আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কোরবান নগর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবুল কালাম সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ ও মতবিনিময় শুরু করেছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ইউনিয়নের হাসনবাহার গ্রামে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় এলাকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
হাসনবাহার গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মানিক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সামাজিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সভায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আবুল কালাম বলেন, “কোরবান নগর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মতামত, ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। অবহেলিত এই ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করাই আমার মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর, আধুনিক ও সমৃদ্ধ কোরবান নগর ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে চান। এ জন্য তিনি আগামী নির্বাচনে ইউনিয়নবাসীর ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন হাসনবাহার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আব্দুস সোবহান, মো. আয়ুব আলী, সামসুল মিয়া, মঈন উদ্দিন, আবুল মিয়া, ইউসুফ আলী, ফারুক মিয়া, সৈকত আলী, কালাই মিয়া, সোওয়াব আলী, সফর আলী, ঈমান আলীসহ স্থানীয় সামাজিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সভায় উপস্থিত বক্তারা কোরবান নগর ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে যোগ্য নেতৃত্বের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন স্থানীয়রা।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও গ্রুপিং নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিক বলয় তৈরি হওয়া, সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিরোধ এবং সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ বিভাজন আরও প্রকাশ্যে এসেছে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অতীতে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের একটি অংশও পুনরায় দলে ফেরার প্রত্যাশা করছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো না থাকায় নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির বিভিন্ন পক্ষের নেতাদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও কালিগঞ্জ বিএনপিতে বিভক্তি তৈরি হয়। দলীয় প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ডা. শহিদুল আলমের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। এরপর ডা. শহিদুল আলমসহ কালিগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকশ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
বহিষ্কৃতদের একটি অংশ বর্তমানে দলীয় সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। তাদের সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এসব নেতাকর্মীকে পুনরায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ফেরার সুযোগ দেওয়া হলে স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়তে পারে। তবে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে কালিগঞ্জ বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে পৃথকভাবে সভা-সমাবেশ ও প্রচার চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে দলের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত ২২ সেপ্টেম্বর কালিগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উপজেলা পরিষদ চত্বর ও কালিগঞ্জ থানার আশপাশে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উভয় পক্ষের কয়েকজন থেকে অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও অগ্নিসন্ত্রাসের প্রতিবাদে পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কৃষক দলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি কর্মসূচি এবং অন্য একটি পক্ষের পৃথক কর্মসূচি একই এলাকায় হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক সমন্বয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। নির্দেশনায় কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নেতাদের মধ্যে সমন্বয় ও পরামর্শের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দলের একাংশের অভিযোগ, অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন কয়েকজন ব্যক্তি পরবর্তীতে বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে এসেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে কালিগঞ্জের ১২টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তৎপরতা বাড়ছে। দলীয় প্রতীক না থাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হলে অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান কী হবে—এ নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকলে ভোটের সমীকরণে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও চলছে হিসাব-নিকাশ।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বহিষ্কারাদেশ, নেতৃত্বের বিরোধ, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এবং বিভিন্ন পক্ষের সাংগঠনিক কর্মসূচি—সব মিলিয়ে কালিগঞ্জ বিএনপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ দলীয় ঐক্য ধরে রাখা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব বিরোধের কীভাবে সমাধান হয়, সেদিকেই নজর রাখছেন দলের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কালিগঞ্জ বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত এক রোহিঙ্গা আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ১৬ এপিবিএনের শালবাগান ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ক্যাম্প-২৬ শালবাগানের এ/৪ ব্লকের কাঁচাবাজার এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
১৬ এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শালবাগান এপিবিএন ক্যাম্পের রাত্রিকালীন টহল দল ক্যাম্প-২৬-এর এ/৪ ব্লকে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওই এলাকার একটি দোকান থেকে টেকনাফ মডেল থানার মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত রোহিঙ্গা আসামি আবদুর রশিদ (২৪)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আবদুর রশিদ ক্যাম্প-২৬, শালবাগান, এ/৪ ব্লকের বাসিন্দা। তার এফসিএন নম্বর ২৭৫১৩৪। তিনি মো. রফিকের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবদুর রশিদের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় ২০২১ সালের একটি মামলা রয়েছে। মামলাটি ৩০ আগস্ট ২০২১ তারিখে দায়ের করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে টেকনাফ মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত মোবাইল টিমের ইনচার্জ এসআই (নিরস্ত্র) মো. মর্তুজার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৬ এপিবিএন জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ও হস্তান্তরের বিষয়টি শালবাগান এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালিমের বিরুদ্ধে সারের ডিলারশিপ নিয়োগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রেসক্লাব পীরগাছা কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, কান্দি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক জিয়াউর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছেন। এতে দলীয় সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফোনালাপে তাদের নাম জড়িয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা অসত্য। অডিওতে উল্লেখিত রহিম নামের কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সারের ডিলারশিপ নিয়ে তার কোনো কথা বা সাক্ষাৎ হয়নি।
রাঙ্গা আরও বলেন, সারের ডিলার নিয়োগ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। উপজেলা বিএনপি কোনো ব্যক্তির পক্ষে সুপারিশ করেনি এবং এ বিষয়ে কোনো আর্থিক লেনদেনও হয়নি।
তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান কান্দি ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য দলীয় সুপারিশ চেয়েছিলেন। নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় সুপারিশ না করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নেতাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করছেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালিম বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে কিছু ব্যক্তি দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দলীয় নেতাদের নাম ব্যবহার করে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জিয়াউর রহমান তার ফেসবুক আইডিতে উপজেলা বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে সারের ডিলারশিপ নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেন। পরে অন্নদানগর ইউনিয়নের দুই ব্যবসায়ীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নে কুমারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ শে সেপ্টেম্বর কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন মাস্টারের সার্বিক আয়োজনে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও আগামী দিনের পথচলার দিকনির্দেশনা দেন রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী এমপি । অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও শিক্ষাসামগ্রী উপহার দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম রব্বানী এমপি কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন,কেবল ভালো ফলাফল করলেই চলবে না, বরং নৈতিক শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে একজন আদর্শ ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মোবাইল ও ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান। একই সাথে দেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন তিনি।
গোলাম রব্বানী এমপি আরো বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের মরণছোবল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার থেকে দূরে থেকে সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ার তাগিদ দেন।শুধু জিপিএ-৫ পাওয়ার লক্ষ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জায়গা করে নিতে এখন থেকেই কঠোর পরিশ্রম করার পরামর্শ দেন।স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের আয়োজক ও কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন মাস্টার শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হওয়ার পরামর্শ দেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ বছর বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলায় মোট ২৭৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এর মধ্যে বীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৬৩টি এবং কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১১২টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের কাজ চলছে। প্রতিমা তৈরির কারিগর ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। পূজাকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
পূজাকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিয়মিত যোগাযোগ ও মনিটরিং করছেন।
দিনাজপুর-১ আসনের পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবু মহেশ রায় এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু গোপাল চন্দ্র দেবশর্মা জানান, এবার আগে থেকেই প্রতিটি মণ্ডপে প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু মণ্ডপগুলোর দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রাখছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি ও পরিচ্ছন্নতার বার্তা নিয়ে যুবদের উদ্যোগে র্যালি, আলোচনা সভা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হ্নীলার আলী আকবরপাড়ায় মেঘনা ইয়ুথ পিস ক্যাফের উদ্যোগে নাইক্যংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
‘Youth-Led Community Clean-Up for Peace and Social Cohesion’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় র্যালি, আলোচনা সভা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডাস্টবিন স্থাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘Youth-Led Peacebuilding and Social Cohesion Initiatives in Bangladesh & Myanmar’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে SHED ও ActionAid Bangladesh-এর উদ্যোগে এবং European Union-এর সহ-অর্থায়নে কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়।
বিকেল ২টায় নাইক্যংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে র্যালি বের হয়। র্যালিটি মৌলভীবাজার স্টেশন ঘুরে চৌরাস্তা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে বিদ্যালয়ের সাইক্লোন সেন্টারের নিচে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় মেঘনা পিস ক্যাফের পিস চ্যাম্পিয়ন সাগরিকা আক্তার ও মাজিবুল হক বাপ্পি উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাইক্যংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা জালাল আহমদ।
এ সময় বক্তব্য দেন সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, পিস চ্যাম্পিয়ন মোহাম্মদ ইরফাত, পিস বিল্ডার কাকান দাস, পেনু রাখাইন ও আব্দুর রহমান, SHAY-এর প্রতিনিধি বোরহান উদ্দিন এবং পিস বিল্ডার সোহেল রানা।
আলোচনা শেষে ইয়ুথ পিস বিল্ডাররা বিদ্যালয়ের চারপাশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। বিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে একটি ডাস্টবিন স্থাপন করে এর চাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরে কক্সবাজার থেকে আগত শিল্পীদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিভিন্ন গান নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, তরুণদের নেতৃত্বে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা আবুল কাশেম। নির্বাচনী তৎপরতার অংশ হিসেবে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।
আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি শিক্ষা, সমাজসেবা ও তরুণদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর পরিচিতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা। সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও আবুল কাশেমের আগ্রহ রয়েছে। তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে তিনি কাজ করে আসছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানান।
বর্তমানে সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও এলাকায় গিয়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে দেখা করছেন আবুল কাশেম। এ সময় তিনি তাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করছেন।
চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে তাঁর অগ্রাধিকার সম্পর্কে আবুল কাশেম বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, তরুণদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে চান। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
আবুল কাশেম বলেন, “মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ হলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার ভেদাভেদ না করে সিলেট সদর উপজেলার প্রতিটি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য একটি উন্নত, আধুনিক, শিক্ষাবান্ধব ও জনবান্ধব উপজেলা গড়ে তোলা।”
তিনি সিলেট সদর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা, আস্থা ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থীতা ও নির্বাচনী সমীকরণ দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
মোঃ রনি রজব, ভোলাহাট উপজেলা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
আসন্ন ১নং ভোলাহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১নং ভোলাহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন এলাকার পরিচিত মুখ ও মরহুম আলী ডাক্তারের ছোট ছেলে মোঃ হাসনাত জামিল তারেক।
তিনি বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনি ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে মোঃ হাসনাত জামিল তারেক বলেন, “জনগণের প্রকৃত সেবা করতে এবং ১নং ভোলাহাট ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, মডেল ও জনবান্ধব ইউনিয়নে রূপান্তর করতে আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক। আপনাদের মূল্যবান দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সুষম উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিতে চান।
তার প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তৎপরতা বাড়ার পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
হাসনাত জামিল তারেক ১নং ভোলাহাট ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে আগামী নির্বাচনে তাদের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন।
সারাদেশে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য, ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। কর্মসূচিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলাম কিরণ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টঙ্গী বাজার এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের নির্দেশনায় এবং রাশেদুল ইসলাম কিরণের নেতৃত্বে মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে মিলগেট এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে রাশেদুল ইসলাম কিরণ বলেন, শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশকে একটি ‘তলাবিহীন ঝুড়িতে’ পরিণত করেছিল বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পরও সেখান থেকে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র করছেন।
কিরণ বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশে যারা বর্তমানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন, তারা যেন শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্টের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হন।
তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা ও এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় থাকবেন বলেও জানান তিনি।
কর্মসূচিতে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল, বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম খান কালা, মো. ইসমাইল শিকদার বসু, অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।