October 29, 2026

অন্যান্য

মো. রফিকুল ইসলাম সোহাগ, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কোরবান নগর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবুল কালাম সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ ও মতবিনিময় শুরু করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ইউনিয়নের হাসনবাহার গ্রামে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় এলাকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

হাসনবাহার গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মানিক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সামাজিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সভায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আবুল কালাম বলেন, “কোরবান নগর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মতামত, ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। অবহেলিত এই ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করাই আমার মূল লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর, আধুনিক ও সমৃদ্ধ কোরবান নগর ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে চান। এ জন্য তিনি আগামী নির্বাচনে ইউনিয়নবাসীর ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন হাসনবাহার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আব্দুস সোবহান, মো. আয়ুব আলী, সামসুল মিয়া, মঈন উদ্দিন, আবুল মিয়া, ইউসুফ আলী, ফারুক মিয়া, সৈকত আলী, কালাই মিয়া, সোওয়াব আলী, সফর আলী, ঈমান আলীসহ স্থানীয় সামাজিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সভায় উপস্থিত বক্তারা কোরবান নগর ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে যোগ্য নেতৃত্বের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন স্থানীয়রা।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নে কুমারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ শে সেপ্টেম্বর কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন মাস্টারের সার্বিক আয়োজনে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও আগামী দিনের পথচলার দিকনির্দেশনা দেন রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী এমপি । অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও শিক্ষাসামগ্রী উপহার দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম রব্বানী এমপি কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন,কেবল ভালো ফলাফল করলেই চলবে না, বরং নৈতিক শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে একজন আদর্শ ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মোবাইল ও ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান। একই সাথে দেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন তিনি।

গোলাম রব্বানী এমপি আরো বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের মরণছোবল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার থেকে দূরে থেকে সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ার তাগিদ দেন।শুধু জিপিএ-৫ পাওয়ার লক্ষ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জায়গা করে নিতে এখন থেকেই কঠোর পরিশ্রম করার পরামর্শ দেন।স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের আয়োজক ও কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন মাস্টার শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হওয়ার পরামর্শ দেন।

রনজিৎ সরকার রাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি:

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ বছর বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলায় মোট ২৭৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এর মধ্যে বীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৬৩টি এবং কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১১২টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের কাজ চলছে। প্রতিমা তৈরির কারিগর ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। পূজাকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

পূজাকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিয়মিত যোগাযোগ ও মনিটরিং করছেন।

দিনাজপুর-১ আসনের পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবু মহেশ রায় এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু গোপাল চন্দ্র দেবশর্মা জানান, এবার আগে থেকেই প্রতিটি মণ্ডপে প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু মণ্ডপগুলোর দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রাখছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

ইফতিয়াজ সুমন, স্টাফ রিপোর্টার:

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা আবুল কাশেম। নির্বাচনী তৎপরতার অংশ হিসেবে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।

আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি শিক্ষা, সমাজসেবা ও তরুণদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর পরিচিতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা। সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।

রাজনীতির পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও আবুল কাশেমের আগ্রহ রয়েছে। তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে তিনি কাজ করে আসছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানান।

বর্তমানে সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও এলাকায় গিয়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে দেখা করছেন আবুল কাশেম। এ সময় তিনি তাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করছেন।

চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে তাঁর অগ্রাধিকার সম্পর্কে আবুল কাশেম বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, তরুণদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে চান। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

আবুল কাশেম বলেন, “মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ হলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার ভেদাভেদ না করে সিলেট সদর উপজেলার প্রতিটি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য একটি উন্নত, আধুনিক, শিক্ষাবান্ধব ও জনবান্ধব উপজেলা গড়ে তোলা।”

তিনি সিলেট সদর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা, আস্থা ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থীতা ও নির্বাচনী সমীকরণ দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

ছাইম খান বিশেষ প্রতিনিধি,গোপালগঞ্জ।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আইয়ুব আলী খালাসি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাশুড়িয়া মাদ্রাসা মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সরকারি বিধি অনুযায়ী তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে পারিবারিকভাবে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।

রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানের আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দিদারুল আলম। এ সময় টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।

গার্ড অব অনারের পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী খালাসিকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

এর আগে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৪ বছর।

আইয়ুব আলী খালাসি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি নিজ এলাকায় বসবাস করছিলেন।

তাঁর শেষ বিদায়ের সময় পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনাবাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

লুৎফর সিকদার, স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ।

গোপালগঞ্জ জেলা আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর খুলনার আয়োজনে গোপালগঞ্জ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষক ও ব্যাবসায়ীদের উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ হয়।কৃষি পণ্য সংরক্ষণ, সংগ্রহ ও বাজারজাত করাণের উপর কৃষক, ব্যাবসায়ী ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাম্মদ মফিদুল ইসলাম , আর শক্ত বিভাগীয় উপ পরিচালক ( যুগ্মসচিব ), কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগ ঢাকা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে ছিলেন আব্দুস সালাম তরফদার, সহকারী পরিচালক প্রশিক্ষণ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কৃষি বিপণন অধিদপ্তর খুলনা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলার সুযোগ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি বিপিণন কর্মকর্তা জনাব মোঃ আরিফ হোসেন। প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২৫ জন কৃষক ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা এইসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠী তরুণ যুবক , কৃষক, নারী নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত আরো জোরদার হবে। বর্তমান সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন আমরা চাই কৃষি বিপণন বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে!!!

মোহাম্মদ হোসাইন:,কক্সবাজার,

কক্সবাজারের উখিয়ায় রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. জিয়াউদ্দীন। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর নেন।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছালে পরিষদের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বিভাগীয় কমিশনারকে স্বাগত জানানো হয়। পরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সাধারণ মানুষের জন্য চলমান সেবাসমূহ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণ যাতে দ্রুত ও সহজে সরকারি সেবা পায়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। পরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

এ সময় উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আকতার, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনাম, ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনার উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পরিদর্শন করেন। পরে তিনি উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

​নীলফামারী প্রতিনিধি:

শিশুশ্রম হ্রাস, বাল্যবিয়ে রোধ এবং ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অলাভজনক সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট’ (এএফডি)-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
​ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বাইসাইকেল র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
​রঙিন বেলুন উড়িয়ে র্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) ফারুক আহমেদ। এছাড়াও নীলফামারী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এএফডির নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, “নীলফামারী জেলা বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যে বয়সে শিশুদের হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সে বয়সে তারা শ্রমে জড়িয়ে পড়ছে এবং বাল্যবিয়ে হয়ে যাচ্ছে। এই বাইসাইকেল র্যালির মাধ্যমে আমরা সমাজকে বার্তা দিতে চাই—যেন কোনো শিশু শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়ে এবং বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমের শিকার না হয়।”
​প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “এটি অত্যন্ত চমৎকার ও সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। বাইসাইকেল র্যালির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। আমরাও চাই জেলাটি বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রম মুক্ত হোক।”
​এএফডির প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজল রায় জানান, সেভ দ্য চিলড্রেন ও নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক সহায়তায় নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলায় নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিয়ে রোধ এবং শিশুশ্রম হ্রাসে কাজ করা হচ্ছে। এই ক্যাম্পেইনে ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০ জন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধি অংশ নেন।

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:

যশোর সদর উপজেলার আউলিয়া গ্রামে নেশার টাকার জন্য বাবা-মাকে মারধর, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে ছেলে শুভ শেখের (২৬) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তার মা করিমন নেছা।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী করিমন নেছা আউলিয়া গ্রামের দেলোয়ার শেখের স্ত্রী। আদালতের বিচারক সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শুভ শেখ তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরণপোষণ দেন না। পাশাপাশি নেশার টাকা জোগাড় করতে বাড়ির বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি করে বিক্রি এবং বাবা-মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে করিমন নেছা তার ছেলেকে নেশার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পরামর্শ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুভ শেখ তার বাবা-মাকে মারধর করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে আহত বাবা-মাকে উদ্ধার করেন।

মামলার বাদীর আরও অভিযোগ, এ ঘটনা নিয়ে সালিশ বা মামলা করলে বাবা-মাকে হত্যার হুমকি দেন শুভ শেখ। স্থানীয় ও পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আইনগত প্রতিকার পেতে আদালতে মামলা করেন করিমন নেছা।

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলায় সরকারি অর্থায়নে সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও ব্যবহৃত নিম্নমানের উপকরণ সরিয়ে না নিয়ে পুনরায় একই ধরনের সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরুর অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ডিমলার বাবুরহাট জিসি-ডালিয়া আরএইচ সড়ক ভায়া শুটিবাড়ি সড়ক সংস্কারকাজে এ অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় কাজ শুরু করে। এ সময় রাবিশ মিশ্রিত খোয়া, ভাঙা ইটসহ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সড়কটির সংস্কারকাজ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩১৫ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ২ কোটি ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৯ টাকা ২৫ পয়সা। কাজটি পেয়েছে নীলফামারী সদরের মসজিদপাড়া এলাকার মেসার্স সিদ্দি ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কস। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. মাহফুজার রহমান সাদ্দাম।

কার্যাদেশ অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ কাজ শুরু হয়ে ১৮ মে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও কাজ শেষ হয়নি। কাজের শুরুতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। পরে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান ও এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সড়কটি পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের দাবি, পরিদর্শনের পর নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কাজ বন্ধ রাখা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দেশনা অনুযায়ী নিম্নমানের খোয়া, রাবিশ ও ভাঙা ইট পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হয়নি। বরং সেগুলো ব্যবহার করেই পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কার্পেটিং তুলে সংস্কারের প্রস্তুতি চলছে। কোথাও রাবিশ মিশ্রিত খোয়া দিয়ে বেজ তৈরির কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সড়কের দুই পাশে রেজিংয়ের ক্ষেত্রেও ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী আশাবাদী হয়েছিল। কিন্তু নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ হওয়ার পরও একই ধরনের মালামাল দিয়ে কাজ করায় তারা হতাশ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এলজিইডি নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামীম আখতার বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নতুন ও ভালো মানের মালামাল দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমানও একই দাবি করে বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অনিয়ম পাওয়ায় আগের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নতুন করে মানসম্মত মালামাল সরবরাহ করে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং প্রকৌশলীদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পে ব্যবহৃত খোয়া, ইট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর গুণগত পরীক্ষা, কাজের পরিমাণ, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার এবং পূর্বের পরিদর্শন প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ সম্পন্ন হলে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তাই প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী ও কাজের মান নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।