October 29, 2026

অপরাধ

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের পীরগাছায় মাহাবুর রহমান ওরফে মহুবার (৫৫) ছুরিকাঘাতে নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে হাসানুর রহমানের (২২) সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার তাম্বুলপুর বাজারে ‘আইন ও অধিকার ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এমন নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন তাম্বুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারুকুল ইসলাম রাখু, রুবেল মিয়া, স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম এবং আইন ও অধিকার ফাউন্ডেশনের রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক সবুজ মিয়া। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া গ্রামে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মাহাবুর রহমানকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার ছেলে হাসানুর রহমানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, ঘটনার পর থেকে হাসানুর রহমান পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, কক্সবাজার,

কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত এক রোহিঙ্গা আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ১৬ এপিবিএনের শালবাগান ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ক্যাম্প-২৬ শালবাগানের এ/৪ ব্লকের কাঁচাবাজার এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

১৬ এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শালবাগান এপিবিএন ক্যাম্পের রাত্রিকালীন টহল দল ক্যাম্প-২৬-এর এ/৪ ব্লকে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওই এলাকার একটি দোকান থেকে টেকনাফ মডেল থানার মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত রোহিঙ্গা আসামি আবদুর রশিদ (২৪)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আবদুর রশিদ ক্যাম্প-২৬, শালবাগান, এ/৪ ব্লকের বাসিন্দা। তার এফসিএন নম্বর ২৭৫১৩৪। তিনি মো. রফিকের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবদুর রশিদের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় ২০২১ সালের একটি মামলা রয়েছে। মামলাটি ৩০ আগস্ট ২০২১ তারিখে দায়ের করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে টেকনাফ মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত মোবাইল টিমের ইনচার্জ এসআই (নিরস্ত্র) মো. মর্তুজার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

১৬ এপিবিএন জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ও হস্তান্তরের বিষয়টি শালবাগান এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মোঃ ইব্রাহিম আলী, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:

নাটোরের সিংড়ায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ কেজি ওজনের একটি জীবন্ত গাঁজার গাছসহ তোফাজ্জল হোসেন পিচ্চি (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের সাতপুকুরিয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫ কেজি ওজনের একটি জীবন্ত গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকেই তোফাজ্জল হোসেনকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে গোপনে গাঁজা চাষ ও বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।

সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মোঃ শাহ্ আলম সরকার স্টাফ রিপোর্টার।

গাজীপুর কাশিমপুর মেট্রোপলিটন থানা এলাকা থেকে হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং মাদক সংক্রান্ত পৃথক মামলায় গ্রেপ্তারকৃত মোট ১৩ জন আসামিকে বেলা ৩:০০ টার দিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
প্রাপ্ত তথ্য ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়,
ঝালমুড়িতে ঝালের পরিমাণ নিয়ে জখম ও হত্যার ঘটনা ঘটে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে কাশিমপুর থানাধীন চক্রবর্তী এলাকা সংলগ্ন স্থানে ২০ টাকার ঝালমুড়িতে ঝালের পরিমাণ নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে ঝালমুড়ি বিক্রেতা মোঃ আতাউর রহমান (৪২) ধারালো ছুরি দিয়ে গাজী রাফেজ আহম্মেদ নামের এক যুবককে গুরুতর আঘাত করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আতাউর রহমানকে ধারালো ছুরি সহ আটক করে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগ: সারদাগঞ্জ ডিবিএল গেইট এলাকার এক গার্মেন্টস কর্মীকে ভুল বুঝিয়ে রুমে নিয়ে আটক রাখা ও জোড়পূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে এবং সহায়তাকারী বাবলু হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মাধবপুর এলাকায় প্রবেশ করে গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে আরেক মামলায় আসামি মোঃ ইমন মিঞাকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদক ও অন্যান্য অভিযান: কাশিমপুরের বারেন্ডা মোল্লা মার্কেট ও নয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারসহ একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে এবং অনলাইন জুয়াড়ি আটক করা হয়।
সিডিএমএস পর্যালোচনায় তাদের বিরুদ্ধে পূর্বের বহু মাদক ও পেনাল কোডের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ জানায়, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:


যশোরের শার্শা উপজেলার কন্যাদাহ গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময় কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কন্যাদাহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নাভারণ ‘ক’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, আশানুর ও শহীদ আলীর নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল গাইনপাড়ায় হামলা চালায়। এ সময় গুলিবর্ষণ ও কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আহতরা হলেন— শরিফুল ইসলাম বকুল (৩০), শাহ আলম গাইন (৫০), আব্দুল্লাহ গাইন (২০), আকাশ হোসেন (১৪), মিটু গাইন (৩০) ও শাকিল গাইন (১৫)। তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া বাবু গাইন, ইয়ানুর গাইন ও আনারুল গাইনের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় কন্যাদাহ গ্রামের হাসানুজ্জামান হাসান গাইন বাদী হয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় মামলা করেছেন।

বাদী হাসানুজ্জামান হাসান গাইন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আশানুর ও শহীদ আলীর নেতৃত্বে একটি দল গাইনপাড়ায় হামলা চালায়। তাদের ছোড়া গুলিতে ছয়জন আহত হন এবং কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে ঘটনার পরপরই কোনো অস্ত্র উদ্ধার বা কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

নাভারণ ‘ক’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ, স্টাফ রিপোর্টার

গোপালগঞ্জ জোবায়ের ভূঁইয়া (২২) নামে এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জোবায়ের ভূঁইয়া সদর উপজেলার ঘোড়াদাইড় গ্রামের রমজান ভূঁইয়ার ছেলে। সে হাজী লালমিয়া সিটি কলেজের হিসাব বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

নিহতের চাচা মো. হামিম ভূঁইয়া জানান, সকালে কথা কাটাকাটির জেরে ওই গ্রামের শহিদ মোল্লার ছেলে সোহেলের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের একদল যুবক জোবায়ের ভূঁইয়ার ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। তাদের বেধড়ক পিটুনিতে গুরুতর আহত অবস্থায় জোবায়েরকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের সাদুল্ল্যাপুর এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় বসছে প্রকাশ্য জুয়ার আসর। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জুয়ার স্বর্গরাজ্যের কারণে এলাকায় মাদক, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ অপরাধের গ্রাফ আশঙ্কাজনকহারে ঊর্ধ্বমুখী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার সাদুল্ল্যাপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি স্পটে দৈনিক লাখ লাখ টাকার জুয়ার বোর্ড বসছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সমানতালে চলছে এই অবৈধ কারবার। দূর-দূরান্ত থেকে জুয়াড়িরা এসে ভিড় জমাচ্ছে এই এলাকায়। জুয়াকে কেন্দ্র করে এলাকাটি এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সবাই জানে কোথায় জুয়া হচ্ছে। পুলিশও প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু অলৌকিক কারণে তারা নীরব। মনে হয় যেন প্রশাসনের ‘সবুজ সংকেত’ নিয়েই এই অপরাধের মহোৎসব চলছে। জুয়াড়ি ও মাদক কারবারিদের ভয়ে সাধারণ মানুষ এখন মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামটির নির্জন এলাকা ও নির্দিষ্ট কিছু স্থানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ জুয়াড়ি চক্র। দিন-রাত সমানতালে চলা এসব আসরে দূর-দূরান্ত থেকে আসা জুয়াড়িদের অবাধ আনাগোনা বাড়ছে। ফলে গ্রামীণ স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে উদীয়মান তরুণ ও যুবসমাজকে। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক উঠতি বয়সী তরুণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

সাদুল্ল্যাপুর সহ অন্যান্য এলাকা এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির কারণে এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ দ্রুত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। পারিবারিক অশান্তি, কলহ এবং ডিভোর্সের সংখ্যাও জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই জুয়া এবং মাদকের সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে না দিলে সাদুল্ল্যাপুর সহ অন্যান্য এলাকাগুলো পুরোপুরি অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে র‍্যাব ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এই জুয়ার আখড়া বন্ধ করা হোক এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।

অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় থানা পুলিশের কার্যকর কোনো পদক্ষেপে না নেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন ও জুয়ার আসর বসে?তবে এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে র‍্যাব ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এই জুয়ার আখড়া বন্ধ করা হোক এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।

এ অবস্থায় গ্রামীণ সমাজ রক্ষা, সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে অনতিবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত জুয়াড়িদের গ্রেফতার ও জুয়ার আড্ডা স্থায়ীভাবে বন্ধে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:

যশোর সদর উপজেলার আউলিয়া গ্রামে নেশার টাকার জন্য বাবা-মাকে মারধর, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে ছেলে শুভ শেখের (২৬) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তার মা করিমন নেছা।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী করিমন নেছা আউলিয়া গ্রামের দেলোয়ার শেখের স্ত্রী। আদালতের বিচারক সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শুভ শেখ তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরণপোষণ দেন না। পাশাপাশি নেশার টাকা জোগাড় করতে বাড়ির বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি করে বিক্রি এবং বাবা-মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে করিমন নেছা তার ছেলেকে নেশার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পরামর্শ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুভ শেখ তার বাবা-মাকে মারধর করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে আহত বাবা-মাকে উদ্ধার করেন।

মামলার বাদীর আরও অভিযোগ, এ ঘটনা নিয়ে সালিশ বা মামলা করলে বাবা-মাকে হত্যার হুমকি দেন শুভ শেখ। স্থানীয় ও পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আইনগত প্রতিকার পেতে আদালতে মামলা করেন করিমন নেছা।

মোঃ বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো
ডিমলা নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে একটি ভারতীয় গরু আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
(২৩ সেপ্টেম্বর) বুধবার ভোর বেলা উপজেলার ঝাড়সিংহেশ্বর সীমান্ত বিজিবি অভিযান
সূত্রে জানা গেছে, ভোর আনুমানিক ৩,৩০ মিনিটে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধীন ঝাড়সিংহেশ্বর বিওপির একটি টহলদল সুবেদার মোঃ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। বিএসবি ও এসআইপি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার ৭৯৫/৫-এস থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঝাড়সিংহেশ্বর এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছিল।
এ সময় টহলদল কয়েকজন ব্যক্তিকে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে গবাদিপশু নিয়ে বাংলাদেশের দিকে প্রবেশ করতে দেখেতে পেয়ে বিজিবির উপস্থিতি টেরপেরে তারা গবাদিপশু ফেলে দ্রুত ভারতীয় সীমান্তের দিকে চলে যায়।
পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল ও আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে একটি ভারতীয় গরু উদ্ধার করেন। বিজিবির হিসাবে উদ্ধার করা গরুটির আনুমানিক মূল্য ৪৫ হাজার টাকা হতে পারে বলে যানায়।
আটক গরুটির বিষয়ে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কাস্টমস কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশু পারাপার ও চোরাচালান বন্ধে টহল এবং নজরদারি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে যানায়।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে ২০২১ সালের একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত রোহিঙ্গা আসামি সেলিম (২৪)কে গ্রেপ্তার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে টেকনাফের ২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উনচিপ্রাং এ/৪ ব্লকের একটি বসতঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৬ এপিবিএন সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উনচিপ্রাং এপিবিএন ক্যাম্পের এসআই (নিরস্ত্র) শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বে রাত্রীকালীন টহল দল ক্যাম্প-২২-এর এ ব্লকে অভিযান চালায়। এ সময় এ/৪ ব্লকের ৫৫৫ নম্বর ঘর থেকে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এপিবিএন সূত্র আরও জানায়, গ্রেপ্তার সেলিমের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির জিআর নম্বর ২৮/২১। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৬৪, ৩৮৫ ও ৩২৩ ধারায় অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে এপিবিএনের স্কটের মাধ্যমে সেলিমকে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ১৬ এপিবিএন।