October 29, 2026

অপরাধ

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি ব্রিজের মুখ বন্ধ করে সরকারি খাস জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।

ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে বিস্তীর্ণ বিলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এছাড়া কয়েক হাজার কৃষকের ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষাকালে নৌকায় ধান ও কৃষিপণ্য পরিবহনের পথও বন্ধ হয়ে যাবে।

উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের নড়াইল-ফুকরা সড়কের ছোটবাহিরবাগ মিয়াবাড়ি সংলগ্ন এলজিইডির ব্রিজে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে রোববার (১৭ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগে জানা গেছে, ছোটবাহিরবাগ গ্রামের প্রভাবশালী বিকু মিয়া, রইজ মিয়া, মোস্তাক মিয়া ও আকবর মোল্লাসহ কয়েকজন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির সঙ্গে ৬৭৬ নম্বর দাগের সরকারি খাস জমি বালু দিয়ে ভরাট করছেন। ইতোমধ্যে বাঁশ ও নেট দিয়ে এলজিইডি ব্রিজের মুখ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে আশপাশের বিস্তীর্ণ বিলের পানি নিষ্কাশিত হতে পারবে না। ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সঙ্গে বর্ষাকালে নৌকায় ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হবে। চরম দুর্ভোগে পড়বেন কৃষকরা।

সুমন মিয়া, নাজমুল মল্লিক, মশিউর মল্লিক, টুন্নু মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, ওই এলাকার বিলাঞ্চলে তাঁদের কয়েক শ’ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। ব্রিজের মুখ বালু দিয়ে ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করা হলে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকেরা। কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষায় ব্রিজের মুখের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

অভিযুক্তদের একজন রইজ মিয়া। তার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি শুধু একা নয়। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কবরস্থানে চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। তবে ওখানে কিছুটা সরকারি জমি আছে।’

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের ক্ষতি বা সরকারি সম্পত্তি দখল এমন কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।’

নিজস্ব প্রতিবেদক।

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন দক্ষিণ পানিশাইলের পলাশ হাউজিং-সংলগ্ন ভূমি জরিপ (বিডিএস) কার্যালয়ে ঘুষ-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মারধর, গলা চেপে হত্যাচেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় মো. সাইফুল ইসলাম সরকারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. রমজান মিয়া (৫২)।
অভিযোগে মো. সাইফুল ইসলাম সরকার (৪০), মো. আব্দুর রহিম (৩৫), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রাজনৈতিক পরিচয় বদলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
অভিযোগকারী ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সরকার রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিক পদ পরিবর্তনের পর সাইফুল নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে নিজেকে কাশিমপুর থানা বিএনপির সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের সঙ্গে তাঁর একটি ফটোসেশনের কথাও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। বিডিএস অফিস ঘিরে ঘুষ-বাণিজ্য ও সাপ্তাহিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের। দক্ষিণ পানিশাইলের পলাশ হাউজিং-সংলগ্ন সেটেলমেন্ট (বিডিএস) অফিসে ভূমি জরিপ ও সংশ্লিষ্ট কাজকে কেন্দ্র করে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়। তাঁদের দাবি, সাইফুল ইসলাম সরকার, আব্দুর রহিম ও আশরাফুল ইসলামসহ কয়েকজন ওই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অফিসটিকে কেন্দ্র করে নিয়মিত সাপ্তাহিক চাঁদা আদায় করা হতো এবং ঘুষ-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে প্রভাব খাটানো হয়। তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা ও গলা চেপে ধরার অভিযোগ
সাংবাদিক রমজান মিয়ার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে দক্ষিণ পানিশাইলের ওই বিডিএস কার্যালয়ে অনিয়ম ও কথিত চাঁদাবাজির তথ্য সংগ্রহ করতে যান।

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় সাইফুল ইসলাম সরকার, আব্দুর রহিম, আশরাফুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে অতর্কিত হামলা চালান। তাঁদের মারধরে সাংবাদিকদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে সাইফুল ইসলাম সরকার সাংবাদিক রমজান মিয়ার গলা চেপে ধরে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ১০ মিনিটের মধ্যে এলাকা ছেড়ে না গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি গাজীপুর মহানগর পুলিশের নজরে আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলার অভিযোগের সত্যতা উদ্‌ঘাটন এবং বিডিএস কার্যালয়কে ঘিরে ওঠা ঘুষ-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের পূর্বপাড়ায় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে নবীনগর থানা পুলিশ। পাশাপাশি দুই পক্ষের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে। নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর গ্রামের পূর্বপাড়ায় উজ্জ্বল মেম্বেলের পক্ষ ও স্বপন মিয়ার পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে গত দুই দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হন।

সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হয়। নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ এবং জেলা পুলিশের নির্দেশনায় নবীনগর থানা পুলিশ এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় দুই পক্ষের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

নবীনগর থানার ওসি মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং রোববার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

​ সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জাকির হোসেন (৫০) নামের এক মসজিদের ইমামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

​রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার ডাঙা মাজড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত জাকির হোসেন হুজুর ওই গ্রামের মরহুম সিরাজ মোল্যার ছেলে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাঙা মাজড়া গ্রামের বাগান সিকদারের ছেলে বাশার সিকদারের সাথে জাকির হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। এরই জের ধরে আজ ভোরে বাশার সিকদার ধারালো অস্ত্র দিয়ে জাকির হোসেনের ওপর হামলা চালায় এবং তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।

​পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং তিনি বলেন ঘটনাটি আমি সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পারি, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ,কক্সবাজার প্রতিনিধি।

কক্সবাজারে ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও এক নম্বর এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মো. সলিম উল্লাহকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) এসআরবি-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আ. ম. ফারুক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১৫-এর সিপিএসসি ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল জানতে পারে, ৩ লাখ পিস ইয়াবা চোরাচালান ও উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত সলিম উল্লাহ চকরিয়া এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ডুলাহাজারা বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে আটক করা হয়।

এসআরবি-১৫-এর দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ আঞ্চলিক মাদক চোরাচালান চক্রের সমন্বয়ক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচারের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার সলিম উল্লাহ কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের পূর্ব মুড়াপাড়া এলাকার খুইল্লা মিয়ার ছেলে।

তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। মাদক পাচার রোধ ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে এসআরবি-১৫।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে নিখোঁজ হওয়ার পর ১২ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুকে উদ্ধার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) নয়াপাড়া ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকের পুকুরপাড়ের পশ্চিম পাশের সড়ক থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া শিশুর নাম রিয়া মনি (১২)। সে নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. তাজুল এবং মায়ের নাম রাবেয়া বেগম।

১৬ এপিবিএনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়া মনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে টেকনাফ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরে নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে নয়াপাড়া এপিবিএন ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নয়াপাড়া নিবন্ধিত ক্যাম্পের এইচ ব্লকের পুকুরপাড়ের পশ্চিম পাশের সড়কে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর শিশুটিকে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ক্যাম্প কমিটি ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় কোডিনযুক্ত ‘ইস্কাফ’ সিরাপ জব্দ করেছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ভোলাহাট বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সীমান্ত পিলার ১৯৬/৪-এস থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোলাহাট উপজেলার ১ নম্বর ভোলাহাট ইউনিয়নের চামুচা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় ‘ইস্কাফ’ সিরাপ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

জব্দ করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আল-আমিন অপু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যুবসমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ,কক্সবাজার প্রতিনিধি।

কক্সবাজারের টেকনাফে ২১ নম্বর চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে থেকে নিখোঁজ এক রোহিঙ্গা কিশোর ও চট্টগ্রামের এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে ক্যাম্পের বাইরে কেরানতলী রাস্তার মাথা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

১৬ এপিবিএনের ২১ নম্বর চাকমারকুল ক্যাম্পের ইনসিডেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই এলাকায় দুই অপরিচিত কিশোর-কিশোরীকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন। খবর পেয়ে এপিবিএন ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

পরে প্রায় দুই ঘণ্টা অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে তাদের পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করা হয়। উদ্ধার হওয়া কিশোর জমির হোসেন (১৫) ২১ নম্বর চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি/০৬ ব্লকের বাসিন্দা। অন্যদিকে, কিশোরী মরিয়ম (১৪) চট্টগ্রামের চাঁদগাঁও এলাকার বাসিন্দা।

এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, তারা দুজনই শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে নিখোঁজ ছিল।

পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি/০৬ ব্লক এলাকায় জমির হোসেনকে তার ভাই মো. ওসমানের (২৫) কাছে এবং মরিয়মকে তার নানা মো. সিদ্দিকের (৬১) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ২১ নম্বর চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে ইনসিডেন্ট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বোরো ধানের ক্ষেতে সেচের মোটর চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কালু মন্ডল (৩০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাশিয়ানী সদর ইউনিয়নের পোনা কাপালিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কালু মন্ডল ওই গ্রামের হরেন মন্ডলের ছেলে।

কাশিয়ানী থানার ওসি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি ও নিহতের স্বজনরা জানান, কালু মন্ডল ওই গ্রামের হাসমত মোল্লার বোরো ধানের ব্লকে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সেচের মোটর চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ,কক্সবাজার।

শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার ৩৫৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাটালিয়নটির সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এসআরবি-১৫-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছর কক্সবাজার জেলায় ৩২৪টি এবং বান্দরবান জেলায় ৩৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারিসহ দুই জেলায় সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি-১৫ মোবাইল ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। পূজাকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশেষ তৎপরতা ও নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নিয়মিত টহল, মোটরসাইকেল পেট্রোলিং এবং সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূজাকেন্দ্রিক গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে অনলাইন মনিটরিং সেল সক্রিয় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপে নারী দর্শনার্থীদের ইভটিজিং ও হয়রানি প্রতিরোধে জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। সম্মিলিত উদ্যোগে এমনভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

এসআরবি-১৫-এর দাবি, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে কোনো ধরনের নাশকতার তথ্য বা আশঙ্কা নেই। তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও সার্বিক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাটালিয়ন সদরে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোথাও সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা অপ্রীতিকর ঘটনার আলামত দেখা গেলে দ্রুত এসআরবিকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আ. ম. ফারুকের স্বাক্ষর রয়েছে। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে সবার শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।