October 29, 2026

DailyJanotarDiary@gmail.com

ডেইলি জনতার ডায়েরি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে সংবাদ প্রতিবেদন ও বিভিন্ন ফিচারধর্মী কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি ব্রিজের মুখ বন্ধ করে সরকারি খাস জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।

ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে বিস্তীর্ণ বিলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এছাড়া কয়েক হাজার কৃষকের ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষাকালে নৌকায় ধান ও কৃষিপণ্য পরিবহনের পথও বন্ধ হয়ে যাবে।

উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের নড়াইল-ফুকরা সড়কের ছোটবাহিরবাগ মিয়াবাড়ি সংলগ্ন এলজিইডির ব্রিজে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে রোববার (১৭ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগে জানা গেছে, ছোটবাহিরবাগ গ্রামের প্রভাবশালী বিকু মিয়া, রইজ মিয়া, মোস্তাক মিয়া ও আকবর মোল্লাসহ কয়েকজন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির সঙ্গে ৬৭৬ নম্বর দাগের সরকারি খাস জমি বালু দিয়ে ভরাট করছেন। ইতোমধ্যে বাঁশ ও নেট দিয়ে এলজিইডি ব্রিজের মুখ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে আশপাশের বিস্তীর্ণ বিলের পানি নিষ্কাশিত হতে পারবে না। ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সঙ্গে বর্ষাকালে নৌকায় ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হবে। চরম দুর্ভোগে পড়বেন কৃষকরা।

সুমন মিয়া, নাজমুল মল্লিক, মশিউর মল্লিক, টুন্নু মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, ওই এলাকার বিলাঞ্চলে তাঁদের কয়েক শ’ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। ব্রিজের মুখ বালু দিয়ে ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করা হলে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকেরা। কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষায় ব্রিজের মুখের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

অভিযুক্তদের একজন রইজ মিয়া। তার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি শুধু একা নয়। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কবরস্থানে চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। তবে ওখানে কিছুটা সরকারি জমি আছে।’

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের ক্ষতি বা সরকারি সম্পত্তি দখল এমন কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।’

মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে একটি পক্ষের মিথ্যা অপপ্রচার ও চরিত্রহননের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ওদের সঙ্গে সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা পরিষদ গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ফুলবাড়ী উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ গেটে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক আরাবুর রহমান পাশার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নবগঠিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাসু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক লোকমান হোসেন সরকার, সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মুকুল এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক।
এ ছাড়াও সমাবেশে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক মাস্টার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক, সদস্য সচিব অপূর্ব লাল সেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এইচ এম বাবুল, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মমিন, জাতীয়তাবাদী লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাফিজুর রহমান, তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান লাকু এবং ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুদ্দিন চিশতিয়া বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে বক্তারা জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও চরিত্রহননের তীব্র প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনের ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নীলফামারী প্রতিনিধি
​নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে জামায়াতে ইসলামী ইটাখোলা ইউনিয়ন শাখা আয়োজিত কর্মী সমাবেশে সর্বসম্মতিক্রমে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে গোলাম রব্বানী সরকারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এবং নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ যৌথভাবে হাত উঁচুরে ধরে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
​ইটাখোলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নুর ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মী সমাবেশের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘মানবতার সেবা ও দেশ পরিচালনার যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করা’।
​সমাবেশের মূল বক্তব্যসমূহ:
​প্রধান অতিথির বক্তব্য (নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার):
​বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিএনপির স্লোগান ছিল ‘সবার আগে দেশ’, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডে এখন মনে হচ্ছে সবার আগে বিএনপি। নতুন সরকারের ওপর জনগণের অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকলেও সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে ওঠেনি।”
​দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সংগঠনের সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক নিয়ম মেনে আমরা যোগ্য ও সৎ মানুষকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করি। অথচ অন্যান্য দলের ব্যক্তিরা নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে নিজেরাই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেন।”
​বিশেষ অতিথির বক্তব্য (নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ):
​তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী সব সময় জনগণের সেবা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। এলাকার উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
​মনোনীত প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া:
​আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণার পর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম রব্বানী সরকার ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন এবং আজীবন জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
​সমাবেশে জেলা, শহর ও উপজেলা জামায়াতের শীর্ষনেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক।

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন দক্ষিণ পানিশাইলের পলাশ হাউজিং-সংলগ্ন ভূমি জরিপ (বিডিএস) কার্যালয়ে ঘুষ-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মারধর, গলা চেপে হত্যাচেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় মো. সাইফুল ইসলাম সরকারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. রমজান মিয়া (৫২)।
অভিযোগে মো. সাইফুল ইসলাম সরকার (৪০), মো. আব্দুর রহিম (৩৫), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রাজনৈতিক পরিচয় বদলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
অভিযোগকারী ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সরকার রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিক পদ পরিবর্তনের পর সাইফুল নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে নিজেকে কাশিমপুর থানা বিএনপির সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের সঙ্গে তাঁর একটি ফটোসেশনের কথাও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। বিডিএস অফিস ঘিরে ঘুষ-বাণিজ্য ও সাপ্তাহিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের। দক্ষিণ পানিশাইলের পলাশ হাউজিং-সংলগ্ন সেটেলমেন্ট (বিডিএস) অফিসে ভূমি জরিপ ও সংশ্লিষ্ট কাজকে কেন্দ্র করে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়। তাঁদের দাবি, সাইফুল ইসলাম সরকার, আব্দুর রহিম ও আশরাফুল ইসলামসহ কয়েকজন ওই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অফিসটিকে কেন্দ্র করে নিয়মিত সাপ্তাহিক চাঁদা আদায় করা হতো এবং ঘুষ-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে প্রভাব খাটানো হয়। তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা ও গলা চেপে ধরার অভিযোগ
সাংবাদিক রমজান মিয়ার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে দক্ষিণ পানিশাইলের ওই বিডিএস কার্যালয়ে অনিয়ম ও কথিত চাঁদাবাজির তথ্য সংগ্রহ করতে যান।

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় সাইফুল ইসলাম সরকার, আব্দুর রহিম, আশরাফুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে অতর্কিত হামলা চালান। তাঁদের মারধরে সাংবাদিকদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে সাইফুল ইসলাম সরকার সাংবাদিক রমজান মিয়ার গলা চেপে ধরে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ১০ মিনিটের মধ্যে এলাকা ছেড়ে না গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি গাজীপুর মহানগর পুলিশের নজরে আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলার অভিযোগের সত্যতা উদ্‌ঘাটন এবং বিডিএস কার্যালয়কে ঘিরে ওঠা ঘুষ-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের পূর্বপাড়ায় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে নবীনগর থানা পুলিশ। পাশাপাশি দুই পক্ষের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে। নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর গ্রামের পূর্বপাড়ায় উজ্জ্বল মেম্বেলের পক্ষ ও স্বপন মিয়ার পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে গত দুই দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হন।

সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হয়। নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ এবং জেলা পুলিশের নির্দেশনায় নবীনগর থানা পুলিশ এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় দুই পক্ষের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

নবীনগর থানার ওসি মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং রোববার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

কোথাও সোনালি আঁশ পাটের নান্দনিক ব্যবহার, কোথাও টেরাকোটায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পৌরাণিক কাহিনি। আবার কোনো মণ্ডপে স্থান পেয়েছে তালপাতার পাখা ও গাজীর পটের মতো বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ শিল্প। দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি বাঙালির শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন এবারের শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোতে এনেছে ভিন্ন মাত্রা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এবার প্রতিমার সৌন্দর্যের পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জায় ফুটে উঠেছে শিল্পীদের সৃজনশীলতা ও নান্দনিক চিন্তার প্রতিফলন। বিশেষ করে জেলা সদরের কয়েকটি মণ্ডপে ঐতিহ্যবাহী শিল্পমাধ্যমের ব্যবহার দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

পৌর এলাকার রামঠাকুর ক্লাবের মণ্ডপে দেবী দুর্গার চিরচেনা রূপের পেছনে টেরাকোটার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মহিষাসুর বধের পৌরাণিক কাহিনি। মাটির ফলকে নিপুণ কারুকাজে তুলে ধরা হয়েছে পুরাণের আখ্যান। এতে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কালীবাড়ির মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ পাট। পরিচিত এই প্রাকৃতিক উপকরণকে শিল্পের মাধ্যমে নতুনভাবে উপস্থাপন করে বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন আয়োজকেরা।
এ ছাড়া বিভিন্ন মণ্ডপে স্থান পেয়েছে গ্রামবাংলার লোকজ শিল্প। তালপাতার পাখা ও গাজীর পটের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পমাধ্যমের ব্যবহার মণ্ডপসজ্জায় যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা। ধর্মীয় উৎসবের আবহের সঙ্গে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির এমন মেলবন্ধন দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সন্দিপন পাল বাবন বলেন, “পৌর এলাকায় এবারের পূজার সাজসজ্জায় ভিন্নতা এসেছে। বিভিন্ন মণ্ডপে নানা ধরনের থিম নিয়ে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এক কথায়, অসাধারণ সব আয়োজন।”

রামঠাকুর আশ্রমের শৈল্পিক কাজের সঙ্গে যুক্ত চিত্রশিল্পী দীপ্ত মোদক বলেন, “আমরা টেরাকোটার মাধ্যমে অসুর বধের কাহিনি ফুটিয়ে তুলেছি। পুরো কাজটিই মাটির তৈরি। আশা করছি, দর্শনার্থীদের কাছে আমাদের এই আয়োজন ভালো লাগবে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি সঞ্জীব সাহা বাপ্পী জানান, এ বছর জেলায় মোট ৬২৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫০টি বেশি। জেলা সদরের বেশ কয়েকটি মণ্ডপে এবার নতুনত্ব ও ব্যতিক্রমী সাজসজ্জা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। পাশাপাশি জেলা সদরের একাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।

সব মিলিয়ে, এবারের দুর্গাপূজায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যময় উপস্থাপন উৎসবকে দিয়েছে বাড়তি আকর্ষণ। প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জার শৈল্পিক নিদর্শন দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরগোবরা গ্রামে ইজিবাইকের চার্জার খুলতে গিয়ে বিদ্যুতপৃষ্ট হয়ে আলামিন কাজী (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে গোপালগঞ্জ শহরতলীর চরগোবরা গ্রামের নিজ বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আলামিন কাজী চর গোবরা গ্রামের বেলায়েত কাজীর ছেলে।

​হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে নিজ বাড়িতে ইজিবাইকের চার্জ দেওয়া শেষে চার্জার খুলতে যান আলামিন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যূৎপৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফারুক আহমেদ তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জাকির হোসেন (৫০) নামের এক মসজিদের ইমামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

​রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার ডাঙা মাজড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত জাকির হোসেন হুজুর ওই গ্রামের মরহুম সিরাজ মোল্যার ছেলে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাঙা মাজড়া গ্রামের বাগান সিকদারের ছেলে বাশার সিকদারের সাথে জাকির হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। এরই জের ধরে আজ ভোরে বাশার সিকদার ধারালো অস্ত্র দিয়ে জাকির হোসেনের ওপর হামলা চালায় এবং তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।

​পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং তিনি বলেন ঘটনাটি আমি সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পারি, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ঝুঁকিতে থাকা অসহায়-দুঃস্থ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শতাধিক পরিবারের মাঝে মশারি বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ। রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মশারি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হারুনুর রশীদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ হারুনুর রশীদ বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সংকট। শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়; এ জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষেরা মশারি ব্যবহারের অভাবে ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে থাকেন। জেলা পরিষদের এ উদ্যোগ তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিছুটা হলেও সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের পাশে দাঁড়ানো জেলা পরিষদের অন্যতম দায়িত্ব। এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ সময় তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানান। এতে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। মশারি পেয়ে উপকারভোগীরা জেলা পরিষদের এ মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অলি মাস্টারের পুরো বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে অলি মাস্টারের বাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে পুরো বাড়ি পুড়ে যায়। এতে ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের স্থান থেকে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার হওয়ায় কর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল বলেন, আগুনের সূত্রপাত এখনো জানা যায়নি।

এদিকে, পুড়ে যাওয়া বাড়িটির চারপাশে আরও অনেক বসতবাড়ি থাকলেও সেগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়েনি। এতে বড় ধরনের আরও ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে আশপাশের বাড়িঘর। এ জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।

হ্নীলা-হোয়াইক্যংয়ের মাঝামাঝি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে সেবা পেতে বিলম্ব হতে পারে।

এ অবস্থায় হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থানে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, ওই এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হলে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে এবং জানমাল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যাবে।

অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। আগুনে বসতবাড়ি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি চরম দুর্ভোগে পড়েছে।