October 28, 2026

মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা পদক পাওয়ায় গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ওসি মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় তিনি পুলিশ সুপারকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

এর আগে সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের পদক দেওয়ার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পদক দেওয়া হচ্ছে। ওই প্রজ্ঞাপনে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহর নামও রয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাহস ও বীরত্ব, জনসেবা, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন পেয়েছেন বিপিএম-সেবা পদক।

পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, এ পদক তাঁর একার অর্জন নয়; এটি গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের সব সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।

পুলিশ সুপারের পদকপ্রাপ্তিতে জেলা পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় ওসি মো. আমিনুল ইসলাম তাঁর এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে যৌতুকের দাবিতে আশা মনি (১৮) নামে এক গৃহবধূকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বলিয়াদী মীরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে কালিয়াকৈর পৌরসভার চান্দরা পল্লী বিদ্যুৎ ভাঙা মসজিদ এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে মঈনের সঙ্গে মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয় নুর ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া আলী আকবরের মেয়ে আশা মনির।

বিয়ের পর স্বামী মঈন স্ত্রীকে নিয়ে কালিয়াকৈর উপজেলার বলিয়াদী মীরপাড়া এলাকায় তার চাচা নাসির উদ্দিনের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মঈন বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে চাপ দিতে থাকেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ধার-দেনা করে তার চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা হলেও টাকা দিতে ব্যর্থ হলে গৃহবধূকে মারধর ও নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে মঈনের চাচা নাসির উদ্দিনের বাড়িতে মঈন, তার মা লিপি বেগম ও চাচা নাসির উদ্দিনসহ কয়েকজন আশা মনিকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে মারধরের কারণে তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে তাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে ঘরের দরজা ও জানালা ভেঙে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্বামী মঈনের সঙ্গে ম

মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ
স্টাফ রিপোর্টার,গাইবান্ধা

গাইবান্ধা পুরান জেলখানা মোড়ে ডিবি পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশির সময় মোটরসাইকেলের ট্যাংকির নিচে বিশেষ কৌশলে ফিটিং করা অবস্থায় গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ সময় মোটরসাইকেল চালক মোঃ হামিদুল হক (২৩)-কে গ্রেপ্তার করেছে গাইবান্ধা জেলা ডিবি পুলিশ। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায়।
ডিবি পুলিশ জানায়, চেকপোস্টে মোটরসাইকেলটি তল্লাশি করে ট্যাংকির নিচে ফিটিং করা অবস্থায় গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হামিদুল হকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অভিযানে ২২টি ভারতীয় বিয়ার ক্যান উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে জিআর পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার এসআই রূপম কুমার সরকার ও এএসআই মো. সাইফুল আলম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উপজেলার ৪ নম্বর শশীদল ইউনিয়নের হরিমঙ্গল থেকে কুমিল্লাগামী সড়কের পাশে জনৈক মোমিনুল হকের ধানক্ষেতের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে কাদাপানির ভেতর থেকে ২২টি ভারতীয় বিয়ার ক্যান উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণপাড়া থানার এএসআই মো. নুর আল-আহসানের নেতৃত্বে পৃথক অভিযান চালিয়ে জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি শাকিল মিয়াকে (শশীদল উত্তরপাড়া, ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মো. গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার শাকিল মিয়াকে মঙ্গলবার কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) উৎসবমুখর পরিবেশে আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি প্রত্যাশা করেন, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান। এছাড়া ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মিনারুল ইসলাম, প্রক্টর ড. এসএম আহসান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক গাজী মোহাম্মদ মাহবুবসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২টি বিভাগের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আইন বিভাগ ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ মুখোমুখি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালনায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ আগামী ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. রাকিব ইসলাম (২৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি বাটন মোবাইল ফোন, তিনটি সিমকার্ড ও একটি সাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ঠাকুরগঞ্জ-মশোর মোড় এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঠাকুরগঞ্জ বিওপির একটি টহলদল সুবেদার মো. ইমরুল ইসলামের নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার ৭৯৩/৫-এস থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়। এ সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি সাইকেলযোগে ওই এলাকায় এলে বিজিবি সদস্যরা তাকে থামার নির্দেশ দেন।

বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি সাইকেল ফেলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে টহলদল ধাওয়া করে তাকে আটক করে। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৭টি ইয়াবা ট্যাবলেট, দুটি বাটন মোবাইল ফোন ও তিনটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। একটি সাইকেলও জব্দ করা হয়।

আটক রাকিব ইসলাম পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মধ্য ছাতনাই গ্রামের মো. আইবুল ইসলামের ছেলে।

পরে আটক ব্যক্তি ও জব্দ করা মালামাল আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিমলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা এবং একটি সুস্থ, সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার গোপীনাথপুরে এক মাদক দ্রব্য নির্মূল উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোপীনাথপুর যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

গত ২১ শে সেপ্টেম্বর (সোমবার) স্থানীয় গোপীনাথপুরে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই সমাবেশটি এক বিশাল জনসচেতনতামূলক আন্দোলনে রূপ নেয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম নিক্সন পাইকার।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন।

প্রধান অতিথি আশিক জামান বলেন, মাদক কেবল একজন তরুণকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার এবং পুরো সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। মিঠাপুকুরের মাটি থেকে মাদক সম্পূর্ণ নির্মূল করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদক দমনে যুব সমাজ ও সাধারণ মানুষের এই ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান এবং যেকোনো মূল্যে এলাকাকে মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ১৩ নং গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দীলিপ পাইকার, কাজী আবেদ আলী, ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান রিজু, আনসার ভিডিপির সদস্য নাজমুল হাসান, তাহাজুল সরকার ও বায়জিদ বোস্তামী প্রমুখ।

বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। সমাবেশ শেষে যুব সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা গোপীনাথপুর এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখার এবং মাদক বিক্রেতাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার সম্মিলিত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, কক্সবাজার,প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়ায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে অপহরণ করে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টার অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—উখিয়ার ইনানী এলাকার আশেক (১৯) ও ইমরান উদ্দিন (২০)।

এসআরবি-১৫-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি উখিয়ার মনখালী এলাকার ১৪ বছর বয়সী কিশোর মো. মাইমুন উদ্দিন জুমার নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বের হলে তাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অপহরণকারীরা কিশোরের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে কিশোরকে হত্যার পাশাপাশি বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে তাকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের নুরার ডেইল এলাকায় অভিযান চালায় এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-২, হোয়াইক্যং ক্যাম্পের একটি দল। অভিযানে আশেক ও ইমরান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি-১৫ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোরকে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

গ্রেপ্তার আশেকের বাবার নাম বাদশা মিয়া এবং ইমরান উদ্দিনের বাবার নাম মো. আবুল কালাম। তারা দুজনই উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী এলাকার বাসিন্দা।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৫।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার একটি জামে মসজিদের অভ্যন্তরে চেয়ার, টেবিল ও সোফা বসিয়ে সভা আয়োজনকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ওই সভার স্থিরচিত্র সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

শনিবার সকালে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা কওমি মাদ্রাসা জামে মসজিদে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোদলা কওমি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের পরিচালনা ব্যয় ও বকেয়া খরচ পরিশোধসহ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা চেয়ে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সভায় অতিথিদের বসার জন্য মসজিদের ভেতরে চেয়ার, টেবিল ও সোফার ব্যবস্থা করা হয়।

সভাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মসজিদের অভ্যন্তরে এ ধরনের আয়োজন এবং আসবাবপত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ মসজিদের পবিত্রতা ও ধর্মীয় পরিবেশের বিষয়টি উল্লেখ করে সমালোচনা করেন। তবে এসব প্রতিক্রিয়া মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যক্তিগত মতামত ও মন্তব্য।

এ বিষয়ে সভায় উপস্থিত বিএনপি নেতারা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। মাদ্রাসা ও মসজিদের বকেয়া খরচ পরিশোধ এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার জন্য কর্তৃপক্ষ সংসদ সদস্যসহ আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, সেখানে গিয়ে তারা মসজিদ ও মাদ্রাসার ভেতরে অতিথিদের জন্য চেয়ার-সোফার ব্যবস্থা দেখতে পান। তাঁর দাবি, বসার এই ব্যবস্থা মসজিদ কর্তৃপক্ষই করেছিল। সভায় মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিকে কেন্দ্র করে মসজিদের অভ্যন্তরে সভা আয়োজনের ধরন ও আসবাবপত্র ব্যবহারের উপযুক্ততা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত সভাটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল কি না এবং মসজিদের অভ্যন্তরে এ ধরনের আয়োজনের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় নিয়েই মূলত আলোচনা চলছে।

মোঃ রনি রজব, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ৩ নম্বর দলদলী ইউনিয়ন শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সনি আকরাম ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসাধারণের প্রতি সচেতনতা ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সচেতন হই, ডেঙ্গুমুক্ত থাকি।” ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। এডিস মশার বিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে কোনো স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, বোতলসহ যেসব পাত্রে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। পানির পাত্র ঢেকে রাখতে হবে এবং বাড়ির আশপাশের আবর্জনা ও পরিত্যক্ত জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখতে হবে।

এছাড়া মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন, জানালা-দরজায় মশারোধী নেট ব্যবহার এবং শিশু ও বয়স্কদের মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গুর সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে উচ্চ জ্বর, প্রচণ্ড দুর্বলতা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি ও পেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সনি আকরাম বলেন, সবাই মিলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একজনের সচেতনতা একটি পরিবারকে এবং একটি পরিবারের সচেতনতা পুরো এলাকাকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।