October 28, 2026

শিক্ষা

মোঃ জালাল উদ্দিন,মৌলভীবাজার


মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হাসনাৎ মোঃ জহিরুল ইসলাম ভূঁঞা-এর বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ হলরুমে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকবৃন্দের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে নবনিয়োগপ্রাপ্ত নবীন সহকারী শিক্ষকদের বরণ এবং ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আনিছুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ নূরুল আলম সিদ্দিকী, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ হাফিজুর রহমান চৌধুরী তুহিন, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জ্যোতিষ রঞ্জন দাশ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ একরামুল কবির এবং সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস-১২০৬৮ সহকারী শিক্ষক সমিতির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল কাদির এবং ভূনবীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছয়ফুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ইয়াকুব আলী, সাবেক সভাপতি ও সদস্য মোহাম্মদ মোছাব্বির আলী (মুন্না), সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মকসুদ আলী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ শামীম আহমদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ মহিউদ্দীন জারু, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন, দৈনিক জনসংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক মোঃ জালাল উদ্দিন এবং ইউপিইটিসির ইন্সট্রাক্টর এস.এম ফয়সাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মীরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক চম্পক পাল এবং রাধাকৃষ্ণ মনিপুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুসরাত জাহান সুস্মিতা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অনিতা দেব।
বক্তারা বিদায়ী সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হাসনাৎ মোঃ জহিরুল ইসলাম ভূঁঞা-এর দায়িত্বকালীন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন। পরে তাঁর হাতে স্মরণীয় সম্মাননা স্মারক ও আকর্ষণীয় ক্রেস্ট তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।
এ সময় নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আল-মামুন খান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :

একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রথম ধাপ প্রাথমিক শিক্ষা। জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি তৈরি হয় এই স্তরেই। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কোথাও শিক্ষকের অনিয়মিত উপস্থিতি, কোথাও পাঠদানে অনীহা, আবার কোথাও প্রশাসনিক দুর্বলতা—সব মিলিয়ে সংকটে পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষক নিয়মিত ও নির্ধারিত সময়ে পাঠদান করেন না। কেউ দেরিতে বিদ্যালয়ে আসেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় সময় পাচ্ছে না এবং তাদের শেখার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।

শুধু উপস্থিতিই নয়, পাঠদানের মান নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া পাঠদান, শিক্ষার্থীদের বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী পাঠ উপস্থাপন না করা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত মনোযোগের অভাবে অনেক শিশু ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা হওয়া উচিত আনন্দময়, অংশগ্রহণমূলক ও শিশুবান্ধব। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে একঘেয়ে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হলে তাদের শেখার আগ্রহ কমে যেতে পারে।

দেশে প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়লেও বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের অনেক শিশু বিভিন্ন কারণে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার আগেই ঝরে পড়ে।

অভিভাবকদের একটি অংশের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষা, বই ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থাকলেও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত না হওয়ায় তারা সন্তানদের বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহী হচ্ছেন। অনেক পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও সন্তানের ভালো শিক্ষার আশায় বাড়তি খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

কিছু বিদ্যালয়ে সরকারি বরাদ্দ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অভিযোগও রয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কারণ নির্দিষ্ট কোনো বিদ্যালয় বা শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ তুলে ধরা যেমন অনুচিত, তেমনি অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত না করাও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।

অভিভাবকদের অভিযোগ, কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশও যথাযথভাবে বজায় রাখা হয় না। বিদ্যালয়কে শিশুবান্ধব ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ব্যক্তিগত বা আবাসিক পরিবেশের মতো ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ঘাটতি, কর্মপরিবেশ ও অন্যান্য বাস্তব সমস্যাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তাই শুধু শিক্ষকদের দায়ী না করে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক ও শিশুবান্ধব পাঠদান পদ্ধতি, কার্যকর মূল্যায়ন এবং ভালো কাজের জন্য প্রণোদনার পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি, সরকারি বরাদ্দের ব্যবহার এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ—সবকিছু নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে।

অভিভাবকদের অভিযোগ ও মতামত গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থাও থাকা দরকার। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।

প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। এই ভিত্তি দুর্বল হলে দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব পড়ে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর। তাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় এবং মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি সেই বিনিয়োগের সুফল শিশুদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না—তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা প্রশাসন, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী—সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। জবাবদিহিমূলক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠলেই প্রাথমিক শিক্ষা সত্যিকার অর্থে জাতির শক্ত ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৩০ নম্বর উত্তর বান্ধাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি রায়ের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ২৭ সেপ্টম্বর গাজী মো. জাকারিয়া খন্দকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন বিদ্যালয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে গাজী মো. জাকারিয়াকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য নির্বাচিত করা হয়।
পরে প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি রায় নাম পরিবর্তন করে
মো. বাচ্চু খন্দকারের নাম অনুমোদনের জন্য পাঠান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে।

আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয় এলাকায় গেলে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খন্দকার মো. আবু হানিফ, সহসভাপতি শাহআলম খন্দকার ও ইউপি সদস্য মাসুম শেখ বলেন, সভায় সবার সম্মতিতে জাকারিয়ার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।

তবে মো. বাচ্চু খন্দকার বলেন, তিনি কমিটিতে থাকতে চান না। স্থানীয়রা জাকারিয়াকে নির্বাচিত করার পরও তাঁকে না জানিয়ে তাঁর নাম দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

অভিযোগে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি রায় বলেন, ‘আমি ছুটিতে রয়েছি। শুনেছি একটি অভিযোগ হয়েছে। এখন আমি কিছু বলতে পারব না।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, প্রধান শিক্ষক তিনটি নাম প্রস্তাব করেছেন এবং প্রথম নামটি অনুমোদন হয়েছে। তালিকায় জাকারিয়ার নাম থাকলে অন্য নাম কেন পাঠানো হয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও সাইফ-উল-আরেফিন বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুরে অর্কিড মাল্টিমিডিয়া স্কুলের উদ্যোগে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ বৃত্তিপ্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬শে সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অর্কিড মাল্টিমিডিয়া স্কুলের অধ্যক্ষ উম্মে সালমা পূরবী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান শিমুল, শেফাউল ইসলাম সহকারী শিক্ষক মিঠাপুকুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, হাফিজুর রহমান ফকির সভাপতি পেশাজীবী সংগঠন,১৪নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের জামায়াতের আমির খন্দকার আব্দুস সালাম সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির উদ্বোধনী বক্তব্যে স্কুলের অধ্যক্ষ উম্মে সালমা পূরবী বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের এই গৌরবময় সাফল্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। বিশেষ করে সামিয়ুন তামীম, শোয়াইব ও আরিশা জাবীন যেভাবে ডাবল ট্যালেন্টপুলে সাফল্য এনেছে, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।আমাদের শিক্ষার্থীদের এই গৌরবময় সাফল্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে যারা স্কুলের সুনাম বয়ে এনেছে, তাদের নিয়ে আমরা গর্বিত।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়,চলতি বছর অর্কিড মাল্টিমিডিয়া স্কুল থেকে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে মোট ২২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ১২ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১০ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এই বৃত্তিগুলো সরকারি পর্যায় এবং রংপুর কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন—উভয় মাধ্যম থেকে এসেছে।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল স্কুলের ৩ জন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী, যারা সরকারি এবং রংপুর কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন—উভয় সেকশন থেকেই ডাবল ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার এক বিরল কৃতিত্ব দেখিয়েছে। এই ৩ জন কৃতী শিক্ষার্থী হলেন,মোঃ সামিয়ুন তামীম, মোঃ শোয়াইব ইসলাম এবং আরিশা জাবীন। অনুষ্ঠানে তাদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম রব্বানী এমপি বলেন, ৩০ জনের মধ্যে ২২ জনেরই বৃত্তি পাওয়া এবং একই সাথে ৩ জন শিক্ষার্থীর দুই বিভাগেই ট্যালেন্টপুলে স্থান পাওয়া অলৌকিক ও গৌরবময় সাফল্য। এই মেধাবীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর।আজকের ট্যালেন্টপুলে স্থান পাওয়া মেধারী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর। তাদের এই মেধার স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা এনামুল হক বলেন, কেবল জিপিএ-৫ বা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়াই জীবনের শেষ কথা নয়, আসল সফলতা লুকিয়ে আছে সৎ ও যোগ্য মানুষ হওয়ার মধ্যে। আজকের শিক্ষার্থীদের মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বলীয়ান হতে হবে।

আরেক বিশেষ অতিথি মিঠাপুকুর উপজেলা আমির আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন,একটি আদর্শ সমাজ গঠনে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। অর্কিড মাল্টিমিডিয়া স্কুল মিঠাপুকুরের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে যেভাবে কাজ করছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে বিশেষ বৃত্তি এবং সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি আফজাল মিয়।

উজ্জ্বল ভভিষ্যৎ ও মানসম্মত শিক্ষার প্রত্যয়ে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কামালপুরে অবস্থিত ‘আল হেরা জামেয়া ইসলামী একাডেমী’ এর দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে জামেয়া মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কামালপুর গ্রামের আব্দুল করিম উরফে মিয়াধনের পুত্র ইলিয়াস মিয়া, মাওলানা রুহুল আমিন দিলওয়ার, ব্যারিস্টার আব্দুশ শহিদ এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ড. আবুল খায়েরের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠানটি অঞ্চলজুড়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ঈমান, সততা, সুদৃঢ় নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক মানের উপযোগী করে গড়ে তোলাই এই একাডেমীর মূল উদ্দেশ্য। ‘আল হেরা জামেয়া ইসলামী একাডেমী’র পরিচানলা কমিঠির সহ সভাপতি প্রফেসর আব্দুশ শহীদ শাহীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ‘আল হেরা জামেয়া ইসলামী একাডেমী’র প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষা পরিচালক মাওলানা মুখলিছুর রহমান। সুদুর যুক্তরাজ্য থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন ‘আল হেরা জামেয়া ইসলামী একাডেমী’র প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা রুহুল আমিন দিলওয়ার। অনুষ্ঠানে ‘আল হেরা জামেয়া ইসলামী একাডেমী’র প্রধান শিক্ষক ফয়েজ উদ্দীন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মাওলানা শরিফ উদ্দীনের যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুরুয়া আলিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি শিহাব উদ্দিন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী শামছু মিয়া লালা, ‘আল হেরা জামেয়া ইসলামী একাডেমী’র পরিচালনা কমিটির সদস্য শেখ মঈনুল হক জানু, বিশিষ্ট মুরব্বী ফারুক আহমদ, কামালপুর গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বী হুশিয়ার আলী, শিমুলতলা গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বী আব্দুল হান্নান, সংগঠক সৈয়দ জুয়েল আহমদ, খালেদ আহমদ বাদশা, আলিম উদ্দিন, অভিভাবক সদস্য সাইফুদ্দিন আহমদ ও আরশ আলী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একাডেমিটি অনন্য ভূমিকা রাখছে। এখানকার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আরবি ও ইংরেজি উভয় ভাষায় অনর্গল ও সাবলীল কথোপকথনে পারদর্শী করে তোলা। অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছে প্রশস্ত ও সুসংগঠিত শ্রেণীকক্ষ, আধুনিক বিজ্ঞানাগার, সমৃদ্ধ পাঠাগার, সবুজ-কোলাহলমুক্ত ক্যাম্পাস এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাসফিয়া উদ্দিন হুমায়রা ও হামদে বারী তা’আলা পাঠ করেন রুহুল আমিন, শিক্ষার্থীদের পক্ষে বাংলায় বক্তব্য প্রদান করেন তাওহিদা জান্নাত, আরবিতে বক্তব্য প্রদান করেন ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী অলি উল্লাহ মাহদি এবং ইংরেজিতে বক্তব্য প্রদান করেন ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আমিনা আলী সাফা সমাবেশে উপস্থিত অভিভাবক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে আল হেরা একাডেমীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল মেধা বিকাশের লক্ষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মোঃ আফজাল মিয়।
সিলেট বিশ্বনাথ উপজেলা সংবাদদাতা
বিশ্বনাথ পৌরসভা
মোবাঃ ০১৭২৬৬৬০০০০।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে কর্মী শিক্ষা বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সুন্দরগঞ্জ আদর্শ উপজেলা শাখা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক মো. সামিউল ইসলাম।
সুন্দরগঞ্জ আদর্শ উপজেলা শাখার সভাপতি শাহীন সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের গাইবান্ধা জেলা সেক্রেটারি মো. ফাহিম মণ্ডল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুন্দরগঞ্জ পৌর সাংগঠনিক শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. সুরুজ ইসলাম।
দারসুল কুরআন পেশ করেন সুন্দরগঞ্জ বাজার জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা সৈয়দ মো. মাহমুদ হাসান।
বক্তারা বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জ্ঞান, চরিত্র, আমল ও সাংগঠনিক দক্ষতায় নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তি জীবনে ইসলামী আদর্শের চর্চার পাশাপাশি সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
ত্যাগ, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের কল্যাণে কাজ করে ইসলামী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান বক্তারা।

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও সাত শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯১৯ জনে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে সাতজন মারা গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা এবং একজন করে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে প্রাণ হারিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৯ জনে।

এছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৯ জনের। এর সবই পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮১৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ছয়জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে।

সেই সঙ্গে সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সিলেটে ১৫৭, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৬৯, বরিশালে ৫৭, খুলনায় ৩৯ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের দেশ এখন ভালো নেই, এটা আমরা সবাই স্বীকার করছি। সরকারও তা স্বীকার করতে বাধ্য। আমরা একটি ভালো দেশ চাই। দেশ গড়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বিরোধী দলেরও রয়েছে। উভয় পক্ষকে মিলে দেশ গড়তে হবে। বর্তমানে মহাসংকটে রয়েছে দেশ—বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ছয়টি জনদাবি নিয়ে দ্বিতীয় দফায় রাস্তায় নেমেছি। প্রথম দফায় বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করেছি। সেটি শেষ হওয়ার পর গত ৫ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফার কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের কোনো দলীয় দাবি নেই, এগুলো জনদাবি।

তিনি বলেন, প্রথম দফার কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। কর্মসূচিগুলো নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল ছিল। ‘হৈ-হুল্লোড়, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে দেশের কোনো ক্ষতি করতে চাই না আমরা।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা জনগণের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। তাহলে জনগণের ক্ষতি করব কেন? বরং জনগণকে সম্পৃক্ত করে দাবি আদায়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হব। সরকার একসময় হয়তো এসব দাবি বিবেচনায় নিতে বাধ্য হবে এবং বিষয়গুলোর সমাধানের পথ বের করবে।

সরকার সহযোগিতা চাইলে বিরোধী দল হিসেবে পাশে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার দেশের ও জাতির প্রয়োজনে আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা সব সময় প্রস্তুত। সরকার সুযোগ দিলে বিরোধী দল হিসেবে ন্যায্য অবদান রাখার পক্ষে আমরা রয়েছি। সহযোগিতা হবে চোখ খুলে, বিরোধিতা হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে।

জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, এনসিপির জেলা সভাপতি কামরুজ্জামান শাওন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি কামরুল হাসান, শহর আমির অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত বদলাচ্ছে শক্তির সমীকরণ। একদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ছে। ইরানের সঙ্গেও দুই দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুরোনো বিশ্বব্যবস্থার সামনে তৈরি হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো দেশগুলোর পাশাপাশি ভারতও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সম্মেলনের আলোচনায় উঠে এসেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর মতো বিষয়।

রাশিয়া-চীন সম্পর্কের নতুন মাত্রা

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতিতে প্রায় একক প্রভাব বিস্তার করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়ার শক্তি বৃদ্ধির ফলে সেই একক আধিপত্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া আরও বেশি করে চীনের দিকে ঝুঁকেছে। চীনও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়িয়েছে। দুই দেশের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও রাশিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। তিন দেশই পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় হয়ে উঠেছে।