October 28, 2026

Uncategorized

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে ফিরছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের (বিপিএল) ম্যাচ। ২০২৩ সালের পর এবার ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের হোম ভেন্যু হিসেবে গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে বসছে প্রিমিয়ার লিগের আসর।

আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও সিটি ক্লাবের ম্যাচের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে শুরু হবে এবারের আসরের খেলা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচকে সামনে রেখে স্টেডিয়াম এলাকায় চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। ইতোমধ্যে মাঠ ও গ্যালারি প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপের ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে। সূচি অনুযায়ী, এবারের বিপিএল ও ফেডারেশন কাপ মিলিয়ে মোট ২০টি ম্যাচ এই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

খেলা উপলক্ষে স্টেডিয়ামকে প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্টরা মাঠ ও দর্শক গ্যালারিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর গোপালগঞ্জে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল ফিরায় স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনেও তৈরি হয়েছে নতুন উৎসাহ।

গোপালগঞ্জ ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব এস এম জাহিদুল হক কচির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শুক্রবারের ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আদালতের নির্দেশে ক্রোক-অবরুদ্ধ থাকা গোপালগঞ্জের ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ ভবনের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নিয়োগকৃত রিসিভার।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর সোনাকুড় এলাকায় অবস্থিত স্বর্ণা টাওয়ারে এ দায়িত্ব গ্রহণের কার্যক্রম পরিচালনা করে দুদক গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে রিসিভারের দায়িত্বভার গ্রহণের কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বর্ণা টাওয়ারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক আব্দুল লতিফ হাওলাদার ও উপসহকারী পরিচালক আফসার উদ্দিন।

দুদক সূত্র আরও জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের মামলা নম্বর ৪৩, তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২৫-এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরবর্তীতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ২০২৫ সালের ২৬ জুন ও ২৪ আগস্ট পৃথক আদেশ দেন।

জানা গেছে, স্বর্ণা টাওয়ার ভবনে মোট ৩০টি ফ্ল্যাট ইউনিট, একটি লিফট, সিসিটিভি ব্যবস্থা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র রয়েছে।

দুদক গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আফসার উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বর্ণা টাওয়ারের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব রিসিভারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী এখন থেকে ভবনটির ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ রিসিভারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

এদিকে ভবনটির মালিকের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ জানান, তারা দুদকের নোটিশ পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবনটির দায়িত্ব হস্তান্তরের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের আদেশ অনুযায়ী স্বর্ণা টাওয়ারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার কার্যক্রম রিসিভারের তত্ত্বাবধানে চলবে।

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন,বিশেষ প্রতিনিধি,রাজশাহী।

জমকালো ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল এএসকে প্রোপার্টিজ (ASK Properties)।

সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বেলা ১১টায় নগরীর পিঁপড়া কনভেনশন সেন্টারের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন শিরাজী ফেরদৌস ইমন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাহমুদা শারমীন নেলী এবং রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন।

এছাড়া রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও দেশ টিভির ব্যুরো প্রধান কাজী শাহেদ, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক প্রকৌশলী শাকিলুর রহমান, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি শ্যামল মেহেদী, বর্তমান সভাপতি শ, ম সাজু, সাধারণ সম্পাদক রাসেল মোস্তাফিজ, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত, সিনিয়র সহ-সভাপতি মঈদ উদ্দিন, বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব ড. সাদেকুল ইসলাম স্বপনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান রিটন বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাফল্য ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের আয়না ও গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের অসংগতি তুলে ধরার পাশাপাশি রাজশাহীর উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সাংবাদিকদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। দেশ ও জাতির কল্যাণে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। এ সময় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

পরে রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি ও সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবির পক্ষ থেকেও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

আনন্দঘন ও প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষ হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের দেশ এখন ভালো নেই, এটা আমরা সবাই স্বীকার করছি। সরকারও তা স্বীকার করতে বাধ্য। আমরা একটি ভালো দেশ চাই। দেশ গড়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বিরোধী দলেরও রয়েছে। উভয় পক্ষকে মিলে দেশ গড়তে হবে। বর্তমানে মহাসংকটে রয়েছে দেশ—বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ছয়টি জনদাবি নিয়ে দ্বিতীয় দফায় রাস্তায় নেমেছি। প্রথম দফায় বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করেছি। সেটি শেষ হওয়ার পর গত ৫ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফার কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের কোনো দলীয় দাবি নেই, এগুলো জনদাবি।

তিনি বলেন, প্রথম দফার কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। কর্মসূচিগুলো নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল ছিল। ‘হৈ-হুল্লোড়, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে দেশের কোনো ক্ষতি করতে চাই না আমরা।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা জনগণের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। তাহলে জনগণের ক্ষতি করব কেন? বরং জনগণকে সম্পৃক্ত করে দাবি আদায়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হব। সরকার একসময় হয়তো এসব দাবি বিবেচনায় নিতে বাধ্য হবে এবং বিষয়গুলোর সমাধানের পথ বের করবে।

সরকার সহযোগিতা চাইলে বিরোধী দল হিসেবে পাশে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার দেশের ও জাতির প্রয়োজনে আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা সব সময় প্রস্তুত। সরকার সুযোগ দিলে বিরোধী দল হিসেবে ন্যায্য অবদান রাখার পক্ষে আমরা রয়েছি। সহযোগিতা হবে চোখ খুলে, বিরোধিতা হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে।

জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, এনসিপির জেলা সভাপতি কামরুজ্জামান শাওন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি কামরুল হাসান, শহর আমির অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত বদলাচ্ছে শক্তির সমীকরণ। একদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ছে। ইরানের সঙ্গেও দুই দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুরোনো বিশ্বব্যবস্থার সামনে তৈরি হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো দেশগুলোর পাশাপাশি ভারতও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সম্মেলনের আলোচনায় উঠে এসেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর মতো বিষয়।

রাশিয়া-চীন সম্পর্কের নতুন মাত্রা

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতিতে প্রায় একক প্রভাব বিস্তার করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়ার শক্তি বৃদ্ধির ফলে সেই একক আধিপত্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া আরও বেশি করে চীনের দিকে ঝুঁকেছে। চীনও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়িয়েছে। দুই দেশের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও রাশিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। তিন দেশই পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় হয়ে উঠেছে।