October 28, 2026

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় মইজ্জারটেক ইউসিবিএল ব্যাংক চত্বরে সামাজিক সংগঠন ‘মানবতার শেষ আশ্রয়’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও সাউথ চট্টগ্রাম ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফা। প্রধান অতিথি ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রিদুয়ানুল ইসলাম।

কর্মসূচিতে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্রতি বৈষম্য না করার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা, কর্ণফুলী থানার ওসি নূর আহমদ, চরপাথারঘাটা ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এম. মঈন উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল গফুর মেম্বার, রোটারিয়ান এস. এম. আজিজ, প্যানেল চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক সুমনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি মো. আলাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিরাজসহ সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অর্ণব ধর (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
এ মৌসুমে গোপালগঞ্জ জেলায় ডেঙ্গুতে এটিই প্রথম মৃত্যু বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন। শুক্রবার গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অর্ণবের মৃত্যু হয়।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ওই যুবকের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক।

অর্ণব ধর কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রাম ইউনিয়নের শুয়াগ্রামের মৃত আশীষ ধরের ছেলে। অর্ণব একটি বেসরকারি ফার্মে চাকরি করতেন। মাকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। ঢাকা থেকে তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত হন।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত অর্ণবকে শুক্রবার সকালে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়। পরে তার পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে গেছে।

গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গোপালগঞ্জে ১৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ১০১ রোগী।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজারের বেশি রোগী।

বর্তমানে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতাল, ও ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে ১০০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রনজিৎ সরকার রাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৪নং পাল্টাপুর ইউনিয়নে গ্রামীণ ঐতিহ্যের ‘চোখ বেঁধে হাঁস ধরা’ খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাল্টাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ খেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে আয়োজনটি পরিণত হয় আনন্দঘন মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসন্ন বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সাবেক ফুটবলার মো. আক্কাস আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. জাহাঙ্গীর আলম (মুহুরী)।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪নং পাল্টাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. খাইরুল ইসলাম শাহ্, সাবেক ইউপি সদস্য ও সমাজসেবক মো. ওয়াজেদুল ইসলাম এবং যুবদল নেতা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক।

এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে ঐতিহ্যবাহী খেলাটি উপভোগ করেন।

আয়োজকরা জানান, এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার চর্চা ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

মোঃ আলী শেখ, স্টাফ রিপোর্টার :

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে ও প্রবাসী জহিরুল ইসলামের অর্থায়নে পাঁচ শতাধিক অসহায় মানুষ পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা।
শনিবার ( ১৯ সেপ্টেম্বার) সকাল ৯ টায় বদরপাশা ইউনিয়ন পাঠানকান্দি গ্রামের প্রবাসী জহিরুল ইসলামের বাড়িতে এ চিকিৎসা সেবার উদ্বোধন করেন জামায়াতের রাজৈর উপজেলা আমীর সহকারী অধ্যাপক আলী আহমেদ আকন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের সভাপতি মতিউর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা আমির আলী আহমেদ আকন বলেছেন, আমাদের দেশের প্রতি বাড়িতে যেমন বিদ্যুৎ পৌছে গিয়েছে ঠিক তেমন চিকিৎসা সেবা প্রতি বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে সে লক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি কাজ করে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে মানুষের দোরগোড়ায় আমরা চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিবো বিনামূল্যে।
বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাস্টার নজরুল ইসলাম, রাজৈর উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটের সভাপতি ফাইজুর রহমান মামুন ও মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এস এম ফেরদৌস হোসাইন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও বারডেম থেকে আগত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ বদরপাশা ও ইশিবপুর এলাকার মানুষদের সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ প্রদান করেন । এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক রুগী এই ক্যাম্পে ফ্রি চিকিৎসা সেবা নেন । জামায়াতের উদ্যোগে এই মহতি সেবায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ।

শফিকুর রহমান: সরকার জনগণের আশা পূরণে ব্যর্থ।

গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসক নিয়োগ ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে তা এক দফায় রূপান্তরিত হতে পারে। জনগণের যৌক্তিক দাবি মেনে না নেওয়া হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

লংমার্চের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।

এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপিসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পথসভা শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহর সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে টাঙ্গাইল ত্যাগ করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও আদর্শ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সারদাগঞ্জ এলাকায় ইব্রাহিম মার্কেট বায়তুল আকসা জামে মসজিদ থেকে উত্তর দিকে আহলে হাদিস মসজিদ পর্যন্ত আরসিসি করণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বাস্তবায়নে এবং শহীদুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের পরিচালনায় এ উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার বলেন, “গাজীপুর সিটিকে পরিকল্পিত ও আদর্শ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকল ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গাজীপুরকে একটি আধুনিক ও বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এসব কার্যক্রমে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে কাশিমপুর থানা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল করিম মিঞা এবং স্থানীয় ৪ নম্বর সারদাগঞ্জ ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আঃ রহিম মাতাব্বর উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আরসিসি করণ কাজটি সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার সড়ক যোগাযোগ ও নাগরিক চলাচলে সুবিধা বাড়বে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় পুকুর থেকে মিরাজুল ইসলাম খলিফা (২৪)নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে কোটালীপাড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আতিয়ার শেখের পুকুর থেকে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

মিরাজুল ইসলাম খলিফা শিমুলবাড়ি গ্রামের লাল মিয়া খলিফার ছেলে ও দুই সন্তানের জনক।

মিরাজুল ইসলামের বোন নুপুর বেগম জানিয়েছেন,তার ভাই মিরাজুল ইসলাম খলিফা একজন মাদকাসক্ত যুবক। মাদকের টাকা না দিলে সে পরিবারের লোকজনদেরকে মারধর ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করতো।গতকাল শুক্রবার দুপুরে তার মার কাছ থেকে ২শত টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। রাতে আর সে বাড়িতে ফিরে আসেনি। আজ সকালে এলাকাবাসী বাড়ির পাশের পুকুরে মিরাজুলের লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নার তদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন,এই মাদক সেবনের কারণে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রীর সাথে মিরাজুলের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।মিরাজুলের দুটি সন্তান রয়েছে।সন্তানরা বর্তমানে তার মায়ের কাছে থাকে।
কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ বলেন, মিরাজুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

রিপোর্ট পাওয়ার পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এছাড়াও এলাকা ও পরিবারের মানুষদের সাথে কথা বলে মিরাজুল ইসলামের মৃত্যুর কারণ জানার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন, রাজশাহী প্রতিনিধি।

​জমি রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার জটিলতা নিরসন, ভূমি অফিসের আমলাতান্ত্রিক হয়রানি বন্ধ এবং পেশাগত অধিকার সুরক্ষায় আন্দোলনে নেমেছেন দলিল লেখকরা। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল রাখা এবং ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ‘বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি’।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী জেলার পবা উপজেলা দলিল লেখক সমিতি শেডে অনুষ্ঠিত এক জেলা সমাবেশে এসব দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।

বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি এস এম আয়নাল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃসানাউল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা কমিটির শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

​সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বর্তমানে একদিনেই সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় জমি রেজিস্ট্রি সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট অসাধু আমলাগোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং বাড়তি অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে জমি রেজিস্ট্রির কাজ ভূমি অফিসে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি, দুর্নীতি ও দালালি বাণিজ্য চরম আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
​সমাবেশ থেকে দলিল লেখকদের পেশাগত সুরক্ষায় ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়:
​১. আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা।
২. দলিল প্রতি ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানীয় ভাতা নির্ধারণ।
৩. লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কারও মাধ্যমে দলিল মুসাবিদা ও দাখিল বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি।
৪. সমিতি বা কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞদের দলিল লেখার লাইসেন্স না দেওয়া।
৫. সরকারি খরচে থানা ও জেলা কার্যালয়ে দলিল লেখকদের জন্য বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ।
৬. গ্রহীতা ও দাতার সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে দলিল লেখার কারণে কোনো প্রকার আইনি জটিলতায় দলিল লেখকদের আসামি না করা।
৭. অবিলম্বে স্বায়ত্তশাসিত ‘দলিল লেখক কাউন্সিল’ গঠনের অনুমতি দেওয়া।
সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ রাজশাহী জেলা দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন,কোষাধ্যক্ষ নাজমুল হক,ভবানীগন্জ দলিল লেখক সমিতির ইদ্রিস আলী,সামছুর রহমান, মামুনুর রশীদ, দূর্গাপুর দলিল লেখক সমিতির আজিজুল হক বাচ্চু,আলমগীর হোসেন,চারঘাট দলিল লেখক সমিতির ইয়াচিন আলী, রুস্তম আলী, পুঠিয়া দলিল লেখক সমিতির আফজাল হোসেন, তানোর দলিল লেখক সমিতির আব্দুস সামাদ প্রাং,গোদাগাড়ী দলিল লেখক সমিতির গিয়াস উদ্দিন,পবা দলিল লেখক সমিতির আহসান হাবীব বাবু,বাঘা দলিল লেখক সমিতির শাহিন আলম প্রমুখ।

​সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, দ্রুত এসব যৌক্তিক দাবি মেনে না নেওয়া হলে সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। 

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপসংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার, রসুন ও পেঁয়াজসহ ১০ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

কোস্ট গার্ড জানায়, শনিবার রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্র এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিনের একটি আভিযানিক দল।

অভিযান চলাকালে সন্দেহজনক একটি বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ধাওয়া করে গভীর সমুদ্র থেকে বোটটি আটক করতে সক্ষম হন।

পরে বোটটিতে তল্লাশি চালিয়ে ২৪০ বস্তায় ১২ হাজার কেজি ইউরিয়া সার, ১৯০ বস্তায় ৩ হাজার ৮০০ কেজি রসুন এবং ৯০ বস্তায় ৪ হাজার ৫০০ কেজি পেঁয়াজ জব্দ করা হয়। জব্দ করা পণ্যগুলোর আনুমানিক মূল্য ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

এ সময় বোটে থাকা এক রোহিঙ্গাসহ মোট ১০ জনকে আটক করা হয়।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দ করা আলামত ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মনির হোসেন,বেনাপোল প্রতিনিধি :


যশোরের শার্শা উপজেলার বাজারগুলোতে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। এবার পাটের বাম্পার ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। গত বছরের তুলনায় এবার নতুন পাট মণপ্রতি প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি পাট জাগ দেওয়ার পানির সংকটও হয়নি।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের শুরুতে নতুন পাট ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও, এবার কৃষকরা শুরুতে তা ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বর্তমানে দাম আরও বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। ফলে গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে কৃষকরা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া এবং দোআঁশ মাটির উর্বর গুনাগুণের কারণে এবার পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। গত বছর যেখানে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল, তা বেড়ে এবার ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর। তাছাড়া গত বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে কৃষকদের পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হলেও, তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেই সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। যে কারণে এবার সমস্যায় পড়তে হয়নি।

এদিকে ফলন ও দাম ভালো হলেও উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। বিশেষ করে শ্রমিকদের মজুরি এবার বেশি গুনতে হয়েছে। গত বছর ৪০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া গেলেও, এবার পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে শ্রমিক প্রতি বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। এতে গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলার কোটা গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, “এবার পাটের ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি দামও বেশ ভালো পাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় নতুন পাট বিক্রি করে মণে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে।”

বাগআঁচড়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি স্থানীয় হাট থেকে পাট কিনে ফরিদপুর, খুলনা, বগুড়া ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করেন। ভালো মানের পাটের চাহিদা থাকায় বাজারে দামও ভালো রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন এবং সন্তোষজনক দামের কারণে এবার কৃষকরা পাট চাষে বেশ লাভজনক অবস্থানে রয়েছেন। সরকারের দেওয়া প্রণোদনা, বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শের ফলেই চাষিরা এই সুফল পাচ্ছেন। আগামীতেও কৃষকদের মাঝে পাট চাষের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। #

প্রেরক : মো.মনির হোসেন।
বেনাপোল প্রতিনিধি, যশোর।
তারিখ-১৮/০৯/২৬
মোবা: ০১৮৩৫ ০১৯৪৩১,