October 30, 2026

DailyJanotarDiary@gmail.com

ডেইলি জনতার ডায়েরি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে সংবাদ প্রতিবেদন ও বিভিন্ন ফিচারধর্মী কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের শিকদার হাট এলাকায় শ্রী শ্রী রসিক রায় জিও মন্দিরে সনাতন ও ইসকন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মন্দিরে আসন্ন দুর্গাপূজার প্রতিমা স্থাপনকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
আহতদের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী রনজিত রায়, নুপুর রায়, পায়েল কৃষ্ণ ব্রহ্মচারী, বাসুদেব চন্দ্র ও অপু সরকার এবং ইসকন ধর্মাবলম্বী জিতেন্দ্র নাথ, চম্পা রাণী, দক্ষনাথ রায় ও সোহাগ রায় রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা স্থাপনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। তবে সংঘর্ষের কারণ ও দায় কার—তা নিয়ে উভয়পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
খবর পেয়ে ভূল্লী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর একই মন্দিরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর দীর্ঘ সময় মন্দিরে পূজার সময় ১৪৪ ধারা জারি ছিল। গত বছর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার পূজার আগেই নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মোঃ আবদুল্লাহ বুড়িচং কুমিল্লা।।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ১ হাজার ৭৭৮ জন কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা প্রদান করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বুড়িচং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিস রুজি আক্তার, কৃষি মন্ত্রনালয়ের উপসচিব মোঃ কামরুল ইসলাম খান, বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক আজিজুর রহমান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাবলিহা আনবার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. ওয়ালী উল্লাহ, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা যোবায়ের হাসান, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রাসেল সারওয়ার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বশির আহমেদ।

অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এটিএম মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম সাইফুল ইসলাম টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির বাবুল, মো. আবু নাছের মুন্সি, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. ছাদেকুর রহমান, শ্রমিক দলের সভাপতি সানা উল্লাহ মোল্লা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবেদ কাউছার সবুজ, সদস্য সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন দোলন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম ভূইয়া এবং বুড়িচং প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা সুবিধাভোগী কৃষক-কৃষানীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, খাড়াতাইয়া ব্লকে মোট কৃষকের সংখ্যা ১ হাজার ৮১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৩৬৩ ও নারী ৪৪৯ জন। শ্রেণিভেদে ভূমিহীন কৃষক ২৫০, প্রান্তিক ৮৮১, ক্ষুদ্র ৬৫১ এবং মাঝারি কৃষক ৩০ জন।

কৃষকের ধরন অনুযায়ী ফসল আবাদকারী ১ হাজার ৭৮২ জন, মৎস্য খামারি একজন, প্রাণিসম্পদ খামারি ১৬ জন এবং প্রাণিসম্পদ পালনকারী ১৩ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮ জন কৃষককে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, কক্সবাজার।

কক্সবাজারের টেকনাফে অনুমতি ছাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ (২০) নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে ১৬ এপিবিএন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে টেকনাফের ২৬ নম্বর শালবাগান শরণার্থী ক্যাম্পের ডি/৪ ব্লক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

১৬ এপিবিএনের শালবাগান ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে ক্যাম্প এলাকায় দিবাকালীন মোবাইল টহল চলছিল। এ সময় নূর মোহাম্মদ অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে টহলরত এপিবিএন সদস্যরা তাকে আটক করেন।

পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ক্যাম্প-২৪-এর সিআইসি কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ক্যাম্প-২৪-এর সিআইসি খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

আদালত বিনা অনুমতিতে ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ার চেষ্টার ঘটনায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারার অপরাধে নূর মোহাম্মদকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

সাজাপ্রাপ্ত নূর মোহাম্মদ শালবাগান ক্যাম্পের ই/৭ ব্লকের বাসিন্দা। তার এফসিএন নম্বর ২৭৫৫৫৭।

এ ঘটনায় শালবাগান এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:-
ভারতে কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যুর পর। নিরাপত্তা অভিযানে একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীরা। আগে থেকে হোটেল বুকিং করেও কলকাতায় গিয়ে অনেকেই নির্ধারিত আবাসনে উঠতে পারছেন না। কেউ নতুন হোটেল খুঁজে হয়রানী হচ্ছেন, কেউ বাড়তি ভাড়া গুনছেন, আবার কেউ চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই দেশে ফিরছেন।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়,১ থেকে ৩০সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন ২২ হাজার ৯৫জন পাসপোর্টযাত্রী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি১০ হাজার ৮৭৫ জন, ভারতীয় ৩ হাজার ৯৫১ জন এবং অন্যান্য দেশের ২৫ জন নাগরিক ছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের পর শুরু অভিযান :
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে প্রশাসনের অভিযানে একের পর এক আবাসিক হোটেল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০টি হোটেল রয়েছে।

গত ১৯ আগস্ট রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। এরপর কলকাতা প্রশাসন আবাসিক হোটেল ও অতিথিশালাগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই শুরু করে।
এ পর্যন্ত ৯১৯টি হোটেল ও অতিথিশালায় অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪১টিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামো সন্তোষজনক পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনে ঘাটতি থাকায় অধিকাংশ হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এক হোটেল থেকে আরেক হোটেলে ছুটছেন বাংলাদেশিরা :
হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা। অনেকে এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে ঘুরেও থাকার জায়গা পাচ্ছেন না। কোথাও জায়গা মিললেও আগের তুলনায় দিতে হচ্ছে দেড় থেকে দ্বিগুণ ভাড়া।
কলকাতায় জায়গা না পেয়ে অনেক বাংলাদেশি শিয়ালদহ, মুকুন্দপুর, আনন্দপুর, বারাসাত, দমদম ও জাকারিয়া স্ট্রিটের মতো দূরের এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করছেন।
ফেরত আসা কয়েকজন যাত্রী জানান, যেসব হোটেলের দৈনিক ভাড়া আগে প্রায় এক হাজার রুপি ছিল, সেগুলোর কোনো কোনোটি এখন দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার রুপি পর্যন্ত দাবি করছে। ৫০০-৬০০ রুপির হোটেলেও এখন ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ রুপি পর্যন্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসা করাতে এসে বাড়তি খরচের চাপ :
কলকাতায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসার খরচ কম রাখার পাশাপাশি আবাসনেও সাশ্রয় করতে চান অনেক রোগী ও তাদের স্বজন। কিন্তু হোটেল সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় তাদের বাজেট বেড়ে যাচ্ছে।

অনেকেই চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই দেশে ফিরছেন। আবার কেউ কেউ হাসপাতালের আশপাশে থাকার জায়গা না পেয়ে দূরবর্তী এলাকায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাংলাদেশি রোগীদের জন্য কিছু হাসপাতাল নির্দিষ্ট হোটেলের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বললেও সেখানেও পর্যাপ্ত আসন পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিরাপদ হোটেল বুকিং নিয়েও সংকট :
সম্প্রতি কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে কলকাতাগামী বাংলাদেশিদের আগেভাগে নিরাপদ হোটেল বুক করার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক হোটেলই এখন অগ্রিম বুকিং নিচ্ছে না।
ফলে ভিসা থাকা সত্ত্বেও থাকার জায়গা নিশ্চিত করতে না পেরে অনেক বাংলাদেশি ভারত সফর স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

‘চিকিৎসা রেখেই দেশে ফিরেছি’ :
ভারতফেরত পাসপোর্টযাত্রী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিকিৎসার জন্য ২০ আগস্ট ভারতে গিয়েছিলেন। কলকাতার বড়বাজার এলাকার একটি হোটেলে ছিলেন। শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযান শুরু করলে যে হোটেলে ছিলেন সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আরও এক সপ্তাহ কলকাতায় থাকার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হোটেল সংকট, বাড়তি ভাড়া ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চিকিৎসা শেষ না করেই দেশে ফিরতে হয়েছে।

বরিশালের শ্যামল কুমার রায় স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে কলকাতা যাচ্ছেন। তিনি বলেন, হোটেল বন্ধের খবর শুনে কিছুটা আতঙ্কেই যেতে হচ্ছে। কলকাতায় আত্মীয় থাকলেও তাদের বাসা ছোট হওয়ায় হোটেলেই থাকতে হয়। সেখানে থাকার জায়গা পাওয়া যাবে কি না, সেটিই এখন বড় চিন্তা।

পর্যটন ব্যবসায়ও বড় ধাক্কার আশঙ্কা :
কলকাতার হোটেল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশি পর্যটক ও রোগীদের ঘিরে নিউ মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় আবাসিক হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহন, কেনাকাটা ও নানা ধরনের ব্যবসা গড়ে উঠেছে।

একটি আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার প্রভাত সরকার বলেন, করোনার পর থেকেই নানা কারণে ব্যবসায় মন্দা চলছে। পর্যটক ভিসা চালু হওয়ায় বাংলাদেশি যাত্রী বাড়তে শুরু করেছিল। এর মধ্যেই হোটেল বন্ধের ঘটনা ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ধাক্কা।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক দিনের হিসাব অনুযায়ী আগের তুলনায় ভারতে গিয়ে দেশে ফেরার যাত্রী কিছুটা বেশি। তবে এর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তার কাছে তথ্য নেই। দুই দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।#
প্রেরক:-
মো,মনির হোসেন।
বেনাপোল প্রতিনিধি যশোর।
তারিখ:-০১/১০/২৬
মোবা:-০১৮৩৫ ০১৯৪৩১,

এ.কে. পলাশ, কুমিল্লা প্রতিনিধি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১০৪ কিলোমিটার এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকেই বিভিন্ন পয়েন্টে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কোথাও ঢোল-বাদ্য, কোথাও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে মহাসড়কের আশপাশ। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে সকাল ৯টা থেকেই বিভিন্ন স্থানে মানুষ সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেন।
দাউদকান্দিতে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। চান্দিনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুল ইসলাম শাওনের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মহাসড়কের পাশে জড়ো হন।
নিমসার কলেজ এলাকায়ও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে অবস্থান নেন। নিমসার জুনাব আলী কলেজ গেট থেকে মিল গেট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় নিমসার জুনাব আলী কলেজ জাতীয়করণের দাবিও জানানো হয়।
পদুয়ার বাজার, আলেখারচর, সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম এলাকাতেও বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোটের নেতাকর্মীরাও ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুমিল্লার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নেতাকর্মীদের এই উপস্থিতিতে সকাল থেকেই পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

একসময় যে তাঁতের খটখট শব্দে মুখরিত থাকত গ্রাম, সুতার টানে বোন হতো রঙিন স্বপ্ন—আজ সেই তাঁত শিল্প নানা সংকটে জর্জরিত। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ৩নং বন্দবের ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামে এখনও নিভৃতে গড়ে উঠছে স্বল্পমূল্যের আকর্ষণীয় তাঁতের শাড়ি। এখানকার তাঁতিদের হাতের সুনিপুণ ছোঁয়ায় বুনে চলা শাড়ি রৌমারীর গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে ঠিকই, তবে যার ঘামে তৈরি হচ্ছে এই বস্ত্র, সেই তাঁতির ভাগ্যের কোনো বদল ঘটছে না। বাঘমারা গ্রামের তাঁতি মো. জিহাদ হাসান (পিতা: মো. শহিদুল)। প্রতিদিনের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই শুরু হয় তাঁর ও তাঁর পরিবারের কর্মযজ্ঞ। জিহাদ হাসান জানান, “পরিবারের সব সদস্য মিলে সারা দিন পরিশ্রম করে আমরা মাত্র একটি শাড়ি বুনতে পারি। আর এক দিন খাটার পর তার বিনিময়ে মজুরি পাই মাত্র ৭০০ টাকা।” দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে পুরো পরিবারের ঘামঝরানো শ্রমের বিনিময়ে ৭০০ টাকা আয় করে সংসার চালানো কতটা কষ্টকর, তা ভাষায় প্রকাশ করার অপেক্ষা রাখে না। প্রতিবেশী আফজাল মিয়ার কণ্ঠেও ঝরল একই আক্ষেপ। তিনি বলেন, “বাঘমারার তাঁতিদের বুনে দেওয়া শাড়ি রৌমারী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজারের অসামঞ্জস্যতার কারণে কারিগররা তাদের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কম দামে শাড়ি কিনে নিয়ে বড় বড় বাজারে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি হলেও সুতা ও শ্রমের মূল কারিগররা রয়ে যাচ্ছেন বঞ্চিত।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঁচামালের অগ্নিমূল্য, সরকারি প্রণোদনার অভাব এবং বাজারজাতকরণের সঠিক ব্যবস্থার অভাবে বাঘমারার এই ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। সুতার দাম দিন দিন বাড়লেও শাড়ির উৎপাদন মজুরি বাড়ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই পূর্বপুরুষের এই পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় ঝুঁকছেন। রৌমারীর বাঘমারা গ্রামের এই নিভৃত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং তাঁতি পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে অবিলম্বে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা, উন্নত সুতা ও রঙ সরবরাহ এবং উৎপাদিত পণ্যের সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি করে দিলে একদিকে যেমন বাঘমারার এই হস্তশিল্প ঐতিহ্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে স্বাবলম্বী হবে বহু অসচ্ছল পরিবার।অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার বাঘমারার এই তাঁতিদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টিই পারে রৌমারীর এই হস্তশিল্পকে নতুন জীবন দিতে।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে পৌর বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক মোল্লার পদ স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব কাজী আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশ পত্রে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে টুঙ্গিপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক মোল্লার পদের দায়িত্ব আপাতত স্থগিত করা হলো।

দলের সুনাম অক্ষুন্ন রাখা ও দলের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি পরিচয়ে সংগঠনের কোন কর্মকান্ডে লিপ্ত না হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

এতথ্য নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব কাজী আবুল খায়ের বলেন, সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে টুঙ্গিপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতির পদ স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু কি কারণে পদ স্থগিত করা হয়েছে তা তিনি বলেননি।

পৌর বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক মোল্লা এ ব্যাপারে বলেন, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফরের সাথে আমার কথা-কাটাকাটি হয়েছে। এ কারণে আমাকে কারাণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়ে পদ স্থগিত করা হয়েছে। আমি দলের কর্মকাণ্ড, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি অনুগত । তাই নেতৃবৃন্দ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার করবেন বলে আমি প্রত্যাশা করছি।

লুৎফর সিকদার , গোপালগঞ্জ

৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত নিয়োগ গেজেট প্রকাশের পর গোপালগঞ্জের প্রার্থীদের ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। পিএসসির চূড়ান্ত ফলে জেলার ১১ জন প্রার্থী সাময়িকভাবে মনোনীত হলেও বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে তাঁদের মধ্যে ৯ জনের নাম নেই। এ নিয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, গোপালগঞ্জের পরিচয় তাঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না।

বাদ পড়া ৯ প্রার্থী হলেন: মো. নূরনবী শেখ, আহম্মদ উল্লাহ, সোহাগ মন্ডল, বিপ্লব বাড়ৈ, শেখ আরাফাত কবির, বুশরা জাহান, মো. সাজ্জাদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও মো. রাকিবুল ইসলাম।

প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের কয়েকজন নিজ নিজ বিভাগে মেধাক্রমে এগিয়ে ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের আহম্মদ উল্লাহ মেধাক্রমে প্রথম এবং একই বিভাগের সোহাগ মন্ডল তৃতীয় হন। ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নূরনবী শেখ ছিলেন পঞ্চম। এ ছাড়া সংস্কৃত বিভাগের বিপ্লব বাড়ৈ পঞ্চম, ইতিহাস বিভাগের শেখ আরাফাত কবির ১৫তম এবং ইংরেজি বিভাগের বুশরা জাহান ১৪তম মেধাক্রমে ছিলেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

বাদ পড়া প্রার্থী নূরনবী শেখ দাবি করেছেন, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত থাকার পরও গোপালগঞ্জের পরিচয়ের কারণে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। মেধাক্রমে প্রথম আহম্মদ উল্লাহও তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জ হওয়াকে বাদ পড়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে বাদ পড়া প্রার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম গোপালগঞ্জের পরিচয়ের কারণে বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে মনে করেন না। তিনি বলেন, তাঁকে কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে।

এদিকে গোপালগঞ্জ থেকে নির্বাচিত দুই প্রার্থীর একজন তন্ময় আইসিটি ক্যাডারে মেধাক্রমে ২১তম এবং মো. অপু খান ম্যানেজমেন্ট ক্যাডারে ষষ্ঠ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের শিক্ষাজীবনের বড় একটি অংশ গোপালগঞ্জের বাইরে কেটেছে।

সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জের ৯ প্রার্থীর বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শুধু জেলার পরিচয়ের কারণে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো সরকারি নথি বা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

চূড়ান্ত গেজেটে ৬১১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে পিএসসির চূড়ান্ত ফলে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পায়নি। তবে তাঁদের বাদ পড়ার কারণ গেজেটে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে গোপালগঞ্জের ৯ প্রার্থীসহ বাদ পড়া অন্যদের নিয়োগ না পাওয়ার কারণও এখনো স্পষ্ট নয়।

মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রাম সদরে নিজ শোয়ার ঘর থেকে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ( ১ অক্টোবর ) সকালে লাশ উদ্ধার করে পুলিশকে সংবাদ দেয় স্থানীয়রা।

সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বালাকুড়া মাদ্রাসা পাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবকের নাম নাজমুল ইসলাম (২২) । সে ওই এলাকার নজরুল ইসলামের নাতি। জন্মের পর থেকে সে তার নানার বাড়িতে থাকে। নাজমুল ইসলাম খলিলগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি দিনমজুরি কাজ করে সে।

পরিবারের দাবি আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু কি কারণে করেছে তা কেউ জানাতে পারেনি। পরিবারের কারো সাথে কলহের বিষয়েও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্ত কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম থানার এস আই আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাস্থলে আমি আছি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা আত্মহত্যা।

কুড়িগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়না তদন্ত হবে না।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

মিঠাপুকুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয়-এর নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আজ ৩০শে সেপ্টেম্বর সকালে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের উচ্চশিক্ষা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং অবকাঠামোর টেকসই ও সুষম উন্নয়নে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির সাথে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন কেবল সাধারণ নির্মাণকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘস্থায়ী, মানসম্মত এবং পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। তিনি তাঁর বক্তব্যে ঐতিহ্যবাহী মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয়ের বিভিন্ন গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও উন্নয়নমূলক চাহিদার কথা প্রতিমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এমপি গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এবং মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন আবশ্যক। নতুন এই একাডেমিক ভবন নির্মাণের ফলে এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক সাইফুল ইসলাম এবং মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম নিক্সন। এছাড়াও এলজিইডির প্রকৌশলীবৃন্দ, মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তাঁর বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন, জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন করা আমাদের লক্ষ্য।অবকাঠামোগত যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম, ধীরগতি বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা পরিষদ ও এলজিইডির সমন্বিত প্রচেষ্টায় রংপুরের গ্রামীণ যোগাযোগ ও শিক্ষা অবকাঠামো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আলোচনা সভা শেষে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলক উন্মোচন করে নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সবশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, অগ্রগতি এবং নির্মাণাধীন প্রকল্পের সফল সমাপ্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।