October 28, 2026

রিমন হোসেন, সৌদি আরব

প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয়ে ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজ কল্যাণ পরিষদ’-এর নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পরিচিতি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সংগঠনটি একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন পেয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দেশ ও প্রবাসের স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি কাজ করছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসী ও দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য ও কার্যক্রম

প্রবাসী কল্যাণ ও সহায়তা:
প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সামাজিক কল্যাণে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান।

পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান:
বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত কর্মীদের পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানমুখী পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান।

শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা:
দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং অসুস্থ, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

জরুরি ও মানবিক সেবা:
রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা, স্বেচ্ছায় রক্তদাতা তৈরি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ:
বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা, স্যানিটেশন ও পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা। পাশাপাশি নারী, শিশু, বয়স্ক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করা।

নেতৃত্ব ও উদ্যোক্তাগণ

সংগঠনটিকে একটি কার্যকর সমাজকল্যাণমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে দেশ ও প্রবাসের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা কাজ করছেন।

এই উদ্যোগে সৌদি আরব থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সেলিম রানা ও রিমন হোসেন। যুক্তরাজ্য থেকে যুক্ত হয়েছেন প্রবাসী আনোয়ার হোসাইন।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন এম এম হোসাইন, সৈয়দ হাফিজুল মঈন, আবু বক্কর সিদ্দিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানবিক ও সমাজসেবামূলক কাজে আগ্রহী ব্যক্তিরা।

নতুন সদস্য হওয়ার আহ্বান

দেশ ও প্রবাসে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে মানবিক ও সেবামূলক মানসিকতাসম্পন্ন নতুন স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠনের সদস্য হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আগ্রহী ব্যক্তিরা সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে সদস্য হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন।

যোগাযোগ (হোয়াটসঅ্যাপ):
📱 +৯৬৬৫৭৯৩৫৩২২৫
📱 +৯৬৬৫৪৯২৭০৯৩০

দেশ ও প্রবাসের মানুষের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে একটি মানবিক, সুশৃঙ্খল ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা–রংপুর লংমার্চ সফল করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা বাজারে লিফলেট বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারির নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা বেলকা বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এ লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেন।

কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা বাজারের ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। লিফলেটে ঢাকা–রংপুর লংমার্চের কর্মসূচি, উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য তুলে ধরা হয়।

এ সময় নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং লংমার্চ সফল করতে সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি কর্মসূচি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা জানান, নির্ধারিত কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে প্রচার-প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণসহ নানা প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ ৬ মাস ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় সবকিছুই চলছে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে, তার ওপর আবার উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকার কারণে সেবা প্রত্যাশীদের নানান ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। কারণ হিসাবে ভুক্তভোগীরা প্রতিনিয়ত সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের অধিক লেনদেন ও বাজেট অনুমোদনের মূল দায়িত্ব এই কর্মকর্তার উপর ব্যস্ত থাকে। পদটি খালি থাকায় দাপ্তরিক কাজ স্থবির হয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত বিভিন্ন শ্রেণি পেশা, পেনশনারদের প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে। পদটি শূন্য থাকায় গত ২০২৫ সালের ২৫ মে হতে শ্যামনগর উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে দুই দিন কালিগঞ্জ উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে আসছে। যে কারণে ফাইলে সই হতে দীর্ঘ লাইন, দীর্ঘ সূত্রতা তৈরি হচ্ছে। এ শূন্যতার কারণে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের মাসিক বেতন এবং অবসর ভাতা পেতে দীর্ঘ সময় লেগে আসছে। যে কারণে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত মাসিক বেতন, উৎসব ভাতা সহ আনুষাঙ্গিক বিল পেতে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও দীর্ঘ সূত্রতা তৈরি হয়। বর্তমান উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে ১ জন হিসাব সহকারী ও ৩ জন অডিটর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কাজ চলছে। বিষয়টি নিরসনে মহাহিসাব রক্ষক নিয়ন্ত্রকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে উপজেলাবাসি ।

নিজস্ব প্রতিবেদক ,

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ২নং গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান ফটকসহ পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্র তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডাক্তার এস এম রফিকুল ইসলাম।
কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে তালা ভেঙে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি হঠাৎ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনে যান।
এ সময় ভেতরে কোন চিকিৎসক বা মেডিকেল অফিসারকে পাওয়া যায়নি।
কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীকে সেখানে বসে গল্প করতে দেখা যায় বলে জানান সংসদ সদস্য।
পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালের গেট দেখে মনে হয়েছে, এই তালা কত বছর আগে লাগানো হয়েছে কে জানে।
তালায় একেবারে মরিচা ধরে গেছে। এটি অনেক দিন আগে লাগানো তালা বলে মনে হয়েছে। আমি অনেক সময় অপেক্ষা করে এক পাশের দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি।’
তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী নেই, চিকিৎসক নেই, মেডিকেল অফিসারও নেই। কয়েকজন কর্মচারী ভেতরে বসে গল্প-আড্ডায় মেতেছেন।
২নং গাজীপুর ইউনিয়ন একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এখানকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া জরুরি।
উপজেলা ও জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেওয়াও তাঁদের জন্য কষ্টসাধ্য।’
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, ‘ইতিমধ্যে মহাপরিচালকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আপেল মাহমুদ বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাঁচটি পদের বিপরীতে বর্তমানে একজনও কর্মরত নেই।
কয়েকজন মাঠকর্মী মাঠে যাওয়ার আগে সেখানে মিটিং করেন। হঠাৎ করে এমপি মহোদয় সেখানে যাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে।’

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন, বিশেষ প্রতিনিধি,রাজশাহী।

রাজশাহীর দুর্গাপুরে অবৈধ রাসায়নিক সার উদ্ধারের পর ‘৩২৫ বস্তা সার গায়েব’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, তথ্যবিকৃত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে সার উদ্ধার, গণনা, সরকারি মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নথিপত্র উপস্থাপন করেছে প্রশাসন।

একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলামও লিখিত বক্তব্য দিয়ে সারের বস্তা গায়েব হওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

অভিযানে ৬৭০ বস্তা সার জব্দ

প্রশাসনের লিখিত তথ্যমতে, গত ১০ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্গাপুর উপজেলার কিসমতগণকৈড় ইউনিয়নের আড়ইল গ্রামের ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলামের তালাবদ্ধ বসতবাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা।

অভিযানের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতে বাড়িতে থাকা সার গণনা করা হয়।

গণনায় বারান্দা ও ভেতরের কক্ষে ৩২৪ বস্তা ডিএপি, ২৪৬ বস্তা ইউরিয়া এবং ১০০ বস্তা টিএসপি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৬৭০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।

বিক্রি ও সরকারি কোষাগারে অর্থ জমার দাবি

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দ করা ৬৭০ বস্তা সারের কোনো অংশ গায়েব হয়নি। কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত সরকারি মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে সারগুলো বিক্রি করা হয়েছে।

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সার বিক্রি করে মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২৫০ টাকা পাওয়া যায়। ওই অর্থ ই-চালানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্দিষ্ট কোডে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত চালান নম্বর ২৬২৭-০০১৭১১৪৪৫২২১ এবং বিক্রির মাস্টাররোল সরকারি হেফাজতে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

দুই উপজেলায় মোট এক হাজার বস্তা সার জব্দ

প্রকাশিত সংবাদের বিভ্রান্তির কারণ হিসেবে প্রশাসন জানিয়েছে, একই দিনে পার্শ্ববর্তী পুঠিয়া উপজেলার কার্তিকপাড়া বাজারে সাইদুল ইসলামের মালিকানাধীন ‘মেসার্স নিশি কীটনাশক বিপণী’তেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন আরও ৩৩০ বস্তা সার জব্দ করে।

অর্থাৎ, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া—দুই উপজেলা মিলিয়ে সাইদুল ইসলামের মোট ১ হাজার বস্তা সার জব্দ করা হয়েছিল বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুঠিয়া উপজেলার ৩৩০ বস্তা সারের বিষয়টি উল্লেখ না করে দুর্গাপুরের হিসাবের ভিত্তিতে ৩২৫ বস্তা সার গায়েবের অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।

ব্যবসায়ীর লিখিত বক্তব্য

অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম তাঁর লিখিত বক্তব্যে জানান, তাঁর কোনো সার বিক্রির লাইসেন্স ছিল না। চট্টগ্রাম, যশোর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে সার এনে নিজ বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত করে মৎস্যচাষীদের কাছে বিক্রি করতেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের সময় উপস্থিত সবার সামনে বস্তা গণনা করে ৬৭০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। ফলে সারের হিসাব কম-বেশি হওয়ার সুযোগ নেই।

এছাড়া প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তিনি কোনো সাংবাদিক বা পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেননি কিংবা কোনো জবানবন্দি দেননি বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

তদন্ত কমিটি গঠন

ঘটনার প্রকৃত বিষয় উদঘাটনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) বেলায়েত হোসেনকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সারের হিসাব, জব্দ, বিক্রি ও সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

উপশিরোনাম: সঠিক নিয়মে আবেদন করতে গিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ; দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি, তদন্ত চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অনিয়ম, হয়রানি ও দালালনির্ভরতার অভিযোগ উঠেছে। সঠিক কাগজপত্র নিয়ে সরকারি নিয়মে আবেদন করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ভোগান্তির শিকার হলেও দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ মিলছে—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার সময় নানা ধরনের ত্রুটি দেখিয়ে তাদের আবেদন ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এতে একাধিকবার অফিসে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অন্যদিকে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে কথিতভাবে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে একই ধরনের আবেদন দ্রুত গ্রহণ করা হচ্ছে।

সোজা পথে ভোগান্তি, দালালের মাধ্যমে দ্রুত সেবার অভিযোগ

সেবাগ্রহীতাদের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন নিয়ে অফিসে গেলেও নানা কারণে তাদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেককে একাধিকবার অফিসে আসতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পর দ্রুত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যদি দালালের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

অফিসে সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন উৎপল মৃধা, সিমলা রানী বিশ্বাস, প্রবীর বিশ্বাস রাজু, অবনি বিশ্বাস ও করুনা রানী বিশ্বাস।

তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিয়ম মেনে পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে গেলেও বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। পরে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।

তাদের ভাষ্য, বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং সরকারি সেবায় দালালনির্ভরতা বন্ধ করা সম্ভব হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পাশাপাশি অফিসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। একটি সূত্রের দাবি, অফিসের উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পালের সঙ্গে দালালদের যোগাযোগ রয়েছে এবং দালালনির্ভর সেবা কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অমিত কুমার পালের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সহকারী পরিচালকের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না।

ফলে দালালচক্র, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে অফিস কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তদন্তের দাবি

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা পেতে কোনো ধরনের দালালনির্ভরতা বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের সুযোগ থাকা উচিত নয়। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধ এবং স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক সেবা নিশ্চিত করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে কর্মী শিক্ষা বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সুন্দরগঞ্জ আদর্শ উপজেলা শাখা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক মো. সামিউল ইসলাম।
সুন্দরগঞ্জ আদর্শ উপজেলা শাখার সভাপতি শাহীন সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের গাইবান্ধা জেলা সেক্রেটারি মো. ফাহিম মণ্ডল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুন্দরগঞ্জ পৌর সাংগঠনিক শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. সুরুজ ইসলাম।
দারসুল কুরআন পেশ করেন সুন্দরগঞ্জ বাজার জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা সৈয়দ মো. মাহমুদ হাসান।
বক্তারা বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জ্ঞান, চরিত্র, আমল ও সাংগঠনিক দক্ষতায় নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তি জীবনে ইসলামী আদর্শের চর্চার পাশাপাশি সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
ত্যাগ, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের কল্যাণে কাজ করে ইসলামী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান বক্তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা:


গাইবান্ধায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-রংপুর লংমার্চ ও পলাশবাড়ী পথসভা সফল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় পলাশবাড়ী চৌমাথায় এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ ও পলাশবাড়ী পথসভা সফল করার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন প্রস্তুতি ও কর্মসূচি সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রেস ব্রিফিং করেন ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন এবং গাইবান্ধার সাবেক জেলা আমীর ডা. আব্দুর রহিম সরকার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি ও পথসভা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এমপি।

গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের (ভারপ্রাপ্ত) সেক্রেটারি ও গাইবান্ধা জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বায়ক সৈয়দ রোকনুজ্জামানের সঞ্চালনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা আহ্বায়ক এস এম খাদেমুল ইসলাম (খুদি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গাইবান্ধা জেলা সভাপতি মুফতি মাওলানা আবু ইউসুফ, এলডিপি গাইবান্ধা জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) গাইবান্ধা জেলা সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক মো. খাইরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) গাইবান্ধা জেলা সভাপতি মো. সুলতান মাহমুদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. ফয়সাল কবির রানা, জেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি মুহাম্মদ খায়রুল আমিন, জেলা মানবসম্পদ সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম মন্ডল, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা সাইদুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ সভাপতি নুরুন্নবী প্রধান, গাইবান্ধা পৌরসভা আমীর অধ্যাপক ফেরদৌস আলম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মো. ইউসুফ আল-কায়্যুমী, পলাশবাড়ী উপজেলা আমীর আবু বকর সিদ্দিক, সাদুল্লাপুর উপজেলা আমীর এরশাদুল হক ইমনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে নেতৃবৃন্দ আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ ও পলাশবাড়ী পথসভা সফল করতে গাইবান্ধার সর্বস্তরের জনগণ, দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

মোঃ নুরুল ইসলাম, ধামইরহাট (নওগাঁ):

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নওগাঁর ধামইরহাটে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী তাহমিনা শারমিন।

প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নৃত্য, নজরুলগীতি ও চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ সরকার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরদার, সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নজরুল ইসলাম সাহিত্য, সংগীত ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। স্বল্প সময়ে তাঁর সৃষ্টিশীল কর্ম বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, নজরুলের সৃষ্টি শুধু বিদ্রোহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর সাহিত্য ও সংগীতের বিস্তার অনেক বৃহৎ। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়।

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন,বিশেষ প্রতিনিধি,রাজশাহী।

জমকালো ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল এএসকে প্রোপার্টিজ (ASK Properties)।

সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বেলা ১১টায় নগরীর পিঁপড়া কনভেনশন সেন্টারের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন শিরাজী ফেরদৌস ইমন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাহমুদা শারমীন নেলী এবং রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন।

এছাড়া রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও দেশ টিভির ব্যুরো প্রধান কাজী শাহেদ, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক প্রকৌশলী শাকিলুর রহমান, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি শ্যামল মেহেদী, বর্তমান সভাপতি শ, ম সাজু, সাধারণ সম্পাদক রাসেল মোস্তাফিজ, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত, সিনিয়র সহ-সভাপতি মঈদ উদ্দিন, বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব ড. সাদেকুল ইসলাম স্বপনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান রিটন বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাফল্য ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের আয়না ও গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের অসংগতি তুলে ধরার পাশাপাশি রাজশাহীর উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সাংবাদিকদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। দেশ ও জাতির কল্যাণে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। এ সময় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

পরে রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি ও সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবির পক্ষ থেকেও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

আনন্দঘন ও প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষ হয়।