October 29, 2026

DailyJanotarDiary@gmail.com

ডেইলি জনতার ডায়েরি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে সংবাদ প্রতিবেদন ও বিভিন্ন ফিচারধর্মী কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর কেফায়াত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মোহাম্মদ জুবায়ের (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫)। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-২ ওয়েস্টের ডি/৯ ব্লকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১৫-এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।

এসআরবি-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে কুতুপালং ক্যাম্পের একটি বসতঘরে অভিযান চালায় সিপিসি-২-এর হোয়াইক্যং ক্যাম্পের একটি দল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে মোহাম্মদ জুবায়েরকে আটক করা হয়।

পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ, বসতঘর ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার হেফাজতে অস্ত্র থাকার কথা জানালে বসতঘরের শয়নকক্ষসংলগ্ন ডাইনিং কক্ষে থাকা একটি প্লাস্টিকের টেবিলের নিচ থেকে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান বের করে দেওয়া হয়। এ সময় একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

এসআরবি-১৫-এর তথ্যমতে, গ্রেপ্তার জুবায়ের কুতুপালং ক্যাম্পের মৃত কবির আহমেদ ও জুহুরা বেগমের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, তিনি উখিয়ার আলোচিত কেফায়াত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় আরও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেপ্তার জুবায়েরকে উদ্ধার করা অস্ত্রসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ক্যাম্প এলাকায় অপরাধ দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৫।

ম.ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট

নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের দাবি—দখল-দূষণ বন্ধ ও জেলেদের বিকল্প জীবিকার আহ্বান

মোংলা নদীর পাড়ে শিশুরা ছিটিয়েছে ফুল, ভাসিয়েছে রঙিন কাগজের নৌকা। নদীর প্রতি ভালোবাসা আর নদী রক্ষার বার্তা নিয়ে এভাবেই ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিশ্ব নদী দিবস পালন করা হয়েছে বাগেরহাটের মোংলায়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার নারিকেলতলা নদীপাড়ে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, উত্তরণ ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল নদী ও জেলেজীবন সুরক্ষার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান, আলোচনা সভা, র‍্যালি, মানববন্ধন, নদীতে গণগোসল, সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা।

এবারের বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিপাদ্য—‘বন বাঁচলে নদী বাঁচবে, নদী বাঁচলে পানি বাঁচবে, পানি বাঁচলে জীবন বাঁচবে।’

সকাল সাড়ে ১০টায় ‘নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধরা কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ।

সভায় উত্তরণের ফিসনেট প্রকল্পের খুলনা অঞ্চলের অ্যাডভোকেসি অফিসার মো. মিজানুর রহমান, পরিবেশকর্মী রাফিয়া জাহান মিশু, জেলে সমিতির নেতা বিদ্যুৎ মণ্ডল ও আব্দুর রশিদ হাওলাদার, উত্তরণের মনিটরিং অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন, মোংলা এরিয়া ম্যানেজার মো. মোখলেছুর রহমান, ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের সোহেল রানা ও মোহাম্মদ শাহীন খলিফাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, ‘নদী-প্রকৃতি, জল, জঙ্গল ও জমির উর্বরতা রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর জরুরি।’

তিনি বলেন, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই, গরম পানি ও কয়লা-সংশ্লিষ্ট দূষণ পশুর নদীসহ সুন্দরবনসংলগ্ন নদী-খালের জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। নদী ও জেলেজীবন, মৎস্যসম্পদ এবং জলজ প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।

মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। নদী রক্ষায় দখল ও দূষণ বন্ধ করতে হবে।’ পাশাপাশি অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধের উদ্যোগের সঙ্গে জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থাও করার দাবি জানান তিনি।

জেলে সমিতির নেতা আব্দুর রশিদ বলেন, শিল্প ও কয়লা দূষণ থেকে পশুর নদীসহ সুন্দরবন অঞ্চলের নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষা করতে হবে।

পরিবেশকর্মী রাফিয়া জাহান মিশু বলেন, ‘নদীপাড়ের মানুষ ভালো থাকলে নদীও ভালো থাকবে। নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।’

আলোচনা সভা ও মানববন্ধনের আগে শিশুরা নদীর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে মোংলা নদীতে ফুল ছিটিয়ে দেয়। এরপর নদীর গুরুত্ব তুলে ধরে রঙিন কাগজের প্রতীকী নৌকা ভাসানো হয়। পরে নদীতে গণগোসল, সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় নদী ও জেলেজীবন সুরক্ষার দাবিতে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

লুৎফর সিকদার (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামির জামিন ও মুক্তির দাবিতে কয়েকজন আলেমের আদালতে উপস্থিত হওয়ার ঘটনায় এবং মামলা আপস নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মামলার বাদী কারী মো. মহিউদ্দিন।

এ ঘটনায় আসামির মুক্তির বিষয়ে নিজের কোনো সমর্থন বা সহযোগিতা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার ভাটিয়াপাড়া শরীফ মার্কেটে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কারী মো. মহিউদ্দিন বলেন, কাশিয়ানীর পোনা গ্রামের জগলুল শাহিন নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে তৌহিদী জনতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করে কাশিয়ানী থানা পুলিশ। পরে আমি বাদী হয়ে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। বর্তমান মামলার আসামি কারাগারে রয়েছেন।

মহিউদ্দিনের দাবি, আসামিকে জামিনে মুক্ত করার বিষয়ে কয়েকজন আলেম আদালতে উপস্থিত হয়ে তার পক্ষে কথা বলেছেন এবং ইসলামি জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আপনারা যদি আসামিকে মুক্ত করার পক্ষে থাকেন, তাহলে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে মামলা করালেন কেন? মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার তৌহিদী জনতার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করলাম কেন?

মামলার বাদী আরও বলেন, আমাকে অবহিত না করেই আসামির মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে আমি এলাকায় নেই বলে দাবি করা হয়েছে। আমি এলাকায় আছি, ওইদিনও এলাকায় ছিলাম। নবী (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন বা মুক্তির বিষয়ে আমার কোনো সমর্থন কিংবা সহযোগিতা নেই এবং থাকবে না।

তিনি আরও দাবি করেন, একটি মহল নিজেদের স্বার্থ ও ফায়দা হাসিলের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। তার নামে বা তার পক্ষ থেকে কোনো আপস বা সমঝোতার কথা প্রচার করা হলে তা সঠিক নয় বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তৌহিদী জনতার প্রতি বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান মামলার বাদী। একই সঙ্গে মামলার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ওলামা পরিষদ কাশিয়ানীর সভাপতি মুফতি শিহাব উদ্দিন কাসেমী, সাধারণ সম্পাদক মুফতি ইমরান হোসাইন আফসারী, মুফতি মাজারুল ইসলাম, মুফতি মাহমুদুল হাসান সাদ্দাম, হাফেজ তরিকুল ইসলাম, হাফেজ জাকির হোসেন, কারী ইলিয়াচুর রহমান, হাফেজ কামরুলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এ.কে পুলার কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লায় ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত আটটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লা নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর সক্রিয় চার সদস্য আছেন। তাঁদের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯), এই গ্যাংয়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। নগরসহ প্রতিটি থানা এলাকার যেসব স্থানে উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে।

লুৎফর রহমান বলেন, ‘অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উঠতি বয়সী কিশোরেরা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

আনিক রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’
গতকাল রাতে কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁদের মধ্যে চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। চারজনই রতন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।
আটক চারজনের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯)। তিনি নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। পুলিশের ভাষ্য, আনিক রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে। রতন বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় আনিকই গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘আজ রাতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে মোট ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা জমে এবং তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কিশোর গ্যাং লিডার আনিসুর রহমান আনিকও রয়েছেন। আমরা কিশোর গ্যাংয়ে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করেছি। তাঁরা সবাই রতন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। আনিসুর রহমান বর্তমানে রতন গ্রুপ বা আর স্কোয়াডের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে রতনের পুরো গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করছেন।’

পুলিশের ভাষ্য, ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন আনিক। ওই মামলায় তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে আবার গ্যাংয়ের নেতৃত্বে যুক্ত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘শনিবারের অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাই ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় ও আগের অপরাধের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন নয়। তবে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর একজনকে হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

কুমিল্লা নগরে আলোচিত কিশোর গ্যাংগুলোর একটি রতন গ্রুপ বা আর স্কোয়াড। ২০১৫ সালের দিকে নগরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আলোচনায় আসার পর বিভিন্ন সময়ে গ্রুপটির নাম সামনে এসেছে।

ইফতিয়াজ সুমন, সুনামগঞ্জ:

সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও আমেরিকা প্রবাসী পলাশ খানে’র পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ-১ আসনের ৪টি উপজেলায়( ধর্মপাশা,মধ্যনগর, জামালগঞ্জ,তাহিরপুর) ১০০টি ঘর উপহার দেন পলাশ খান। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণের মাধ্যমে এই মানবিক কার্যক্রমের সূচনা হয়েছে। ধাপে ধাপে আরও গৃহহীন ও অসহায় পরিবারকে এই উদ্যোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা,মধ্যনগর, জামালগঞ্জ,তাহিরপুর বিভিন্ন উপজেলার গৃহহীন পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এই উদ্যোগ। একটি নতুন ঘর শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়—একটি পরিবারের জন্য এটি নিরাপত্তা, স্বস্তি এবং নিজের একটি ঠিকানা। নতুন ঘর পেয়ে পরিবারগুলো নিজেদের ঘরে নিরাপদে বসবাস করার সুযোগ পাবে, পূরণ হবে দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। প্রবাসে থেকেও দেশের অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা গেছে প্রশংসা।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঘরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় অসহায় পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হবে। মাথার ওপর একটি স্থায়ী ও নিরাপদ ছাদ পেয়ে আনন্দ-শ্রুতে ভেসেছেন সুবিধাভোগী পরিবারগুলো। তাদের চোখে-মুখে এখন শুধুই স্বস্তি আর নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পলাশ খানের এই বিশাল উদারতা ও মানবসেবামূলক কাজ পুরো অঞ্চলের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিঃস্ব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করছে। মানুষ তো অনেকেই হয়, কিন্তু মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মতো বিশাল হৃদয় ক’জনেরই বা থাকে? প্রবাসের ব্যস্ত জীবন আর হাজারো ব্যস্ততার ভিড়েও নিজের দেশের অসহায় মানুষের কথা ভুলেননি আমেরিকা প্রবাসী পলাশ খান। তাঁর ব্যক্তিগত বিশেষ মানবিক উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ১০০টি গৃহহীন ও অসহায় পরিবারের জন্য ১০০টি নতুন ঘর। ​এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, পলাশ খান প্রবাসে থেকেও দেশের প্রতি এবং দেশের মানুষের প্রতি যে ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা সত্যি প্রশংসনীয়। তাঁর এই মহতী উদ্যোগের ফলে ১০০টি পরিবারের জীবনের গল্প চিরতরে বদলে গেল।

প্রবাসী পলাশ খান বলেন, আমাদের সমাজের পিছিয়ে পড়া ও গৃহহীন মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটানোই আমার মূল লক্ষ্য। আজ ১০০টি অসহায় পরিবারের মাথার ওপর স্থায়ী একটি ছাদ উপহার দিতে পেরে আমি গভীরভাবে আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। এটি কেবল একটি ঘর নয়, এটি তাঁদের নিরাপত্তা, সম্মান এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি নতুন সূচনা। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের মানবিক কাজে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি, সে জন্য আমি সবার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করছি।”

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের পীরগাছায় মাহাবুর রহমান ওরফে মহুবার (৫৫) ছুরিকাঘাতে নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে হাসানুর রহমানের (২২) সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার তাম্বুলপুর বাজারে ‘আইন ও অধিকার ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এমন নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন তাম্বুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারুকুল ইসলাম রাখু, রুবেল মিয়া, স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম এবং আইন ও অধিকার ফাউন্ডেশনের রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক সবুজ মিয়া। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া গ্রামে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মাহাবুর রহমানকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার ছেলে হাসানুর রহমানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, ঘটনার পর থেকে হাসানুর রহমান পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির গোপালগঞ্জ জেলা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আরিফুর রহমান।

যুগ্ম সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন শাকিল মিয়া।
এনসিপি-র সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এই কমিটি অনুমোদন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ওই দুই নেতা ২৯ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি অনুমোদন করেন। এর আগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া, কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর থানা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

এছাড়া কমিটিতে আরও নয়জনকে যুগ্ম সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- আতাউর রহমান, বাধন মিয়া, সৌরভ ইসলাম, বুলবুল ইসলাম, শিকদার বরকত উল্লাহ, রুম্মান হোসাইন রিমন, আরিফ শেখ, রুবেল মোল্লা, মাওলানা তাওহীদুল ইসলাম।

কমিটিতে সদস্য রাখা হয়েছে ১৮জনকে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের ২০২৬ সালের অর্ধবার্ষিক বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, তদন্তাধীন পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির গতি বাড়ানো, সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং আদালত চত্বরের নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মহানগর দায়রা জজ আদালতে আয়োজিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. ইমদাদুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ (২য় আদালত) আশরাফুন্নাহার রীটা।

সম্মেলনে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতাউল্লাহ এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতের পক্ষে যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ (১ম আদালত) মো. জাহিদ হাসান।

মূল প্রবন্ধে মো. জাহিদ হাসান জানান, সহায়ক কর্মচারীর সংকট থাকা সত্ত্বেও গত আট মাসে মহানগর আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার প্রায় ১৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।

সম্মেলনে সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, আলামত সংরক্ষণ ও ধ্বংস, রাসায়নিক পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত, ভিসেরা ও জখমি প্রতিবেদনের গুরুত্ব, এক বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তাধীন মামলার অগ্রগতি, আদালত চলাকালে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, আদালত ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আদালত চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়।

আলোচনা শেষে বক্তারা সম্মেলনকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলেন, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদুল হক, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আব্দুল কুদ্দুস, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. রেজাউল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন, আরএমপির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. দেলোয়ার হোসেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আলী আসলাম হোসেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম রাব্বী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলাম, নেসকোর সহকারী প্রকৌশলী মো. আদনান সাকিবসহ বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, সিআইডি, পিবিআই, বিজিবি, বিএসটিআই, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুরে অর্কিড মাল্টিমিডিয়া স্কুলের উদ্যোগে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ বৃত্তিপ্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬শে সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অর্কিড মাল্টিমিডিয়া স্কুলের অধ্যক্ষ উম্মে সালমা পূরবী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান শিমুল, শেফাউল ইসলাম সহকারী শিক্ষক মিঠাপুকুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, হাফিজুর রহমান ফকির সভাপতি পেশাজীবী সংগঠন,১৪নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের জামায়াতের আমির খন্দকার আব্দুস সালাম সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির উদ্বোধনী বক্তব্যে স্কুলের অধ্যক্ষ উম্মে সালমা পূরবী বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের এই গৌরবময় সাফল্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। বিশেষ করে সামিয়ুন তামীম, শোয়াইব ও আরিশা জাবীন যেভাবে ডাবল ট্যালেন্টপুলে সাফল্য এনেছে, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।আমাদের শিক্ষার্থীদের এই গৌরবময় সাফল্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে যারা স্কুলের সুনাম বয়ে এনেছে, তাদের নিয়ে আমরা গর্বিত।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়,চলতি বছর অর্কিড মাল্টিমিডিয়া স্কুল থেকে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে মোট ২২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ১২ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১০ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এই বৃত্তিগুলো সরকারি পর্যায় এবং রংপুর কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন—উভয় মাধ্যম থেকে এসেছে।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল স্কুলের ৩ জন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী, যারা সরকারি এবং রংপুর কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন—উভয় সেকশন থেকেই ডাবল ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার এক বিরল কৃতিত্ব দেখিয়েছে। এই ৩ জন কৃতী শিক্ষার্থী হলেন,মোঃ সামিয়ুন তামীম, মোঃ শোয়াইব ইসলাম এবং আরিশা জাবীন। অনুষ্ঠানে তাদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম রব্বানী এমপি বলেন, ৩০ জনের মধ্যে ২২ জনেরই বৃত্তি পাওয়া এবং একই সাথে ৩ জন শিক্ষার্থীর দুই বিভাগেই ট্যালেন্টপুলে স্থান পাওয়া অলৌকিক ও গৌরবময় সাফল্য। এই মেধাবীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর।আজকের ট্যালেন্টপুলে স্থান পাওয়া মেধারী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর। তাদের এই মেধার স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা এনামুল হক বলেন, কেবল জিপিএ-৫ বা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়াই জীবনের শেষ কথা নয়, আসল সফলতা লুকিয়ে আছে সৎ ও যোগ্য মানুষ হওয়ার মধ্যে। আজকের শিক্ষার্থীদের মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বলীয়ান হতে হবে।

আরেক বিশেষ অতিথি মিঠাপুকুর উপজেলা আমির আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন,একটি আদর্শ সমাজ গঠনে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। অর্কিড মাল্টিমিডিয়া স্কুল মিঠাপুকুরের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে যেভাবে কাজ করছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে বিশেষ বৃত্তি এবং সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

মোঃ মুক্তাদির হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার।

গাজীপুর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের আয়োজনে কাবাডি প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের বালক কাবাডি দল।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরস্থ শহীদ বরকত স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডের খেলায় কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের বালক দল মুখোমুখি হয় গাজীপুর সদর থানা কমিউনিটি পুলিশের দলের। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলায় গাজীপুর সদরকে পরাজিত করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে কালীগঞ্জের দলটি।
উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের বালক দল গাজীপুর সদর থানা কমিউনিটি পুলিশের দলকে পরাজিত করে। এ জয়ের মধ্য দিয়ে দলটি প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হয়।
খেলায় কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের বালক দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তুমুলিয়া বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আমিরুল ইসলাম। দলের ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন নাদিমুল ইসলাম। জয়ের পর কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজারের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
জয়ের পর কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের প্রধান উপদেষ্টা গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন, কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার ও সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বাবলু।
তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপেও কালীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশের বালক কাবাডি দল তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে।