিরের চুরির ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত, পলাতক ব্যক্তিকে আটক এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।