October 30, 2026

অপরাধ

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের শিকদার হাট এলাকায় শ্রী শ্রী রসিক রায় জিও মন্দিরে সনাতন ও ইসকন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মন্দিরে আসন্ন দুর্গাপূজার প্রতিমা স্থাপনকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
আহতদের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী রনজিত রায়, নুপুর রায়, পায়েল কৃষ্ণ ব্রহ্মচারী, বাসুদেব চন্দ্র ও অপু সরকার এবং ইসকন ধর্মাবলম্বী জিতেন্দ্র নাথ, চম্পা রাণী, দক্ষনাথ রায় ও সোহাগ রায় রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা স্থাপনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। তবে সংঘর্ষের কারণ ও দায় কার—তা নিয়ে উভয়পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
খবর পেয়ে ভূল্লী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর একই মন্দিরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর দীর্ঘ সময় মন্দিরে পূজার সময় ১৪৪ ধারা জারি ছিল। গত বছর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার পূজার আগেই নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, কক্সবাজার।

কক্সবাজারের টেকনাফে অনুমতি ছাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ (২০) নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে ১৬ এপিবিএন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে টেকনাফের ২৬ নম্বর শালবাগান শরণার্থী ক্যাম্পের ডি/৪ ব্লক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

১৬ এপিবিএনের শালবাগান ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে ক্যাম্প এলাকায় দিবাকালীন মোবাইল টহল চলছিল। এ সময় নূর মোহাম্মদ অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে টহলরত এপিবিএন সদস্যরা তাকে আটক করেন।

পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ক্যাম্প-২৪-এর সিআইসি কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ক্যাম্প-২৪-এর সিআইসি খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

আদালত বিনা অনুমতিতে ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ার চেষ্টার ঘটনায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারার অপরাধে নূর মোহাম্মদকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

সাজাপ্রাপ্ত নূর মোহাম্মদ শালবাগান ক্যাম্পের ই/৭ ব্লকের বাসিন্দা। তার এফসিএন নম্বর ২৭৫৫৫৭।

এ ঘটনায় শালবাগান এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রাম সদরে নিজ শোয়ার ঘর থেকে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ( ১ অক্টোবর ) সকালে লাশ উদ্ধার করে পুলিশকে সংবাদ দেয় স্থানীয়রা।

সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বালাকুড়া মাদ্রাসা পাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবকের নাম নাজমুল ইসলাম (২২) । সে ওই এলাকার নজরুল ইসলামের নাতি। জন্মের পর থেকে সে তার নানার বাড়িতে থাকে। নাজমুল ইসলাম খলিলগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি দিনমজুরি কাজ করে সে।

পরিবারের দাবি আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু কি কারণে করেছে তা কেউ জানাতে পারেনি। পরিবারের কারো সাথে কলহের বিষয়েও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্ত কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম থানার এস আই আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাস্থলে আমি আছি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা আত্মহত্যা।

কুড়িগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়না তদন্ত হবে না।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, কক্সবাজার,

কক্সবাজারের টেকনাফে তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি সৈয়দ হাছান ওরফে হোছনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) জাদিমুড়া ক্যাম্প।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে জাদিমুড়া বাজারসংলগ্ন ফারুকের বিকাশ দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৬ এপিবিএনের জাদিমুড়া ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি সৈয়দ হাছানকে আটক করা হয়। পরে তাকে ক্যাম্পে নেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার সৈয়দ হাছান জাদিমুড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখের সাজা পরোয়ানা নং-৪০/২৬ জারি হয়। মামলার জিআর নম্বর ৬০৯/১৩ (টেকনাফ) এবং বৈদেশিক নাগরিক সম্পর্কিত আইনের ১৪ ধারায় তাকে তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে বলে এপিবিএন সূত্র জানিয়েছে।

পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় জাদিমুড়া এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ:

সাংবাদিক ফাতেমার হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি,
বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ-অবিলম্বে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের আহ্বান।
বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অর্থ ও দপ্তর সম্পাদিকা মোছাম্মদ ফাতেমা আক্তারকে গাজীপুরে নিজ বাসার সামনে সন্ত্রাসীরা বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুরুতর আহত ফাতেমা আক্তার বর্তমানে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
একজন সাংবাদিক নেত্রীকে তাঁর নিজ বাসার সামনে প্রকাশ্যে হামলা ও মারধরের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে, শারীরিকভাবে আঘাত করে কিংবা হামলার মাধ্যমে তাদের পেশাগত দায়িত্ব থেকে দূরে রাখার যে কোনো অপচেষ্টা গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশের জন্য হুমকি।
অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি
ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় যদি দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে। তাই তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে নিরপেক্ষভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সংগঠনের সভাপতি
কে এম আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রাসেল, সহসভাপতি এম টি রহমান মাহমুদ ও মহিলা সম্পাদিকা তাহমিনা মাহমুদ সহ সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ফাতেমা আক্তারের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কে এম আবুল হোসেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সাংবাদিকরা মানুষের কথা বলেন, অন্যায়-অনিয়ম তুলে ধরেন এবং সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি জনসম্মুখে আনেন। সেই সাংবাদিকই যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে সাধারণ মানুষের অধিকার ও সত্য প্রকাশের পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন এখন সময়ের দাবি’
কে এম আবুল হোসেন একই সঙ্গে দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হামলা, হুমকি ও হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং বিচার নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা শুধু সাংবাদিক সমাজের দাবি নয়-এটি স্বাধীনভাবে তথ্য প্রকাশ, জনগণের জানার অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিরাপত্তাহীনতায় সাংবাদিক সমাজ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নানা ধরনের চাপ, হুমকি ও হামলার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে।
গণমাধ্যমকর্মীদের মতে, একটি সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক আক্রান্ত হলে তার প্রভাব শুধু ব্যক্তির ওপর পড়ে না; এর মাধ্যমে অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। ফলে অনুসন্ধানী ও সাহসী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার ঘটনাতেও দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম।
হামলার বিচার না হলে প্রশ্ন উঠবে নিরাপত্তা নিয়ে
একজন সাংবাদিক নেত্রী নিজ বাসার সামনে হামলার শিকার হয়েছেন-এমন অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। হামলার প্রকৃত কারণ, কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনে কোনো পেশাগত বা ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কি না-তদন্তে তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমাণের আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম একই সঙ্গে আহত ফাতেমা আক্তারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে এবং তাঁর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দেওয়ার জন্য হামলা কোনো সমাধান নয়। সত্য প্রকাশের পথ নিরাপদ রাখা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারই এখন সাংবাদিক সমাজের প্রধান দাবি। একজন নারী সাংবাদিক তাঁর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্নীতি সন্ত্রাস বিভিন্ন মুখোশ উন্মোচনের জন্য কাজ করেন সমাজকে আলোকিত করতে। নারী সাংবাদিকের উপর যারা হামলা চালিয়েন অতি দ্রুত আইনের আওতায় এনে এদের বিচার দাবী সাংবাদিক সমাজ। হোক প্রতিবাদ!

মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুরে একটি নির্মাণাধীন কারখানার ভেতর থেকে ইমাম (২৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে উলপুর বাজার পেরিয়ে কংশুর এলাকার ওই কারখানা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
নিহত ইমাম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন। তাঁর বাবার নাম জানা যায়নি। তাঁর মা আছিয়া বেগম সৌদি আরবে থাকেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কংশুর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন কারখানার ভেতরে ইমামকে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ইমামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি :
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে দুইটি মোটরসাইকেলের ভেতর থেকে ২৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় স্বর্ণ বহনের অভিযোগে রিপন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

আটক রিপন শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রুদ্রপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা বাগআঁচড়া বাজারের বাবু মার্কেট ও বিগ বাজারের সম্মুখে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন দুইটি মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালিয়ে ২৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন আনুমানিক ৩ হাজার ৪০০ গ্রাম। এ সময় দুইটি মোটর সাইকেল দুইটি, দুইটি মোবাইল ফোন এবং ০১টি স্মার্ট ঘড়িসহ স্বর্ণ পাচারকারী রিপনকে আটক করা হয়।

আটককৃত স্বর্ণের মূল্য মূল্য ৭ কোটি ৬৭ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯০ টাকা। অন্যান্য মালামালসহ মোট সিজার মূল্য ৭ কোটি ৭২ লাখ ৭ হাজার ৬৯০ টাকা বলে বিজিবি জানান।

খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্নেল মোঃ নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান জানান , আটককৃত স্বর্ণের বারগুলো ট্রেজারী অফিস, যশোর এবং মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ঘড়িসহ আসামীকে শার্শা থানায় হস্থান্তর করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিজিবি অধিনায়ক আরো জানান, দেশের সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অন্যান্য চোরাচালানীসহ যে কোন ধরণের চোরাচালান বন্ধে বিজিবির এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। #

প্রেরক:-
মো,মনির হোসেন।
বেনাপোল প্রতিনিধি যশোর।
তারিখ:-৩০/০৯/২৬
মোবা:-০১৮৩৫ ০১৯৪৩১,

এ.কে পালাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় থানা পুলিশের পৃথক বিশেষ অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইয়াবাসহ একজন, দুটি জিআর সাজা পরোয়ানাভুক্ত একজন, বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলার পলাতক একজন এবং প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অভিযোগে ছয়জন রয়েছেন।
সোমবার ও মঙ্গলবার (২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই রূপম কুমার সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ শশীদল বাজারের পশ্চিম পাশে পাঁচ পীরের দরগা-সংলগ্ন একটি দোকানের সামনে অভিযান চালায়। এ সময় ২০০ পিস ইয়াবাসহ মো. রুবেল মিয়া (৪২)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শশীদল ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের রব্বান মিয়ার ছেলে।
পৃথক অভিযানে এসআই মো. সাইফুল আলম ও এএসআই মো. ইমরানের নেতৃত্বে দুটি জিআর সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. ইউসুফ প্রকাশ বুদ্দুকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দক্ষিণ শশীদল গ্রামের লেবন বেপারী বাড়ির মিন্টু মিয়ার ছেলে।
এ ছাড়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তদন্তে পাওয়া পলাতক আসামি মো. আরিফুল ইসলাম প্রকাশ তানভীরকে (২৫) শিদলাই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন এসআই ডি.এম.এ মজিদ।
অন্যদিকে, প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অভিযোগে নান্টু চন্দ্র দাশ (৫০), মো. মোস্তফা (৪০), মো. ইমন (৩০), মো. জুয়েল (৩৮), মো. বেলাল হোসেন (৩২) ও মো. সিয়াম (১৯)কে সামারি ট্রায়ালের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়। এসআই আল আমিন, এসআই সুজন কুমার আচার্য ও এএসআই মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর ধারাবাহিক অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। নীলফামারীর ডিমলা সীমান্তে অভিযানে ভারতীয় গোল কাঠ জব্দ করেছে বিজিবি। তবে টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে পণ্য ফেলে পালিয়ে যায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতরা।
বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে কালিগঞ্জ বিওপির একটি টহল দল নায়েব সুবেদার মোঃ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার ৭৯৪/৬-এস বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঝাড়সিংহেশ্বর কাঁচা রাস্তা এলাকায় অভিযান চালায়।
টহল দলের গতিবিধি টের পেয়েই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতীয় গোল কাঠ ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় কাঠগুলো উদ্ধার করে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার রয়েছে। উদ্ধার করা পণ্যের বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্টাফ রিপোর্টার মোঃ ফারুক আহমদ।

গাজীপুরের কাশিমপুরে বিয়ের নামে এক গৃহবধূকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা যৌতুক আদায় এবং পরবর্তীতে মৌখিকভাবে তাড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কাজী না হয়েও ভুয়া ভলিউম ও নোটারী পাবলিকের এফিডেভিট ব্যবহার করে এই জালিয়াতি চক্র পরিচালিত হতো বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসাঃ ফুলি আক্তার (৪০) বাদী হয়ে স্বামী মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং প্রতারক চক্রের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার বাসিন্দা মোঃ জয়নাল আবেদীনের সাথে ফুলি আক্তারের বিবাহের কথা বার্তা শুরু হলে নিজেকে কাজীর সহকারী দাবি করা মোঃ আবু হানিফ ও তার সহযোগী আইয়ুব আলী বিবাহ নিবন্ধনের দায়িত্ব নেয়। অভিযোগ মতে, তারা বিগত ১৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রথমে কাবিনের কথা বলে নগদ ৫,০০০ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কেবল নোটারী পাবলিকের একটি কোর্ট এফিডেভিট করিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে এফিডেভিটের কোনো আইনি মূল্য না থাকায় স্বজনদের চাপের মুখে আসামি চক্রটি গত ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সারদাগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় নকল রেজিস্টার/ভলিউম খাতা খুলে বিবাহ সম্পাদন ও ৩ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে স্বজনদের উপস্থিতিতে টিপসই গ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারি সার্টিফাইড কপি (কাবিননামা) চাইতে গেলে চক্রটি অতিরিক্ত টাকা দাবি করতে থাকে এবং ঘোরাতে থাকে। পরে আসল কাজীর কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত নামে সরকারি খাতায় কোনো বিবাহ রেজিস্ট্রিই করা হয়নি।
ভুক্তভোগী ফুলি আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামী জয়নাল আবেদীন ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে আদায় করে। সম্প্রতি আরও যৌতুক দাবি করলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করায় জয়নাল আবেদীন বিয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই জেনে তাকে মৌখিকভাবে তালাকের হুমকি দিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পক্ষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের প্রতারণার ফোন রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ প্রমান হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।