October 29, 2026

অপরাধ

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বাড়ি নির্মাণের পারিশ্রমিক ও রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামে এক প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুলিশ এ তথ্য জানায়।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর উপজেলার চক সুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রয়াত শিক্ষক আজিজুল হকের বাড়ির নির্মাণকাজের পারিশ্রমিক, ইউক্যালিপ্টাস গাছের কাঠের হিসাব ও শ্রমিকদের মজুরি বণ্টন নিয়ে কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেনের সঙ্গে আজিজুল হকের ছেলে আল-রোমানের বিরোধ চলছিল। একই সঙ্গে বাড়ির পাশের রাস্তার জমি নিয়ে আল-রোমানদের সঙ্গে স্থানীয় আশিকুজ্জামান আলো মিয়া ও তাঁর ভাই আসাদুজ্জামানের বিরোধ ছিল।

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে ফরতাজ হোসেন, আশিকুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান আল-রোমানদের বাড়িতে যান। সেখানে আল-রোমানের মা রোমানা আক্তারের সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় বিরোধ মীমাংসার জন্য উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়।

একপর্যায়ে তাঁর ওপর হামলা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তাঁকে সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য, মনোরঞ্জন রায় দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগে ভুগছিলেন। তাই তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় আসাদুজ্জামানকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার ভোর ৪টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁর ভাই আশিকুজ্জামান আলো মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মোঃ কামাল হোসেন প্রধান জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী।

নরসিংদীর শিবপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অদ্য ২৬ শে অক্টোবর ২০২৬ ইং সোমবার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন পরিচালনা করেন মোঃ সামিউর রহমান সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) শিবপুর। পরিবেশ অধিদপ্তর ও শিবপুর থানা পুলিশের প্রসিকিউশনে পরিচালিত এ অভিযানে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬-এর বিধি ৮(১) লঙ্ঘন করে অনুমোদিত মাত্রার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন ব্যবহার করার অপরাধে ০২টি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানে মোট ১,০০০ (এক হাজার) টাকা অর্থদণ্ড ও আদায় করা হয়। এ ঘটনায় কোনো কারাদণ্ড প্রদান করা হয়নি।
এসময় সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপ্রয়োজনীয় হর্নের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের জন্য সহনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশ গড়তে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এছাড়াও নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়ন এর অরুন শাহর মাজার এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও শিবপুর থানা পুলিশ এর প্রসিকিউশনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় বর্ণিত অপরাধে ১(এক) জনকে ১০০(একশত) টাকা অর্থদণ্ড ও ২ (দুই) মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পারিবারিক মান সম্মানের দিক বিবেচনা করে নামটি প্রকাশ করা হয়নি। জনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে শিবপুর উপজেলা প্রশাসন এর মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।‌

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ :

কক্সবাজারের উখিয়ায় অবৈধভাবে পাহাড়ের মাটি কাটার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে মাটিভর্তি একটি ডাম্পারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বন বিভাগ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার হলদিয়াপালং এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া রেঞ্জের হলদিয়াপালং বিটের পশ্চিম হলদিয়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় আবু তাহের শিকদারের বাড়ির কাছ থেকে পাহাড়ি মাটিভর্তি একটি ডাম্পারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বন বিভাগের একটি দল পশ্চিম হলদিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পাহাড়ি মাটিভর্তি ডাম্পারসহ একজনকে আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।

বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে হলদিয়াপালং বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসানসহ বন বিভাগের রেঞ্জের অন্যান্য কর্মী অংশ নেন।

পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় বন বিভাগের এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

রনজিৎ সরকার রাজ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ঃদিনাজপুরের চিরিরবন্দর পার্বতীপুর সীমান্তের পার্বতীপুর অংশে বাড়িতে যাওয়ার চওড়া রাস্তার দ্বন্দ্ব ও নতুন বাড়ি নির্মানের মালামাল ক্রয়ে ক্ষোভের জেরে মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত আসাদুজ্জামান (৩৬) নামে এক যুবককে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে ও গভীর রাতে চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের বড়হাশিমপুর সরকার পাড়া থেকে আলোম হোসেন আলোকে (৪০) আটক করে।
এ ঘটনাটি গত ২৫ অক্টোবর রবিবার বেলা আনুমানিক ১১ টায় উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের রাবেয়ার মোড় এলাকার সোনাপুকুর নয়া মোল্লাপাড়ায় ঘটেছে।
সরজমিনে গেলে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, নিহত মনোরঞ্জন রায়ের সাথে নয়া মন্ডল পাড়ার মৃত আজিজুর রহমানের কলেজে পড়ার সময় থেকেই বন্ধুত্ব সম্পর্ক ছিল। অসুস্থ্যজনিত কারনে আজিজুর রহমান মৃত্যুবরণ করলে সমসাময়িক বন্ধুরা একত্রিত হয়ে (মনোরঞ্জন রায়ের বেশকিছু জমি মৃত বন্ধু আজিজুরের বাড়ির পাশে হওয়াতে) তার পরিবারকে দেখভালের দায়িত্ব দেয় শিক্ষক বন্ধু মনোরঞ্জন রায়কে। তখন থেকেই ওই পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়ের।
অপরদিকে মৃত আজিজুরের স্ত্রী রোমানা বেগম বাড়ির পার্শ্ববতি এলাকার ফরতাজ হোসেন (৫৬) নামে এক ব্যাক্তিকে ধর্মপিতা হিসেবে গ্রহন করে। সেই থেকে ওই ধর্মপিতা প্রায়ই ওই বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে।
গত কয়েকমাস পুর্বে মৃত আজিজুরের স্ত্রী রোমানা বেগম ও সন্তানেরা পাড়ার মধ্যবর্তি তাদের পুরাতন বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে ওই নয়া মোল্লা পাড়ার দক্ষিণ পশ্চিম কোণে নতুন বাড়ি নির্মান শুরু করে। এতে করে নবনির্মিত বাড়ির পার্শ্ববতি বাড়ির মালিক মোস্তাহার, আলোম হোসেন, আসাদুজ্জামান, শরিফুল ইসলামের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। রাস্তা নিয়ে তাদের সাথে চরম দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পর্যাপ্ত জায়গা না ছেড়ে নতুন বাড়ি নির্মানের জন্য শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে দায়ী করে প্রতিবেশিরা। তখন থেকেই ওই শিক্ষকের উপর ক্ষোভ ছিল মোস্তাহার পরিবারের।

এছাড়াও নতুন বাড়ি নির্মানের সময় কাঠের পাইড়, বাতা, উয়া, টিন সহ বিভিন্ন মালামাল ক্রয় ও নির্মান শ্রমিক ম্যানেজ করতে মৃত আজিজুরের স্ত্রীকে ধর্মপিতা ফরতাজ হোসেন বেশি দর টাকার প্রস্তাব দেয়, শিক্ষক মনোরঞ্জন কম দর টাকার প্রস্তাব দেয়। শেষ পর্যন্ত মৃত আজিজুরের স্ত্রী ও সন্তানেরা শিক্ষক মনোরঞ্জনের প্রস্তাব মেনে নিয়ে মালামাল ক্রয় করে ও বাড়ি নির্মান শেষ করে। এ নিয়ে ধর্মপিতা ফরতাজ হোসেন চরম ক্ষুদ্ধ হন। ধর্মপিতা ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১০ টার দিকে ধর্ম মেয়ের বাড়িতে এসে অশালীন কথাবার্তাসহ বকাবকি শুরু করে। এসময় ধর্মমেয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে ধর্মপিতা মারপিট করে। এ ঘটনাটি ধর্মমেয়ে রোমানা বেগম মুঠো ফোনে শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে জানিয়ে দ্রুত তাদের বাড়িতে আসতে বলে। শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় মৃত আজিজুরের আপন বড় ভাইকে সাথে নিয়ে বেলা ১১ টার দিকে ওই বাড়িতে যায়। বাড়িতে পৌঁছামাত্র ধর্মপিতা ফরতাজ শিক্ষক মনোরঞ্জনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে ও ধর্মমেয়ের সাথে পরকিয়ার অভিযোগ করে। এতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় ধর্মপিতা ফরতাজ হোসেনের গালে একটি চড় দেয়। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ফরতাজ হোসেন প্রতিবেশি বাড়ির মোস্তাহার ও তার ছেলে আলোম হোসেন, আসাদুজ্জামান ও আরেক প্রতিবেশি শরিফুলকে ডেকে আনে। তারা এসে বেড়ার বাঁশের খুটি, কাঠের বাতা, বাশের মুড়া জাতীয় বস্তু সহ লাঠি দিয়ে শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। মৃত আজিজুরের বড় ভাই, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে এসময় তাদের আটকানোর চেষ্টা করলে, তাদেরও মারপিট করা হয়। তাদের মধ্যে প্রচন্ড ধস্তাধস্তি হয়। এই ধস্তাধস্তিতে মোস্তাহারের স্ত্রী আরজু বেগম (৫০), ছেলে আলোম হোসেনের স্ত্রী শারমিন (২৫), প্রতিবেশি মিনু আরা জড়িত হয়ে পড়ে। সুযোগ পেয়ে শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আলোম হোসেন, ফরতাজ হোসেন, আসাদুজ্জামান, শরিফুল একটি গাছের গাল ভেঙ্গে পিছনে ধাওয়া করে মারতে মারতে প্রায় দেড়শত মিটার দূরে একটি ধানক্ষেতে
ফেলে চলে যায়। পাড়ার লোকজন মনে করে শিক্ষক পালিয়ে গেছে। তারা চুপচাপ থাকে।
দুপুর আনুমানিক আড়াইটার সময় একটি ছেলে ঘাস কাটার সময় শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করলে মৃত আজিজুরের স্ত্রী, ছেলে মেয়েরা মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে আসে। জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ও হত্যার সাথে জড়িত আসাদুজ্জামান নামে একজনকে আটক করে। বাকিরা সকলে পালিয়ে যায়।

নিহত মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের চকসুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও চকসুকদেবপুর গ্রামের মালিপাড়ার অসীম চন্দ্র রায়ের ছেলে।

দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আসাদুজ্জামান নামে এক যুবককে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় ও গভীর রাতে বড়হাশিমপুর সরকার পাড়া থেকে আলোম হোসেন আলোকে আটক করা হয়।

থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে চন্দন কুমার রায় বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ :

কক্সবাজারের টেকনাফে ১৬ এপিবিএনের নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অভিযানে মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে অভিযুক্ত কবির ওরফে ডাক্তার কবির, তাঁর সহযোগী ইলিয়াস ওরফে ইলিয়াস মেম্বার এবং হত্যা ও অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয়জনকে কারাদণ্ড এবং চারজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১৬ এপিবিএনের আওতাধীন টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

১৬ এপিবিএনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে পরিচালিত এ অভিযানে ১৬ এপিবিএন, জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ব্যাটালিয়ন আনসারের মোট ১০৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।

মানবপাচার মামলার আসামি গ্রেপ্তার

অভিযানে লেদার ২৪ নম্বর ক্যাম্প থেকে মানবপাচার মামলার আসামি মো. কবির ওরফে ডাক্তার কবির (৬৫) এবং তাঁর সহযোগী মো. ইলিয়াস ওরফে ইলিয়াস মেম্বারকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়।

১৬ এপিবিএনের দাবি, তাঁরা টেকনাফের মানবপাচার চক্রের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় ড্রাম ও কাঠের টুকরো ধরে ভাসতে থাকা কয়েকজনকে কোস্ট গার্ড উদ্ধার করেছিল।

হত্যা ও অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

অন্য একটি অভিযানে হত্যা ও অস্ত্র মামলার তিনটি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আবু তৈয়বকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। ১৬ এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলায় চার বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের সাজা রয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড ১০ জনের

অভিযানকালে সরকারি আদেশ অমান্য, মাদক সেবন, মা-বাবাকে মারধর এবং ক্যাম্পে অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন অপরাধে ১০ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়।

এর মধ্যে ছয়জনকে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং চারজনকে ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রিকল মূলে একটি ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তি করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে ১৩ জনকে আইনানুগ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ১৬ এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে।

মোঃ ফারুক আহমদ, স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর।

গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা পুলিশ কর্তৃক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতারকৃত ২ জন। আরো পড়ার তোক রয়েছেন ৩ জন। অভিযান পরিচালনার সময় আসামীদের তাদের কাছ থেকে ০১টি সামুরাই, ০২টি কাটারী, ০১টি চাপাতি,০২টি ছুরি,০২টি চাকু,০১টি কাটার ও ০১টি হাতুরী উদ্ধার করা হয়েছে।
অদ্য২৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং রোজ রবিবার আনুমানিক বেলা সাড়ে তিনটার দিকে গাজীপুরের বাসন থানায় কর্মরত এসআই(নিরস্ত্র) আব্দুল্লাহ আল মামুন(বিপি-৯৩১২১৫২১৭৬)সঙ্গীয় এস আই /জাহিদুল ইসলাম(বিপি-৭৮৯৮০৩০৭১৪
কং/৭৮৪ মোঃ রিপন মিয়া বিপি-৯১১১১৪৯০৩১,কং/১৮০ মামুনুর রশিদ বিপি-৯৫১৫১৮১১৯১ জিএমপি বাসন থানাধীন যোগীতলা বাংলা লিংক টাওয়ারের সামনে দেলোয়ারের বাড়ীতে কতিপয় দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী অবৈধ অস্ত্রসহ অবস্থান কালে আসামী
মোঃ সুমন(২২)পিতা-ফারুক, মাতা-শিউলী বেগম,
সাং-লক্ষীপুরা,থানা-গাজীপুর মহানগর গাজীপুর।
জান্নাতুল ইসলাম তানহা(২১)পিতা-দেলোয়ার, মাতা-রোজিনা,সাং-চষারা,
থানা ও জেলা-নারায়ণগঞ্জ
পলাতক আসামীর নাম মোঃ আব্দুল রাব্বি(২২)পিতা-দেলোয়ার হোসেন,মাতা-পুতুল বেগম,সাং-যোগীতলা,থানা-
বাসন,গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর।
রাজিব(২৫)পিতা-রাজু,সাং-হারিকেন,থানা-গাছা,
গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর।
আলমগীর(২৫)পিতা-
অজ্ঞাত,সাং- অজ্ঞাত, থানা-বাসন,গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামি ১|মো:মেহেদী হাসান(২৮)এর বিরুদ্ধে-১০টি (যার মধ্য মাদক, মরামারি, ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা) ০২.মোঃআব্দুল রাব্বি (২২)এর বিরুদ্ধে -০২টি মারামারি ও ০১টি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা রয়েছে।
উল্লেখিত ঘটনায় ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে বাসন থানায় এফআইআর নং-৪৩,তারিখ -২৫-১০-২০২৬;ধারা-19(f) The Arms Act,1878; রুজু করা হয়।

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নে মাদকের অবাধ বিস্তারে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জনমনে। ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজার ও লোকালয়ে সন্ধ্যার পর নিয়মিত বসছে মাদকের রমরমা আসর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মাদক কারবারের সাথে জড়িত রয়েছেন ময়েনপুর ইউনিয়নের (৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য আজমেরী বেগম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকায় সুশীল সমাজ প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে।এলাকাবাসী জানান এর আগেও ওই নারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হলেও কোন প্রকার প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী।

গত ১৯ অক্টোবর চুরির হাঁসের বিনিময়ে ইয়াবা প্রদান
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য আজমেরী বেগমের মাদক কারবারের অভিযোগে তথ্য অনুসন্ধান ও সংবাদ প্রকাশ করায় পেশাদার সংবাদকর্মী রাখিবুল হাসান রাখিবকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় জাগদীশপুর গ্রামে সংবাদকর্মী মো. রাখিবুল হাসান রাখিবের নিজ বসতবাড়ির সামনে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আজমেরী বেগম। মাদক ব্যবসা নিয়ে আর কোনো খবর প্রকাশ করলে ক্যামেরা ভেঙে ফেলা, হাত-পা কেটে ফেলা ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন তিনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৩৭০, ২২শে অক্টোবর /২০২৬) দায়ের করেছেন।

গত ১৯ অক্টোবর রাতে তিলকপাড়া গ্রামের ডা. ওমর ফারুকের খামার থেকে ১০টি হাঁস চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় নয়ন নামের এক যুবক ইউপি সদস্য আজমেরীর কাছ থেকে চুরির হাঁসের বিনিময় ইয়াবা নিয়ে থাকেন। নয়নের কথা সূত্রধরে আজমেরির বাড়িতে অনুসন্ধান গিয়েছিলেন ভুক্তভোগী ওমর ফারুক। প্রথমে বিষয়টি আজমেরি অস্বীকার করেন কিন্তু পরবর্তীতে তার বাড়ির পাশে জবেহকৃত হাঁসের পাখা এবং উচ্ছিষ্ট অংশ পাওয়া গেলে পরে আজমেরি বিষয়টি স্বীকার করেন যে নয়নে কাছে থেকে হাঁস ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু হাঁস চুরি অভিযুক্ত নয়ন স্বীকার করেন মাদক কারবারি আজমেরির বাড়ি গিয়ে চুরির হাঁসের বিনিময়ে ইয়াবা নিয়ে থাকেন।
এ ঘটনায় ডা.ওমর ফারুক মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এর আগে গত ১৬ অক্টোবর গ্রাম পুলিশ ও মিঠাপুকুর থানা পুলিশের এএসআই জহুরুল আলমের নেতৃত্বে শুকুরের হাট বাজারে অভিযান চালিয়ে শিশির ও মিল্লাদ হোসেন নামের দুই ইয়াবাসেবীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করে যে, নারী মেম্বার আজমেরী বেগমের কাছ থেকেই তারা ইয়াবা ক্রয় করেছিল।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সংরক্ষিত নারী সদস্য আজমেরী বেগমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী থানায় জিডি করেছেন তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সেই সাথে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।

বোন ও বোনজামাইয়ের বিরুদ্ধে অসহায় নারীর বিচার দাবি, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী

এম এ হোসেন পাটোয়ারী, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের পীরগাছায় বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি বাঁশ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর আপন বোন ও বোনজামাইয়ের বিরুদ্ধে। গত শনিবার বিকেলে উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের উত্তর অনন্তরাম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মোরশেদা বেগম।

মোরশেদা বেগম ওই গ্রামের মৃত মনসুর আলীর মেয়ে। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় অবস্থানের সুযোগে তাঁর বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় বিচার, ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোরশেদা বেগমের অনুপস্থিতিতে তাঁর বোন লাইলী বেগম, বোনজামাই মাহবুবার রহমান ও রমজান আলী বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘর ভাঙচুর করেন এবং বাঁশঝাড়ের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি বাঁশ কেটে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মোরশেদা। এ সময় তাঁকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী মোরশেদা বেগম বলেন, “আমি অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ। ঢাকায় কাজের তাগিদে থাকার সুযোগে আমার বসতবাড়ি ভাঙচুর ও বাঁশঝাড় কেটে সাবাড় করা হয়েছে। এর আগেও ২০২২ সালে তাঁদের লোকজনের হাতে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছিলাম। বিচার চাইলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এখন নিজের বাড়িতে যেতেও ভয় পাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চান তিনি। এ জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত লাইলী বেগম ও মাহবুবার রহমান বাঁশ কাটার কথা স্বীকার করে দাবি করেন, তাঁরা অন্য কারও জমির বাঁশ কাটেননি; নিজেদের অংশের বাঁশ কেটেছেন।

এ বিষয়ে পীরগাছা থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ বা আইনি আবেদন পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আব্দুল্লাহ শেখ (২৬) নামে এক যুবক গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের ধানকোড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

গ্রেফতারকৃত আব্দুল্লাহ একই ইউনিয়নের পারকরফা গ্রামের মৃত নবাব আলী শেখের ছেলে।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই গৃহবধূর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় তিনি সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের পারকরফা গ্রামে বসবাস করেন। গত ৪ অক্টোবর দুপুরে তিনি বাবার বাড়ির একটি বসতঘরে খাটে শুয়ে ছিলেন। এ সময় লম্পট আব্দুল্লাহ ঘরে প্রবেশ করে তাকে জাপটে ধরে চুমু দেন এবং শ্লীলতাহানি করেন। ওই গৃহবধূর চিৎকারে তাঁর স্বজন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে গৃহবধূ বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় একটি মামলা করেন।

ওই গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি লম্পট আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করে উল্টো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি তার ভয়ে পার্শবর্তী লোহাগড়া উপজেলায় আমার এক আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। আমি ভয়ে আমার বাবার বাড়িতে যেতে পারছি না।’

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহফুজুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযুক্ত আসামি আব্দুল্লাহ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

এছাড়া আব্দুল্লাহ বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন, চুরি-ডাকাতি এবং ছিনতাইসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে পৌরসভার ইজারার টাকা আদায়ের নামে চাঁদা দাবির অভিযোগে আসাদুজ্জামান বিপ্লবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো নোটিশে তাঁকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের সামনে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আসাদুজ্জামান বিপ্লব জাতীয়তাবাদী যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা সত্ত্বেও পৌরসভার ইজারার টোল আদায়সংক্রান্ত বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন বলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কাছে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নবীনগর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের আলীয়াবাদ মোড়ে সাংবাদিকদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস আটকে পৌরসভার ইজারার টাকা দাবির ঘটনা ঘটে।

সংবাদ সংগ্রহের কাজে কয়েকজন টেলিভিশন সাংবাদিক ওই মাইক্রোবাসে করে নবীনগরের ধরাভাঙ্গা এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে আলীয়াবাদ মোড়ে তাঁদের গাড়ি থামিয়ে ইজারার টাকা দাবি করা হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবীনগর পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লবের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ইজারার টাকার নামে চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাঁদের মারতে উদ্যত হওয়া এবং সংসদ সদস্যের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নোটিশপ্রাপ্ত বিপ্লবের বক্তব্য জানা যায়নি।

ইজারা বাতিলের উদ্যোগ
ঘটনার পর নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, সাংবাদিকদের গাড়ি থেকে ইজারার টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানও ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের কোনো ভাতিজা নেই বলে জানান এবং পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে ইজারা বাতিলের জন্য বলেন।

এই বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে আসাদুজ্জামান বিপ্লব মুঠোফোনে জানান আগামীকাল সকালে সংবাদ সম্মেলন করার পর কথা বলব।

যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কারণ দর্শানোর নোটিশের পর এখন আসাদুজ্জামান বিপ্লবের ব্যাখ্যা এবং তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠন কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।