কুড়িগ্রাম সদরে নিজ শোয়ার ঘর থেকে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ১ অক্টোবর ) সকালে লাশ উদ্ধার করে পুলিশকে সংবাদ দেয় স্থানীয়রা।
সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বালাকুড়া মাদ্রাসা পাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবকের নাম নাজমুল ইসলাম (২২) । সে ওই এলাকার নজরুল ইসলামের নাতি। জন্মের পর থেকে সে তার নানার বাড়িতে থাকে। নাজমুল ইসলাম খলিলগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি দিনমজুরি কাজ করে সে।
পরিবারের দাবি আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু কি কারণে করেছে তা কেউ জানাতে পারেনি। পরিবারের কারো সাথে কলহের বিষয়েও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম থানার এস আই আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাস্থলে আমি আছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা আত্মহত্যা।
কুড়িগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়না তদন্ত হবে না।
কক্সবাজারের টেকনাফে তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি সৈয়দ হাছান ওরফে হোছনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) জাদিমুড়া ক্যাম্প।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে জাদিমুড়া বাজারসংলগ্ন ফারুকের বিকাশ দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৬ এপিবিএনের জাদিমুড়া ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি সৈয়দ হাছানকে আটক করা হয়। পরে তাকে ক্যাম্পে নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার সৈয়দ হাছান জাদিমুড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখের সাজা পরোয়ানা নং-৪০/২৬ জারি হয়। মামলার জিআর নম্বর ৬০৯/১৩ (টেকনাফ) এবং বৈদেশিক নাগরিক সম্পর্কিত আইনের ১৪ ধারায় তাকে তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে বলে এপিবিএন সূত্র জানিয়েছে।
পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় জাদিমুড়া এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
সাংবাদিক ফাতেমার হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি, বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ-অবিলম্বে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের আহ্বান। বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অর্থ ও দপ্তর সম্পাদিকা মোছাম্মদ ফাতেমা আক্তারকে গাজীপুরে নিজ বাসার সামনে সন্ত্রাসীরা বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুরুতর আহত ফাতেমা আক্তার বর্তমানে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একজন সাংবাদিক নেত্রীকে তাঁর নিজ বাসার সামনে প্রকাশ্যে হামলা ও মারধরের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে, শারীরিকভাবে আঘাত করে কিংবা হামলার মাধ্যমে তাদের পেশাগত দায়িত্ব থেকে দূরে রাখার যে কোনো অপচেষ্টা গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশের জন্য হুমকি। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম। সংগঠনটির নেতারা বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় যদি দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে। তাই তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে নিরপেক্ষভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সংগঠনের সভাপতি কে এম আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রাসেল, সহসভাপতি এম টি রহমান মাহমুদ ও মহিলা সম্পাদিকা তাহমিনা মাহমুদ সহ সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ফাতেমা আক্তারের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কে এম আবুল হোসেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সাংবাদিকরা মানুষের কথা বলেন, অন্যায়-অনিয়ম তুলে ধরেন এবং সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি জনসম্মুখে আনেন। সেই সাংবাদিকই যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে সাধারণ মানুষের অধিকার ও সত্য প্রকাশের পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন এখন সময়ের দাবি’ কে এম আবুল হোসেন একই সঙ্গে দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হামলা, হুমকি ও হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং বিচার নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা শুধু সাংবাদিক সমাজের দাবি নয়-এটি স্বাধীনভাবে তথ্য প্রকাশ, জনগণের জানার অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নিরাপত্তাহীনতায় সাংবাদিক সমাজ সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নানা ধরনের চাপ, হুমকি ও হামলার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। গণমাধ্যমকর্মীদের মতে, একটি সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক আক্রান্ত হলে তার প্রভাব শুধু ব্যক্তির ওপর পড়ে না; এর মাধ্যমে অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। ফলে অনুসন্ধানী ও সাহসী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার ঘটনাতেও দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম। হামলার বিচার না হলে প্রশ্ন উঠবে নিরাপত্তা নিয়ে একজন সাংবাদিক নেত্রী নিজ বাসার সামনে হামলার শিকার হয়েছেন-এমন অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। হামলার প্রকৃত কারণ, কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনে কোনো পেশাগত বা ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কি না-তদন্তে তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণের আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম একই সঙ্গে আহত ফাতেমা আক্তারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে এবং তাঁর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দেওয়ার জন্য হামলা কোনো সমাধান নয়। সত্য প্রকাশের পথ নিরাপদ রাখা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারই এখন সাংবাদিক সমাজের প্রধান দাবি। একজন নারী সাংবাদিক তাঁর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্নীতি সন্ত্রাস বিভিন্ন মুখোশ উন্মোচনের জন্য কাজ করেন সমাজকে আলোকিত করতে। নারী সাংবাদিকের উপর যারা হামলা চালিয়েন অতি দ্রুত আইনের আওতায় এনে এদের বিচার দাবী সাংবাদিক সমাজ। হোক প্রতিবাদ!
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুরে একটি নির্মাণাধীন কারখানার ভেতর থেকে ইমাম (২৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে উলপুর বাজার পেরিয়ে কংশুর এলাকার ওই কারখানা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নিহত ইমাম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন। তাঁর বাবার নাম জানা যায়নি। তাঁর মা আছিয়া বেগম সৌদি আরবে থাকেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কংশুর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন কারখানার ভেতরে ইমামকে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ইমামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে দুইটি মোটরসাইকেলের ভেতর থেকে ২৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় স্বর্ণ বহনের অভিযোগে রিপন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
আটক রিপন শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রুদ্রপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা বাগআঁচড়া বাজারের বাবু মার্কেট ও বিগ বাজারের সম্মুখে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন দুইটি মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালিয়ে ২৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন আনুমানিক ৩ হাজার ৪০০ গ্রাম। এ সময় দুইটি মোটর সাইকেল দুইটি, দুইটি মোবাইল ফোন এবং ০১টি স্মার্ট ঘড়িসহ স্বর্ণ পাচারকারী রিপনকে আটক করা হয়।
আটককৃত স্বর্ণের মূল্য মূল্য ৭ কোটি ৬৭ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯০ টাকা। অন্যান্য মালামালসহ মোট সিজার মূল্য ৭ কোটি ৭২ লাখ ৭ হাজার ৬৯০ টাকা বলে বিজিবি জানান।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় থানা পুলিশের পৃথক বিশেষ অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইয়াবাসহ একজন, দুটি জিআর সাজা পরোয়ানাভুক্ত একজন, বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলার পলাতক একজন এবং প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অভিযোগে ছয়জন রয়েছেন। সোমবার ও মঙ্গলবার (২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই রূপম কুমার সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ শশীদল বাজারের পশ্চিম পাশে পাঁচ পীরের দরগা-সংলগ্ন একটি দোকানের সামনে অভিযান চালায়। এ সময় ২০০ পিস ইয়াবাসহ মো. রুবেল মিয়া (৪২)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শশীদল ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের রব্বান মিয়ার ছেলে। পৃথক অভিযানে এসআই মো. সাইফুল আলম ও এএসআই মো. ইমরানের নেতৃত্বে দুটি জিআর সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. ইউসুফ প্রকাশ বুদ্দুকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দক্ষিণ শশীদল গ্রামের লেবন বেপারী বাড়ির মিন্টু মিয়ার ছেলে। এ ছাড়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তদন্তে পাওয়া পলাতক আসামি মো. আরিফুল ইসলাম প্রকাশ তানভীরকে (২৫) শিদলাই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন এসআই ডি.এম.এ মজিদ। অন্যদিকে, প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অভিযোগে নান্টু চন্দ্র দাশ (৫০), মো. মোস্তফা (৪০), মো. ইমন (৩০), মো. জুয়েল (৩৮), মো. বেলাল হোসেন (৩২) ও মো. সিয়াম (১৯)কে সামারি ট্রায়ালের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়। এসআই আল আমিন, এসআই সুজন কুমার আচার্য ও এএসআই মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুরের কাশিমপুরে বিয়ের নামে এক গৃহবধূকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা যৌতুক আদায় এবং পরবর্তীতে মৌখিকভাবে তাড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কাজী না হয়েও ভুয়া ভলিউম ও নোটারী পাবলিকের এফিডেভিট ব্যবহার করে এই জালিয়াতি চক্র পরিচালিত হতো বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসাঃ ফুলি আক্তার (৪০) বাদী হয়ে স্বামী মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং প্রতারক চক্রের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার বাসিন্দা মোঃ জয়নাল আবেদীনের সাথে ফুলি আক্তারের বিবাহের কথা বার্তা শুরু হলে নিজেকে কাজীর সহকারী দাবি করা মোঃ আবু হানিফ ও তার সহযোগী আইয়ুব আলী বিবাহ নিবন্ধনের দায়িত্ব নেয়। অভিযোগ মতে, তারা বিগত ১৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রথমে কাবিনের কথা বলে নগদ ৫,০০০ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কেবল নোটারী পাবলিকের একটি কোর্ট এফিডেভিট করিয়ে দেয়। পরবর্তীতে এফিডেভিটের কোনো আইনি মূল্য না থাকায় স্বজনদের চাপের মুখে আসামি চক্রটি গত ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সারদাগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় নকল রেজিস্টার/ভলিউম খাতা খুলে বিবাহ সম্পাদন ও ৩ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে স্বজনদের উপস্থিতিতে টিপসই গ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারি সার্টিফাইড কপি (কাবিননামা) চাইতে গেলে চক্রটি অতিরিক্ত টাকা দাবি করতে থাকে এবং ঘোরাতে থাকে। পরে আসল কাজীর কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত নামে সরকারি খাতায় কোনো বিবাহ রেজিস্ট্রিই করা হয়নি। ভুক্তভোগী ফুলি আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামী জয়নাল আবেদীন ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে আদায় করে। সম্প্রতি আরও যৌতুক দাবি করলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করায় জয়নাল আবেদীন বিয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই জেনে তাকে মৌখিকভাবে তালাকের হুমকি দিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পক্ষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের প্রতারণার ফোন রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ প্রমান হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর কেফায়াত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মোহাম্মদ জুবায়ের (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫)। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-২ ওয়েস্টের ডি/৯ ব্লকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১৫-এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।
এসআরবি-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে কুতুপালং ক্যাম্পের একটি বসতঘরে অভিযান চালায় সিপিসি-২-এর হোয়াইক্যং ক্যাম্পের একটি দল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে মোহাম্মদ জুবায়েরকে আটক করা হয়।
পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ, বসতঘর ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার হেফাজতে অস্ত্র থাকার কথা জানালে বসতঘরের শয়নকক্ষসংলগ্ন ডাইনিং কক্ষে থাকা একটি প্লাস্টিকের টেবিলের নিচ থেকে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান বের করে দেওয়া হয়। এ সময় একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-১৫-এর তথ্যমতে, গ্রেপ্তার জুবায়ের কুতুপালং ক্যাম্পের মৃত কবির আহমেদ ও জুহুরা বেগমের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, তিনি উখিয়ার আলোচিত কেফায়াত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় আরও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তার জুবায়েরকে উদ্ধার করা অস্ত্রসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ক্যাম্প এলাকায় অপরাধ দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৫।
কুমিল্লায় ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত আটটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লা নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর সক্রিয় চার সদস্য আছেন। তাঁদের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯), এই গ্যাংয়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। নগরসহ প্রতিটি থানা এলাকার যেসব স্থানে উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে।
লুৎফর রহমান বলেন, ‘অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উঠতি বয়সী কিশোরেরা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
আনিক রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ গতকাল রাতে কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁদের মধ্যে চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। চারজনই রতন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। আটক চারজনের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯)। তিনি নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। পুলিশের ভাষ্য, আনিক রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে। রতন বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় আনিকই গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘আজ রাতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে মোট ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা জমে এবং তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কিশোর গ্যাং লিডার আনিসুর রহমান আনিকও রয়েছেন। আমরা কিশোর গ্যাংয়ে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করেছি। তাঁরা সবাই রতন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। আনিসুর রহমান বর্তমানে রতন গ্রুপ বা আর স্কোয়াডের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে রতনের পুরো গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করছেন।’
পুলিশের ভাষ্য, ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন আনিক। ওই মামলায় তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে আবার গ্যাংয়ের নেতৃত্বে যুক্ত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘শনিবারের অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাই ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় ও আগের অপরাধের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন নয়। তবে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর একজনকে হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কুমিল্লা নগরে আলোচিত কিশোর গ্যাংগুলোর একটি রতন গ্রুপ বা আর স্কোয়াড। ২০১৫ সালের দিকে নগরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আলোচনায় আসার পর বিভিন্ন সময়ে গ্রুপটির নাম সামনে এসেছে।