October 28, 2026

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ :

কক্সবাজারের উখিয়া থেকে নিখোঁজ তিন রোহিঙ্গা কিশোরকে উদ্ধার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ( (এপিবিএন) সদস্যরা। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়া থানার জাতলি বাজার এলাকার একটি মসজিদ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া কিশোররা হলো—শফিউল আলম (১৪), মো. আজাদ (১৩) ও মো. আরমান (১২)। তারা উখিয়ার ২১ নম্বর চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

২১ নম্বর চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে তিন কিশোর ক্যাম্পের নিজ নিজ বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। এরপর তারা আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাননি।

পরে রোববার সকাল ৭টার দিকে নিখোঁজ কিশোরদের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি ২১ নম্বর চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্পকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে এপিবিএনের একটি বিশেষ দল তাদের উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে।

একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতলি বাজার এলাকার একটি মসজিদ থেকে তিন কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ২১ নম্বর চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্পের সদর ডিউটি রেজিস্টারে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাজলিয়া গ্রামে তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে নির্মিত একটি কালভার্ট বা ছোট সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় চরম দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে।

প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর আগে সরকারি অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও এর দুই প্রান্তে মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর দুই পাশে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট ও অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুটি থাকলেও স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

আজ ১১ অক্টোবর রবিবার
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুতে ওঠানামার জন্য উপযুক্ত সংযোগপথ না থাকায় মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেতুতে ওঠানামার জন্য সিঁড়ির মতো ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, শিবপুর, বিদ্যাকুট ও নাটঘর ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামোর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা।

সেতু নির্মাণের পরও কেন সংযোগ সড়ক নেই?
জনগণের যাতায়াতের সুবিধার্থে সরকারি অর্থে সেতু নির্মাণ করা হলেও সেটিকে ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট ও চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি না হলে এর মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যায়। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কাজলিয়া গ্রামের এই সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য নবীনগর উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী।

তাঁদের দাবি, সেতুটি যেন কেবল দাঁড়িয়ে থাকা একটি অবকাঠামো হয়ে না থাকে; বরং সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের কাজে আসে, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রনজিৎ সরকার রাজ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের কাহারোলে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় পূজারীদের নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদে মণ্ডপ পরিদর্শন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মীম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মনজুরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাহারোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আলী।
সভায় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরে প্রতিবন্ধী নারীদের অধিকার আদায়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীলতা তৈরির লক্ষ্যে দিনব্যাপী এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ই অক্টোবর (শনিবার) প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ (NCDW), রংপুর জেলা শাখার আয়োজনে এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সাইটসেভার্স-এর ‘সমতার বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের সার্বিক সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৩ রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মিঠাপুকুর উপজেলা আমীর আসাদুজ্জামান শিমুল এবং মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী। এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় উপস্থিত প্রতিবন্ধী নারী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রতিবন্ধী নারীরা সমাজের বোঝা নন, বরং সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তারা দেশের সম্পদ হতে পারেন। তিনি বর্তমান সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মিঠাপুকুর উপজেলার প্রতিবন্ধী নারীদের কল্যাণে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সাথে তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী আয়োজিত এই কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবন্ধী নারীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি অধিকার, নেতৃত্ব বিকাশ, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেছেন,
আপনারা জানেন গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো।বিগত সরকার একটি রাষ্ট্রের পরামর্শে এ জাতিকে মেধাশূন্য করে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো।

শিক্ষকদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল যে, খাতায় শিক্ষার্থীরা না লিখলেও যেন তাদেরকে পাশ করিয়ে দেয়া হয়।বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে। সরকার শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

আজ শনিবার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার আরডিএ হলরুমে উপজেলা পৌর ও কলেজ ছাত্রদল আয়োজিত পঞ্চম শ্রেণীর ১৬০ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, সরকার শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি নির্ভর শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার জন্য ‘অন টিচার ওয়ান ট্যাব’কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

এছাড়াও আগামীতে সারাদেশে ‘মিড ডে মিল’কর্মসূচি চালু ও শিক্ষার্থীদেরকে পোশাক এবং ব্যাগ দেয়ার পরিকল্পনা করছে।

এস এম জিলানী উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে স্বল্প মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।এই পদক্ষেপের বাহিরে ও আমি এ কোটালীপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য আমার ব্যক্তি উদ্যোগে কাজ করতে চাই।

আপনার আমাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করুন। আপনাদের পরামর্শ নিয়ে আমি সকল সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো।

উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি লালন শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান হাওলাদার,উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিলয় হাওলাদার মোস্তফাসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ বক্তব্য রাখেন।

আবুজার গিফারী,যশোর প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন বুড়িভদ্রা নদীতে মোবাইল কোর্টের অভিযান চালিয়ে ছয়টি পাটা বাঁধ উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় ১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৩ হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, কেশবপুর থানার এএসআই সঞ্জয় বিশ্বাসসহ পুলিশের সদস্যরা। এ ছাড়া ত্রিমোহনী ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের আনসার দলনেতা এবং স্থানীয় জনগণ অভিযানে অংশ নেন।

অভিযানে মোট ৪ হাজার মিটার নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এসব জাল ব্যবহারের ফলে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী আটকা পড়ে এবং মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নদী ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে অবৈধ পাটা বাঁধ ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। এ জন্য প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও মৎস্যজীবীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বুড়িভদ্রা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রনজিৎ সরকার রাজ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:দিনাজপুরের বীরগ ঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালত উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মাহানপুরে অভিযান চালিয়ে আলম হোসেনের কাছে ভাড়া নেয়া গোডাউনে আলমঙ্গীর হোসেনের অবৈধ মজুদ ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ, নির্ধারিত মুল্যে বিক্রি করে সরকারী কোষাগারে জমা করার নির্দেশ।

১০ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যার পুর্বে গোপন সংবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মাহানপুর হাটের অদুরে শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা আবেদ আলীর পুত্র ধান চাল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন অবৈধভাবে ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার, যার সরকারি মূল্য ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩০০ টাকা, মজুদ অবস্থায় চোরাই পথে বিক্রির চেষ্টাকালে থানা পুলিশ আটক করে।

পরে সেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে উল্লেখিত অবৈধ সার গুলি জব্দ করেন এবং ওই এলাকার কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার দিলীপ রায়ের জিম্মায় দেন।

তিনি আগামীকালের মধ্যেই জব্দকৃত সার গুলি প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সরকারী নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

অভিযানে উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম সক্রিয় সহযোগিতা করেন।

পুলিশ ও ভ্রাম্যমান আদালতের উপস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত অবৈধ মজুদদার আলমগীর হোসেন পালিয়ে যায়।

মুটোফোনে কথা হলে আলমগীর হোসেন ২০০ বস্তা টিএসপি সার খোচাবাড়ী হতে কিনে এনে গোডাউনে মজুদের কথা স্বীকার করে কিন্তু তার কাছে সার ক্রয়ের কোন প্রমানপত্র, ম্যামো বা ডক্যুমেন্ট নাই মর্মেও জানায়।

সে সময় সাবেক উপজেলা ভিসি এবং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের বহুবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র দেবশর্মা,

বীরগঞ্জ থানার সঙ্গীও পুলিশ ফোর্সসহ এস আই দিপু রায়,

ডিআইও হায়দার আলী, ডিএসবি নুর আমিন,

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহসিন আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার এবং কৃষক দলের সভাপতি দলিল লেখক বাবুল,

গোডাউন মালিক আলম হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সংবাদকর্মী ছাড়াও অনেক উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা কৃষি অফিস ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে জব্দকৃত সারগুলি ১১ অক্টোবর রবিবার ওই ইউনিয়নের প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় করে বিক্রয় লব্ধ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিবেন।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে ০৭ পিস ইয়াবা ও ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ১০ অক্টোবর/২৬ এই অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, রংপুর-এর ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক এস. এম. এলতাস উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে এই সফল অভিযান চালানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোঃ তুহিন মিয়া (২৫): তিনি মিঠাপুকুরের চিথলী দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আভিযানিক দল তাঁর কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে।
মোঃ দুলু মিয়া (৫০): তিনি উপজেলার নানকর রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারের পর আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক ০২টি মোবাইল কোর্ট মামলা দায়ের করা হয়। মোবাইল কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় আসামিদের প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও নির্দিষ্ট মেয়াদে সাজা ভোগ করতে হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এবং মিঠাপুকুর উপজেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে এই ধরণের চিরুনি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ থেকে অপহরণের পর ভারতে পাচারের আগমুহূর্তে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত এলাকা থেকে ১২ বছরের শিশু সাজিম শিকদার ইয়াছিনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তিন দিন ধরে অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গভীর রাতে ভোমরা স্থলবন্দর সংলগ্ন একটি আস্তানা থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ সময় অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও পাচারের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মুন্না শিকদার (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।

উদ্ধার হওয়া সাজিম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের ব্যবসায়ী আকাশ শিকদারের ছেলে। গ্রেফতার মুন্না শিকদার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামের লালন শিকদারের ছেলে। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের দূরসম্পর্কের আত্মীয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে বাড়ির পাশের একটি মুদি দোকান থেকে খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখান মুন্না। তার কথায় বিশ্বাস করে সাজিম সঙ্গে হাঁটতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বংবিপ্রবি) সামনের নির্জন সড়কে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একটি মাইক্রোবাসে শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান মুন্না ও তার সহযোগীরা।

ঘটনার পরদিন থেকে বিভিন্ন অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে সাজিমের বাবা আকাশ শিকদারের ফোনে কল আসতে শুরু করে।

অপহরণকারীরা শিশুটিকে জীবিত ফেরত দিতে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে আকাশ শিকদার গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত ও অনুসন্ধান শুরু করে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সীমান্ত পার করানোর উদ্দেশ্যে সাজিমকে দূরপাল্লার গাড়িতে করে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সীমান্ত পারাপারে জড়িত দালালচক্রের সহায়তায় শিশুটিকে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা পুলিশের।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর গোপালগঞ্জ পুলিশ সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও শিশুসহ মুন্না শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়।

উদ্ধারের পর সাজিমকে নিরাপদে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সন্তানকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা অশ্রুসজল চোখে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে গণহত্যাকারী ইউনুস গং এর ফাঁসি চাই লেখা সংবলিত পোস্টার লাগানোর অভিযোগে লিটন মন্ডল (৩২) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার (১০অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা সদরের শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আটক লিটন মন্ডল গোপালগঞ্জ জেলা শহরের বেদগ্রাম এলাকার নির্মল মন্ডলের ছেলে। তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটন মন্ডল জেলা আওয়ামী লীগ গোপালগঞ্জের ব্যানারে ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে গণহত্যাকারী ইউনুস গং এর ‘ফাঁসি চাই’ লেখা-সংবলিত পোস্টার লাগাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাঁকে প্রথমে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পোস্টারসহ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রিয়াদ মাহামুদ জানান, আটককৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলা দায়েরের পর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।