October 28, 2026

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ,কক্সবাজার প্রতিনিধি।

কক্সবাজারের টেকনাফে ২১ নম্বর চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে থেকে নিখোঁজ এক রোহিঙ্গা কিশোর ও চট্টগ্রামের এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে ক্যাম্পের বাইরে কেরানতলী রাস্তার মাথা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

১৬ এপিবিএনের ২১ নম্বর চাকমারকুল ক্যাম্পের ইনসিডেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই এলাকায় দুই অপরিচিত কিশোর-কিশোরীকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন। খবর পেয়ে এপিবিএন ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

পরে প্রায় দুই ঘণ্টা অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে তাদের পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করা হয়। উদ্ধার হওয়া কিশোর জমির হোসেন (১৫) ২১ নম্বর চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি/০৬ ব্লকের বাসিন্দা। অন্যদিকে, কিশোরী মরিয়ম (১৪) চট্টগ্রামের চাঁদগাঁও এলাকার বাসিন্দা।

এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, তারা দুজনই শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে নিখোঁজ ছিল।

পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি/০৬ ব্লক এলাকায় জমির হোসেনকে তার ভাই মো. ওসমানের (২৫) কাছে এবং মরিয়মকে তার নানা মো. সিদ্দিকের (৬১) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ২১ নম্বর চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে ইনসিডেন্ট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বোরো ধানের ক্ষেতে সেচের মোটর চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কালু মন্ডল (৩০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাশিয়ানী সদর ইউনিয়নের পোনা কাপালিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কালু মন্ডল ওই গ্রামের হরেন মন্ডলের ছেলে।

কাশিয়ানী থানার ওসি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি ও নিহতের স্বজনরা জানান, কালু মন্ডল ওই গ্রামের হাসমত মোল্লার বোরো ধানের ব্লকে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সেচের মোটর চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন, রাজশাহী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করতে রাজশাহী মহানগর যুবদলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নগরীর ভুবন মোহন পার্কে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম জনি। সভা পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মো. রফিকুল ইসলাম রবি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক রকিবুল হক টফি, যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন বিপ্লব, মাইনুল ইসলাম মিন্টু, সোহেল রানা, আকতারুল ইসলাম, মাসুদুল হক মৃধা মমিন, শ্যামল শেখ, আরিফুজ্জামান সোহেল, মুজিবুল হক মিলন ও সারওয়ার পারভেজ রকি। এ ছাড়া মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকিসহ মহানগর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মহানগর যুবদলের বিভিন্ন ওয়ার্ডের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সভায় আগামী ২৭ অক্টোবর যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকালে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিকেল ৩টায় নগরীর বাটার মোড়ে যুবসমাবেশ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করতে মহানগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৮০ জনে। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩ জন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ২২ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারী। এর মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ৩৫ জন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন এবং গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ভর্তি হয়েছেন। শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হননি। একই সময়ে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১১২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ ও ৫৩ জন নারী। হাসপাতালভিত্তিক হিসাবে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ৭৭ জন, গোমস্তাপুরে ১৫ জন, শিবগঞ্জে ৮ জন, ভোলাহাটে ৭ জন এবং নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৮ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে একজনকে। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সাধন সাহা জয়
স্টাফ রিপোর্টার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দির থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মন্দিরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও স্থানীয়রা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে উদ্ধার হওয়া চুরি যাওয়া মালামাল মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে মন্দিরে চুরির ঘটনার পর চোরদের শনাক্ত ও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান শুরু করে আখাউড়া থানা পুলিশ। টানা প্রায় ১৭ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারসহ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জানা যায়, মন্দিরের পেছনের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় মন্দির থেকে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার, ছয়টি মূর্তি এবং দানবাক্সের টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

তবে দ্রুততম সময়ে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করায় আখাউড়া থানা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। মালামাল ফেরত পাওয়ায় মন্দির-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও ফেরত দেওয়ার জন্য আখাউড়া থানা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদারের প্রত্যাশা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

টানা ১৭ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশের এই তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।

মোঃ রনি রজব, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ৩ নম্বর দলদলী ইউনিয়নের ময়ামারী মোড়ে অবস্থিত মারকাযুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসার হিফজ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইত্তেহাদুল উলামা ওয়াল হুফ্ফাজ ফাউন্ডেশন, ভোলাহাটের সভাপতি কারী মাওলানা জিয়াউর রহমান, মাওলানা ইমরান হোসেন, মাওলানা বদরুজ্জামান, মাওলানা এনামুল ইসলাম, মাওলানা নজরুল ইসলাম ও কারী আলাউদ্দিনসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীরা।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে হিফজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআনের শেষ সবক শোনান। হিফজ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের হাতে জায়নামাজ ও ইসলামিক বই উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত আলেমরা হিফজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এবং তাঁদের কোরআনের শিক্ষা ও আদর্শ জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান।

শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন, রাজশাহী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ও জনসভা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সফর সফল করতে নগরীর পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন, সড়ক সংস্কার ও জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ জোরদার করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। এরই অংশ হিসেবে হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (মাদ্রাসা মাঠ) পরিদর্শন করেছেন রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মাঠের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, দেয়াল রংকরণ, মাঠসংলগ্ন সড়ক সংস্কারসহ সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন। এ সময় জনসভার মঞ্চ নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের সিদ্ধান্তে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে আসছেন—এটি নগরবাসীর জন্য অত্যন্ত আবেগ ও অনুভূতির বিষয়। তাঁকে একনজর দেখার জন্য রাজশাহীবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু, মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রাসিক প্রশাসক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক বিভাজকের আইল্যান্ড রংকরণ, প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার এবং নগরীর সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। পরে বিকেল ৩টায় হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (মাদ্রাসা মাঠ) আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। এ সময় তিনি ইক্ষুচাষিদের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ করবেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মোঃ মামুন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান ইমন, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) নিলুফার ইয়াসমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান এবং উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু প্রমুখ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন শিবলী, কাশিয়াডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিউল আহসান হিমেল, শাহ মখদুম থানা বিএনপির সদস্য সচিব নাসিম খান, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক মুঈদুর রহমান মঈদ, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবিরসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মোঃ সিমান্ত তালুকদার,
সিরাজগঞ্জ,

সিরাজগঞ্জের শ্রদ্ধেয় জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম রায়গঞ্জ উপজেলা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উপজেলা ভূমি অফিস, বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প এবং সলঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি তাঁদের পড়াশোনার অগ্রগতি ও শিক্ষার পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের মাঝে মশারি বিতরণ করেন। এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

এর আগে সকালে বিশ্ব সাদাছড়ি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে অটোমেটিক হুইলচেয়ার এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ,কক্সবাজার

কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন বিজিবির রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ও উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) হোয়াইক্যং এলাকার একটি এবং হ্নীলা এলাকার দুটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তাঁরা।
পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পুরোহিতদের উপহার প্রদান করেন।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ছয়টি পূজামণ্ডপে উখিয়া ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ২২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধের পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বিজিবির।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যদের নিয়োজিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম এলাকার ১৮৩টি পূজামণ্ডপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। রাজধানী ঢাকায় বিজিবির মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
বিজিবির পক্ষ থেকে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজিবি মনে করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ, জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে ১০টি মশক নিধন মেশিন, ৫টি গারবেজ ট্রাক ও প্রয়োজনীয় জনবল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে একটি আবেদনপত্র তুলে দেন তিনি। আবেদনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যানবাহন ও জনবল বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে পৌরসভার নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং মশক নিধন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ড্রেন, নালা ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এবং বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এ জন্য পর্যাপ্ত মশক নিধন মেশিন, গারবেজ ট্রাক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। এমপি বুলবুল আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সচেতনতামূলক কার্যক্রম যথেষ্ট নয়; মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মশক নিধন এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় জরুরি ভিত্তিতে ১০টি মশক নিধন মেশিন, ৫টি গারবেজ ট্রাক ও প্রয়োজনীয় জনবল বরাদ্দের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি। দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।