October 28, 2026

আইন আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের ২০২৬ সালের অর্ধবার্ষিক বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, তদন্তাধীন পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির গতি বাড়ানো, সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং আদালত চত্বরের নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মহানগর দায়রা জজ আদালতে আয়োজিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. ইমদাদুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ (২য় আদালত) আশরাফুন্নাহার রীটা।

সম্মেলনে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতাউল্লাহ এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতের পক্ষে যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ (১ম আদালত) মো. জাহিদ হাসান।

মূল প্রবন্ধে মো. জাহিদ হাসান জানান, সহায়ক কর্মচারীর সংকট থাকা সত্ত্বেও গত আট মাসে মহানগর আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার প্রায় ১৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।

সম্মেলনে সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, আলামত সংরক্ষণ ও ধ্বংস, রাসায়নিক পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত, ভিসেরা ও জখমি প্রতিবেদনের গুরুত্ব, এক বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তাধীন মামলার অগ্রগতি, আদালত চলাকালে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, আদালত ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আদালত চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়।

আলোচনা শেষে বক্তারা সম্মেলনকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলেন, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদুল হক, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আব্দুল কুদ্দুস, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. রেজাউল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন, আরএমপির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. দেলোয়ার হোসেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আলী আসলাম হোসেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম রাব্বী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলাম, নেসকোর সহকারী প্রকৌশলী মো. আদনান সাকিবসহ বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, সিআইডি, পিবিআই, বিজিবি, বিএসটিআই, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সাইফুল ইসলাম,গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড, কল্যাণসভা ও মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশের উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সকালে অনুষ্ঠিত মাস্টার প্যারেডে সালামি গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ। প্যারেড পরিদর্শন শেষে তিনি পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা, পোশাক-পরিচ্ছদ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও জনসাধারণের সঙ্গে ভালো আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে প্রত্যেক সদস্যকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

মাস্টার প্যারেডে প্যারেড অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ প্রবেশনার) রনি হাওলাদার।

পরে জেলা পুলিশ লাইন্সে কল্যাণসভা ও মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন পুলিশ সদস্যের ভূমিকা ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।

দায়িত্ব পালনে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা দেওয়া হয়। মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ডাকাতি ও হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি, ওয়ারেন্ট তামিল এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়।

এ ছাড়া পুলিশ সুপার পুলিশ লাইন্সের রেশন স্টোরসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। পুলিশ সদস্যদের জন্য মানসম্মত রেশন সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বদলিজনিত কারণে সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ প্রবেশনার) রনি হাওলাদারকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ সুপার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ নাফিসুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) মোঃ হাসানুর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, ফাঁড়ি ও ক্যাম্প ইনচার্জ এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও সাত শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯১৯ জনে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে সাতজন মারা গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা এবং একজন করে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে প্রাণ হারিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৯ জনে।

এছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৯ জনের। এর সবই পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮১৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ছয়জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে।

সেই সঙ্গে সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সিলেটে ১৫৭, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৬৯, বরিশালে ৫৭, খুলনায় ৩৯ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের দেশ এখন ভালো নেই, এটা আমরা সবাই স্বীকার করছি। সরকারও তা স্বীকার করতে বাধ্য। আমরা একটি ভালো দেশ চাই। দেশ গড়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বিরোধী দলেরও রয়েছে। উভয় পক্ষকে মিলে দেশ গড়তে হবে। বর্তমানে মহাসংকটে রয়েছে দেশ—বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ছয়টি জনদাবি নিয়ে দ্বিতীয় দফায় রাস্তায় নেমেছি। প্রথম দফায় বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করেছি। সেটি শেষ হওয়ার পর গত ৫ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফার কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের কোনো দলীয় দাবি নেই, এগুলো জনদাবি।

তিনি বলেন, প্রথম দফার কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। কর্মসূচিগুলো নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল ছিল। ‘হৈ-হুল্লোড়, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে দেশের কোনো ক্ষতি করতে চাই না আমরা।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা জনগণের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। তাহলে জনগণের ক্ষতি করব কেন? বরং জনগণকে সম্পৃক্ত করে দাবি আদায়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হব। সরকার একসময় হয়তো এসব দাবি বিবেচনায় নিতে বাধ্য হবে এবং বিষয়গুলোর সমাধানের পথ বের করবে।

সরকার সহযোগিতা চাইলে বিরোধী দল হিসেবে পাশে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার দেশের ও জাতির প্রয়োজনে আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা সব সময় প্রস্তুত। সরকার সুযোগ দিলে বিরোধী দল হিসেবে ন্যায্য অবদান রাখার পক্ষে আমরা রয়েছি। সহযোগিতা হবে চোখ খুলে, বিরোধিতা হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে।

জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, এনসিপির জেলা সভাপতি কামরুজ্জামান শাওন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি কামরুল হাসান, শহর আমির অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত বদলাচ্ছে শক্তির সমীকরণ। একদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ছে। ইরানের সঙ্গেও দুই দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুরোনো বিশ্বব্যবস্থার সামনে তৈরি হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো দেশগুলোর পাশাপাশি ভারতও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সম্মেলনের আলোচনায় উঠে এসেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর মতো বিষয়।

রাশিয়া-চীন সম্পর্কের নতুন মাত্রা

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতিতে প্রায় একক প্রভাব বিস্তার করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়ার শক্তি বৃদ্ধির ফলে সেই একক আধিপত্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া আরও বেশি করে চীনের দিকে ঝুঁকেছে। চীনও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়িয়েছে। দুই দেশের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও রাশিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। তিন দেশই পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় হয়ে উঠেছে।