বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) রাজৈর উপজেলা শাখার সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সংগঠনের থানার মোড় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়, সাংবাদিকদের ঐক্য ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিএমএসএফ রাজৈর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম ফেরদৌস হোসাইন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আউয়াল ফকির, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সানোয়ার হোসেন, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান সনেট, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এমারত ও কার্যকরী সদস্য মেহেদী হাসানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
সভায় সংগঠনের চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানো এবং সাংবাদিকদের পেশাগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এদিকে, বিভিন্ন জরুরি কাজে ব্যস্ত থাকায় সংগঠনের কয়েকজন সদস্য সভায় উপস্থিত হতে পারেননি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী নির্বাচন, দলীয় কৌশল ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ নজরুল ইসলাম খান এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালনরত রুহুল কবির রিজভী।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।
বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন ও বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনে দলের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম জোরদার, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা সভায় অংশ নিয়ে নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতির বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চিকদাইরে সার্বজনীন ঐতিহ্যের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে চার দিনব্যাপী শ্রীশ্রী গণেশ পূজা ও বিভিন্ন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। চিকদাইর গণেশ চতুর্থী সংঘের উদ্যোগে গত ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
চার দিনব্যাপী আয়োজনে সহস্র কণ্ঠে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, ভক্তিমূলক সংগীত, নৃত্য পরিবেশন, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ ও প্রতিমা নিরঞ্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
১৩ সেপ্টেম্বর শ্রীশ্রী গণপতির আগমন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ঢাকবাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে গণপতিকে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় গজাননের সন্ধ্যা আরতি।
১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় শ্রীশ্রী গণেশ বন্দনা। এতে পরিবেশন করেন মৃত্যুঞ্জয় মিউজিক্যাল টিম, চিকদাইর। দ্বিতীয় পর্বে চিকদাইর লোকনাথ গীতা বিদ্যাপীঠের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে সহস্র কণ্ঠে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় ও অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনায় ধর্মীয় ভক্তিমূলক সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
সন্ধ্যায় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন, বাবার শুভ অধিবাস, পুরস্কার বিতরণ ও ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। এদিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ধর্মীয় ব্যান্ড ‘ভৈরব’-এর পরিবেশনায় মনোজ্ঞ ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
১৫ সেপ্টেম্বর শ্রীশ্রী সিদ্ধিদাতা গণেশের পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করা হয়। পূজায় পৌরহিত্য করেন রাউজানের পণ্ডিত শ্রী কাঞ্চন চক্রবর্তী। এ সময় বাবার ভোগ নিবেদন ও ভোগ আরতি অনুষ্ঠিত হয়।
সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সুনামধন্য ঢাকি নয়ন ঢাকির পরিচালনায় তপোবন সংঘ গ্রুপের পরিবেশনায় শ্রীশ্রী গণপতির সন্ধ্যা আরতি ও ঢাকের তালে তালে ধুনুচি নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
১৬ সেপ্টেম্বর শ্রীশ্রী গণপতির প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুদীপ দে, সম্পাদক দীপ্ত চৌধুরী, পূজা ফ্রন্টের সহ-সম্পাদক বিপুল তালুকদার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল কান্তি দে।
এ ছাড়া শ্রীশ্রী গণেশ চতুর্থী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী সত্যজিৎ দে, সাধারণ সম্পাদক শ্রী তুহিন বিশ্বাস, সহ-সভাপতি শ্রী নারায়ণ দে, শ্রী মানস দে, শ্রী পাপ্পু সেন ও শ্রী প্রিয়তোষ নন্দী, অর্থ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক শ্রী ইন্দ্রজিৎ মজুমদার (শান্ত) ও শ্রী সুদীপ বিশ্বাস, সহ-অর্থ সম্পাদক শ্রী প্রান্ত দে, সহ-সাধারণ সম্পাদক অভি দাশ, অপু চৌধুরী, অভিজিৎ মজুমদার, শুভ চৌধুরী ও জনি দে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রচার সম্পাদক শ্রী শিশির দে, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শ্রী সৌরভ বিশ্বাস, সহ-পূজা বিষয়ক সম্পাদক শ্রী মিন্টু দে ও শ্রী সুমন দে, ভাণ্ডার রক্ষক শ্রী রূপক দে, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বিষয়ক সম্পাদক শ্রী দীপ্ত দে, সহ-গীতা বিষয়ক সম্পাদক শ্রী রুদ্র দে, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শ্রী দিগন্ত বিশ্বাস এবং সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিজয় দাশসহ শ্রীশ্রী গণেশ চতুর্থী সংঘ পরিচালনা পরিষদ ও উদযাপন পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাউজানের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো ভক্ত নর-নারী সমবেত হন। পূজা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে পুরো পূজাঙ্গন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে ফিরছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের (বিপিএল) ম্যাচ। ২০২৩ সালের পর এবার ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের হোম ভেন্যু হিসেবে গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে বসছে প্রিমিয়ার লিগের আসর।
আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও সিটি ক্লাবের ম্যাচের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে শুরু হবে এবারের আসরের খেলা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচকে সামনে রেখে স্টেডিয়াম এলাকায় চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। ইতোমধ্যে মাঠ ও গ্যালারি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপের ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে। সূচি অনুযায়ী, এবারের বিপিএল ও ফেডারেশন কাপ মিলিয়ে মোট ২০টি ম্যাচ এই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
খেলা উপলক্ষে স্টেডিয়ামকে প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্টরা মাঠ ও দর্শক গ্যালারিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর গোপালগঞ্জে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল ফিরায় স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনেও তৈরি হয়েছে নতুন উৎসাহ।
গোপালগঞ্জ ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব এস এম জাহিদুল হক কচির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শুক্রবারের ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
কুমিল্লা নগরীতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে অভিযান পরিচালনা করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। অভিযানে দুটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দুই ভবনমালিককে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর ঝাউতলা ও বাদুরতলা ডাক্তারপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে ঝাউতলা এলাকায় ডা. আব্দুল করিমের বাসভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ কারণে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে বাদুরতলা ডাক্তারপাড়া এলাকায় নোমান নামের এক ব্যক্তির একটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কুসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভবনমালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, নগরীতে ডেঙ্গু মশার উপদ্রবের হটস্পট শনাক্ত, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে থাকতে না দেওয়ার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় সামিউল আল আরাফাত (১৮) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের উত্তর হিজলতলী আশুকা পাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সামিউল আল আরাফাত টাঙ্গাইল সদর আদালতপাড়ার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুস সালাম মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সামিউল মোটরসাইকেলযোগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উত্তর হিজলতলী আশুকা পাম্প এলাকায় পৌঁছালে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে ছিটকে পড়ে।
এ সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই সামিউল আল আরাফাতের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে নাওজোর-সালনা হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং হাইওয়ে থানা হেফাজতে নিয়ে যান।
নাওজোর-সালনা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জাফর আলী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড, কল্যাণসভা ও মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশের উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে অনুষ্ঠিত মাস্টার প্যারেডে সালামি গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ। প্যারেড পরিদর্শন শেষে তিনি পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা, পোশাক-পরিচ্ছদ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও জনসাধারণের সঙ্গে ভালো আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে প্রত্যেক সদস্যকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
মাস্টার প্যারেডে প্যারেড অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ প্রবেশনার) রনি হাওলাদার।
পরে জেলা পুলিশ লাইন্সে কল্যাণসভা ও মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন পুলিশ সদস্যের ভূমিকা ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দায়িত্ব পালনে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা দেওয়া হয়। মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ডাকাতি ও হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি, ওয়ারেন্ট তামিল এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়।
এ ছাড়া পুলিশ সুপার পুলিশ লাইন্সের রেশন স্টোরসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। পুলিশ সদস্যদের জন্য মানসম্মত রেশন সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বদলিজনিত কারণে সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ প্রবেশনার) রনি হাওলাদারকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ সুপার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ নাফিসুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) মোঃ হাসানুর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, ফাঁড়ি ও ক্যাম্প ইনচার্জ এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল (জেলা ৩১৫ এ১, বাংলাদেশ)-এর অন্তর্গত লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা সাভার। ক্লাবটির উদ্যোগে এবং লায়ন মোঃ হুমায়ুন কবিরের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত বিনামূল্যে ছানি অপারেশন ক্যাম্পে ২৬ জন রোগীর চোখে সফলভাবে ছানি অপারেশন ও লেন্স সংযোজন করা হয়েছে।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সাভারের আশুলিয়া ধামসোনা ইউনিয়নের সুবন্দী তালটেকী জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি রোগী বাছাই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে ছানি অপারেশনের জন্য রোগী নির্বাচন করা হয়।
বাছাই করা রোগীদের গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার আগারগাঁওস্থ বিএলএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ১৬ জন পুরুষ ও ১০ জন নারীসহ মোট ২৬ জন রোগীর চোখে ছানি অপারেশন ও লেন্স সংযোজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
অপারেশন শেষে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়ার পর রোগীদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে রোগীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা যায়।
তবে শারীরিক পরীক্ষার সময় ৯ জন রোগীর অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ায় তাঁদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চিকিৎসকরা আপাতত অপারেশন স্থগিত রাখেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসার পর তাঁদের পুনরায় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোগীদের যাতায়াত, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অপারেশন, লেন্স সংযোজন ও ওষুধপত্রসহ চিকিৎসার যাবতীয় খরচ লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা সাভার বহন করেছে।
বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা ও অপারেশনের সুযোগ পেয়ে রোগীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় এলাকাবাসীও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে লায়ন্স ক্লাব ও লায়ন মোঃ হুমায়ুন কবিরের উদ্যোগ মানুষের জন্য কল্যাণকর।
উল্লেখ্য, “Together We Rise, Together We Thrive” স্লোগানকে সামনে রেখে লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা সাভার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, স্বাস্থ্য ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে ক্লাবের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা যুবদল।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অভিযানে বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
কালিহাতী উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন মোল্লা, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক, সদস্য সচিব হাসমত আলী রেজা, যুগ্ম আহ্বায়ক ইদ্রিস আলী, লুৎফর রহমান লেনিন, নুরুজ্জামান আহমেদ, আশিকুর রহমান, মিথুন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফিরোজ মিয়া, হায়দার আলী, মাসুদ, শাকিল খান, খোকন, আল মামুন ও দোলেয়ার।
এছাড়া শ্রমিক দলের পৌর সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনসহ যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আদালতের নির্দেশে ক্রোক-অবরুদ্ধ থাকা গোপালগঞ্জের ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ ভবনের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নিয়োগকৃত রিসিভার।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর সোনাকুড় এলাকায় অবস্থিত স্বর্ণা টাওয়ারে এ দায়িত্ব গ্রহণের কার্যক্রম পরিচালনা করে দুদক গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে রিসিভারের দায়িত্বভার গ্রহণের কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বর্ণা টাওয়ারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক আব্দুল লতিফ হাওলাদার ও উপসহকারী পরিচালক আফসার উদ্দিন।
দুদক সূত্র আরও জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের মামলা নম্বর ৪৩, তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২৫-এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরবর্তীতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ২০২৫ সালের ২৬ জুন ও ২৪ আগস্ট পৃথক আদেশ দেন।
জানা গেছে, স্বর্ণা টাওয়ার ভবনে মোট ৩০টি ফ্ল্যাট ইউনিট, একটি লিফট, সিসিটিভি ব্যবস্থা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র রয়েছে।
দুদক গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আফসার উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বর্ণা টাওয়ারের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব রিসিভারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী এখন থেকে ভবনটির ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ রিসিভারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
এদিকে ভবনটির মালিকের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ জানান, তারা দুদকের নোটিশ পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবনটির দায়িত্ব হস্তান্তরের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের আদেশ অনুযায়ী স্বর্ণা টাওয়ারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার কার্যক্রম রিসিভারের তত্ত্বাবধানে চলবে।