October 29, 2026

DailyJanotarDiary@gmail.com

ডেইলি জনতার ডায়েরি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে সংবাদ প্রতিবেদন ও বিভিন্ন ফিচারধর্মী কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।

মোঃ ইব্রাহিম আলী,সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:


আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৩নং ইটালী ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে ইটালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহানুর রহমান সিহাবের এক নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টায় ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ছতর গ্রামে এই উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উঠান বৈঠকে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীসহ এলাকার প্রায় দুই শতাধিক নারী পুরুষ ভোটার অংশ নেন।

​উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সোহানুর রহমান সিহাব বলেন, আমি আপনাদেরই সন্তান এবং বিএনপির একজন ক্ষুদ্র কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে দল ও জনগণের পাশে থেকে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা নির্যাতন-পীড়ন সহ্য করতে হলেও কখনো বিএনপির আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি।

​আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে নিজের প্রত্যয় ব্যক্ত করে নাটোর জেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের এই সদস্য আরও বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আমি ইটালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি দলের কাছে ধানের শীষের সমর্থন ও মনোনয়ন চাইব। দল যদি আমাকে মনোনীত করে, তবে জনগণের ভোটের মাধ্যমে জয়ী হয়ে ইটালীবাসীর সুখে-দুঃখে একজন প্রকৃত সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।এ সময় তিনি স্থানীয় ভোটারদের কাছ থেকে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।​ এর আগে সোহানুর রহমান সিহাব ইটালী ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে গণসংযোগ করেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ছাইম খান বিশেষ প্রতিনিধি,গোপালগঞ্জ।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আইয়ুব আলী খালাসি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাশুড়িয়া মাদ্রাসা মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সরকারি বিধি অনুযায়ী তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে পারিবারিকভাবে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।

রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানের আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দিদারুল আলম। এ সময় টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।

গার্ড অব অনারের পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী খালাসিকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

এর আগে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৪ বছর।

আইয়ুব আলী খালাসি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি নিজ এলাকায় বসবাস করছিলেন।

তাঁর শেষ বিদায়ের সময় পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনাবাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ শাহ্ আলম সরকার স্টাফ রিপোর্টার।

গাজীপুর কাশিমপুর মেট্রোপলিটন থানা এলাকা থেকে হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং মাদক সংক্রান্ত পৃথক মামলায় গ্রেপ্তারকৃত মোট ১৩ জন আসামিকে বেলা ৩:০০ টার দিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
প্রাপ্ত তথ্য ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়,
ঝালমুড়িতে ঝালের পরিমাণ নিয়ে জখম ও হত্যার ঘটনা ঘটে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে কাশিমপুর থানাধীন চক্রবর্তী এলাকা সংলগ্ন স্থানে ২০ টাকার ঝালমুড়িতে ঝালের পরিমাণ নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে ঝালমুড়ি বিক্রেতা মোঃ আতাউর রহমান (৪২) ধারালো ছুরি দিয়ে গাজী রাফেজ আহম্মেদ নামের এক যুবককে গুরুতর আঘাত করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আতাউর রহমানকে ধারালো ছুরি সহ আটক করে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগ: সারদাগঞ্জ ডিবিএল গেইট এলাকার এক গার্মেন্টস কর্মীকে ভুল বুঝিয়ে রুমে নিয়ে আটক রাখা ও জোড়পূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে এবং সহায়তাকারী বাবলু হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মাধবপুর এলাকায় প্রবেশ করে গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে আরেক মামলায় আসামি মোঃ ইমন মিঞাকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদক ও অন্যান্য অভিযান: কাশিমপুরের বারেন্ডা মোল্লা মার্কেট ও নয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারসহ একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে এবং অনলাইন জুয়াড়ি আটক করা হয়।
সিডিএমএস পর্যালোচনায় তাদের বিরুদ্ধে পূর্বের বহু মাদক ও পেনাল কোডের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ জানায়, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি।

বাগেরহাটের মোংলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও কথিত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মোংলা পৌর ও উপজেলা শাখা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় মোংলা পৌর ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

পরে পৌর চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ। এতে বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য সৃষ্টি, গোপন ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে জানান তারা।

বিক্ষোভ মিছিলে মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো. জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:


যশোরের শার্শা উপজেলার কন্যাদাহ গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময় কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কন্যাদাহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নাভারণ ‘ক’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, আশানুর ও শহীদ আলীর নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল গাইনপাড়ায় হামলা চালায়। এ সময় গুলিবর্ষণ ও কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আহতরা হলেন— শরিফুল ইসলাম বকুল (৩০), শাহ আলম গাইন (৫০), আব্দুল্লাহ গাইন (২০), আকাশ হোসেন (১৪), মিটু গাইন (৩০) ও শাকিল গাইন (১৫)। তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া বাবু গাইন, ইয়ানুর গাইন ও আনারুল গাইনের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় কন্যাদাহ গ্রামের হাসানুজ্জামান হাসান গাইন বাদী হয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় মামলা করেছেন।

বাদী হাসানুজ্জামান হাসান গাইন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আশানুর ও শহীদ আলীর নেতৃত্বে একটি দল গাইনপাড়ায় হামলা চালায়। তাদের ছোড়া গুলিতে ছয়জন আহত হন এবং কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে ঘটনার পরপরই কোনো অস্ত্র উদ্ধার বা কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

নাভারণ ‘ক’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লুৎফর সিকদার, স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ।

গোপালগঞ্জ জেলা আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর খুলনার আয়োজনে গোপালগঞ্জ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষক ও ব্যাবসায়ীদের উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ হয়।কৃষি পণ্য সংরক্ষণ, সংগ্রহ ও বাজারজাত করাণের উপর কৃষক, ব্যাবসায়ী ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাম্মদ মফিদুল ইসলাম , আর শক্ত বিভাগীয় উপ পরিচালক ( যুগ্মসচিব ), কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগ ঢাকা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে ছিলেন আব্দুস সালাম তরফদার, সহকারী পরিচালক প্রশিক্ষণ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কৃষি বিপণন অধিদপ্তর খুলনা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলার সুযোগ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি বিপিণন কর্মকর্তা জনাব মোঃ আরিফ হোসেন। প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২৫ জন কৃষক ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা এইসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠী তরুণ যুবক , কৃষক, নারী নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত আরো জোরদার হবে। বর্তমান সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন আমরা চাই কৃষি বিপণন বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে!!!

মোহাম্মদ হোসাইন:,কক্সবাজার,

কক্সবাজারের উখিয়ায় রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. জিয়াউদ্দীন। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর নেন।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছালে পরিষদের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বিভাগীয় কমিশনারকে স্বাগত জানানো হয়। পরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সাধারণ মানুষের জন্য চলমান সেবাসমূহ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণ যাতে দ্রুত ও সহজে সরকারি সেবা পায়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। পরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

এ সময় উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আকতার, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনাম, ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনার উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পরিদর্শন করেন। পরে তিনি উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ, স্টাফ রিপোর্টার

গোপালগঞ্জ জোবায়ের ভূঁইয়া (২২) নামে এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জোবায়ের ভূঁইয়া সদর উপজেলার ঘোড়াদাইড় গ্রামের রমজান ভূঁইয়ার ছেলে। সে হাজী লালমিয়া সিটি কলেজের হিসাব বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

নিহতের চাচা মো. হামিম ভূঁইয়া জানান, সকালে কথা কাটাকাটির জেরে ওই গ্রামের শহিদ মোল্লার ছেলে সোহেলের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের একদল যুবক জোবায়ের ভূঁইয়ার ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। তাদের বেধড়ক পিটুনিতে গুরুতর আহত অবস্থায় জোবায়েরকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

​নীলফামারী প্রতিনিধি:

শিশুশ্রম হ্রাস, বাল্যবিয়ে রোধ এবং ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অলাভজনক সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট’ (এএফডি)-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
​ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বাইসাইকেল র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
​রঙিন বেলুন উড়িয়ে র্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) ফারুক আহমেদ। এছাড়াও নীলফামারী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এএফডির নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, “নীলফামারী জেলা বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যে বয়সে শিশুদের হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সে বয়সে তারা শ্রমে জড়িয়ে পড়ছে এবং বাল্যবিয়ে হয়ে যাচ্ছে। এই বাইসাইকেল র্যালির মাধ্যমে আমরা সমাজকে বার্তা দিতে চাই—যেন কোনো শিশু শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়ে এবং বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমের শিকার না হয়।”
​প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “এটি অত্যন্ত চমৎকার ও সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। বাইসাইকেল র্যালির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। আমরাও চাই জেলাটি বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রম মুক্ত হোক।”
​এএফডির প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজল রায় জানান, সেভ দ্য চিলড্রেন ও নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক সহায়তায় নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলায় নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিয়ে রোধ এবং শিশুশ্রম হ্রাসে কাজ করা হচ্ছে। এই ক্যাম্পেইনে ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০ জন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধি অংশ নেন।

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের সাদুল্ল্যাপুর এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় বসছে প্রকাশ্য জুয়ার আসর। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জুয়ার স্বর্গরাজ্যের কারণে এলাকায় মাদক, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ অপরাধের গ্রাফ আশঙ্কাজনকহারে ঊর্ধ্বমুখী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার সাদুল্ল্যাপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি স্পটে দৈনিক লাখ লাখ টাকার জুয়ার বোর্ড বসছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সমানতালে চলছে এই অবৈধ কারবার। দূর-দূরান্ত থেকে জুয়াড়িরা এসে ভিড় জমাচ্ছে এই এলাকায়। জুয়াকে কেন্দ্র করে এলাকাটি এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সবাই জানে কোথায় জুয়া হচ্ছে। পুলিশও প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু অলৌকিক কারণে তারা নীরব। মনে হয় যেন প্রশাসনের ‘সবুজ সংকেত’ নিয়েই এই অপরাধের মহোৎসব চলছে। জুয়াড়ি ও মাদক কারবারিদের ভয়ে সাধারণ মানুষ এখন মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামটির নির্জন এলাকা ও নির্দিষ্ট কিছু স্থানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ জুয়াড়ি চক্র। দিন-রাত সমানতালে চলা এসব আসরে দূর-দূরান্ত থেকে আসা জুয়াড়িদের অবাধ আনাগোনা বাড়ছে। ফলে গ্রামীণ স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে উদীয়মান তরুণ ও যুবসমাজকে। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক উঠতি বয়সী তরুণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

সাদুল্ল্যাপুর সহ অন্যান্য এলাকা এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির কারণে এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ দ্রুত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। পারিবারিক অশান্তি, কলহ এবং ডিভোর্সের সংখ্যাও জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই জুয়া এবং মাদকের সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে না দিলে সাদুল্ল্যাপুর সহ অন্যান্য এলাকাগুলো পুরোপুরি অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে র‍্যাব ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এই জুয়ার আখড়া বন্ধ করা হোক এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।

অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় থানা পুলিশের কার্যকর কোনো পদক্ষেপে না নেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন ও জুয়ার আসর বসে?তবে এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে র‍্যাব ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এই জুয়ার আখড়া বন্ধ করা হোক এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।

এ অবস্থায় গ্রামীণ সমাজ রক্ষা, সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে অনতিবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত জুয়াড়িদের গ্রেফতার ও জুয়ার আড্ডা স্থায়ীভাবে বন্ধে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।