October 29, 2026

অপরাধ

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ :

কক্সবাজারের টেকনাফে ইভটিজিং ও অশ্লীল শারীরিক অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনের ঘটনায় মোহাম্মদ আরকান (২৩) নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে টেকনাফের ২১ নম্বর চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) কার্যালয়ে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন। আদালত পরিচালনা করেন ক্যাম্প সিআইসি মো. রনি আলম নূর, যিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পের এ/০৪ ব্লকের বাসিন্দা জান্নাতারা (২৭) নামে এক নারীকে লক্ষ্য করে ইভটিজিং ও অশ্লীল শারীরিক অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে একই ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আরকানের বিরুদ্ধে।

এ সময় স্থানীয় রোহিঙ্গারা তাকে আটক করে এপিবিএন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট ব্লকের মাঝির জিম্মায় দেওয়া হয়।

সোমবার এ ঘটনায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোহাম্মদ আরকানকে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৫০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এপিবিএন জানায়, এ ঘটনায় ২১ নম্বর চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের রাধানগর এলাকায় অবস্থিত শ্রীশ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। মন্দিরের পেছনের দিকের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার, ছয়টি মূর্তি এবং ভক্তদের প্রণামির বাক্সের টাকা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে মন্দিরের পুরোহিত পূজা দিতে এসে চুরির বিষয়টি দেখতে পান।

পরে মন্দির পরিচালনা কমিটিকে জানানো হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে আখাউড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে মন্দিরের পেছনের দিকের গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করে।

পরে মন্দিরে থাকা মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া ছয়টি মূর্তির মধ্যে পিতলের মূর্তিও রয়েছে। এ ছাড়া মন্দিরের দুটি দানবাক্সের তালা ভেঙে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাক্সগুলোতে প্রায় ছয় মাসের প্রণামির টাকা জমা ছিল বলে মন্দির পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ জানান, সকালে চুরির খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন। মন্দিরের পেছনের দিকের গ্রিল কেটে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে। ওই পাশের মেরামতকাজের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা খোলা ছিল বলেও তিনি জানান।

মন্দিরের পুরোহিত বিমল চক্রবর্তী জানান, সকালে পূজা দিতে এসে তিনি চুরির বিষয়টি দেখতে পান। পরে সংশ্লিষ্টদের জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

আখাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী রেজা মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কীভাবে চুরির ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের প্রকৃত পরিমাণ এবং প্রণামির বাক্স থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মন্দির-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক সেবনরত অবস্থায় চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোররাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়ার গুঞ্জরগড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—আরাজী মাটিগাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও জাহিদুল ইসলাম (৪৫), লস্করা এলাকার তুষার বর্মন (২৭) এবং মাটিগাড়া এলাকার পরিমল (৩৫)।
অভিযানে আটক প্রথম তিনজনকে দুই মাস করে এবং চতুর্থজনকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও
০১৭৪০৮৬১০৮০

এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩৫৩ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও অপরাধপ্রবণতার অভিযোগ রয়েছে—এমন বিভিন্ন স্থানকে অভিযানের আওতায় আনা হয়। অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।
পুলিশ জানায়, অভিযানে আটক ৩৫৩ জনের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পুলিশ আরও জানায়, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা এবং কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।

মোঃ সিমান্ত তালুকদার

কুমিল্লায় আলোচিত জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার কথিত প্রেমিক রাজুকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর তাকে কক্সবাজার থানা নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে রাজুকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী রাজুকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমিন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রাজুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাজমিনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন এই কথিত প্রেমিক রাজু। রাজুর দাবি, রাতে তাজমিন কুমিল্লা শহরের বাসায় গিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ দেখতে পায়। পরে মা-বাবাকে ফোন করেও সাড়া না পেয়ে বিষয়টি তাকে জানায়।

তাজমিনের সঙ্গে অটোরিকশায় শেষ কী কথা হয়েছিল, চাঞ্চল্যকর তথ্য জানালেন রাজু
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসায় ঢুকতে না পেরে তাজমিন পরে এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে। সকালে বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা জানালে তিনি তাজমিনকে ভিডিও কল করেন। এ সময় তাজমিনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পান তিনি। পরে এ নিয়ে তাজমিনকে বকাঝকা করেন বলে দাবি করেন ওই ব্যক্তি।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মুন্সি মণ্ডলের টোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৭টি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫, রাজশাহীর যৌথ আভিযানিক দল। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে সদর থানাধীন ৫ নম্বর মহারাজপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সি মণ্ডলের টোলা এলাকার একটি লেবুবাগানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসআরবি-৫-এর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সহযোগিতায় ককটেলগুলো উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আভিযানিক দল পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা ককটেলগুলো ওই স্থানে মজুত করে রেখেছিল। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব ককটেল সেখানে রেখেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। উদ্ধার করা
ককটেলগুলো পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের সাহেবনগরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী সততা ব্রিকস ফিল্ডে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে স্পিডবোট ও নৌকাযোগে আসা প্রায় ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ইটভাটায় হানা দিয়ে নাইটগার্ড ও দুই ম্যানেজারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভাটার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, ডাকাত দলের সদস্যরা ইটভাটার বিদ্যুতের খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার, দুটি মেশিন, চারটি মোটর, সাতটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ সময় ভাটার নাইটগার্ড আলফাজ মিয়ার হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। পাশাপাশি ভাটার দুই ম্যানেজারসহ কর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে ডাকাত দলের সদস্যরা।

ভাটার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ডাকাতি শেষে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় ডাকাত দলের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভাটার মালিকপক্ষ ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

ভাটার নাইটগার্ড আলফাজ মিয়া বলেন, “ডাকাতরা আমাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। ডাকাতির পর আমাদের মেরে ফেলার হুমকিও দিয়ে গেছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাতে সলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির নিয়মিত টহল না থাকায় মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রাজিব কান্তি নাথ বলেন, “এ বিষয়ে আমরা অবগত নই। এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।”

এদিকে, সততা ব্রিকস ফিল্ডের মালিকপক্ষের লোকজন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার মধ্যে নবীনগর থানায় ডাকাতির মামলা দায়ের করা হবে।

মেঘনা নদীর তীরবর্তী একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধ ডাকাতির এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্পিডবোট ও নৌকাযোগে এসে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটের অভিযোগ ওঠায় নদীপথে নিরাপত্তা ও নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি উঠেছে।

ভাটার মালিকপক্ষ ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ :

কক্সবাজারের উখিয়া থেকে নিখোঁজ তিন রোহিঙ্গা কিশোরকে উদ্ধার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ( (এপিবিএন) সদস্যরা। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়া থানার জাতলি বাজার এলাকার একটি মসজিদ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া কিশোররা হলো—শফিউল আলম (১৪), মো. আজাদ (১৩) ও মো. আরমান (১২)। তারা উখিয়ার ২১ নম্বর চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

২১ নম্বর চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে তিন কিশোর ক্যাম্পের নিজ নিজ বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। এরপর তারা আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাননি।

পরে রোববার সকাল ৭টার দিকে নিখোঁজ কিশোরদের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি ২১ নম্বর চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্পকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে এপিবিএনের একটি বিশেষ দল তাদের উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে।

একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতলি বাজার এলাকার একটি মসজিদ থেকে তিন কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ২১ নম্বর চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্পের সদর ডিউটি রেজিস্টারে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

রনজিৎ সরকার রাজ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:দিনাজপুরের বীরগ ঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালত উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মাহানপুরে অভিযান চালিয়ে আলম হোসেনের কাছে ভাড়া নেয়া গোডাউনে আলমঙ্গীর হোসেনের অবৈধ মজুদ ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ, নির্ধারিত মুল্যে বিক্রি করে সরকারী কোষাগারে জমা করার নির্দেশ।

১০ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যার পুর্বে গোপন সংবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মাহানপুর হাটের অদুরে শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা আবেদ আলীর পুত্র ধান চাল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন অবৈধভাবে ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার, যার সরকারি মূল্য ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩০০ টাকা, মজুদ অবস্থায় চোরাই পথে বিক্রির চেষ্টাকালে থানা পুলিশ আটক করে।

পরে সেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে উল্লেখিত অবৈধ সার গুলি জব্দ করেন এবং ওই এলাকার কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার দিলীপ রায়ের জিম্মায় দেন।

তিনি আগামীকালের মধ্যেই জব্দকৃত সার গুলি প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সরকারী নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

অভিযানে উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম সক্রিয় সহযোগিতা করেন।

পুলিশ ও ভ্রাম্যমান আদালতের উপস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত অবৈধ মজুদদার আলমগীর হোসেন পালিয়ে যায়।

মুটোফোনে কথা হলে আলমগীর হোসেন ২০০ বস্তা টিএসপি সার খোচাবাড়ী হতে কিনে এনে গোডাউনে মজুদের কথা স্বীকার করে কিন্তু তার কাছে সার ক্রয়ের কোন প্রমানপত্র, ম্যামো বা ডক্যুমেন্ট নাই মর্মেও জানায়।

সে সময় সাবেক উপজেলা ভিসি এবং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের বহুবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র দেবশর্মা,

বীরগঞ্জ থানার সঙ্গীও পুলিশ ফোর্সসহ এস আই দিপু রায়,

ডিআইও হায়দার আলী, ডিএসবি নুর আমিন,

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহসিন আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার এবং কৃষক দলের সভাপতি দলিল লেখক বাবুল,

গোডাউন মালিক আলম হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সংবাদকর্মী ছাড়াও অনেক উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা কৃষি অফিস ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে জব্দকৃত সারগুলি ১১ অক্টোবর রবিবার ওই ইউনিয়নের প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় করে বিক্রয় লব্ধ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিবেন।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে ০৭ পিস ইয়াবা ও ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ১০ অক্টোবর/২৬ এই অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, রংপুর-এর ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক এস. এম. এলতাস উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে এই সফল অভিযান চালানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোঃ তুহিন মিয়া (২৫): তিনি মিঠাপুকুরের চিথলী দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আভিযানিক দল তাঁর কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে।
মোঃ দুলু মিয়া (৫০): তিনি উপজেলার নানকর রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারের পর আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক ০২টি মোবাইল কোর্ট মামলা দায়ের করা হয়। মোবাইল কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় আসামিদের প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও নির্দিষ্ট মেয়াদে সাজা ভোগ করতে হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এবং মিঠাপুকুর উপজেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে এই ধরণের চিরুনি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।