October 29, 2026

অপরাধ

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা সেবন ও গাঁজা বিক্রির অপরাধে দুই ব্যক্তিকে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে কসবা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের মঈনপুর বাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ইয়াবা সেবনের সময় ছবির মিয়া (৩০) এবং গাঁজা বিক্রির সময় কল্পনা বেগম (৪৫) নামের দুজনকে আটক করা হয়।

আটক ছবির মিয়া স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ মিয়ার ছেলে এবং কল্পনা বেগম আলমগীর মিয়ার স্ত্রী।

পরে তাঁরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করলে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।

অভিযানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এবং কসবা থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।

এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম জানান, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ বেচাকেনা প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

0-3048×4064-0-0-{}-0-12#bokehtype:0#;illum:5 scene:31 humanIn:0;

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও এক লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. রাসেল মিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম দুদল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাসেল মিয়ার অভিযোগ,

মোঃ সামাদ মণ্ডল (৫৮)
মোঃ সুজন মণ্ডল (২২)
মোঃ মোকলেদুর ইসলাম (২৪)
মোছাঃ খুকি বেগম (৫৫)
মোছাঃ শান্তি বেগম (২০)
মোঃ খোকন মণ্ডল (২৬)
মোঃ শাহিন মণ্ডল (২৩)

ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁদের বাড়ির সামনে হামলা চালান।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ সময় রাসেল মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধর করা হয়। তাঁর স্ত্রীকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তাঁর স্ত্রীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। এ ছাড়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত, প্রাণনাশের হুমকি এবং জোরপূর্বক এক লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, আহত নারীকে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধের কারণে হয়রানি ও হুমকির শিকার হচ্ছেন। এ ঘটনায় তাঁরা সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।

এদিকে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে মামলার তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

সাধন সাহা জয় | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সাইদুর মিয়ার স্ত্রী বাক্‌প্রতিবন্ধী তাসলিমা আক্তার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাইদুর মিয়া।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার শ্রীঘরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—একই গ্রামের আজিজুল মিয়া (৫২), রাজিব মিয়া (২৬), সাহিব মিয়া (২৪), সাকিব মিয়া (২২) ও মালেকা বেগম (৪৮)।

অভিযোগকারী সাইদুর মিয়ার দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে ঘটনার দিন অভিযুক্তরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান। এ সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হামলার শিকার হন। এতে কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সাইদুর মিয়া।

তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আজিজুল মিয়া বলেন, “আমার স্ত্রী ও ভাইয়ের স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া চলাকালে আমি বাড়ি দিলে তাঁর মাথায় আঘাত লাগে। আইন অনুযায়ী যা হবে, তা আমি মাথা পেতে নেব।”

অভিযুক্ত মালেকা বেগমও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সামান্য গাছ লাগানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। তাঁর দাবি, তাঁরা নিজেরাও অপর পক্ষের অত্যাচারের শিকার হন এবং প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সব সময় ভয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সোহেল খান দূর্জয়-নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় স্ত্রীর করা যৌতুক মামলায় মো. মান্নান হোসেন (৪৪) নামের এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিবকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) আটপাড়া আমলি আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তিনি জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত। মামলার অভিযোগ ও বাদীপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ওই দম্পতির মধ্যে কলহ চলছিল। স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বেতনের টাকা জমা দিতে চাপ দেওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে টাকা দাবি করার অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী। এ ঘটনায় দুই সন্তানের জননী ওই নারী আইনের আশ্রয় নেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ আগস্ট পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়েতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাঁদের ৯ ও ৫ বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মান্নান হোসেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার বড়ওয়ারী এলাকার দিগজান গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে। তাঁর স্ত্রী একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন।

এদিকে বাদীর অভিযোগ, তাঁর স্বামী প্রতি মাসে বেতনের পুরো টাকা স্বামীর ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে বলতেন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২০ লাখ টাকা দিয়ে স্বামীকে জমি কিনে দেওয়ার পরও আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে নেত্রকোনা শহরে বসবাস শুরু করেন তিনি। বাদীর আরও অভিযোগ, গত ৩ জুলাই তাঁর বাসায় গিয়ে টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেন স্বামী। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৯ আগস্ট আটপাড়া আমলি আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করেন ওই নারী। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আদালত প্রথমে আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন। পরে সমঝোতা না হওয়ায় গত রোববার তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমি পারিবারিকভাবে তাঁদের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুই পক্ষকে সমঝোতায় রাজি করাতে পারিনি। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুখলেসুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “বিরোধ মীমাংসার সুযোগ দিতে আদালত একবার আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় গত রোববার আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

২৭/১০/২৬ ইং

এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (১০-বিজিবি)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে জেলার সদর উপজেলার কটকবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিবিরবাজার বিওপির আওতাধীন শাহাপুর পোস্টের একটি টহল দল সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কটকবাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুরনো প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা অস্ত্র ও ম্যাগজিনের বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অস্ত্র মামলা দায়ের করে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।

রুম্মান মাহমুদ শৈশব
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কাইয়ুম হাওলাদার। এ সময় দুদকের জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সমীরন কুমার মণ্ডল ও উপসহকারী পরিচালক শ্যামল চন্দ্র সেন উপস্থিত ছিলেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিআরটিএ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে অতিরিক্ত ফি আদায়, বিভিন্ন সেবা প্রদানে হয়রানি এবং দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে বিআরটিএ কার্যালয়ে গত ছয় মাসে নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য করা আবেদন এবং লাইসেন্স নবায়নের আবেদনসংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি নতুন ও নবায়ন—দুই ধরনের লাইসেন্সের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষার খাতা ও উপস্থিতির শিটও সংগ্রহ করেন দুদকের কর্মকর্তারা।

দুদকের সহকারী পরিচালক মোঃ আবুল কাইয়ুম হাওলাদার বলেন,উপস্থিতির শিট পর্যালোচনা করে কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, কয়েকজন পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির শিটে স্বাক্ষর নেই, অথচ তাঁদের পাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু পরীক্ষার্থীর খাতায় গরমিলের বিষয়ও পাওয়া গেছে। কীসের ভিত্তিতে খাতার লেখায় গরমিল শনাক্ত করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছেন কি না, সেটিও যাচাই করা হবে। সব রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে। এরপর কমিশন পর্যালোচনার ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, সংগৃহীত নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব অনিয়মের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

​মাহিদুল ইসলাম ফরহাদচাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫০টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। জব্দকৃত মোবাইলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।​বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে এই সাফল্য আসে।​গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ ভোররাত ১২টা ৪০ মিনিটে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ তেলকুপি বিওপি থেকে একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ১৭৯/৪-এস থেকে আনুমানিক ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামস্থ ঈদগাহ মাঠ এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।​অভিযান চলাকালীন চোরাকারবারিরা পালিয়ে গেলেও টহল দল মালিকবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন মডেলের ৫০টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করতে সক্ষম হয়।
​এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল কাজী আল-আমিন অপু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
​তিনি আরও বলেন, “বিজিবি সকল প্রকার চোরাচালানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান রোধে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”

রংপুর প্রতিনিধি:

রংপুরের পীরগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে পবিত্র কোরআন শরীফ ও ইসলাম ধর্ম অবমাননা করে আপত্তিকর ভিডিও পোস্ট করার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সৌরভ চন্দ্র মহন্তকে (১৯) গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) রাত ০৩:১০ ঘটিকায় বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন কিচক বেলাই গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সৌরভ চন্দ্র মহন্ত রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার চককরিম কাশিমপুর গ্রামের বিশু মহন্তের ছেলে।তার মায়ের নাম তরু বালা রানী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এর দিক নির্দেশনায় জেলা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে । অভিযুক্ত সৌরভ তার ব্যক্তিগত টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে ইসলাম ধর্ম ও পবিত্র কোরআন অবমাননাকর একটি আপত্তিকর ভিডিও পোস্ট করে । পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে স্থানীয় ও নেটজনতার মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের বরাতে পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিপ্রায়ে এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং সাম্প্রদায়িক অসন্তোষ তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। ভিডিওটি ছড়ানোর পর থেকেই সে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল।

আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে রংপুর জেলা পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির (Penal Code) ১৫৩, ১৫৩-এ, ২৯৫-এ এবং ২৯৮ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে (মামলা নং-৩০, তারিখ: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিঃ। গ্রেফতারকৃত আসামিকে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ :

কক্সবাজারের টেকনাফে সরকারি আদেশ অমান্য করে রাস্তায় জোরপূর্বক দোকান বসিয়ে মানুষের চলাচলে বাধা দেওয়ার দায়ে এমরান (২১) নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টেকনাফের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৭-এর এ/১ ব্লক থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ক্যাম্পের সিআইসি কার্যালয়ে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাদিমুড়া এপিবিএন ক্যাম্পের রাত্রিকালীন টহল দল নিয়মিত টহল পরিচালনার সময় এমরানকে আটক করে। পরে তাকে জাদিমুড়া এপিবিএন পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয়। সরকারি আদেশ অমান্য করে রাস্তায় দোকান বসিয়ে জনসাধারণের চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরে ক্যাম্প-২৭-এর সিআইসি কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নানের পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালতে মামলা নম্বর ২২২/২৬, তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২৬-এর মাধ্যমে এমরানকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত এমরান ক্যাম্প-২৭-এর এ/১ ব্লকের বাসিন্দা। তার এফসিএন নম্বর ২৯৯৯৮৫। তিনি মৃত সাইফুল ও মৃত আতুনের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লায় বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে রাসেল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে সিআইডির লোগোসংবলিত একটি ভুয়া পরিচয়পত্রের ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি সিআইডি লেখা কটি পরা একটি ছবি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় জেলা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৪ অক্টোবর কুমিল্লার শাসনগাছা এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশ এক মোটরসাইকেল চালককে থামার সংকেত দেয়। এ সময় ওই ব্যক্তি নিজেকে সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নাম রাসেল বলে জানান। তবে মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র ও পরিচয়ের উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে না পারায় কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট নিয়ম অনুযায়ী মোটরসাইকেলটি ডাম্পিংয়ে পাঠান।

পরদিন ২৫ অক্টোবর মোটরসাইকেলটি ছাড়িয়ে নিতে ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ে যান রাসেল হোসেন। এ সময় তিনি আবারও নিজেকে সিআইডি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। তার কথাবার্তা ও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে বিষয়টি কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে জানায় ট্রাফিক পুলিশ।

খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ে গিয়ে তার পরিচয় ও কর্মস্থল যাচাই করে। যাচাইয়ে তিনি সিআইডির কর্মকর্তা নন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

পুলিশের দাবি, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া নাম-ঠিকানা ও পদবি ব্যবহার করে সিআইডি পুলিশের পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে সিআইডির লোগোযুক্ত একটি ভুয়া পরিচয়পত্রের ছবি এবং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি সিআইডি লেখা কটি পরা একটি ছবি পাওয়া যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ধরনের প্রতারকদের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।