October 28, 2026

অর্থনীতি

​শহিদুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি

​মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। মাচা আর লতা-পাতার ভাঁজে ভাঁজে ঝুলছে কচি লাউ।

নীলফামারীর লক্ষ্মীচাপ দুবাছুরী মিয়া পাড়া এলাকার কৃষক শ্রী সুধীর চন্দ্র রায়ের ক্ষেতে গেলে এমনই এক নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখে পড়ে। এ বছর ২৪ শতক জমিতে চার জাতের লাউ চাষ করে তিনি পেয়েছেন অভূতপূর্ব সাফল্য। তবে বাম্পার ফলনের আনন্দ মলিন হয়ে গেছে বাজারের বর্তমান দরপতনের কারণে।

​উৎপাদন ও খরচ:
গত সেপ্টেম্বর মাসে ২৪ শতক জমিতে লাউয়ের বীজ রোপণ করেন সুধীর চন্দ্র রায়। বাঁশের চাঙ্গা (মাচা) তৈরি, বীজ, পানি ও পরিচর্যা বাবদ মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভর না করে তিনি ব্যবহার করেছেন নিজ হাতে তৈরি জৈব সার। পর্যাপ্ত সেচ ও নিবিড় পরিচর্যায় প্রতিটি গাছেই এসেছে ডোগায় ডোগায় প্রচুর লাউ।

​বিক্রি ও আয়ের হিসাব:
গত ১৫ দিন ধরে তিনি ক্ষেত থেকে লাউ তোলা শুরু করেছেন। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০টি করে লাউ তুলছেন তিনি।

​বর্তমান বিক্রি: ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ১২,০০০ টাকার লাউ বিক্রি করেছেন।

​ভবিষ্যৎ আশা: মৌসুমের শেষ পর্যন্ত আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

​ন্যায্য দাম না পাওয়ার আক্ষেপ:
ক্ষেতে প্রচুর লাউ ধরে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই কৃষক।

তিনি জানান:
​স্থানীয় আড়তের দর: সরাসরি বাইরে পাঠানোর সুযোগ না থাকায় নীলফামারীর স্থানীয় আড়তে মাত্র ৭-৮ টাকা পিস হিসেবে লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে।

​আসল সম্ভাবনা: লাউগুলো যদি সরাসরি ঢাকায় পাঠানো সম্ভব হতো, তবে প্রতিটি লাউ ২০-৩০ টাকায় বিক্রি করা যেত।

​রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কঠোর পরিশ্রমের পর কাঙ্ক্ষিত মুনাফা না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এত কষ্ট করে সবজি ফলাই, কিন্তু লাভের বড় অংশই চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। সরাসরি বড় বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা থাকলে আমাদের মতো কৃষকরা উপকৃত হতো।”

​তবে এই ক্ষোভের মধ্যেও সুধীর চন্দ্র রায় ভেঙে পড়েননি। তিনি নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি চাষ করেন এবং এলাকার অন্যান্য কৃষকদেরও আধুনিক ও জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষে উৎসাহিত করে যাচ্ছেন।

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন, রাজশাহী

রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর অ্যাকাউন্টে প্রণোদনার মোট ১২ কোটি টাকা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশ ও জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বোতাম টিপে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চাষীদের ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাকাউন্টে এই অর্থ হস্তান্তর করেন।

অর্থ হস্তান্তরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এখন আমি কম্পিউটারের একটা বোতাম চাপ দেব। চাপ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কয়েক মিনিটের মধ্যে আখচাষী ভাইদের অ্যাকাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সহযোগিতা ইনশাআল্লাহ পৌঁছে যাবে।’

কৃষির উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকার আখচাষীদের সহযোগিতার জন্য মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দের অর্থ ৩৮ হাজার ৯৭০ জন চাষীর কাছে পৌঁছে যাবে। আমি আশা করছি, সরকারের এই সহযোগিতা কৃষকদের আখ চাষে উৎসাহিত করবে ও সার্বিক সহায়তায় আসবে।’

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কম্পিউটারের বোতাম চাপেন। এ সময় উপস্থিত হাজারো মানুষ সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

সমাবেশ মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী প্রতীকীভাবে ১৫ জন আখচাষীর হাতে প্রণোদনার অর্থ হস্তান্তরের চেক তুলে দেন। চেকপ্রাপ্ত চাষীরা হলেন—আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে রাজশাহী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়।

এর আগে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে পৌঁছালে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক তাঁকে করতালি ও স্লোগানে স্বাগত জানান।

জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

রাজশাহীর দলীয় ও সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী শহরের ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন। রাজশাহী সফর শেষে আজ সন্ধ্যার পর প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

একসময় যে তাঁতের খটখট শব্দে মুখরিত থাকত গ্রাম, সুতার টানে বোন হতো রঙিন স্বপ্ন—আজ সেই তাঁত শিল্প নানা সংকটে জর্জরিত। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ৩নং বন্দবের ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামে এখনও নিভৃতে গড়ে উঠছে স্বল্পমূল্যের আকর্ষণীয় তাঁতের শাড়ি। এখানকার তাঁতিদের হাতের সুনিপুণ ছোঁয়ায় বুনে চলা শাড়ি রৌমারীর গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে ঠিকই, তবে যার ঘামে তৈরি হচ্ছে এই বস্ত্র, সেই তাঁতির ভাগ্যের কোনো বদল ঘটছে না। বাঘমারা গ্রামের তাঁতি মো. জিহাদ হাসান (পিতা: মো. শহিদুল)। প্রতিদিনের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই শুরু হয় তাঁর ও তাঁর পরিবারের কর্মযজ্ঞ। জিহাদ হাসান জানান, “পরিবারের সব সদস্য মিলে সারা দিন পরিশ্রম করে আমরা মাত্র একটি শাড়ি বুনতে পারি। আর এক দিন খাটার পর তার বিনিময়ে মজুরি পাই মাত্র ৭০০ টাকা।” দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে পুরো পরিবারের ঘামঝরানো শ্রমের বিনিময়ে ৭০০ টাকা আয় করে সংসার চালানো কতটা কষ্টকর, তা ভাষায় প্রকাশ করার অপেক্ষা রাখে না। প্রতিবেশী আফজাল মিয়ার কণ্ঠেও ঝরল একই আক্ষেপ। তিনি বলেন, “বাঘমারার তাঁতিদের বুনে দেওয়া শাড়ি রৌমারী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজারের অসামঞ্জস্যতার কারণে কারিগররা তাদের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কম দামে শাড়ি কিনে নিয়ে বড় বড় বাজারে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি হলেও সুতা ও শ্রমের মূল কারিগররা রয়ে যাচ্ছেন বঞ্চিত।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঁচামালের অগ্নিমূল্য, সরকারি প্রণোদনার অভাব এবং বাজারজাতকরণের সঠিক ব্যবস্থার অভাবে বাঘমারার এই ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। সুতার দাম দিন দিন বাড়লেও শাড়ির উৎপাদন মজুরি বাড়ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই পূর্বপুরুষের এই পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় ঝুঁকছেন। রৌমারীর বাঘমারা গ্রামের এই নিভৃত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং তাঁতি পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে অবিলম্বে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা, উন্নত সুতা ও রঙ সরবরাহ এবং উৎপাদিত পণ্যের সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি করে দিলে একদিকে যেমন বাঘমারার এই হস্তশিল্প ঐতিহ্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে স্বাবলম্বী হবে বহু অসচ্ছল পরিবার।অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার বাঘমারার এই তাঁতিদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টিই পারে রৌমারীর এই হস্তশিল্পকে নতুন জীবন দিতে।

মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার খাগড়াবাড়িয়া গ্রামে গড়ে উঠছে এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। পুরোনো ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে কাঁচামাল উৎপাদনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাটারি উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ধাপে ধাপে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের সঙ্গে পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গ্রীন ডাইনেস্টি লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনিরা খাতুন বলেন, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ছাড়া কারখানাটি গড়ে তোলা সম্ভব হতো না। তাঁদের সহযোগিতা ও দোয়ায় একদিন এখানে ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা করেন।
তাঁর ভাষ্য, শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে খাগড়াবাড়িয়া ও আশপাশের এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে খাগড়াবাড়িয়া একটি শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কার্যক্রম
এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও গ্রীন ডাইনেস্টি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাডভোকেট সরিফুল ইসলাম দুর্জয় বলেন, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “দক্ষ কর্মী কখনো বেকার থাকে না।”
প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ নাজমুল হক সৈকত বলেন, বর্তমানে পুরোনো ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে নতুন ব্যাটারি তৈরির কাঁচামাল উৎপাদন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাটারি উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তাঁর দাবি, চীনের বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছেন এবং চীনের প্রকৌশলীরা সেখানে কাজ করছেন। ভারত ও নেপালের ব্যবসায়ীরাও যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে তিনি জানান।
পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ব্যাটারি রিসাইক্লিং শিল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমএস মেটাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কারখানা স্থাপনের সময় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, পুরোনো ব্যাটারির অংশ গলানোর প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় করা হয়। গলিত বর্জ্য যাতে কারখানার বাইরে যেতে না পারে, সে জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানায় এয়ার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এটিপি) এবং ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন করা হয়েছে। তাদের দাবি, ব্যবহৃত পানি পরিশোধন করে পুনরায় ব্যবহার করা হয় এবং ‘জিরো ডিসচার্জ’ ব্যবস্থা অনুসরণ করা হচ্ছে।
ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে স্ক্রাবার ও ফিউম এক্সট্রাকশন ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিশোধন প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত ডাস্ট নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয় বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।
এ ছাড়া স্ক্র্যাপ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেফটি ট্যাংক ও সোকওয়েল এবং শ্রমিকদের জন্য আলাদা টয়লেট ও বাথরুমের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

কর্মসংস্থান নিয়ে প্রত্যাশা
প্রতিষ্ঠানটির ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় শ্রমবাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবহন, খাবার, আবাসনসহ বিভিন্ন সেবা খাতেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে কত সময়ের মধ্যে এই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং পরিকল্পনাটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের ওপর।
এমএস মেটাল কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে খাগড়াবাড়িয়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি শিল্পকারখানার সম্প্রসারণের সঙ্গে পরিবেশগত নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মনির হোসেন,বেনাপোল প্রতিনিধি :


যশোরের শার্শা উপজেলার বাজারগুলোতে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। এবার পাটের বাম্পার ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। গত বছরের তুলনায় এবার নতুন পাট মণপ্রতি প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি পাট জাগ দেওয়ার পানির সংকটও হয়নি।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের শুরুতে নতুন পাট ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও, এবার কৃষকরা শুরুতে তা ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বর্তমানে দাম আরও বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। ফলে গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে কৃষকরা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া এবং দোআঁশ মাটির উর্বর গুনাগুণের কারণে এবার পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। গত বছর যেখানে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল, তা বেড়ে এবার ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর। তাছাড়া গত বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে কৃষকদের পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হলেও, তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেই সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। যে কারণে এবার সমস্যায় পড়তে হয়নি।

এদিকে ফলন ও দাম ভালো হলেও উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। বিশেষ করে শ্রমিকদের মজুরি এবার বেশি গুনতে হয়েছে। গত বছর ৪০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া গেলেও, এবার পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে শ্রমিক প্রতি বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। এতে গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলার কোটা গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, “এবার পাটের ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি দামও বেশ ভালো পাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় নতুন পাট বিক্রি করে মণে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে।”

বাগআঁচড়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি স্থানীয় হাট থেকে পাট কিনে ফরিদপুর, খুলনা, বগুড়া ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করেন। ভালো মানের পাটের চাহিদা থাকায় বাজারে দামও ভালো রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন এবং সন্তোষজনক দামের কারণে এবার কৃষকরা পাট চাষে বেশ লাভজনক অবস্থানে রয়েছেন। সরকারের দেওয়া প্রণোদনা, বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শের ফলেই চাষিরা এই সুফল পাচ্ছেন। আগামীতেও কৃষকদের মাঝে পাট চাষের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। #

প্রেরক : মো.মনির হোসেন।
বেনাপোল প্রতিনিধি, যশোর।
তারিখ-১৮/০৯/২৬
মোবা: ০১৮৩৫ ০১৯৪৩১,

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও সাত শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯১৯ জনে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে সাতজন মারা গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা এবং একজন করে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে প্রাণ হারিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৯ জনে।

এছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৯ জনের। এর সবই পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮১৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ছয়জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে।

সেই সঙ্গে সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সিলেটে ১৫৭, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৬৯, বরিশালে ৫৭, খুলনায় ৩৯ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের দেশ এখন ভালো নেই, এটা আমরা সবাই স্বীকার করছি। সরকারও তা স্বীকার করতে বাধ্য। আমরা একটি ভালো দেশ চাই। দেশ গড়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বিরোধী দলেরও রয়েছে। উভয় পক্ষকে মিলে দেশ গড়তে হবে। বর্তমানে মহাসংকটে রয়েছে দেশ—বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ছয়টি জনদাবি নিয়ে দ্বিতীয় দফায় রাস্তায় নেমেছি। প্রথম দফায় বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করেছি। সেটি শেষ হওয়ার পর গত ৫ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফার কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের কোনো দলীয় দাবি নেই, এগুলো জনদাবি।

তিনি বলেন, প্রথম দফার কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। কর্মসূচিগুলো নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল ছিল। ‘হৈ-হুল্লোড়, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে দেশের কোনো ক্ষতি করতে চাই না আমরা।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা জনগণের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। তাহলে জনগণের ক্ষতি করব কেন? বরং জনগণকে সম্পৃক্ত করে দাবি আদায়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হব। সরকার একসময় হয়তো এসব দাবি বিবেচনায় নিতে বাধ্য হবে এবং বিষয়গুলোর সমাধানের পথ বের করবে।

সরকার সহযোগিতা চাইলে বিরোধী দল হিসেবে পাশে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার দেশের ও জাতির প্রয়োজনে আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা সব সময় প্রস্তুত। সরকার সুযোগ দিলে বিরোধী দল হিসেবে ন্যায্য অবদান রাখার পক্ষে আমরা রয়েছি। সহযোগিতা হবে চোখ খুলে, বিরোধিতা হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে।

জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, এনসিপির জেলা সভাপতি কামরুজ্জামান শাওন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি কামরুল হাসান, শহর আমির অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত বদলাচ্ছে শক্তির সমীকরণ। একদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ছে। ইরানের সঙ্গেও দুই দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুরোনো বিশ্বব্যবস্থার সামনে তৈরি হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো দেশগুলোর পাশাপাশি ভারতও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সম্মেলনের আলোচনায় উঠে এসেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর মতো বিষয়।

রাশিয়া-চীন সম্পর্কের নতুন মাত্রা

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতিতে প্রায় একক প্রভাব বিস্তার করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়ার শক্তি বৃদ্ধির ফলে সেই একক আধিপত্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া আরও বেশি করে চীনের দিকে ঝুঁকেছে। চীনও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়িয়েছে। দুই দেশের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও রাশিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। তিন দেশই পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় হয়ে উঠেছে।