October 28, 2026

DailyJanotarDiary@gmail.com

ডেইলি জনতার ডায়েরি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে সংবাদ প্রতিবেদন ও বিভিন্ন ফিচারধর্মী কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ফ্যামিলি কার্ড কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সম্পত্তি নয়, বরং এটি জনগণের অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন।

বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভুল্লী উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের লক্ষীরহাট এলাকায় এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও এ কার্ড নিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার বিষয়টি জড়িয়ে প্রচার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ ১৮ কোটি মানুষের করের টাকা। তাই এটি কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে দল-মত নির্বিশেষে।

জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের সময়মতো সার সরবরাহ, সারের সিন্ডিকেট বন্ধ, বিদ্যুৎ ও তেলের দাম কমানো এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের দরকার কৃষকরা যেন ঠিকমতো সার পান। আমরা গ্যাস চাই, বিদ্যুৎ চাই। এসব দিতে না পারলে গদি ছেড়ে দিতে হবে।”

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জনগণের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে ডিসেম্বরের পর জনগণই সরকারের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁওয়ের শূন্য আসনে অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনকে তিনি জনগণের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে উল্লেখ করেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়নের কথা বলা হলেও পৌরসভার অনেক রাস্তা এখনো কাঁচা। বর্ষাকালে এসব রাস্তায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানান তিনি।

নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকেও অর্থায়নের চেষ্টা করে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াতের এই প্রার্থী। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়ার অঙ্গীকার করে তিনি মাদক ব্যবসা ও এর পেছনে সহযোগিতার অভিযোগ তুলে ধরেন।

তবে মাদক ব্যবসা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তাঁর এসব অভিযোগের পক্ষে বৈঠকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনী উঠান বৈঠকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে মো. আকরাম ও হুজাইফা নামে দুই বছর বয়সী জমজ দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মেরকুটা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত দুই শিশু ওই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আক্কাস মিয়ার জমজ ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে দুই ভাই বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলাধুলা করছিল।

একপর্যায়ে তাদের খেলার বল পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। বলটি তুলতে গিয়ে প্রথমে এক ভাই পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। এ সময় তাকে বাঁচাতে অপর ভাইও পানিতে নামে। পরে দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়।

এদিকে, দীর্ঘক্ষণ দুই শিশুকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে তাদের উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

মাত্র দুই বছর বয়সী দুই সন্তানকে একসঙ্গে হারিয়ে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। জমজ দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে মেরকুটা উত্তরপাড়া গ্রামজুড়েও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জে সাংবাদিক লুৎফর সিকদারের আদরের কন্যা তাসনিম ইসলাম (নওমি)-এর ১২তম শুভ জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উপস্থিতিতে জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা ও বিভিন্ন আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তাসনিম ইসলাম (নওমি) গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তার জন্মদিন উপলক্ষে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের গোপালগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক লুৎফর সিকদার তার প্রিয় কন্যার জন্মদিনে আবেগঘন শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দেখতে দেখতে তার আদরের মেয়ের জীবনের ১২টি বছর পার হয়ে গেল। মেয়ের মিষ্টি হাসি ও নিষ্পাপ মুখ তার জীবনের সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। তিনি মেয়ের আগামী দিনগুলো অনাবিল আনন্দ, সাফল্য ও সুস্বাস্থ্যে ভরে উঠুক বলে কামনা করেন।

এদিকে নওমির ১২তম জন্মদিনে পরিবারের সদস্যরা তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুন্দর জীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। মহান আল্লাহ যেন তাকে একজন সৎ, যোগ্য ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার তৌফিক দান করেন এবং তার জীবনের প্রতিটি স্বপ্ন পূরণ করেন—এমন প্রার্থনাও করেন তারা।

পরিবারের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাবা লুৎফর সিকদার, মা, ভাই রেজোয়ান ইসলাম (সীমান্ত), ভাই রাজিব রায়হান, বড় ভাবী রুকাইয়া (রাইসা) এবং বড় বোন সানজিদা ইসলামসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়স্বজন।

প্রিয় নওমির জীবনের নতুন বছরটি আনন্দ, ভালোবাসা, সাফল্য ও সুন্দর মুহূর্তে পরিপূর্ণ হয়ে উঠুক—এই প্রত্যাশায় পরিবারের সবাই তাকে জানিয়েছেন একরাশ লাল গোলাপের শুভেচ্ছা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।

শুভ জন্মদিন, নওমি বাবু! 🎂🌸❤️

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ঘাঘর কান্দা এলাকা থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ১০ পিস ইয়াবাসহ দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঘাঘরকান্দা গ্রামের আফজাল হোসেন ও সাহিদা বেগম দম্পতির ছেলে মো. মহিদুল (২৯) ও মো. হাতেম (২৭)।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ আভিযানিক দল মহিদুলের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ১০ পিস ইয়াবা জব্দ করে। এসময় মহিদুল ও তাঁর ভাই হাতেমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নবী নেওয়াজ বলেন, কোটালীপাড়া থানায় গ্রেপ্তারকৃদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে গোপালগঞ্জ জেলাজুড়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন, রাজশাহী

রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর অ্যাকাউন্টে প্রণোদনার মোট ১২ কোটি টাকা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশ ও জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বোতাম টিপে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চাষীদের ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাকাউন্টে এই অর্থ হস্তান্তর করেন।

অর্থ হস্তান্তরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এখন আমি কম্পিউটারের একটা বোতাম চাপ দেব। চাপ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কয়েক মিনিটের মধ্যে আখচাষী ভাইদের অ্যাকাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সহযোগিতা ইনশাআল্লাহ পৌঁছে যাবে।’

কৃষির উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকার আখচাষীদের সহযোগিতার জন্য মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দের অর্থ ৩৮ হাজার ৯৭০ জন চাষীর কাছে পৌঁছে যাবে। আমি আশা করছি, সরকারের এই সহযোগিতা কৃষকদের আখ চাষে উৎসাহিত করবে ও সার্বিক সহায়তায় আসবে।’

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কম্পিউটারের বোতাম চাপেন। এ সময় উপস্থিত হাজারো মানুষ সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

সমাবেশ মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী প্রতীকীভাবে ১৫ জন আখচাষীর হাতে প্রণোদনার অর্থ হস্তান্তরের চেক তুলে দেন। চেকপ্রাপ্ত চাষীরা হলেন—আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে রাজশাহী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়।

এর আগে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে পৌঁছালে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক তাঁকে করতালি ও স্লোগানে স্বাগত জানান।

জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

রাজশাহীর দলীয় ও সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী শহরের ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন। রাজশাহী সফর শেষে আজ সন্ধ্যার পর প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের দড়ি লাপাং এলাকায় মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে পরিস্থিতি ক্রমেই আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছে।

নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা ও ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে এবং ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তিনি দড়ি লাপাং এলাকায় গিয়ে নদীভাঙনের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দুর্ভোগ, উদ্বেগ ও সমস্যার কথা শোনেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে দড়ি লাপাংসহ নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বসতভিটা ও মূল্যবান সম্পদ হারানোর আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। অতীতেও এ এলাকায় নদীভাঙনে বাড়িঘর বিলীন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পরিদর্শনকালে নদীভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এ সময় নবীনগর উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলামের। গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও
আজ ২০ অক্টোবর রবিবার
ছয় দিন পরও মৃত্যুদণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পারেনি তাঁর পরিবার।

এ ঘটনায় হতবাক স্বজন ও প্রতিবেশীরা। অন্যদিকে, নজরুলের মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে সেদিনই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)।

নিহত নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে এসএসসি পাস করার পর ২০২২ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে মক্কা নগরীর পবিত্র হারাম শরিফে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় সাত মাস পর থেকে নজরুলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরে একদিন হঠাৎ ফোন করে তিনি জানান, কারাগারে বন্দি রয়েছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায়ও পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। এ সময় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন নজরুল।

নজরুলের বাবা আবদুল বাছির জানান, প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে তাঁর ছেলে সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে গত রোববার ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষবারের মতো কথা হয়।
আবদুল বাছির বলেন, ‘প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে সে কারাগারে ছিল। গত রোববার আমাকে ফোনে জানায়, সে সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এটাই তার সঙ্গে আমার শেষ কথা।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৪ অক্টোবর নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন তাঁরা। সৌদি আরবে অনৈতিক কাজের অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কী অভিযোগে, কোন মামলায় এবং কী প্রক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরিবারের সদস্যরা এখনো জানতে পারেননি।
নজরুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা সইতে না পেরে সেদিনই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর ফুফু আবেদা বেগম। স্বজনদের কাছে নজরুলের মৃত্যু যেন একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে না পারার গভীর অনিশ্চয়তা।

পরিবারের একমাত্র ভরসা হয়ে বিদেশে যাওয়া নজরুলের এমন পরিণতিতে বিরামপুর গ্রামের মানুষও হতবাক। তাঁর মৃত্যুদণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছেন।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি


৭ বছর ধরে বেতন-ভাতা পান না শিক্ষক-কর্মচারীরা

শ্রেণিকক্ষ,স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির সংকট

নেই খেলার মাঠ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা ক্যাম্পাসের কোয়ার্টারে বসবাস করেন। তাদের সন্তানদের দূরের স্কুলে না পাঠিয়ে, ক্যাম্পাসের মধ্যেই মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয় । বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চমৎকার ও নিরাপদ পরিবেশ শিশুদের মানসিক এবং সামাজিক বিকাশে সাহায্য করে। ক্যাম্পাসের বিশাল জায়গা, খেলার মাঠ এবং অন্যান্য অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় বা ভেতরের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা সহজ হয়। এমন বিবেচনায় ২০১৭ সালে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের লাইব্রেরীর পাশে মনোরম পরিবেশ একটি স্কুল যাত্রা শুরু করে । নাম দেওয়া হয় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তখন ১৬ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথম বছর এখানে ৬৭৫ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। খোলা হয়নি কলেজ শাখা । ২০১৯ সালের পর শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায় । ২০২০ সালে ঢাকা বোর্ড থেকে বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুমোদন পায়। পরে স্কুলটিকে ভিসির বাসভবনের পাশে স্থানান্তর করা হয় । তারপর থেকেই বিদ্যালয়টির সৌন্দয্য হারাতে থাকে। শ্রেণিকক্ষ সংকট, নিরাপদ খাবার পানির অভাব, স্যানিটেশন ও পরিবহন সমস্যায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমতে থাকে । বর্তমানে এ বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণিতে মাত্র ১৬০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুকাইয়া খানম বলে, আমি এখানে প্লে থেকে ৫ শ্রেণিতে পড়ছি। আমাদের বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠানো ভাল নয়। ওয়াশ রুম ও নিরাপদ খাবার পানির সমস্যা রয়েছে। ভিসি স্যার আমাদের এ সমস্যা সমাধান করবেন বলে আমি প্রত্যাশা করছি।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরিদুজ্জামান আহসাফ বলে, ওষাশ রুমের সাথে ঝোপ-জঙ্গল। সেখানে সাপ থাকে । ভয় লাগে। এছাড়া বৃষ্টি হলে ক্লাস রুমের চাল দিয়ে পানি পড়ে।

৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়ান বলে, খেলার মাঠ নেই। রোদে প্রচন্ড গরমের মধ্যে ক্লাস করতে হয়। বৃষ্টি হলে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যাই । খুব কষ্ট করে ক্লাস করি। স্কুলে খেলার মাঠ নেই। শ্রেণি কক্ষের অবস্থা খুব খারাপ। তাই স্কুলের খেলার মাঠ ও নতুন ভবন চাই।

প্রাক প্রাথমিকের তাইবুল্লাহ রোহান ও প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিকুল্লাহর মা তাসলিমা বেগম বলেন, এখানে শিক্ষকরা আন্তরিকতার সাথে পাঠদান করেন। তারা শিশুদের সুন্দরভাবে টেক কেয়ার করেন। তাদের কারণেই ২ ছেলেকে এখান থেকে নিয়ে অন্য স্কুলে দেইনি। তারা এখানেই পড়ছে ।

৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুর রহিমের মা সায়লা জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চমৎকার ও নিরাপদ পরিবেশ শিশুদের মানসিক এবং সামাজিক বিকাশে সাহায্য করে। এ কারণে এখানে সন্তানকে ভর্তি করিয়েছে। কিন্তু এখানে সুযোগ সুবিধিার তুলনায় সমস্যা অনেক বেশি । এক কক্ষে একই সাথে ২টি ক্লাস নেওয়া হয়। ক্লাসে পর্যাপ্ত ফ্যান নেই। আর অন্যান্য সমস্যাতো রয়েছেই।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো: নাজমুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমি এ স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেছি। এখন গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসই বিভাগে পড়ছি। স্যার-ম্যামরা বিদ্যালয়টিকে নিজের সন্তানেরমতো করে গড়ে তুলেছেন। কিন্তু তারা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এটি খুব কষ্টের। ‍বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটির সমাধান দেবেন বলে আমি আশা প্রকাশ করছি।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ঈমান আলী বলেন, আমি বর্তমানে গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইন্যান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে পড়াশোনা করছি। আমাদের সময় বিদ্যালয়ের অবস্থা খুব ভাল ছিল। এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বিদ্যালয়টি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এটি সমাধান করে বিদ্যালয়টিকে মডেল বিদ্যালয়ে পরিনত করতে হবে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাদিম আহমেদ বলেন, ২০১৯ সালে ভিসি চলে যওয়ার পর আমাদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে আছে। স্কুলটি লাইব্রেরির পাশ থেকে স্থানান্তর করে ভিসি স্যারের বাড়ির পাশে আনা হয়। তারপর থেকে সংকট বাড়তে থাকে। এখন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। ভিসি স্যার স্কুলের সমস্যা দূর করলে এথানে শিক্ষারমান ও

শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাবে। এটি জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

সহকারী শিক্ষক আফরোজা খানম বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে, বিদ্যালয়টির সমস্যা সমাধানের জন্য ভিসি স্যারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি ।

সহকারী শিক্ষক আলেয়া বেগম বলেন, দীর্ঘ ৭ বছর বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ও আমাদের পকেটের টাকা দিয়ে স্কুল চালিয়ে যাচ্ছি। এতে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কোন কোন শিক্ষক খুলনা, কোটালীপাড়া সহ বিভিন্ন জেলা,উপজেলা থেকে নিয়মিত স্কুল করেন। তাদের কষ্ট আরো বেশি। তাই সদ্য যোগদান করা ভিসি স্যার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করবেন বলে দাবি জানাচ্ছি।

ভিসি প্রফেসর ড. মো: সোহেল হাসান বলেন, বিদ্যালয়টির কোন অনুমোদন নেই। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামেও নেই। এখানে বিদ্যালয় হয়েছে। শিক্ষক, কর্মচারী-শিক্ষার্থীও রয়েছে। তাই আমি কমিটি করে এটি অর্গানোগ্রামের মধ্যে অন্তভূক্ত করব। তারপর ইউজিসির অনুমোদন নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেব। স্কুলের ব্যাপারে যা যা করার, তা আমি করব। শিশুরা জাতির জাতির ভবিষ্যত। তাদের শিক্ষা প্রসার, মেধা মনন ও কল্যাণে আমি বিদ্যালয়ের সমস্যার সমাধান করব।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন বলেছেন, নির্বাচিত হলে কৃষকদের সারের সমস্যা সমাধানে সংসদে গিয়ে খোলা বাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি এলাকার রাস্তাঘাট পাকা করা, মাদক নির্মূল এবং ঠাকুরগাঁও শহরকে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভুল্লী উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, কয়েক দিন আগে এ আসনের মানুষ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন এবং এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। ভুল্লী-রুহিয়াকে উপজেলা করা, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এসব উন্নয়নকাজ সামনের দিকে এগিয়ে নিতে একজন সংসদ সদস্য প্রয়োজন। এ জন্য তিনি ভোটারদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
কৃষকদের সমস্যা তুলে ধরে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, এলাকার কৃষকেরা সারের সংকটে ভুগছেন। নির্বাচিত হলে সংসদে গিয়ে খোলা বাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেবেন। একই সঙ্গে এলাকার যেসব রাস্তা এখনো চলাচলের অনুপযোগী, সেগুলো পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, হিন্দু-মুসলিমসহ বাংলাদেশের সব মানুষকে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ও নাগরিক সুবিধা ভোগ করবেন। মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না—এমন সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় তিনি জানান, এলাকার একটি মন্দিরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
মাদক সমস্যাকে এলাকার অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁও থেকে মাদক নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এ ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশাসনের প্রতিও মাদক বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
ঠাকুরগাঁও শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, শহরের চারপাশ দিয়ে একটি রিং রোড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সড়কটি বাইপাস হিসেবে কাজ করবে এবং বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওকে একটি সুন্দর, আধুনিক ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত শহর নির্মাণের ক্ষেত্রে জনগণের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উঠান বৈঠকে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত রাখা, কৃষকদের সমস্যা সমাধান, মাদক নির্মূল ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য তাঁকে নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত জনগণকেই নিতে হবে

মোঃ ফারুক আহমদ, গাজীপুর।

গাজীপুরের কোনাবাড়ির জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া গ্রুপের চার পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানায় বড় ধরনের জনবল ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আর্থিক সংকট, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও অতিরিক্ত জনবলের কারণ দেখিয়ে দ্বিতীয় দফায় একযোগে ৭৩৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কারখানার প্রধান ফটকে ছাঁটাই সংক্রান্ত নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই গেটের সামনে ভিড় জমান কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকরা। দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থান হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে; এলাকায় তৈরি হয় তীব্র অসন্তোষ ও চাপা উত্তেজনা।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ছাঁটাই কার্যকর হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন এবং কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকিং জটিলতা ও বকেয়া গ্যাস বিলের কারণে সংযোগ বন্ধ থাকায় গত ৬ জুন থেকেই কারখানাগুলোতে লে-অফ (সাময়িক কর্মবিরতি) চলছিল, যা দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে টিকে থাকার অংশ হিসেবে শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী কিছু পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে অতিরিক্ত জনবল ছাঁটাইয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হঠাৎ চাকরি হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন কয়েক দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শ্রম দিয়ে আসা কর্মীরা। কারখানা প্রাঙ্গণে অশ্রুসিক্ত চোখে সুইং অপারেটর ইয়াসমিন বেগম জানান, জীবনের ১৮টি বছর এই প্রতিষ্ঠানে কাটিয়ে আজ হঠাৎ বেকার হয়ে পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছেন তিনি। প্রায় ১৯ বছর ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আবেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবনের বড় একটি অংশ দিয়ে শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে পথে বসতে হচ্ছে।
শ্রমিকদের একযোগে এই ছাঁটাইয়ের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, বারংবার লে-অফ দেওয়ার পর এক নোটিশেই শত শত শ্রমিককে ছাঁটাই করা চরম অবিচার। তিনি অবিলম্বে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের সকল আইনানুগ পাওনা ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে শ্রম আইন অনুসরণ করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সকল বকেয়া ও সুবিধা দ্রুত পরিশোধ করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে কারখানা পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গিয়ে নতুন নিয়োগ দিলে আইন মোতাবেক এসব দক্ষ কর্মীরাই অগ্রাধিকার পাবেন।
যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানা এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, কেয়া গ্রুপের চার ইউনিটে কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাঁটাইয়ের প্রেক্ষিতে কারখানার প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।