October 28, 2026

প্রবাস

জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগের দাবি

মোহাম্মদ হোসাইন:

দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও সুয়েজ ক্যানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মেরিটাইম হাবে বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা, ট্রানজিট, ক্রু-চেঞ্জ, শিপ-জয়েনিং ও সাইন-অফ সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনে সরকারের প্রতি জরুরি কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মেরিটাইম খাতের প্রতিনিধিরা।

শনিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলায় মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মার্চেন্ট মেরিনার, মেরিন অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী। তাদের দাবি, একজন দক্ষ মেরিন অফিসার বা ইঞ্জিনিয়ার প্রায় ৫০ জন সাধারণ বা অদক্ষ শ্রমিকের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম।

বক্তারা জানান, বাংলাদেশি মেরিনাররা প্রতি বছর প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ কোটি মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি মেরিনার কর্মরত রয়েছেন।

তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ে কোনো বাংলাদেশি নাবিক জাহাজে যোগ দিতে না পারলে জাহাজ মালিককে বিকল্প নাবিক নিয়োগ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ওই বিকল্প নাবিক অন্য দেশের নাগরিক হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কর্মসংস্থানের সুযোগ অন্য দেশের শ্রমবাজারে চলে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ, ট্রানজিট ও ক্রু-চেঞ্জ অনুমোদন, মিশরের ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং পোর্ট সাঈদ ও সুয়েজ ক্যানেল অঞ্চলে সাইন-অন ও সাইন-অফের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বাংলাদেশি নাবিকরা সমস্যায় পড়ছেন।

বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ে ভিসা অনুমোদন না পাওয়ায় নিশ্চিত নিয়োগ থাকা সত্ত্বেও শত শত নাবিক সময়মতো জাহাজে যোগ দিতে পারছেন না। এর ফলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাচ্ছে বলে দাবি করেন বক্তারা।

তাদের দাবি, বাংলাদেশি ক্রু, মেরিন অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারদের পরিবর্তে ভারত ও ফিলিপাইনের নাবিকরা এসব চাকরিতে নিয়োগ পাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম দেশগুলোতে বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে মেরিটাইম কাউন্সিলর নিয়োগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, মেরিটাইম কাউন্সিলর নাবিকদের জরুরি ভিসা সমস্যা গ্রহণ, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, ভিসা বাতিল বা দীর্ঘসূত্রতার কারণ চিহ্নিতকরণ, আটকে পড়া নাবিকদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং বিদেশি কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে নাবিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারেন।

বক্তারা বলেন, “আমরা কোনো দেশের অভিবাসন নীতির প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করতে চাই না। আমরা চাই পারস্পরিক সহযোগিতা, কার্যকর কূটনৈতিক সমাধান এবং বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ভিসা ও ক্রু পরিবর্তন ব্যবস্থা।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ সালেহকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের চেয়ারম্যান চিফ ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, রিলায়েন্স শিপিং সার্ভিসের সিইও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবুল খায়ের, ইউনিকর্ন শিপিং সার্ভিসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন সৈয়দ আমির হোসেন, বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ সালেহ, সাংগঠনিক সম্পাদক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মইন আহমেদ এবং এরিস্টোক্রাট মার্চেন্ট মেরিন সার্ভিস লিমিটেডের ডিজিএম সুমন সিকদার।

রিমন হোসেন, সৌদি আরব
​
সৌদি আরবে গৃহকর্মী বা ‘খাদ্দামা’ ভিসায় কর্মরত প্রবাসী নারী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। দালালদের মিথ্যা প্রলোভন, চুক্তিভঙ্গ এবং কঠোর কাফালা পদ্ধতির বেড়াজালে পড়ে এসব নারীর জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
​সরেজমিনে রিয়াদ ও এর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে অভিবাসন খাতের এই নগ্ন চিত্র ও করুণ বাস্তবতার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
​দালালের প্রলোভন ও প্রতারণার শিকার নারীরা
অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের অসাধু দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সহজ-সরল নারীদের ভালো কাজ ও আকর্ষণীয় বেতনের লোভ দেখিয়ে সৌদিতে পাঠায়। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতির সাথে বাস্তবতার কোনো মিল থাকে না।
​রিয়াদে অবস্থানরত ভুক্তভোগী সাথী বেগম দালালের মাধ্যমে সৌদিতে এসেছিলেন। তাকে খাদ্দামা পেশায় দেওয়া হলেও কাজের নির্দিষ্ট কোনো ডিউটি ঘণ্টা ছিল না। উপরন্তু চলে নানামুখী মানসিক নির্যাতন। সহ্য করতে না পেরে তিনি কর্মস্থল থেকে পালিয়ে আসেন। পরবর্তীতে দালাল ও বিভিন্ন অপরাধচক্রের ফাঁদে পড়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। বর্তমানে তিনি পার্ক ও অলিগলিতে হকারি করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
​আরেক ভুক্তভোগী তানিয়া আক্তার, যিনি পেশায় একজন কেয়ারগিভার ছিলেন। তাকেও খাদ্দামা ভিসায় রোগীর সেবা করার কথা বলে আনা হয়েছিল। কিন্তু কফিলের বাসায় ১০ জনের রান্না সহ একটানা ১৪ ঘণ্টা কাজ করানো হতো। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি কাজের খোঁজে অন্যত্র চলে গেলে কফিল তাকে ‘হুরুপ’ (পলায়নপর ঘোষণা) দেয়। বর্তমানে তিনিও অত্যন্ত অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবন পার করছেন।
​একইভাবে মিসেস রোজিনা নামের আরেক ভুক্তভোগী খাদ্দামা কাজ করতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অথচ কফিল তাকে দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে না। উল্টো চিকিৎসার সমস্ত খরচ তাকে নিজের বহন করতে হচ্ছে এবং অসুস্থ অবস্থায় কাজ না করলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
​এই সংকটের দায়ভার কার?
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দায় কোনো একক পক্ষের নয়। এর পেছনে রয়েছে—
​দালাল ও মানবপাচার চক্র: যারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারীদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ঠেলে দিচ্ছে।
​কঠোর কাফালা পদ্ধতি: যার কারণে শ্রমিকরা কফিলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাকরি বদলাতে পারেন না এবং সামান্য প্রতিকার চাইতে গিয়ে অবৈধ হয়ে পড়েন।
​প্রশাসনিক নজরদারির অভাব: দেশত্যাগ ও বিদেশে যাওয়ার পর নিয়মিত মনিটরিংয়ের ঘাটতি।
​ভুক্তভোগী ও প্রবাসীদের জোরালো দাবি
সৌদি আরবের অলিগলিতে হকারি করা, পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ডিটেনশন সেন্টারে দিন কাটানো এবং শেষ পর্যন্ত জোরপূর্বক দেশে ফেরত যাওয়া এসব নারীর ভবিষ্যৎকে অন্ধকার করে দিচ্ছে।
​এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী ও সচেতন প্রবাসী সমাজ বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিকট জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের পাচারকারী দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স বাতিল এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
২. রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও সেফ হোমের কার্যক্রম আরও গতিশীল করে বিপদগ্রস্ত নারীদের দ্রুত উদ্ধার এবং আইনি সহায়তা দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা।
৩. অসুস্থ ও নির্যাতিত কর্মীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং তাদের ওপর নির্যাতনকারী কফিলদের বিরুদ্ধে সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
​প্রবাসে নারী শ্রমিকদের এই অমানবিক পরিস্থিতি রোধে এখনই কার্যকর ও কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ না নিলে এই ট্র্যাজেডি থামানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও সাত শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯১৯ জনে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে সাতজন মারা গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা এবং একজন করে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে প্রাণ হারিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৯ জনে।

এছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৯ জনের। এর সবই পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮১৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ছয়জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে।

সেই সঙ্গে সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সিলেটে ১৫৭, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৬৯, বরিশালে ৫৭, খুলনায় ৩৯ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের দেশ এখন ভালো নেই, এটা আমরা সবাই স্বীকার করছি। সরকারও তা স্বীকার করতে বাধ্য। আমরা একটি ভালো দেশ চাই। দেশ গড়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বিরোধী দলেরও রয়েছে। উভয় পক্ষকে মিলে দেশ গড়তে হবে। বর্তমানে মহাসংকটে রয়েছে দেশ—বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ছয়টি জনদাবি নিয়ে দ্বিতীয় দফায় রাস্তায় নেমেছি। প্রথম দফায় বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করেছি। সেটি শেষ হওয়ার পর গত ৫ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফার কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের কোনো দলীয় দাবি নেই, এগুলো জনদাবি।

তিনি বলেন, প্রথম দফার কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। কর্মসূচিগুলো নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল ছিল। ‘হৈ-হুল্লোড়, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে দেশের কোনো ক্ষতি করতে চাই না আমরা।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা জনগণের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। তাহলে জনগণের ক্ষতি করব কেন? বরং জনগণকে সম্পৃক্ত করে দাবি আদায়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হব। সরকার একসময় হয়তো এসব দাবি বিবেচনায় নিতে বাধ্য হবে এবং বিষয়গুলোর সমাধানের পথ বের করবে।

সরকার সহযোগিতা চাইলে বিরোধী দল হিসেবে পাশে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার দেশের ও জাতির প্রয়োজনে আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা সব সময় প্রস্তুত। সরকার সুযোগ দিলে বিরোধী দল হিসেবে ন্যায্য অবদান রাখার পক্ষে আমরা রয়েছি। সহযোগিতা হবে চোখ খুলে, বিরোধিতা হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে।

জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, এনসিপির জেলা সভাপতি কামরুজ্জামান শাওন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি কামরুল হাসান, শহর আমির অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত বদলাচ্ছে শক্তির সমীকরণ। একদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ছে। ইরানের সঙ্গেও দুই দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুরোনো বিশ্বব্যবস্থার সামনে তৈরি হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো দেশগুলোর পাশাপাশি ভারতও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সম্মেলনের আলোচনায় উঠে এসেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর মতো বিষয়।

রাশিয়া-চীন সম্পর্কের নতুন মাত্রা

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতিতে প্রায় একক প্রভাব বিস্তার করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়ার শক্তি বৃদ্ধির ফলে সেই একক আধিপত্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া আরও বেশি করে চীনের দিকে ঝুঁকেছে। চীনও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়িয়েছে। দুই দেশের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও রাশিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। তিন দেশই পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় হয়ে উঠেছে।