October 28, 2026

Uncategorized

রুম্মান মাহমুদ শৈশব
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে ১২শ মেঃ টন কয়লা বোঝাই এম,ভি ফুলবাড়ী নামক কার্গো জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার(২৬ অক্টোবর)আগভীর রাতে সুন্দরী কোঠা এলাকায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ধাক্কায় ডুবে যায় এই কয়লাবাহী কার্গোটি।

দুর্ঘটনাকবলিত কার্গো জাহাজের স্টাফেরা জানান, মোংলা বন্দরের হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ এম,ভি ইয়াস জুপিটার থেকে কয়লা বোঝাই করে মোংলার উদ্দেশ্যে আসছিল এম,ভি ফুলবাড়ী। পথিমধ্যে পশুর চ্যানেলের সুন্দরী কোঠা এলাকায় পৌঁছালে এম,টি জান্নাতুল ফেরদৌস নামের অপর একটি তেলবাহী ট্যাংকার এম,ভি ফুলবাড়ী নামক জাহাজটিকে ধাক্কা দেয়। এতে দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে ডুবে যায় কয়লা বোঝাই এম,ভি ফুলবাড়ী জাহাজ। ডুবে যাওয়া জাহাজটি আইআরএস ইন্টারন্যাশনালের মালিকানাধীন। এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত কার্গো জাহাজে থাকা ৯ জন স্টাফ সাঁতরে পাশের একটি কার্গো জাহাজে উঠতে পারায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।কয়লা নিয়ে কার্গো জাহাজটির ঢাকার বাদামতলায় যাওয়ার সিডিউল ছিল।

তবে কার্গো জাহাজটি পশুর চ্যানলের বাহিরে ডুবে যাওয়ায় মুল চ্যানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মোঃ শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, পশুর চ্যানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। এ চ্যানেল দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মালিক পক্ষ দ্রুত জাহাজ তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও জানান তিনি।

সোহেল খান দূর্জয়-নেত্রকোনা :

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বসতভিটার উঠানে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করে সেচের লাইন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করে খুঁটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. টুটন মিয়া। এ দাবিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামে তাঁর বাড়ির সামনে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে টুটন মিয়াসহ গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষ অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নির্মাণ না করার অনুরোধ জানিয়ে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কলমাকান্দা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের (ডিজিএম) কাছে লিখিত আবেদন করেন টুটন। তবে সেই আবেদন আমলে না নিয়েই তাঁর বাড়ির উঠানে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করে সেচের লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। টুটন মিয়ার বাড়ি শুনই গ্রামে। একই গ্রামের আলাল উদ্দিন সেচের লাইন নির্মাণের জন্য আবেদন করেছিলেন। টুটনের দাবি, তাঁর বাড়ি এড়িয়ে সরাসরি বিলের দিকে লাইন নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে লাইন বাঁকিয়ে উঠানে খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। খুঁটি বসানোর সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না; কাজের প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন। টুটন মিয়া বলেন, বিষয়টি জানিয়ে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। এতে আমার পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন। দ্রুত খুঁটিটি সরিয়ে অন্যত্র স্থাপন করা হোক।

এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. খোদানেওয়াজ নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০২ সালে তাঁর বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি নেওয়া হয়েছিল। ২০০৪ সালে হঠাৎ বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে তাঁর ওপর পড়লে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। এতে তাঁর এক হাতের সব আঙুল হারান এবং শরীরের অধিকাংশ জায়গা পুড়ে যায়। প্রাণে বাঁচলেও এখনো পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। খোদানেওয়াজ বলেন, ‘আমার মতো আর কারও জীবন যেন দুর্বিষহ না হয়। তাই দ্রুত খুঁটিটি অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।’ গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, সরাসরি লাইন নেওয়া হলে টুটনের বাড়ি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু লাইন বাঁকিয়ে উঠানে খুঁটি স্থাপন করায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঝুঁকিতে পড়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত খুঁটিটি সরানো প্রয়োজন। এদিকে, শুনই গ্রামে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের যোগসাজশে বেশ কয়েকটি অবৈধ সেচ সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, এসব সংযোগে বসতবাড়ি থেকে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার তার বাঁশের খুঁটির ওপর দিয়ে বিলের মাঝখানে নেওয়া হয়েছে। সেখানে সেচপাম্প চালিয়ে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। এভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের। এ ছাড়া সেচের কাজে আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে সেচলাইনের মালিক আলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি যথাযথ নিয়মে সেচলাইনের জন্য আবেদন করেছি। বিদ্যুৎ অফিস তাদের নিয়ম অনুযায়ী লাইন নির্মাণ করেছে। এখানে আমার কোনো হাত নেই। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।অভিযোগের বিষয়ে কলমাকান্দা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহ আলম বলেন, ‘এই লাইনের আবেদন অনেক আগের। আমি কিছুদিন আগে এখানে যোগ দিয়েছি। নির্মাণের সময় জানালে বা বাধা দিলে অন্যদিকে ঘুরিয়ে লাইন নেওয়া যেত। মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করেই আমরা কাজ করি। এখন লাইন নির্মাণ হয়ে গেছে। কয়েক দিন আগে ওই সংযোগের খুঁটির তার চুরি হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় জানানো হয়েছে। তারপরও বিষয়টি দেখে কতটুকু কী করা যায়, তা বিবেচনা করব। অবৈধভাবে বাড়ি থেকে তার টেনে সেচ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ওই বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কিছু ঝামেলা রয়েছে। তার চুরির বিষয়েও অভিযোগ আছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

সোহেল খান দূর্জয়
২৬/১০/২৬

ঢাকা প্রতিনিধি:

সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান এবং ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলাম।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আল বিরুনী মীর শুনানি শেষে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের প্রকাশিত সংবাদে গাজীপুরের হাবিবুর রহমান ওরফে ‘পল্টি হাবিব’-এর বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। ওই সংবাদ প্রকাশের পর দুই সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের কারণে প্রতিশোধমূলকভাবে মামলাটি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নেতারা মনে করছেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক।

মামলার শুরু থেকেই এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। আদালতে দুই সম্পাদকের পক্ষে আইনি লড়াই করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কাওসার হোসাইন, অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর। তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশে ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ মামলা করতেই পারেন। তবে তদন্ত ছাড়াই সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা কতটা আইনসিদ্ধ, সে প্রশ্ন রাখতে চাই।

তিনি আরও বলেন, সত্য প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক হয়রানির শিকার হলে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তার প্রতিবাদ জানাবে।

জামিন পাওয়ার পর দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান বলেন, “সাংবাদিকদের কলম ও অনুসন্ধানী দৃষ্টি থামিয়ে দিতেই এ ধরনের বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং সত্য প্রকাশ করাই সাংবাদিকদের কাজ। মিথ্যা মামলা কিংবা হুমকি-ধমকি দিয়ে সত্যের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না।

ধামইরহাট ( নওগাঁ) প্রতিনিধি :

নওগাঁর ধামইরহাটে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৬শে অক্টোবর ( সোমবার) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ধামইরহাট উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। আইন শৃংখলা মাসিক সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজি তাহমিনা সারমিন। সভায় উপজেলার সার্বিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা অপরাধ দমন,মাদক,বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে সমন্বিত ভাবে কাজ করার উপর গুরুত্বরোপ করা হয়। এ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার( ভুমি) সাজ্জাদ পারভেজ, অফিসার ইনচার্জ মিন্টু রহমান , মৎস্য কর্মকর্তা আইয়ুব আলী, , এজিএম আলমগীর হোসেন , মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার মাক্কামা মাহমুদা, সহকারী শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ, । প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হানজালা, পৌর বিএনপির সভাপতি সহিদুর রহমান সরকার, সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম, , সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, নুরুন্নবী ফারুকী প্রমুখ।

মোঃ নুরুল ইসলাম
ধামইরহাট, নওগাঁ

মোঃ ফারুক আহমদ, গাজীপুর

কালিয়াকৈরে বাড়ির মাটির দেয়াল ধসে আছিয়া খাতুন (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী মনির হোসেন (৩৬) আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত আছিয়া খাতুনের সাত বছর বয়সী একটি মেয়ে ও সাত মাস বয়সী আরেকটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অদ্য ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং রোজ রবিবার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সাবেক বিএনপির নেতা সুলতান পীরের মাটির বাড়ির দেয়াল ভাঙার কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ দেয়ালটি ধসে পড়লে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় আছিয়া খাতুন রান্না করছিলেন। দেয়াল ধসে তিনি গুরুতরভাবে চাপা পড়েন। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী মনির হোসেনও আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তবে আছিয়া খাতুনের মৃত্যু হয়। আহত মনির হোসেনকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে, আছিয়া খাতুনের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাত্র সাত মাস বয়সী শিশুসন্তানসহ দুই কন্যাকে রেখে তাঁর এমন মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অসহায় পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
তবে এ ঘটনায় দেয়াল ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে নিজর বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে এনায়েত শেখ (৬০) নামে এক বাস মালিক নিহত হয়েছেন। নিহতের বাড়ি কাশিয়ানী উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায়।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে কাশিয়ানীর মাঝিগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা এনায়েত শেখের মালিকানাধীন জিএমএস পরিবহনের বাসটি মাঝিগাতী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে ব্রেক করলে পেছন থেকে নড়াইল এক্সপ্রেসের একটি বাস ধাক্কা দেয়।এ সময় দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এনায়েত শেখ ছিটকে সড়কে পড়ে নিজ বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট নৃপেন দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মোঃ রনি রজব ভোলাহাট উপজেলা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি


চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার একটি সীমান্তবর্তী বজরাটেক এলাকায় তিন বন্ধুর তাক লাগানো উদ্ভাবন
আমরা সাধারণত পাকা আম খাওয়ার পর এর খোসা বা চোকা বর্জ্য হিসেবে ফেলে দিই। যে ফেলে দেওয়া অংশকে এতদিন পর্যন্ত একেবারে অর্থহীন মনে করা হতো, এবার সেই আমের খোসা থেকেই তৈরি হচ্ছে উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন ব্যতিক্রমী ও সুস্বাদু ‘ম্যাংগো পিল টি’ বা আমের খোসার চা! চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার বজরাটেক এলাকায় তিন তরুণের এমন উদ্ভাবন পুরো এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন তিন বন্ধু মোঃ মাইনুল ইসলাম (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী), মোঃ মিঠু (সরকারি চাকরিজীবী) এবং এ. বান্না মাসুম (আইটি ব্যবসায়ী)। তারা তিনজনে মিলে গড়ে তুলেছেন ‘সবুজ খাবার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
উদ্যোক্তারা জানান, এই পথচলার মূল প্রেরণা ছিল ২০২২ সালের একটি বেদনাদায়ক স্মৃতি। সে বছর আম মৌসুমে হঠাৎ আমের দাম এতটাই কমে যায় যে, কৃষকরা আম বিক্রি করতে না পেরে তা গরুকে খাওয়াতে বাধ্য হন। লোকসান থেকে বাঁচতে অনেকে আম গাছ কেটে ফেলার মতো চরম সিদ্ধান্তও নিতে শুরু করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ঐতিহ্য ও আমচাষীদের এই সংকটময় মুহূর্তে আমকে রক্ষা করার তীব্র তাগিদ থেকে এই তিন বন্ধু সিদ্ধান্ত নেন প্রক্রিয়াজাত আম নিয়ে কাজ করার। প্রথমদিকে ২০২২ সাল থেকে তারা শুকনো আম (ড্রাই ম্যাংগো) ও আমের পাউডার তৈরি করা শুরু করেন। কিন্তু ড্রাই ম্যাংগো বানানোর সময় দেখা যেতো বিপুল পরিমাণ আমের খোসা ফেলে দিতে হচ্ছে। বর্জ্য হিসেবে পড়ে থাকা এই খোসাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় এই ভাবনা থেকেই ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে জানতে পারেন, আমের খোসা দিয়েও অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন চা তৈরি সম্ভব। এরপরই পরীক্ষামূলক তৈরী করেন পরবর্তীতে রূপ নেয় এক অনন্য সফলতায়। প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে কেবল উদ্ভাবনী চিন্তাই নয়, দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহারে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সাফল্য দেখিয়েছেন তারা। আম শুকাতে (ড্রাই করতে) প্রয়োজনীয় উন্নতমানের মেশিন চায়না থেকে আমদানি করতে খরচ হতো প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু তিন বন্ধু তাদের নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে মাত্র ৫ লাখ টাকায় দেশীয় প্রযুক্তিতে সেই একই মানের মেশিন তৈরি করে ফেলেন, যা তাদের খরচ অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে দেয়। ১ কেজি আমের চা প্রস্তুত করতে প্রায় ১৪ কেজি আমের খোসার প্রয়োজন হয়। এই ম্যাংগো পিল টি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষ হতেও কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধাপ অতিক্রম করতে হয়, বাজার থেকে সেরা মানের আম সংগ্রহ করা হয়,আমগুলো ভালোভাবে ধুয়ে এর খোসা বা চোকা ছাড়ানো হয় এরপর ছাড়ানো খোসাগুলো তাদের নিজস্ব তৈরি মেশিনে প্রায় ৪ থেকে ৫ দিন রেখে সম্পূর্ণ শুষ্ক (ড্রাই) করা হয় তারপর শুকনো খোসাগুলো ব্লেন্ডার মেশিনে প্রক্রিয়াজাত করে চায়ের প্রমিত আকৃতি ও দানায় রূপান্তর করা হয়। এরপর ফুটন্ত গরম পানিতে সামান্য প্রমিত আকৃতি দানা মিশিয়ে নিলেই মুহূর্তেই তৈরি হয়ে যায় সুস্বাদু ও সুবাসিত ‘ম্যাংগো পিল টি’। উদ্যোক্তারা আরো জানান, বর্তমানে তারা দুই ক্যাটাগরিতে এই চা বাজারজাত করছেন, ম্যাংগো পিল গোল্ড টি ৪,০০০ টাকা কেজি (এটি গ্রাহকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়)।
ম্যাংগো পিল ডার্ক টি ২,০০০ টাকা কেজি। স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি অনলাইনে তাদের ফেসবুক পেজ ‘সবুজ খাবার’-এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই চা বিক্রি করছেন এবং প্রতিনিয়ত অর্ডারও পাচ্ছেন ব্যাপক। শুধুমাত্র আমের খোসার এই চা বিক্রি করেই বর্তমানে তারা মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। পুরো আমটার একটি অংশও এখন আর ফেলনা যাচ্ছে না, আম থেকে ড্রাই ম্যাংগো, পাউডার এবং অবশিষ্টাংশ থেকে চা সবটাই তারা বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছেন। আমের ফেলে দেওয়া উপাদান থেকে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর চা তৈরির এই উদ্ভাবন দেখে তাজ্জব বনে গেছেন বজরাটেক গ্রামের বাসিন্দারা। স্থানীয়রা এই চা পান করে এর স্বাদ ও সুবাসের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

এই বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সুলতান আলী বলেন,”আমের ফেলে দেওয়া অংশ থেকে তারা যে ম্যাংগো চা বানাচ্ছেন তা সত্যি প্রশংসনীয়। আমরা এই ধরনের উদোক্তাদের পাশে সবসময় আছি, তাদের সবরকম সহযোগিতা করে আসছি এবং যা সাপোর্ট লাগে আমরা তাদের দিবো। আমরা চাই এই ধরনের উদোক্তা আরো তৈরী হোক”।

তিন বন্ধুর এই মেধা, শ্রম ও ইচ্ছাশক্তি প্রমাণ করে দিয়েছে সঠিক ভাবনা আর সদিচ্ছা থাকলে ফেলে দেওয়া আমের চোকা থেকেও বিশ্বমানের সম্ভাবনা উন্মোচন করা সম্ভব।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ট্রাকের চাপায় বাবা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার পবন বেগ গ্রামের হেমায়েত মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলাম রঞ্জু (৪৫) ও তার মেয়ে সামিরা আক্তার(৬)।

আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গ্যাড়াখোলা ব্রীজের উপর গোপালগঞ্জ গামী মাছের পিকআপ (খুলনা মোট্রো- ন-১১-২৫৬৫) মুকসুদপুর গামী অটোভ্যানকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই বাবা-মেয়ে নিহত হয়।

মুকসুদপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, গোপালগঞ্জ গামী একটি মাছের পিকআপ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোভ্যানকে চাপা দিয়ে চলে যায়, পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষনা করেন।
গোপালগঞ্জ মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )আব্দুল্লাহ আল মামুন সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মেয়ের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদন।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে পরিবারের নারী সদস্যদের কবর খোঁড়ার মধ্য দিয়ে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) গভীর রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে পারিবারিক বাড়িতে তাঁর দাফন করা হয়। মরদেহ দাফন ঘিরে দিনভর উত্তেজনা ও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মারা যান। তিনি গত দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে আসা হলে দাফন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী ও কয়েকজনের বিরোধিতার মুখে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সেখান থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ মরদেহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মানিক পশারীর মরদেহ তাঁর বাড়িতে পৌঁছানো হয়। পরে তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের নারী সদস্যরা কবর খনন করেন। রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর মানিক পশারী যশোরে এবং পরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানেই অসুস্থ অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মানিক পশারীর দাফন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং পরিবারের নারী সদস্যদের নিজেরাই কবর খননের ঘটনা এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মোঃ সিমান্ত তালুকদার
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ):

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বেকারত্ব দূরীকরণ ও তরুণ-তরুণীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচী শুরু হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাব্বির আহমেদের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এই ফ্রি ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের উদ্বোধনী ক্লাসে উপজেলার দুই শতাধিক উৎসুক নারী-পুরুষ ও যুবক-যুবতী অংশ নেন।
শনিবার (বা নির্দিষ্ট দিন) জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন করা হয়। রায়গঞ্জ উপজেলা থেকে মাঠ পর্যায়ের চিত্র তুলে ধরে স্থানীয় প্রতিনিধি মো: সিমান্ত তালুকদার জানান, উদ্বোধনী ক্লাসেই প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের বিষয়ে স্থানীয় যুবসমাজ গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, বর্তমান যুগে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম সেরা মাধ্যম। এই ফ্রি কোর্সের মাধ্যমে রায়গঞ্জের বিপুল সংখ্যক বেকার যুবক-যুবতী ফ্রিল্যান্সিং শিখে নিজেদের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে পারবেন। এতে করে শুধু নিজেদেরই উন্নয়ন হবে না, বরং পুরো রায়গঞ্জ উপজেলার কর্মহীনতা ও বেকারত্ব দূর করতে এটি একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

উদ্বোধনী ক্লাসে অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীরা এমন একটি মহৎ ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাব্বির আহমেদকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে রায়গঞ্জের যুবসমাজ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিজেদের দক্ষ করে তুলবে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।