October 29, 2026

অন্যান্য

ডেইলি জনতার ডায়েরি | নিউজ ডেস্ক

রংপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। সরকারি বিভিন্ন কমিটিতে সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধি না রাখা এবং সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তিনি প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় রংপুরের চারটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বেলাল বলেন, “আপনারা এমপিদের পাত্তা দিচ্ছেন না কেন? আপনারা কি আসমান থেকে এসেছেন, নাকি মঙ্গলগ্রহ থেকে এসেছেন? আমাদের এ দেশের জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।”

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কমিটিতে তাঁদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামতে বাধ্য হবেন বলেও জানান তিনি।

এ সময় ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খালের দ্রুত সংস্কার, শহরের যানজট নিরসন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান জোরদারের দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

বেলালের বক্তব্যের জবাবে সভার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি জেলার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এখানে সরকারি কর্মকর্তাসহ সবার পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে আলোচনা করা উচিত। বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে শব্দচয়নের বিষয়ে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

ডেইলি জনতার ডায়েরি
নিরপেক্ষ সংবাদ,সবার অধিকার

মোঃ সিমান্ত তালুকদার

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং তরুণদের মধ্যে সৃজনশীল চিন্তা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৯ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৪ টায় রাজধানীর মিরপুর রূপনগরের আরামবাগ ঈদগাহ্ মাঠে মিরপুর বন্ধুসভার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় পাঠচক্র, কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে পাঠচক্রের আলোচ্য বই ছিল বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ ‘রূপসী বাংলা’। পাশাপাশি জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য ও জীবন, বাংলাদেশ এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে চারজনকে বিজয়ী ঘোষণা করে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

পুরস্কার বিতরণী পর্বে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া ও পাঠচক্র সম্পাদক অভি মল্লিক। তাঁদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ ধরনের স্বীকৃতি অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যতে আরও বেশি জ্ঞানচর্চা, বই পাঠ ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে।

উপদেষ্টা অপূর্ব বড়ুয়া বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদন ও ব্যস্ততার কারণে অনেকের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে। বই পাঠ মানুষের চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বিকাশে সহায়তা করে। পাঠচক্র, কুইজ প্রতিযোগিতা ও জ্ঞানভিত্তিক আড্ডার মতো আয়োজন তরুণদের বইমুখী করতে এবং গঠনমূলক আলোচনা ও সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কুইজ প্রতিযোগিতা সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি চর্চা এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এ দুই ধরনের কার্যক্রমের সমন্বয় তরুণদের জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী করে তোলার একটি কার্যকর উপায়।

পাঠচক্র সম্পাদক অভি মল্লিক বলেন, মিরপুর বন্ধুসভা দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, সামাজিক দায়বদ্ধতা জাগ্রত করা এবং সৃজনশীল ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ সম্প্রসারণের জন্য মিরপুর বন্ধুসভার এই আয়োজন। শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কিংবা পুরস্কার অর্জন নয়, বরং বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, নতুন কিছু শেখা এবং অন্যের চিন্তাভাবনা থেকে সমৃদ্ধ হওয়ার মধ্যেই পাঠচক্রের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।

বন্ধু জিতু সিংহ বলেন, মিরপুর বন্ধুসভার বিভিন্ন সৃজনশীল উদ্যোগ তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির চর্চাকে উৎসাহিত করে। পাঠচক্র ও কুইজ প্রতিযোগিতার মতো আয়োজনের মাধ্যমে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে জানার এবং ভাবনার একটি সুযোগ তৈরি হলো। মিরপুর বন্ধুসভার নিয়মিত এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে তরুণদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য ও সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে জানার পরিধি বিস্তার হবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার, প্রকাশ্যে ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন বন্ধ এবং চিহ্নিত মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী র‍্যালি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (১১ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সচেতন জনগণের উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। এ সময় তাঁদের হাতে ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ ও ‘মাদক নয়, জীবন চাই’ স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উদয়ন মোড়, জিয়ানগর, প্রান্তিকপাড়া, হাড্ডিপট্টি, চণ্ডীতলা ও রেলবাগান এলাকায় সম্প্রতি মাদকের বিস্তার বেড়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এসব এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের কারণে তরুণ ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন যুবদল নেতা মো. শওকত আলী। এ সময় তিনি ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারী মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিবাদী র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে শতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা। বক্তারা আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাজলিয়া গ্রামে তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে নির্মিত একটি কালভার্ট বা ছোট সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় চরম দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে।

প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর আগে সরকারি অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও এর দুই প্রান্তে মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর দুই পাশে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট ও অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুটি থাকলেও স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

আজ ১১ অক্টোবর রবিবার
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুতে ওঠানামার জন্য উপযুক্ত সংযোগপথ না থাকায় মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেতুতে ওঠানামার জন্য সিঁড়ির মতো ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, শিবপুর, বিদ্যাকুট ও নাটঘর ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামোর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা।

সেতু নির্মাণের পরও কেন সংযোগ সড়ক নেই?
জনগণের যাতায়াতের সুবিধার্থে সরকারি অর্থে সেতু নির্মাণ করা হলেও সেটিকে ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট ও চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি না হলে এর মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যায়। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কাজলিয়া গ্রামের এই সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য নবীনগর উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী।

তাঁদের দাবি, সেতুটি যেন কেবল দাঁড়িয়ে থাকা একটি অবকাঠামো হয়ে না থাকে; বরং সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের কাজে আসে, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রনজিৎ সরকার রাজ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের কাহারোলে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় পূজারীদের নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদে মণ্ডপ পরিদর্শন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মীম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মনজুরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাহারোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আলী।
সভায় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরে প্রতিবন্ধী নারীদের অধিকার আদায়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীলতা তৈরির লক্ষ্যে দিনব্যাপী এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ই অক্টোবর (শনিবার) প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ (NCDW), রংপুর জেলা শাখার আয়োজনে এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সাইটসেভার্স-এর ‘সমতার বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের সার্বিক সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৩ রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মিঠাপুকুর উপজেলা আমীর আসাদুজ্জামান শিমুল এবং মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী। এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় উপস্থিত প্রতিবন্ধী নারী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রতিবন্ধী নারীরা সমাজের বোঝা নন, বরং সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তারা দেশের সম্পদ হতে পারেন। তিনি বর্তমান সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মিঠাপুকুর উপজেলার প্রতিবন্ধী নারীদের কল্যাণে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সাথে তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী আয়োজিত এই কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবন্ধী নারীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি অধিকার, নেতৃত্ব বিকাশ, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

আবুজার গিফারী,যশোর প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন বুড়িভদ্রা নদীতে মোবাইল কোর্টের অভিযান চালিয়ে ছয়টি পাটা বাঁধ উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় ১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৩ হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, কেশবপুর থানার এএসআই সঞ্জয় বিশ্বাসসহ পুলিশের সদস্যরা। এ ছাড়া ত্রিমোহনী ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের আনসার দলনেতা এবং স্থানীয় জনগণ অভিযানে অংশ নেন।

অভিযানে মোট ৪ হাজার মিটার নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এসব জাল ব্যবহারের ফলে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী আটকা পড়ে এবং মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নদী ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে অবৈধ পাটা বাঁধ ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। এ জন্য প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও মৎস্যজীবীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বুড়িভদ্রা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে গণহত্যাকারী ইউনুস গং এর ফাঁসি চাই লেখা সংবলিত পোস্টার লাগানোর অভিযোগে লিটন মন্ডল (৩২) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার (১০অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা সদরের শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আটক লিটন মন্ডল গোপালগঞ্জ জেলা শহরের বেদগ্রাম এলাকার নির্মল মন্ডলের ছেলে। তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটন মন্ডল জেলা আওয়ামী লীগ গোপালগঞ্জের ব্যানারে ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে গণহত্যাকারী ইউনুস গং এর ‘ফাঁসি চাই’ লেখা-সংবলিত পোস্টার লাগাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাঁকে প্রথমে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পোস্টারসহ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রিয়াদ মাহামুদ জানান, আটককৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলা দায়েরের পর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

সাজেদুর রহমান, রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ১৪ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ একটি পাগলা কুকুর পথচারী ও বাড়ির সামনে থাকা লোকজনের ওপর আক্রমণ চালিয়ে এলোপাতাড়ি কামড়াতে শুরু করে। এতে চার বছর বয়সী এক শিশুসহ নারী ও পুরুষরা আহত হন। আক্রান্তদের মধ্যে হাসেম, জেলেখা, সেলিনা, মাসুদ, সানজিদা, শিশু লাবিব, শফিউল, ফাহিম ও শাপলাসহ বেশ কয়েকজন রয়েছেন।

আহতদের মধ্যে দুর্গাপুর ইউনিয়নের রামপুরা, শীতলগাড়ি, পাইলার বাজার ও চিথলী দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দারা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২৫ জনকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর জানান, আহতদের কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত শাপলা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, কুকুরের আকস্মিক আক্রমণে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

ডেইলি জনতার ডায়েরি
নিরপেক্ষ সংবাদ,সবার অধিকার
dailyjanotardiary.com

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
১০ অক্টোবর ২০২৬

গোপালগঞ্জ ৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী বলেছেন, আমাদের সমাজে নারীরা অবহেলিত, কারণ তারা কোন রোজগার করে না।
যার কারনে সমাজে ও পরিবারে নারীদের সম্মান বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতি পরিবারের নারী সদস্যের নামে ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন।

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শনিবার সকাল ১০ টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এমপি জিলানী বলেন, বাংলাদেশে গত ১৭ বছর একটি ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের প্রত্যেকটি অর্থনৈতিক ভিত ধ্বংস করে দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।
তাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভঙ্গুর। অর্থনৈতিক দিকটা চিন্তা করেই পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক পরিবারকে কার্ড দেওয়ার চিন্তা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির উপর দাঁড়িয়ে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। আমাদের দেশের অর্থনীতি যদি ভালো থাকতো সকল পরিবারকে একবারে কার্ড দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকারের দক্ষতায় অর্থনীতির অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী, সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রকাশ চক্রবর্তী, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল সরকার, যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া ১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১ জন সুপারভাইজারকে ডিজিটাল ট্যাব বিতরন করা হয়।