October 29, 2026

অপরাধ

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ থেকে অপহরণের পর ভারতে পাচারের আগমুহূর্তে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত এলাকা থেকে ১২ বছরের শিশু সাজিম শিকদার ইয়াছিনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তিন দিন ধরে অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গভীর রাতে ভোমরা স্থলবন্দর সংলগ্ন একটি আস্তানা থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ সময় অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও পাচারের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মুন্না শিকদার (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।

উদ্ধার হওয়া সাজিম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের ব্যবসায়ী আকাশ শিকদারের ছেলে। গ্রেফতার মুন্না শিকদার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামের লালন শিকদারের ছেলে। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের দূরসম্পর্কের আত্মীয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে বাড়ির পাশের একটি মুদি দোকান থেকে খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখান মুন্না। তার কথায় বিশ্বাস করে সাজিম সঙ্গে হাঁটতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বংবিপ্রবি) সামনের নির্জন সড়কে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একটি মাইক্রোবাসে শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান মুন্না ও তার সহযোগীরা।

ঘটনার পরদিন থেকে বিভিন্ন অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে সাজিমের বাবা আকাশ শিকদারের ফোনে কল আসতে শুরু করে।

অপহরণকারীরা শিশুটিকে জীবিত ফেরত দিতে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে আকাশ শিকদার গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত ও অনুসন্ধান শুরু করে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সীমান্ত পার করানোর উদ্দেশ্যে সাজিমকে দূরপাল্লার গাড়িতে করে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সীমান্ত পারাপারে জড়িত দালালচক্রের সহায়তায় শিশুটিকে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা পুলিশের।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর গোপালগঞ্জ পুলিশ সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও শিশুসহ মুন্না শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়।

উদ্ধারের পর সাজিমকে নিরাপদে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সন্তানকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা অশ্রুসজল চোখে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মোঃ ফারুক আহমদ, গাজীপুর ।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বিকাশ ম্যানেজারকে গুলি করে দুই বস্তা টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা।
তসঙ্গে থাকা আরও দুই কর্মকর্তা ও গাড়িচালককে মারধর করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক বিকাশ কর্মকর্তাকে শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। আওতো বিকাশ ম্যানেজারের নাম হিমেল ৩৫। ইনি মাওনা বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার। আহত দুজনের নাম হচ্ছে মোহাম্মদ ফাহাদ হোসেন ৩০ ও মোঃ রিফাত২০ হোসেন এবং গাড়িচালকের নাম লাল মিয়া২৫। এই ঘটনাটি ৯ অক্টোবর রাতে শুক্রবারে শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় ঘটে। তারা বিকাশের বিভিন্ন আযান থেকে টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। টাকার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ কোটি। টাকা ভর্তি বস্তা নিয়ে তারা একটি প্রাইভেট কারে করে মাওনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। প্রাইভেট কার নাম্বার ঢাকা মেট্রো গ ৩৫০ ৭০১। বিকাশ কর্মীদের টাকা বহনকারী গাড়িটি কর্ণপুর এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা গাড়িটি রোধ করে এবং গাড়ি ক্লাস ভেঙ্গে ক্যাশ ম্যানেজারের পেটে গুলি করে। বাকিদের মারধর করে এমতাবস্থায় তাদেরকে টেনে গাড়ি থেকে নামিয়ে টাকা ভর্তি দুই বস্তা টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। সহযোগিতায় গুলিবিদ্ধ সহ আহতদের শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেলে পাঠানো হয়। শ্রীপুর উপজেলার জরুরী বিভাগের ডাক্তার অনিল সরকার বলেন , গরীবৃদ্ধ ব্যক্তিকে তাজউদ্দিনে পাঠানো হয়েছে এবং আহত বাকিদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। তবে হামলার শিকদার ব্যক্তিদের কোন নিরাপত্তা ছিল না বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা ওসি শাহিনুর আলম বলেন, তাদের পক্ষ থেকে আমাদেরকে কোন জরুরি কল অথবা থানায় কিছুই জানানো হয়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে বাকি বিস্তারিত জানাবে বলে জানিয়েছেন।

রনজিৎ সরকার রাজ দিনাজপুর প্রতিনিধী:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৭ নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন রসুলপুর গ্রামে কবিয়াল ক্ষিতীশ সরকারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডাকাতেরা একটি বাজাজ পালসার N160 মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, পাসপোর্ট, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। এতে আনুমানিক ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যদের খাবারে লবণ ও মরিচের সঙ্গে চেতনানাশক মেশানো হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর ফলে পরিবারের সদস্যরা অচেতন হয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের ভিতরে ও বাইরে দুইটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম।

তিনি জানান, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে দুর্বৃত্তরা এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনের সড়ক থেকে পরপর দুইটি ককটেল নিক্ষেপ করে। একটি গেটের বাইরে গাছে লেগে বিস্ফোরিত হয় এবং অপরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে বিস্ফোরিত হয়।এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ বলেন, ৮ই অক্টোবর সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে নবীন বরণ অনুষ্ঠান হবে। যেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে গোপালগঞ্জের তিনটি আসনের সাংসদবৃন্দ। কোন একটি দুষ্কৃতকারী মহল পরিকল্পিতভাবে এ অনুষ্ঠানের আগ মুহূর্তে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এমন ঘৃণিত সন্ত্রাসী মূলক কার্যক্রম চালিয়েছে। ককটেল হামলাকারীদেরকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এই ছাত্রদল নেতা।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, কক্সবাজার।

কক্সবাজারের টেকনাফে এপিবিএনের বিশেষ অভিযানে তিন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও ‘কানকাটা ইসমাইল’ নামে পরিচিত ইসমাইলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পসংলগ্ন বক্কর মেম্বার রাস্তার মাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ইসমাইল (৩৯) নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের বাসিন্দা। এপিবিএনের তথ্যমতে, তিনি টেকনাফ থানার তিনটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে ২০২১ ও ২০২২ সালে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।

এ অভিযানে ইসমাইলের দুই সহযোগী এখলাছ মিয়া (২৮) ও ওসমান সরোয়ার (২৩)কেও গ্রেপ্তার করা হয়। এখলাছ মিয়ার বাড়ি উখিয়ার পালংখালীতে। তার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মারধর, হত্যাচেষ্টা, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে। অন্যদিকে ওসমান সরোয়ারের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে এপিবিএন।

এপিবিএন সূত্র জানায়, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পসংলগ্ন বক্কর মেম্বার রাস্তার মাথা এলাকায় ইসমাইল ও তার সহযোগীদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। পরে নয়াপাড়া এপিবিএন ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় একটি মোটরসাইকেল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।

পরে গ্রেপ্তার তিনজনকে নয়াপাড়া এপিবিএন ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নয়াপাড়া এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ১১ পিস ইয়াবাসহ সুলতানা নামে এক চিহ্নিত নারী মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। আজ ৫ অক্টোবর (সোমবার) উপজেলার ৯নং ময়েনপুর ইউনিয়নের ময়েনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয় ও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, আটক সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এলাকায় মাদক সরবরাহের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কারণে স্থানীয়ভাবে তাকে ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। তার মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ছিল স্থানীয়দের।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়েনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় ওই মাদক আস্তানায় অভিযান চালায় প্রশাসন। অভিযানে সুলতানাকে হাতেনাতে আটক করা হয় এবং তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ১১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।এই মাদক সম্রাজ্ঞী আটকের খবরে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সুলতানাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই অঞ্চলের মাদকের মূল হোতা এবং এর পেছনের পুরো সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে চুরি মামলার তদন্তে পাওয়া এক আসামি, জিআর পরোয়ানাভুক্ত তিন আসামি ও মাদক সেবনের দায়ে মোবাইল কোর্টে এক ব্যক্তিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশের পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ব্রাক্ষনপাড়া থানার এসআই মাহতাব হোসাইনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে চুরি মামলায় তদন্তে পাওয়া পলাতক আসামি বাদশা মিয়া (২৪)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের নগরপাড় এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় দায়ের করা একটি চুরি মামলায় (ধারা ৪৫৭/৩৮০) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্তে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
অন্যদিকে এসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি এমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া এএসআই রতন কুমার মল্লিকের নেতৃত্বে তোফায়েল আহমেদ রবিন এবং এএসআই মো. নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে মো. জুয়েল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনজনই ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
এ ছাড়া এএসআই রতন কুমার মল্লিকের অভিযানে মাদক সেবনের অপরাধে মো. মঈন উদ্দীন (৩৯)কে আটক করা হয়। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মামলার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর মোবাইল কোর্টে দণ্ডিত ব্যক্তিকে দেওয়া সাজা অনুযায়ী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০৫ পিস কমলা রঙের ট্যাপেন্ডাটল ট্যাবলেটসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে ভূল্লী উপজেলাধীন বালিয়া ইউনিয়নের বড় বালিয়া মণ্ডলপাড়া জামে মসজিদের পাশের পাকা সড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার টিকাপাড়া গ্রামের মো. মকবুল হোসেনের ছেলে মো. ফাহিম মোর্শেদ গালিব (৩৩) এবং বরুনাগাঁও গ্রামের মো. নিজামউদ্দিনের ছেলে মো. রানা (৩৫)।
পুলিশ জানায়, ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ভূল্লী থানা পুলিশের টানা ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে তাদের আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ১০৫ পিস ট্যাপেন্ডাটল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ভূল্লী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক)/৪১ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়, যার নম্বর-০৫।
ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, মাদক উদ্ধার, মাদক মামলার আসামি এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও
০১৭৪০৮৬১০৮০

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলায় এক স্কুল শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করায় কবির শেখ(৩৫)নামে এক যুবককে মারধর করা হয়েছে।

মারধরে আহত কবিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন।আজ রোববার উপজেলার কুশলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার কবির শেখ বিরামের কান্দি গ্রামের সরোয়ার শেখের ছেলে।
জানাগেছে , গত ৬ মাস ধরে স্কুলে যাওয়া আসার পথে কবির শেখ প্রায়ই ওই স্কুল শিক্ষকাকে উত্ত্যক্ত করতো।এ বিষয় নিয়ে ওই শিক্ষিকা কবিরের পরিবারের কাছে জানিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি।

পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অফিযোগ দিলেও তারা কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে কবির শেখ ওই শিক্ষিকার পথরোধ করলে তাঁর আত্মীয় স্বজন এগিয়ে এসে মারধর করে কবিরকে ফেলে রেখে যায়।

খবর পেয়ে কবিরের পরিবারের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

মারধরের শিকার কবির শেখের ভাতিজি জোসনা বেগম বলেন,আমার চাচার একটু মাথায় সমস্যা আছে।সে আগে অটো চালাইতো।এই অটোতে যাওয়া আসার সময় ওই শিক্ষিকার সাথে পরিচয় হয়। এরপর থেকে সে ওই শিক্ষিকাকে বিয়ে করার জন্য পাগলামী শুরু করে।তবে তাকে এ ভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি।

কবির শেখের উত্ত্যক্তের শিকার ওই শিক্ষিকা বলেন, আমি স্কুলে যাওয়া আসার পথে কবির প্রায়ই আমাকে উত্ত্যক্ত করতো। পথরোধ করতো। মাঝে মাঝে স্কুলে যাওয়ার পথে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিতো। আমি সামাজিক ভাবে এলাকাবাসীকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি।ওর উত্ত্যক্তের কারণে অনেক সময় ভয়ে ছুটি নিতাম।উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাইনি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওই শিক্ষিকা বলেন, কারা কবির শেখকে কে মারধর করেছে তা আমি জানি না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জণ ভক্ত বলেন , ওই শিক্ষিকা আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ছিলেন।এরপর ইউএনও স্যারকে নিয়ে কবির ও তার পরিবারের লোকজনদের ডেকে আনা হয়েছিল। তারা ওই শিক্ষিকাকে আর উত্ত্যক্ত করবে না বলে কথা দিয়েছিলেন।

কোটালীপাড়া থানার অফিসার এস আই সুকুমার কুন্ড বলেন , এ বিষয়ে কোন পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সুজন চন্দ্র দাস দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের এক সদস্য, চুরি মামলার এক আসামি, মারামারি মামলার এক আসামি ও পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় দুইজনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (৪ অক্টোবর) দাউদকান্দি থানা এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পুলিশের পৃথক দল অভিযানগুলো চালায়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-দাউদকান্দির চরচারিপাড়া এলাকার সাফায়েত মিয়ার ছেলে আল আমিন (৪৩), উত্তর নছরুদ্দিন প্রধান বাড়ির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান প্রধানের ছেলে মোহাম্মদ রানা (৪৫), মারুকা ইউনিয়নের কাটারাপাড়া জারু মিয়া প্রধান বাড়ির মৃত আলী আহাম্মদের ছেলে মো. রিপন মিয়া (৩৮), তুজারভাঙ্গা পূর্বপাড়ার হাজী মো. দাদন মিয়ার ছেলে সাইদ হাসান বাবু (৩৮) এবং একই এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম হোসেন ওরফে হিমেল (২৩)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আল আমিন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হিসেবে, মোহাম্মদ রানা চুরি মামলার আসামি হিসেবে এবং মো. রিপন মিয়া নিয়মিত মারামারি মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন। অপর দুইজন সাইদ হাসান বাবু ও ইব্রাহিম হোসেন ওরফে হিমেলকে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার পাঁচজনকে পৃথক মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।