October 29, 2026

অন্যান্য

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:-
মহালয়া সামনে রেখে মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি; বাঁশ-কাঠ-খড়-মাটির কাঠামো পেরিয়ে চলছে রং-তুলির অপেক্ষা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা সামনে রেখে উপকূলীয় যশোর জেলায় শার্শা উপজেলায় ও বেনাপোলে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত কাজ করছেন মৃৎশিল্পীরা। বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমার অবয়ব তৈরির কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।

উপজেলার ছোট-বড় ৩২টি পূজামণ্ডপে চলছে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। উৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপ ও কারিগরদের ব্যস্ততা। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষ ধাপে। কোথাও মাটির প্রলেপ শুকানো হচ্ছে, কোথাও চলছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। এরপরই শুরু হবে রং ও তুলির কাজ।

বেনাপোল পৌর
ও উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে এবার ৩২ টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পৌর এলাকায় চারটি,১১ ইউনিয়নে ২৮ টি মণ্ডপ রয়েছে।

বিভিন্ন মণ্ডপ ও প্রতিমাশিল্পীদের কর্মশালা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমার কাঠামো তৈরির পর মাটি দিয়ে অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। শিল্পীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে কখনো কখনো মাটি শুকাতে সমস্যা হলেও এখন রোদ ওঠায় কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে।

একজন প্রতিমাশিল্পী বলেন, বাঁশ, কাঠ, সুতলি ও এঁটেল মাটির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। প্রায় ৪০ হাজার টাকা দামের একটি প্রতিমা তৈরিতেই ৩০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়ে যায়। ফলে আগের তুলনায় লাভ কমে গেছে।

মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততার পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটিগুলোও মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। উপকূলীয় এই জনপদে দুর্গোৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বৈদ্যনাথ দাস বলেন, শারদীয়া দুর্গোৎসব সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি জোরেশোরে চলছে। ভক্তদের অংশগ্রহণে এবারও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব পালিত হবে বলে আশা করেন তিনি।

এদিকে, আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয়া দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে মূল পূজা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শেষ হবে।#

প্রেরক:-
মো,মনির হোসেন।
বেনাপোল প্রতিনিধি যশোর।
তারিখ:-০৪/১০/২৬
মোবা:-০১৮৩৫ ০১৯৪৩১,

মাহবুবুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার

‘গুটিয়াবাসী এক হও, সন্ত্রাসকে রুখে দাও’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের গুটিয়া-আন্দারুল এলাকায় আইনজীবী এডভোকেট জালালের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মামলা-বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে গুটিয়ার আন্দারুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে ‘শান্তিপ্রিয় গুটিয়াবাসী’র ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ঝাড়ু, জুতা ও বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এ সময় তারা এডভোকেট জালালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এডভোকেট জালাল দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আন্দারুল এলাকার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চাঁদাবাজি করে আসছেন। তাদের দাবি, এলাকায় বালু ভরাট, নতুন বাড়ি নির্মাণ, যানবাহন চলাচল এবং বিলে মাছ ধরার নৌকা চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে এলাকাভিত্তিক মামলা-বাণিজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও তোলেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন এডভোকেট জালাল। মুঠোফোনে তিনি জানান, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও চক্রান্ত করছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমৃদ্ধি সাধনে অনন্য ও নিরলস অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কবি মিঠুন কুমার ঘোষকে ‘সাহিত্য সম্মাননা-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। রাজশাহী সাংবাদিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পুঠিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবু জাফর আলী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পচামাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত ভাইস প্রিন্সিপাল মো. হাবিবুর রহমান এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন সাতবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাঃ ফারুক হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সাতবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মাহবুব আলম।

সম্মাননা অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কবি মিঠুন কুমার ঘোষের লেখা কবিতা আগামী ২০২৭ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিতব্য একাধিক গ্রন্থে স্থান পাচ্ছে। নির্বাচিত ১০০ কবির ১০০টি কবিতা নিয়ে প্রকাশিতব্য ‘কাব্যের ভাবনা’ গ্রন্থে তার কবিতা থাকছে। গ্রন্থটি প্রকাশ করছে দ্বিপ্রান্তিক প্রকাশনী।

এ ছাড়া নির্বাচিত ১২ জন কবির ১০টি করে কবিতা নিয়ে প্রকাশিতব্য যৌথ কাব্যগ্রন্থ ‘যে কথা বলা হয়নি’-তেও তার কবিতা স্থান পাচ্ছে। বইটি যৌথভাবে প্রকাশ করবে দ্বিপ্রান্তিক প্রকাশনী ও নব সাহিত্য প্রকাশনী। পাশাপাশি ‘কবির কণ্ঠে বাংলাদেশ’ নামে আরেকটি গ্রন্থেও তার একটি কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে। গ্রন্থটি প্রকাশ করছে নব সাহিত্য প্রকাশনী।

প্রকাশিতব্য সবগুলো গ্রন্থই রকমারি ডটকমের স্টলে পাওয়া যাবে বলে জানান কবি মিঠুন কুমার ঘোষ।

তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গের অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা ‘কাব্যকুঞ্জ’, বাংলাদেশের অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা ‘তুলোট’ এবং আন্তর্জাতিক অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা ‘দ্য প্যারিস মেইল’-এ নিয়মিত তার কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে। এ ছাড়া ‘দৈনিক আমাদের রাজশাহী’ পত্রিকাতেও নিয়মিত তার লেখা কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা কবি মিঠুন কুমার ঘোষের সাহিত্যচর্চার প্রশংসা করে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে তার লেখালেখি অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মোহাম্মদ হোসাইন,স্টার রিপোর্টার

পবিত্র ওমরাহ পালন এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন শেষে কক্সবাজারে ফিরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী।

সফরকালে তিনি মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। সফর শেষে কক্সবাজারে পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান টেকনাফ উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সরোয়ার কামাল সিকদার, উপজেলা অর্থ সম্পাদক ও হোয়াইক্যং ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোহাম্মদ হোছাইন, সাবরাং ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আনোয়ার হোছাইন বাপ্পিসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এ সময় নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং সৌদি আরব সফর ও পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে নিরাপদে দেশে ফেরায় অভিনন্দন জানান।

জানা যায়, মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারীর সৌদি আরব সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পবিত্র ওমরাহ পালন। পাশাপাশি তিনি সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়, শিক্ষা ও ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করেন। সফর শেষে দেশে ফিরে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানানো নেতাকর্মীরা তার সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের সফলতা কামনা করেন।

মোহাম্মদ হোসাইন:,স্টাফ রিপোর্টার

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী এলাকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী নুরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে কক্সবাজার আল ফুয়াদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন হোয়াইক্যং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইন।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) তিনি কক্সবাজার আল ফুয়াদ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন নুরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তার চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইন- নুরুল ইসলামের দ্রুত সুস্থতা ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করেন। পাশাপাশি তার চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও নুরুল ইসলামের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নুরুল ইসলামের দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।

মোঃ কামাল হোসেন প্রধান জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী।

নরসিংদীর তিন থেকে বারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মোল্লাকে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
অদ্য ১ অক্টোবর ২০২৬ ইং বৃহস্পতিবার বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সাবেক এমপি আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মোল্লার পক্ষের আইনজীবীর করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন বাংলাদেশ হাইকোর্ট।
বর্তমানে হাইকোর্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) রিপোর্ট স্থগিত করার নজির প্রায় বন্ধ থাকলেও,আদালতের অবকাশকালীন ছুটির সময়ে এই আদেশ দেওয়া হলো। এর আগেও সিআইবি রিপোর্ট স্থগিত করানোর চেষ্টা করেছিলেন তার আইনজীবী । এ আদেশের পাশাপাশি কেন তাদের ঋণখেলাপির তালিকায় রাখা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে একটি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট । একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট চারজনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ খবর নরসিংদীর শিবপুর বাসী জানতে পেরে হাজার হাজার অসহায় ,নিরহ, সাধারন মানুষ সাবেক এমপি আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এবং তাহার পরিবারের সদস্যদের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। সাথে সাথে সাবেক এমপি আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মোল্লার মুক্তি কামনা করে বলেন, আল্লাহ যেন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও তাহার পরিবারের সদস্যদের সুস্থ এবং সর্ব স্থানে ভালো রাখেন। সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেছিলেন আমাদের জন্মভূমি শিবপুর ,আমরা শিবপুরের সাধারন মানুষের জন্য ভালো কিছু করিতে চাই আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করিবেন ,আমরা যেন আপনাদের পাশে থেকে আপনাদেরকে সেবা করার সুযোগ পাই। আল্লাহর রহমতে আমাদের কোন চাওয়া পাওয়া নেই, আমাদের কোন অভাব অনটন নেই ,আমরা শিবপুরবাসীর জন্য ভালো কিছু করিতে চাই। আপনাদের দোয়া এবং সহযোগিতা পাইলে আমরা অবশ্যই শিবপুরের জন্য ভালো কিছু করিতে পারবো ইনশাল্লাহ।

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:-
ভারতে কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যুর পর। নিরাপত্তা অভিযানে একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীরা। আগে থেকে হোটেল বুকিং করেও কলকাতায় গিয়ে অনেকেই নির্ধারিত আবাসনে উঠতে পারছেন না। কেউ নতুন হোটেল খুঁজে হয়রানী হচ্ছেন, কেউ বাড়তি ভাড়া গুনছেন, আবার কেউ চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই দেশে ফিরছেন।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়,১ থেকে ৩০সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন ২২ হাজার ৯৫জন পাসপোর্টযাত্রী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি১০ হাজার ৮৭৫ জন, ভারতীয় ৩ হাজার ৯৫১ জন এবং অন্যান্য দেশের ২৫ জন নাগরিক ছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের পর শুরু অভিযান :
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে প্রশাসনের অভিযানে একের পর এক আবাসিক হোটেল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০টি হোটেল রয়েছে।

গত ১৯ আগস্ট রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। এরপর কলকাতা প্রশাসন আবাসিক হোটেল ও অতিথিশালাগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই শুরু করে।
এ পর্যন্ত ৯১৯টি হোটেল ও অতিথিশালায় অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪১টিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামো সন্তোষজনক পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনে ঘাটতি থাকায় অধিকাংশ হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এক হোটেল থেকে আরেক হোটেলে ছুটছেন বাংলাদেশিরা :
হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা। অনেকে এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে ঘুরেও থাকার জায়গা পাচ্ছেন না। কোথাও জায়গা মিললেও আগের তুলনায় দিতে হচ্ছে দেড় থেকে দ্বিগুণ ভাড়া।
কলকাতায় জায়গা না পেয়ে অনেক বাংলাদেশি শিয়ালদহ, মুকুন্দপুর, আনন্দপুর, বারাসাত, দমদম ও জাকারিয়া স্ট্রিটের মতো দূরের এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করছেন।
ফেরত আসা কয়েকজন যাত্রী জানান, যেসব হোটেলের দৈনিক ভাড়া আগে প্রায় এক হাজার রুপি ছিল, সেগুলোর কোনো কোনোটি এখন দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার রুপি পর্যন্ত দাবি করছে। ৫০০-৬০০ রুপির হোটেলেও এখন ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ রুপি পর্যন্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসা করাতে এসে বাড়তি খরচের চাপ :
কলকাতায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসার খরচ কম রাখার পাশাপাশি আবাসনেও সাশ্রয় করতে চান অনেক রোগী ও তাদের স্বজন। কিন্তু হোটেল সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় তাদের বাজেট বেড়ে যাচ্ছে।

অনেকেই চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই দেশে ফিরছেন। আবার কেউ কেউ হাসপাতালের আশপাশে থাকার জায়গা না পেয়ে দূরবর্তী এলাকায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাংলাদেশি রোগীদের জন্য কিছু হাসপাতাল নির্দিষ্ট হোটেলের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বললেও সেখানেও পর্যাপ্ত আসন পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিরাপদ হোটেল বুকিং নিয়েও সংকট :
সম্প্রতি কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে কলকাতাগামী বাংলাদেশিদের আগেভাগে নিরাপদ হোটেল বুক করার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক হোটেলই এখন অগ্রিম বুকিং নিচ্ছে না।
ফলে ভিসা থাকা সত্ত্বেও থাকার জায়গা নিশ্চিত করতে না পেরে অনেক বাংলাদেশি ভারত সফর স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

‘চিকিৎসা রেখেই দেশে ফিরেছি’ :
ভারতফেরত পাসপোর্টযাত্রী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিকিৎসার জন্য ২০ আগস্ট ভারতে গিয়েছিলেন। কলকাতার বড়বাজার এলাকার একটি হোটেলে ছিলেন। শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযান শুরু করলে যে হোটেলে ছিলেন সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আরও এক সপ্তাহ কলকাতায় থাকার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হোটেল সংকট, বাড়তি ভাড়া ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চিকিৎসা শেষ না করেই দেশে ফিরতে হয়েছে।

বরিশালের শ্যামল কুমার রায় স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে কলকাতা যাচ্ছেন। তিনি বলেন, হোটেল বন্ধের খবর শুনে কিছুটা আতঙ্কেই যেতে হচ্ছে। কলকাতায় আত্মীয় থাকলেও তাদের বাসা ছোট হওয়ায় হোটেলেই থাকতে হয়। সেখানে থাকার জায়গা পাওয়া যাবে কি না, সেটিই এখন বড় চিন্তা।

পর্যটন ব্যবসায়ও বড় ধাক্কার আশঙ্কা :
কলকাতার হোটেল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশি পর্যটক ও রোগীদের ঘিরে নিউ মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় আবাসিক হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহন, কেনাকাটা ও নানা ধরনের ব্যবসা গড়ে উঠেছে।

একটি আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার প্রভাত সরকার বলেন, করোনার পর থেকেই নানা কারণে ব্যবসায় মন্দা চলছে। পর্যটক ভিসা চালু হওয়ায় বাংলাদেশি যাত্রী বাড়তে শুরু করেছিল। এর মধ্যেই হোটেল বন্ধের ঘটনা ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ধাক্কা।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক দিনের হিসাব অনুযায়ী আগের তুলনায় ভারতে গিয়ে দেশে ফেরার যাত্রী কিছুটা বেশি। তবে এর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তার কাছে তথ্য নেই। দুই দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।#
প্রেরক:-
মো,মনির হোসেন।
বেনাপোল প্রতিনিধি যশোর।
তারিখ:-০১/১০/২৬
মোবা:-০১৮৩৫ ০১৯৪৩১,

লুৎফর সিকদার , গোপালগঞ্জ

৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত নিয়োগ গেজেট প্রকাশের পর গোপালগঞ্জের প্রার্থীদের ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। পিএসসির চূড়ান্ত ফলে জেলার ১১ জন প্রার্থী সাময়িকভাবে মনোনীত হলেও বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে তাঁদের মধ্যে ৯ জনের নাম নেই। এ নিয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, গোপালগঞ্জের পরিচয় তাঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না।

বাদ পড়া ৯ প্রার্থী হলেন: মো. নূরনবী শেখ, আহম্মদ উল্লাহ, সোহাগ মন্ডল, বিপ্লব বাড়ৈ, শেখ আরাফাত কবির, বুশরা জাহান, মো. সাজ্জাদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও মো. রাকিবুল ইসলাম।

প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের কয়েকজন নিজ নিজ বিভাগে মেধাক্রমে এগিয়ে ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের আহম্মদ উল্লাহ মেধাক্রমে প্রথম এবং একই বিভাগের সোহাগ মন্ডল তৃতীয় হন। ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নূরনবী শেখ ছিলেন পঞ্চম। এ ছাড়া সংস্কৃত বিভাগের বিপ্লব বাড়ৈ পঞ্চম, ইতিহাস বিভাগের শেখ আরাফাত কবির ১৫তম এবং ইংরেজি বিভাগের বুশরা জাহান ১৪তম মেধাক্রমে ছিলেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

বাদ পড়া প্রার্থী নূরনবী শেখ দাবি করেছেন, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত থাকার পরও গোপালগঞ্জের পরিচয়ের কারণে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। মেধাক্রমে প্রথম আহম্মদ উল্লাহও তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জ হওয়াকে বাদ পড়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে বাদ পড়া প্রার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম গোপালগঞ্জের পরিচয়ের কারণে বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে মনে করেন না। তিনি বলেন, তাঁকে কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে।

এদিকে গোপালগঞ্জ থেকে নির্বাচিত দুই প্রার্থীর একজন তন্ময় আইসিটি ক্যাডারে মেধাক্রমে ২১তম এবং মো. অপু খান ম্যানেজমেন্ট ক্যাডারে ষষ্ঠ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের শিক্ষাজীবনের বড় একটি অংশ গোপালগঞ্জের বাইরে কেটেছে।

সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জের ৯ প্রার্থীর বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শুধু জেলার পরিচয়ের কারণে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো সরকারি নথি বা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

চূড়ান্ত গেজেটে ৬১১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে পিএসসির চূড়ান্ত ফলে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পায়নি। তবে তাঁদের বাদ পড়ার কারণ গেজেটে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে গোপালগঞ্জের ৯ প্রার্থীসহ বাদ পড়া অন্যদের নিয়োগ না পাওয়ার কারণও এখনো স্পষ্ট নয়।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি

মিঠাপুকুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয়-এর নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আজ ৩০শে সেপ্টেম্বর সকালে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের উচ্চশিক্ষা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং অবকাঠামোর টেকসই ও সুষম উন্নয়নে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির সাথে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন কেবল সাধারণ নির্মাণকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘস্থায়ী, মানসম্মত এবং পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। তিনি তাঁর বক্তব্যে ঐতিহ্যবাহী মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয়ের বিভিন্ন গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও উন্নয়নমূলক চাহিদার কথা প্রতিমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এমপি গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এবং মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন আবশ্যক। নতুন এই একাডেমিক ভবন নির্মাণের ফলে এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক সাইফুল ইসলাম এবং মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম নিক্সন। এছাড়াও এলজিইডির প্রকৌশলীবৃন্দ, মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তাঁর বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন, জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন করা আমাদের লক্ষ্য।অবকাঠামোগত যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম, ধীরগতি বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা পরিষদ ও এলজিইডির সমন্বিত প্রচেষ্টায় রংপুরের গ্রামীণ যোগাযোগ ও শিক্ষা অবকাঠামো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আলোচনা সভা শেষে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলক উন্মোচন করে নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সবশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, অগ্রগতি এবং নির্মাণাধীন প্রকল্পের সফল সমাপ্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ:

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা- ২০২৬ উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলার পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

আজ বুধবার দুপুর ১৪.০০ ঘটিকায় উপস্থিত ছিলেন, গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে আসন্ন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা- ২০২৬ অত্যন্ত আনন্দমুখর, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এক বিশেষ সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ হাবীবুল্লাহ, বিপিএম-সেবা, পুলিশ সুপার, গোপালগঞ্জ।

জেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সুসংহত রাখার লক্ষ্যে সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে । পুলিশ সুপার মহোদয় জানান, প্রতিটি পূজা মন্ডপকে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। পূজা চলাকালীন মন্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পোশাকধারী পুলিশ এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিতে সাদা পোশাকে বিশেষ দল নিয়োজিত থাকবে।

এছাড়াও তিনি প্রতিমা বিসর্জনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও রুট কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনাসহ প্রতিটি মন্ডপসমূহে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন কমিটিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব বা উসকানিমূলক পোস্ট ছড়িয়ে যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে না পারে, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে। কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং গোপালগঞ্জ পুলিশ কন্ট্রোল রুম ০১৩২০১০০২৯৮ -এ যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে একটি উৎসবমুখর, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পূজা উদযাপনে গোপালগঞ্জ জেলার সকল স্তরের নাগরিক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যম কর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন পুলিশ সুপার, গোপালগঞ্জ।

উক্ত সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।