কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে একটি মাইক্রোবাসসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী ও বিভিন্ন প্রকার জর্দা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (১০-বিজিবি)। জব্দ করা এসব পণ্যের সিজার মূল্য ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯০ টাকা।
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগন্ডা বিওপির বিশেষ টহল দল সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করে।
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজিবি জানায়, সীমান্তের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বদরপুর ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিক্স ও বিভিন্ন প্রকার জর্দা জব্দ করা হয়। জব্দ করা পণ্য ও যানবাহনের সর্বমোট সিজার মূল্য ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯০ টাকা।
কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে ১০ বিজিবি। জব্দ করা মালামাল বিধি অনুযায়ী কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তিতাস নদী থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার শিমরাইলকান্দি প্রথম ব্রিজের নিচে তিতাস নদীর পূর্বপাড়ে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নদীর কচুরিপানার মধ্যে লুকানো অবস্থায় অস্ত্রগুলো পাওয়া যায়। উদ্ধার করা পিস্তলটি ৭.৬৫ মিলিমিটার (মিমি) ক্যালিবারের বিদেশি পিস্তল বলে জানা গেছে।
তবে অস্ত্র ও গুলিগুলো সেখানে কারা, কী উদ্দেশ্যে রেখেছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ সম্পর্কে এসআরবি-৯-এর পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে আরও জানা যেতে পারে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জেলা পরিষদের ইজারাকৃত একটি খেয়াঘাটের নামে নকল রসিদ তৈরি করে টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের সুনাম ক্ষুণ্নের আশঙ্কা প্রকাশ করে সুন্দরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন খেয়াঘাটের ইজারাদার মো.হারুন অর রশিদ।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তিনি জানতে পারেন, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাঁর নাম, খেয়াঘাটের নাম ও ধানের শীষের প্রতীক ব্যবহার করে নকল টোল আদায়ের রসিদ তৈরি করে টাকা আদায় করছেন।
আবেদনকারীর অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত সুনাম ও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে তিনি সুন্দরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের পালের পাড়ায় নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি গ্যাসের চুলা ব্যবহারের অভিযোগে আলহাজ আব্দুল জলিলের বাড়ির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একই ঘটনায় বাড়ির মালিককে না পেয়ে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে জরিমানার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) গাজীপুরের পালের পাড়ার জলিল মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। বাড়িটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এবিসি চক্ষু হাসপাতালের পেছনে।
স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটিতে বৈধ গ্যাস সংযোগ থাকলেও অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি চুলা ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে ছিলেন না ম্যাজিস্ট্রেট ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা
গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় প্রতিবেদকের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রম দেখা যায়। তবে ওই সময় ঘটনাস্থলে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা যৌথ বাহিনীর সদস্যকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।
সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী কর্মীদের কাছে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেটের নাম জানতে চাওয়া হলেও তা জানা সম্ভব হয়নি। কর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্যত্র চলে যান। ফলে ঘটনাস্থলে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, বাড়ির মালিক আলহাজ আব্দুল জলিলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
যাচাইয়ের অপেক্ষায় জরিমানার তথ্য
বাড়ির মালিককে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করার তথ্য পাওয়া গেলেও জরিমানার আদেশ, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাম এবং এর আইনগত ভিত্তি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
“অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব-সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি” এই স্লোগানে গোপালগঞ্জে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস উদযাপিত হয়েছে।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই’র গোপালগঞ্জ কার্যালয় আলোচনা সভার আয়োজন করে।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) এসএম তারেক সুলতান।
বিএসটিআই গোপালগঞ্জ কার্যালয়ের প্রধান ও উপ-পরিচালক প্রকৌশলী খালিদ রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও পরিদর্শক (মেট্রোলোজি) তাসনীম দোহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সহকারী পরিচালক (সিএম) গোবিন্দ কুমার ঘোষ সহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, পণ্য ও সেবার মান নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিল্প উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরিয়তপুর জেলায় পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক মান প্রণয়নে উৎসাহ দিতে বিএসটিআই কাজ করছে। নিম্নমানের বা ভেজাল পণ্যের ব্যবসা রোধ করে নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি বা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যগুলো ত্বরান্বিত করতে বিএসটিআইকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে আলোচনা সভায় বক্তারা জানান।
এতে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার শিল্প উদ্যোক্তা, বেকারি মালিক, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বেড়াপাড়া ও ক্লাবের হাটে অভিযান চালিয়ে দুই সার ব্যবসায়ীকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি, লাইসেন্স ছাড়া সার ও বীজ বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক রাখার অভিযোগে তাঁদের এ জরিমানা করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত পুলিশ ও উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ। অভিযানে বেড়াপাড়ার খুচরা সার বিক্রেতা মো. মজিবুর রহমানকে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের ক্লাবের হাটে লাইসেন্স ছাড়া সার ও বীজ বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক রাখার অভিযোগে অপর এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুনাইন বিন জামান ও অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আনিসুল হক মাহমুদ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুনাইন বিন জামান জানান, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সার ও কৃষি উপকরণের সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সার ও বীজের বাজারে অনিয়ম রোধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রি, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষি উপকরণ বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রাখার মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কক্সবাজারের উখিয়ায় পৃথক অভিযানে ২ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি এবং মাদক পাচারে ব্যবহৃত বিশেষ কৌশলের ডুবন্ত কাঠের ক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এ তথ্য জানায়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী বিওপির একটি টহল দল উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়ার মনিরের ঘের এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে একটি মাচাংঘরের পাশে সন্দেহভাজন চার থেকে পাঁচজনকে দেখতে পেয়ে চ্যালেঞ্জ করলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বেলাল উদ্দিন (৩৫) ও খোরশেদ আলম (২৬) নামে দুজনকে আটক করা হয়।
পরে ঘটনাস্থল ও ঘেরের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, একটি মোবাইল ফোন, নয়টি কপিকল, কাঠের তৈরি একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ার, ক্যারিয়ার টানার জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি ব্যাটারি, একটি বৈদ্যুতিক মোটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির দাবি, কাঠের তৈরি ডুবন্ত ক্যারিয়ারটি ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইয়াবা পাচার করা হতো। বৈদ্যুতিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সমন্বয়ে খালপথের বিভিন্ন বাঁক অতিক্রম করে ক্যারিয়ারটি দেশের ভেতরে নিয়ে আসার কৌশল ব্যবহার করছিল চোরাকারবারিরা। বিজিবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ক্যারিয়ারে একসঙ্গে আনুমানিক ৩০ লাখ পিস ইয়াবা পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমার দিক থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় মো. রকি আহমেদ (২৬) নামে একজনকে আটক করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
একই দিনে পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে মালিকবিহীন আরও ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি। এ নিয়ে পৃথক অভিযানগুলোতে মোট দুই লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, চলতি বছর এ পর্যন্ত ব্যাটালিয়নটি আনুমানিক এক কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং মাদক চোরাচালানের অভিযোগে ২২৮ জনকে আটক করেছে।
তিনি বলেন, মাদক চোরাকারবারিরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করলেও বিজিবি পেশাদারত্ব, দক্ষতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)–এর অভিযানে ৫০ বোতল নেশাজাতীয় ইস্কাফ সিরাপসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জব্দ করা আলামতের সিজার মূল্য ৮১ হাজার টাকা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত পিলার ১৮৫/এমপি থেকে আনুমানিক পাঁচ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের দানিয়াল গাছি গ্রামে জনৈক মুক্তার বিশ্বাসের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৫০ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও দুটি মোবাইল ফোনসহ টুটুল (২৬) ও ছবি বেগম (৪২) নামে দুজনকে আটক করে বিজিবি। আটক ব্যক্তিরা গোমস্তাপুরের বেনীচক এলাকার বাসিন্দা বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আল-আমিন অপু অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করছে। সব ধরনের মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় শ্রীশ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টানা ১৭ ঘণ্টার অভিযানে চোর শনাক্ত থেকে মালামাল উদ্ধারের পুরো ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সিসিটিভি ফুটেজ।
মন্দিরে চুরির ঘটনার পর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জার্সি পরা ফাহিম নামে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর ফাহিম চুরির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা অন্য ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য দেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আবারও অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে বড় বাজার এলাকার জারু ওরফে খাটোজন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশ। সেখানে বাড়ির ভেতরে তালাবদ্ধ অবস্থায় তাকে পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের অভিযান টের পেয়ে জারুকে রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল তার পরিবারের সদস্যরা। তবে পুলিশের তৎপরতায় সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরে জারুকে আটক এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের কথা জানা যায়।
এ ঘটনায় হাসিব নামে আরেক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যিনি আখাউড়ার মালদার পাড়া এলাকায় থাকেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া তাজুল নামে আরও একজনের পলাতক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও মামলার নথি থেকে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে আখাউড়ার শ্রীশ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরের পেছনের দিকের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার, ছয়টি মূর্তি এবং দানবাক্সের টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
চুরির ঘটনায় টানা ১৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে মালামাল উদ্ধার ও দুইজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আখাউড়া থানা পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।
মন্দিরের চুরির ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত, পলাতক ব্যক্তিকে আটক এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট জালিয়াতির অভিযোগে মো. রিপন মিয়া ওরফে কালু মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন ট্রেনের ৮৩টি আসনের টিকিট উদ্ধার করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১০ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত রিপন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে। তাঁর কাছ থেকে ৮৩টি আসনের বিপরীতে ৪০টি টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
টিকিটের নাম ও তারিখ পরিবর্তন করে একই টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একটি টিকিট ১০ থেকে ১২ জন যাত্রীর কাছে বিক্রি করার অভিযোগও উঠে এসেছে। এ ঘটনায় যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি সামনে এসেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।
অভিযানের সময় রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট জালিয়াতি ও কালোবাজারি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।