October 29, 2026

DailyJanotarDiary@gmail.com

ডেইলি জনতার ডায়েরি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে সংবাদ প্রতিবেদন ও বিভিন্ন ফিচারধর্মী কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি আফজাল মিয়।

উজ্জ্বল ভভিষ্যৎ ও মানসম্মত শিক্ষার প্রত্যয়ে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কামালপুরে অবস্থিত ‘আল হেরা জামেয়া ইসলামী একাডেমী’ এর দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে জামেয়া মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কামালপুর গ্রামের আব্দুল করিম উরফে মিয়াধনের পুত্র ইলিয়াস মিয়া, মাওলানা রুহুল আমিন দিলওয়ার, ব্যারিস্টার আব্দুশ শহিদ এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ড. আবুল খায়েরের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠানটি অঞ্চলজুড়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ঈমান, সততা, সুদৃঢ় নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক মানের উপযোগী করে গড়ে তোলাই এই একাডেমীর মূল উদ্দেশ্য। ‘আল হেরা জামেয়া ইসলামী একাডেমী’র পরিচানলা কমিঠির সহ সভাপতি প্রফেসর আব্দুশ শহীদ শাহীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ‘আল হেরা জামেয়া ইসলামী একাডেমী’র প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষা পরিচালক মাওলানা মুখলিছুর রহমান। সুদুর যুক্তরাজ্য থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন ‘আল হেরা জামেয়া ইসলামী একাডেমী’র প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা রুহুল আমিন দিলওয়ার। অনুষ্ঠানে ‘আল হেরা জামেয়া ইসলামী একাডেমী’র প্রধান শিক্ষক ফয়েজ উদ্দীন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মাওলানা শরিফ উদ্দীনের যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুরুয়া আলিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি শিহাব উদ্দিন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী শামছু মিয়া লালা, ‘আল হেরা জামেয়া ইসলামী একাডেমী’র পরিচালনা কমিটির সদস্য শেখ মঈনুল হক জানু, বিশিষ্ট মুরব্বী ফারুক আহমদ, কামালপুর গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বী হুশিয়ার আলী, শিমুলতলা গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বী আব্দুল হান্নান, সংগঠক সৈয়দ জুয়েল আহমদ, খালেদ আহমদ বাদশা, আলিম উদ্দিন, অভিভাবক সদস্য সাইফুদ্দিন আহমদ ও আরশ আলী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একাডেমিটি অনন্য ভূমিকা রাখছে। এখানকার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আরবি ও ইংরেজি উভয় ভাষায় অনর্গল ও সাবলীল কথোপকথনে পারদর্শী করে তোলা। অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছে প্রশস্ত ও সুসংগঠিত শ্রেণীকক্ষ, আধুনিক বিজ্ঞানাগার, সমৃদ্ধ পাঠাগার, সবুজ-কোলাহলমুক্ত ক্যাম্পাস এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাসফিয়া উদ্দিন হুমায়রা ও হামদে বারী তা’আলা পাঠ করেন রুহুল আমিন, শিক্ষার্থীদের পক্ষে বাংলায় বক্তব্য প্রদান করেন তাওহিদা জান্নাত, আরবিতে বক্তব্য প্রদান করেন ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী অলি উল্লাহ মাহদি এবং ইংরেজিতে বক্তব্য প্রদান করেন ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আমিনা আলী সাফা সমাবেশে উপস্থিত অভিভাবক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে আল হেরা একাডেমীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল মেধা বিকাশের লক্ষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মোঃ আফজাল মিয়।
সিলেট বিশ্বনাথ উপজেলা সংবাদদাতা
বিশ্বনাথ পৌরসভা
মোবাঃ ০১৭২৬৬৬০০০০।

মোঃ মোসাদ্দেক হোসাইন ইমন,গাজীপুর।

দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্তের প্রতিবাদে গাজীপুরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে মহানগর যুবদল। দেশকে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার হাত থেকে রক্ষা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবিতে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গাজীপুর মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বিকেল থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নির্ধারিত স্থানে জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানে কর্মসূচির এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। মিছিলের অগ্রভাগের ব্যানারে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে সমাবেশ ও মিছিল’ শীর্ষক বার্তা তুলে ধরা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ও টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আকবর হোসেন ফারুক। তিনি বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস বা অস্থিতিশীলতার মাধ্যমে কোনো পক্ষ যাতে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে যুবসমাজকে সচেতন থাকতে হবে। জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় যুবদল রাজপথে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদল নেতা মাঈন উদ্দিন পাপেলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বক্তারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকার কথা জানান তারা।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে মিলগেইট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।

ছাইম খান টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে সাংবাদিক জসিম মুন্সীর উদ্যোগে জমজমাট চার দলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এ খেলাকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

টুর্নামেন্টে চারটি দল অংশ নেয়। খেলা শুরুর আগে লটারির মাধ্যমে দলগুলোর প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করা হয়। প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ি ও বর্ণী পূর্বপাড়া দল। দুই দলের মধ্যে চলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে জয়লাভ করে দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ি দল ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ বাশুড়িয়ার নেয়ামত শেখের দল ও বর্ণী খাড়াপাড়ার হাবিবুরের দল। উত্তেজনাপূর্ণ এ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে দক্ষিণ বাশুড়িয়ার নেয়ামত শেখের দল।

পরে ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ির সাংবাদিক জসিম মুন্সীর দল ও দক্ষিণ বাশুড়িয়ার নেয়ামত শেখের দল। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মাঠজুড়ে ছিল উত্তেজনা ও দর্শকদের উচ্ছ্বাস।

শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে ১ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে সাংবাদিক জসিম মুন্সীর দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ি দল। দুর্দান্ত খেলায় জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয় দলটি।

খেলাটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন স্থানীয়ভাবে পরিচিত জনপ্রিয় হাডুডু খেলোয়াড় ও রেফারি কালু টাইগার। তাঁর দক্ষ রেফারিং, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং পুরো ম্যাচে সতর্ক নজর রাখার কারণে আয়োজনটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।

খেলা দেখতে বর্ণী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত নৈপুণ্য, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং ফাইনালের টানটান উত্তেজনায় পুরো মাঠ ছিল উৎসবমুখর।

আয়োজক সাংবাদিক জসিম মুন্সী বলেন, “গ্রামীণ জনপদে হাডুডুসহ দেশীয় খেলাধুলার ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং তরুণদের মাঠমুখী করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও স্থানীয় খেলাধুলার উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।”

খেলাটি সুন্দরভাবে পরিচালনা করায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে রেফারি কালু টাইগারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়। আয়োজকরা বলেন, খেলোয়াড়দের প্রতি তাঁর আন্তরিক আচরণ, দক্ষতা ও সুন্দর রেফারিংয়ের কারণে পুরো খেলাটি মনোরম পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয়দের কাছে ‘কালু টাইগার’ নামে পরিচিত এই জনপ্রিয় হাডুডু খেলোয়াড় বর্তমানে বিভিন্ন হাডুডু ম্যাচে রেফারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সুন্দর রেফারিংয়ের প্রশংসা করে আয়োজক ও খেলোয়াড়রা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর জন্য সর্বোচ্চ দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেন।

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্য সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। এ সময় দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে আজ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। আপনারা জানেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের সময় ভোটারদের কাছে ফখরুল ইসলাম বলতেন, এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় হওয়ায় অনেকেই তাকে ভোট দিয়েছেন। এবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মানুষ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন।”

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির মো. বেলাল উদ্দিন প্রধান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আলমগীর, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক কফিল উদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দেলাওয়ার হোসেন।
দেলাওয়ার হোসেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।

মোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম

মাদকমুক্ত সমাজ, আমাদের অঙ্গীকার এই প্রত্যয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে এক মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশ, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মো: মাসুদ আলম, বিপিএম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিটি পুলিশের উপদেষ্টা জনাব জহুরুল আলম জহুর।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার থেকেই সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকবিরোধী আইন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার জনাব মো. মাসুদ আলম, বিপিএম বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করতে সকলকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে সন্তানদের চলাফেরা, সঙ্গ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি :- সারাদেশে নিষিদ্ধঘোষিত দল আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে যশোরের বেনাপোলে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ​শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পৌর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​মিছিলটি বেনাপোলের ঐতিহাসিক বলফিল্ড ময়দান থেকে শুরু হয়ে বেনাপোল বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে গিয়ে পুনরায় বলফিল্ডে ফিরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভে শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পৌর যুবদলসহ অঙ্গ-সংগঠনের সহস্রাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন। মিছিলজুড়ে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিতে দেখা যায়।

​বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্বে দেন শার্শা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক- মো. মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম, সদস্য সচিব ইমদাদুল হক ইমদাদ, বেনাপোল পৌর যুবদলের আহ্বায়ক- মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, সদস্য সচিব- রায়হানুজ্জামান দিপু, শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক- শরিফুল ইসলাম চয়ন, সদস্য সচিব- সবুজ হোসেন খান, বেনাপোল ছাত্রদলের আহ্বায়ক- মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ, সদস্য সচিব- ইশতিয়াক আহম্মেদ শাওন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক- শহিদুল ইসলাম শহীদ ও সদস্য সচিব- ওমর ফারুখ সহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা।

​মিছিল শেষে বলফিল্ডে অনুষ্ঠিত সমাবেশে যশোর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, শার্শা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ বক্তব্য রাখেন। ​

বক্তব্যে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।

এদের যেকোনো ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য প্রতিহত করতে রাজপথে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। গণতন্ত্র ও শান্তির স্বার্থে রাজপথের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।”

​সমাবেশে অন্যান্য বক্তারাও আওয়ামী লীগের দেশবিরোধী চক্রান্ত প্রতিহত করতে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।#
প্রেরক:-
মো,মনির হোসেন।
বেনাপোল প্রতিনিধি যশোর।
তারিখ:-২৬/০৯/২৬
মোবা:-০১৮৩৫ ০১৯৪৩১,

চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি : আহমদ রেজা

আনোয়ারা উপজেলার ১ নম্বর বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নারী, পুরুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সমতাভিত্তিক স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য মো. মামুন খান বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক ও সমতাভিত্তিক স্থানীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মতামত, অধিকার ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নারীদের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থানীয় সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

সভায় বক্তারা নারী, পুরুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন।

আলোচনা সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নারী প্রতিনিধি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা অবশেষে পূরণ হতে চলেছে। রংপুরের মিঠাপুকুর বাজার রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদের সেফটি ট্যাংকি ও সোকয়েল নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।আজ ২৬ শে সেপ্টেম্বর শনিবার উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করেন রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী এমপি।

নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:মোঃ পারভেজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মিঠাপুকুর।
রংপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক,গোলাম রব্বানী, সভাপতি, উপজেলা বিএনপি।এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ওলামায়ে কেরাম, মসজিদের কমিটির সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিনের এই জরুরি সমস্যাটির সমাধান ও মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসী এবং মুসল্লিদের মাঝে আনন্দ ও স্বস্তি বিরাজ করছে। উপস্থিত সকলে আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের ফলে মসজিদের পরিবেশ আরও সুন্দর হবে এবং মুসল্লিদের সুযোগ-সুবিধা অনেক বৃদ্ধি পাবে।

বাজারের কেন্দ্রীয় এই মসজিদে প্রতিদিন শত শত মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ও উন্নত সেফটি ট্যাংকি না থাকায় আমাদের দীর্ঘদিন ধরে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। আজকের এই উদ্যোগের ফলে আমাদের সেই কষ্টের অবসান হলো।

পরিশেষে মহান আল্লাহ তায়ালা এই উত্তম কাজকে কবুল করুন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

মো. রফিকুল ইসলাম সোহাগ, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কোরবান নগর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবুল কালাম সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ ও মতবিনিময় শুরু করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ইউনিয়নের হাসনবাহার গ্রামে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় এলাকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

হাসনবাহার গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মানিক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সামাজিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সভায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আবুল কালাম বলেন, “কোরবান নগর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মতামত, ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। অবহেলিত এই ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করাই আমার মূল লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর, আধুনিক ও সমৃদ্ধ কোরবান নগর ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে চান। এ জন্য তিনি আগামী নির্বাচনে ইউনিয়নবাসীর ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন হাসনবাহার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আব্দুস সোবহান, মো. আয়ুব আলী, সামসুল মিয়া, মঈন উদ্দিন, আবুল মিয়া, ইউসুফ আলী, ফারুক মিয়া, সৈকত আলী, কালাই মিয়া, সোওয়াব আলী, সফর আলী, ঈমান আলীসহ স্থানীয় সামাজিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সভায় উপস্থিত বক্তারা কোরবান নগর ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে যোগ্য নেতৃত্বের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন স্থানীয়রা।

হাফিজুর রহমান, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও গ্রুপিং নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিক বলয় তৈরি হওয়া, সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিরোধ এবং সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ বিভাজন আরও প্রকাশ্যে এসেছে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অতীতে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের একটি অংশও পুনরায় দলে ফেরার প্রত্যাশা করছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো না থাকায় নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির বিভিন্ন পক্ষের নেতাদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও কালিগঞ্জ বিএনপিতে বিভক্তি তৈরি হয়। দলীয় প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ডা. শহিদুল আলমের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। এরপর ডা. শহিদুল আলমসহ কালিগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকশ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

বহিষ্কৃতদের একটি অংশ বর্তমানে দলীয় সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। তাদের সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এসব নেতাকর্মীকে পুনরায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ফেরার সুযোগ দেওয়া হলে স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়তে পারে। তবে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে কালিগঞ্জ বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে পৃথকভাবে সভা-সমাবেশ ও প্রচার চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে দলের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত ২২ সেপ্টেম্বর কালিগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উপজেলা পরিষদ চত্বর ও কালিগঞ্জ থানার আশপাশে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উভয় পক্ষের কয়েকজন থেকে অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও অগ্নিসন্ত্রাসের প্রতিবাদে পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কৃষক দলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি কর্মসূচি এবং অন্য একটি পক্ষের পৃথক কর্মসূচি একই এলাকায় হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক সমন্বয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। নির্দেশনায় কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নেতাদের মধ্যে সমন্বয় ও পরামর্শের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দলের একাংশের অভিযোগ, অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন কয়েকজন ব্যক্তি পরবর্তীতে বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে এসেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে কালিগঞ্জের ১২টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তৎপরতা বাড়ছে। দলীয় প্রতীক না থাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হলে অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান কী হবে—এ নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকলে ভোটের সমীকরণে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও চলছে হিসাব-নিকাশ।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বহিষ্কারাদেশ, নেতৃত্বের বিরোধ, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এবং বিভিন্ন পক্ষের সাংগঠনিক কর্মসূচি—সব মিলিয়ে কালিগঞ্জ বিএনপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ দলীয় ঐক্য ধরে রাখা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব বিরোধের কীভাবে সমাধান হয়, সেদিকেই নজর রাখছেন দলের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কালিগঞ্জ বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।