October 30, 2026

অপরাধ

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলায় এক স্কুল শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করায় কবির শেখ(৩৫)নামে এক যুবককে মারধর করা হয়েছে।

মারধরে আহত কবিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন।আজ রোববার উপজেলার কুশলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার কবির শেখ বিরামের কান্দি গ্রামের সরোয়ার শেখের ছেলে।
জানাগেছে , গত ৬ মাস ধরে স্কুলে যাওয়া আসার পথে কবির শেখ প্রায়ই ওই স্কুল শিক্ষকাকে উত্ত্যক্ত করতো।এ বিষয় নিয়ে ওই শিক্ষিকা কবিরের পরিবারের কাছে জানিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি।

পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অফিযোগ দিলেও তারা কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে কবির শেখ ওই শিক্ষিকার পথরোধ করলে তাঁর আত্মীয় স্বজন এগিয়ে এসে মারধর করে কবিরকে ফেলে রেখে যায়।

খবর পেয়ে কবিরের পরিবারের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

মারধরের শিকার কবির শেখের ভাতিজি জোসনা বেগম বলেন,আমার চাচার একটু মাথায় সমস্যা আছে।সে আগে অটো চালাইতো।এই অটোতে যাওয়া আসার সময় ওই শিক্ষিকার সাথে পরিচয় হয়। এরপর থেকে সে ওই শিক্ষিকাকে বিয়ে করার জন্য পাগলামী শুরু করে।তবে তাকে এ ভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি।

কবির শেখের উত্ত্যক্তের শিকার ওই শিক্ষিকা বলেন, আমি স্কুলে যাওয়া আসার পথে কবির প্রায়ই আমাকে উত্ত্যক্ত করতো। পথরোধ করতো। মাঝে মাঝে স্কুলে যাওয়ার পথে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিতো। আমি সামাজিক ভাবে এলাকাবাসীকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি।ওর উত্ত্যক্তের কারণে অনেক সময় ভয়ে ছুটি নিতাম।উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাইনি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওই শিক্ষিকা বলেন, কারা কবির শেখকে কে মারধর করেছে তা আমি জানি না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জণ ভক্ত বলেন , ওই শিক্ষিকা আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ছিলেন।এরপর ইউএনও স্যারকে নিয়ে কবির ও তার পরিবারের লোকজনদের ডেকে আনা হয়েছিল। তারা ওই শিক্ষিকাকে আর উত্ত্যক্ত করবে না বলে কথা দিয়েছিলেন।

কোটালীপাড়া থানার অফিসার এস আই সুকুমার কুন্ড বলেন , এ বিষয়ে কোন পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সুজন চন্দ্র দাস দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের এক সদস্য, চুরি মামলার এক আসামি, মারামারি মামলার এক আসামি ও পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় দুইজনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (৪ অক্টোবর) দাউদকান্দি থানা এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পুলিশের পৃথক দল অভিযানগুলো চালায়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-দাউদকান্দির চরচারিপাড়া এলাকার সাফায়েত মিয়ার ছেলে আল আমিন (৪৩), উত্তর নছরুদ্দিন প্রধান বাড়ির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান প্রধানের ছেলে মোহাম্মদ রানা (৪৫), মারুকা ইউনিয়নের কাটারাপাড়া জারু মিয়া প্রধান বাড়ির মৃত আলী আহাম্মদের ছেলে মো. রিপন মিয়া (৩৮), তুজারভাঙ্গা পূর্বপাড়ার হাজী মো. দাদন মিয়ার ছেলে সাইদ হাসান বাবু (৩৮) এবং একই এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম হোসেন ওরফে হিমেল (২৩)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আল আমিন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হিসেবে, মোহাম্মদ রানা চুরি মামলার আসামি হিসেবে এবং মো. রিপন মিয়া নিয়মিত মারামারি মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন। অপর দুইজন সাইদ হাসান বাবু ও ইব্রাহিম হোসেন ওরফে হিমেলকে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার পাঁচজনকে পৃথক মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মোঃ রনি রজব ভোলাহাট উপজেলা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি :

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের ৪ নং জামবাড়ীয়া ইউনিয়নের ধরমপুর গ্রামে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে পারিবারিক বিরোধের জেরে সৎ ছেলের ছুরি আঘাতে আয়েশা বেগম(৩৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন।

শনিবার( ৩ অক্টোবর)২০২৬ সন্ধ্যায় উপজেলার ৪ নং জামবাড়ীয়া ইউনিয়নের ধরমপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আয়েশা বেগম ওই এলাকার বাবুল হোসেনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় আয়েশা বেগমের সাথে তার সৎ ছেলে আশিকুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আশিকুর ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর থেকেই ঘাতক আশিকুর রহমান পলাতক। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট

কটকা মোহনায় নোঙর করা ‘দি ওয়েভ-২’-এর কাছে ট্রলারে করে এগিয়ে আসছিল সশস্ত্র দল—বনরক্ষীদের চার রাউন্ড গুলিবর্ষণ

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য এলাকায় নোঙর করে থাকা পর্যটকবাহী জাহাজ ‘দি ওয়েভ-২’-এর কাছে ট্রলারে করে এগিয়ে আসা একটি সন্দেহভাজন বনদস্যু দলকে ধাওয়া করে চার রাউন্ড গুলি ছুড়েছে বনরক্ষীরা। গুলির মুখে ট্রলারের গতিপথ পরিবর্তন করে সাগরের দিকে পালিয়ে যায় তারা। এতে পর্যটকবাহী জাহাজটিতে ডাকাতির চেষ্টা পণ্ড হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

শনিবার রাত ৯টার দিকে কটকা খালের সাগর মোহনায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ‘দি ওয়েভ-২’সহ দুটি পর্যটকবাহী জাহাজ কটকা এলাকায় নোঙর করা ছিল।

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার তানভির হাসান ইমরান রাত ১১টার দিকে জানান, ইঞ্জিনচালিত একটি ফিশিং ট্রলারে করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ‘দি ওয়েভ-২’-এর দিকে এগিয়ে আসছিল। কটকার মোহনায় সাগরে অবস্থানরত জেলেরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে মোবাইল ফোনে বনরক্ষীদের খবর দেন।

খবর পেয়ে বনরক্ষীরা দ্রুত একটি বোট নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজনরা সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এরপর ট্রলারটি ঘুরিয়ে দ্রুত সাগরের দিকে চলে যায় সন্দেহভাজনরা।

বর্তমানে কটকা এলাকায় ‘দি ওয়েভ-২’ ও ‘আরালসী’ নামে দুটি পর্যটকবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। ‘দি ওয়েভ-২’-এর মাস্টার মো. শামিম আলম জানান, দুই জাহাজে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৯৭ জন পর্যটক রয়েছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, কটকায় পর্যটকবাহী জাহাজের দিকে বনদস্যুদের এগিয়ে আসার ঘটনা উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষ্য, এর আগে পর্যটকবাহী জাহাজকে ঘিরে এমন ঘটনা ঘটেনি।

ডিএফও আরও বলেন, সম্প্রতি সুন্দরবনে বনদস্যুদের অপতৎপরতা বেড়েছে। তাঁরা জেলেদের ধরে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করছে। এ পরিস্থিতিতে বনদস্যু দমনে সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের রাতের টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকবাহী জাহাজের চলাচল বাড়ে। এমন সময়ে কটকার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে এই ঘটনা।

মোঃ আবদুল্লাহ বুড়িচং প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ৩৮০ পিস ইয়াবাসহ মো. মনির হোসেন নামে এক যুবককে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করা ইয়াবাসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত ৭টার দিকে উপজেলার ভরেল্লা উত্তর ইউনিয়নের কংশনগর মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার পর কংশনগর মধ্যপাড়া এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন মো. মনির হোসেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে তল্লাশি চালান। এ সময় তার কাছ থেকে ৩৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে ইয়াবাসহ তাকে আটকে রাখার সময়ের একটি ভিডিও ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে স্থানীয় লোকজনের হাতে ওই যুবককে আটক অবস্থায় দেখা যায়।

আটক মো. মনির হোসেন কংশনগর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল মতিন। স্থানীয়দের দাবি, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সন্দেহে তাকে আটক করা হয়। তবে উদ্ধার করা ইয়াবার উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

পরে স্থানীয় লোকজন ৩৮০ পিস ইয়াবাসহ মনির হোসেনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশ ইয়াবাগুলো জব্দ করে এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, মাদকসহ আটক মো. মনির হোসেনকে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার অনন্তপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬ বোতল স্কাফ সিরাপসহ তানজিনা বেগম নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর শশীদল ইউনিয়নের অনন্তপুর পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি তানজিনা বেগম (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের বালিউরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আলম খানের স্ত্রী।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর শশীদল ইউনিয়নের অনন্তপুর পশ্চিমপাড়ায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মোখলেছের পানির ডিপের পাশের পাকা সড়ক থেকে ১৬ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই সময় তানজিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনার সততা নিশ্চিত করে কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, গ্রেপ্তার নারীকে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ ফারুক আহমদ।

গাজীপুরের সারদাগঞ্জে পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ কম্বল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে ৫ জন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ আয়নাল মার্কেটের পশ্চিম পাশে একটি বসতবাড়িতে গতকাল রাতে দুটি বাসে করে আনা হয় বিপুল পরিমাণ কম্বলের চালান। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। উদ্ধার করা হয় প্রায় দুই ট্রাকভর্তি কম্বল এবং সেগুলো পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি বাস।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে, যাদের মধ্যে রয়েছে ওয়াসিম নামে এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি সংঘবদ্ধ চোরাই বা অবৈধ কেনাবেচা চক্রের কাজ।

এই ঘটনার মূলহোতা কে, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কাশিমপুর থানা পুলিশ। মালামালগুলোর প্রকৃত উৎস, আসল মালিক এবং কী উদ্দেশ্যে এখানে আনা হয়েছিল—সবকিছুর রহস্য উন্মোচনে আটককৃতদের চলছে জোর জিজ্ঞাসাবাদ।

আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বের হয়ে আসবে এই ঘটনার আসল নেপথ্য কাহিনি।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, স্টাফ রিপোর্টার

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা মডেল থানার একটি চোরাচালান মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি মামুন রশিদ (৪০)কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার আনু ফকির দোকান বাজার এলাকার বাসু দাশের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-৩ (বান্দরবান ক্যাম্প) এর একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মামুন রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতকানিয়া উপজেলার ৭ নম্বর মাদার্শা ইউনিয়নের মধ্যম মাদার্শা এলাকার মৃত জাগির হোসেনের ছেলে।

মামলার নথি অনুযায়ী, পতেঙ্গা মডেল থানার চোরাচালান মামলায় আদালত মামুন রশিদকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দেওয়া হয়।

এসআরবি-১৫-এর ভাষ্য, রায় ঘোষণার পর প্রায় ২১ বছর ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে নাম-পরিচয় পরিবর্তন করে পলাতক ছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর মামুন রশিদকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ.কে পালাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লা গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ, রাস্তা ও নগরীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের প্রধান রতনসহ ৫৯ জনকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ, রাস্তা ও নগরীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ রতনসহ ৫৯ জনকে গ্রেফতার করে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।

ওসি জানান, কুমিল্লা নগরীর মিশনারি স্কুলের সামনে ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাহাদাত হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামি ও কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের প্রধান রতনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর রতনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, রতনের বিরুদ্ধে শাহাদাত হত্যা মামলাসহ অস্ত্র ও অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রতন পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ওসি তৌহিদুল আনোয়ার।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে মিশনারি স্কুলের সামনে কিশোর গ্যাংয়ের ‘ঈগল গ্রুপ’ ও ‘রতন গ্রুপের’ মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় শাহাদাত নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় রতনকে প্রধান আসামি করা হয়।

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে নির্জন স্থানে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুটিকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কিশোরকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে ভূল্লী থানা পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ভূল্লী উপজেলার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের লাউথুতি নরেশ মেম্বারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় শিশুটি বাড়িতে খেলছিল। পাশের বাড়ির একটি শিশুর ডাকে সে বাইরে খেলতে যায়। একপর্যায়ে সবার অগোচরে অভিযুক্ত কিশোর হৃদয় বর্মন শিশুটিকে বাড়ির পেছনের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
শিশুটির চিৎকার শুনে তার মা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতেই ছিল। পরে বৃহস্পতিবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত হৃদয় বর্মন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের দেউলি রথবাজার এলাকার বৈশাখু বর্মনের ছেলে। সে ভূল্লীতে তার নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভূল্লী থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ অক্টোবর শনিবার ভোরে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ এলাকা থেকে হৃদয় বর্মনকে গ্রেপ্তার করে।
ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কিশোরকে বীরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও
০১৭৪০৮৬১০৮০