October 28, 2026

রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার একটি জামে মসজিদের অভ্যন্তরে চেয়ার, টেবিল ও সোফা বসিয়ে সভা আয়োজনকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ওই সভার স্থিরচিত্র সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

শনিবার সকালে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা কওমি মাদ্রাসা জামে মসজিদে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোদলা কওমি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের পরিচালনা ব্যয় ও বকেয়া খরচ পরিশোধসহ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা চেয়ে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সভায় অতিথিদের বসার জন্য মসজিদের ভেতরে চেয়ার, টেবিল ও সোফার ব্যবস্থা করা হয়।

সভাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মসজিদের অভ্যন্তরে এ ধরনের আয়োজন এবং আসবাবপত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ মসজিদের পবিত্রতা ও ধর্মীয় পরিবেশের বিষয়টি উল্লেখ করে সমালোচনা করেন। তবে এসব প্রতিক্রিয়া মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যক্তিগত মতামত ও মন্তব্য।

এ বিষয়ে সভায় উপস্থিত বিএনপি নেতারা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। মাদ্রাসা ও মসজিদের বকেয়া খরচ পরিশোধ এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার জন্য কর্তৃপক্ষ সংসদ সদস্যসহ আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, সেখানে গিয়ে তারা মসজিদ ও মাদ্রাসার ভেতরে অতিথিদের জন্য চেয়ার-সোফার ব্যবস্থা দেখতে পান। তাঁর দাবি, বসার এই ব্যবস্থা মসজিদ কর্তৃপক্ষই করেছিল। সভায় মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিকে কেন্দ্র করে মসজিদের অভ্যন্তরে সভা আয়োজনের ধরন ও আসবাবপত্র ব্যবহারের উপযুক্ততা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত সভাটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল কি না এবং মসজিদের অভ্যন্তরে এ ধরনের আয়োজনের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় নিয়েই মূলত আলোচনা চলছে।

মোঃ ইব্রাহিম আলী, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ১২ নম্বর রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আরিফুল ইসলাম আরিফের উদ্যোগে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোগা গ্রামের মায়ার বাজার এলাকায় এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভোগা গ্রাম ও আশপাশের এলাকার প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

উঠান বৈঠকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আরিফুল ইসলাম আরিফ উপস্থিতদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি নিজেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর সঙ্গে সমন্বয় করে রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চান তিনি।

আরিফুল ইসলাম আরিফ জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির কাছে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশা করবেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়ন, সুশাসন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

উঠান বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ইফতিয়াজ সুমন, স্টাফ রিপোর্টার :

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৬নং একাটুনা ইউনিয়ন পরিষদের সমাজসেবক শেখ নুর আলম একটি আধুনিক, উন্নত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। 

তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই একাটুনা ইউনিয়নের প্রতিটা মানুষকে নিজের আপনজন হিসেবে চিনি।নিজের জন্য নয়, এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য। ইউনিয়নের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই। 

শেখ নুর আলম মনে করেন, দক্ষ নেতৃত্ব, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতি টা এলাকার চিত্র বদলে দেওয়া সম্ভব। তিনি শিক্ষা,স্বাস্থ্যসেবা,যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন, যুবসমাজের অগ্রগতি এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন আমার পরিবারের কাছ থেকে মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা পেয়েছি। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে একাটুনা ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন এবং বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাট মেরামত ও মসজিদ মাদ্রাসায় উন্নয়নে অল্প করে হলেও নিজেকে সম্পৃক্ত রাখছেন নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়নে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, সরকারি সুযোগ-সুবিধার সঠিক বাস্তবায়ন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তরুণদের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন,একাটুনা ইউনিয়ন সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, সুশাসিত ও মানবিক ইউনিয়ন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

শফিকুর রহমান: সরকার জনগণের আশা পূরণে ব্যর্থ।

গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসক নিয়োগ ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে তা এক দফায় রূপান্তরিত হতে পারে। জনগণের যৌক্তিক দাবি মেনে না নেওয়া হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

লংমার্চের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।

এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপিসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পথসভা শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহর সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে টাঙ্গাইল ত্যাগ করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়।

লংমার্চ শুরুর আগে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।

সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

এ সময় বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে।

১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে লংমার্চের পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে রংপুরে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মোসাদ্দেক ইমন:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির সহ-সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রনেতা আলাউদ্দিন শেখ সুমন। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি এ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন আলাউদ্দিন শেখ সুমন। দলের দুঃসময়ে রাজপথের কর্মসূচিতেও তার অংশগ্রহণ ছিল বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ঘোষিত ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাকে সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বাস্তবতার কারণে দায়িত্ব পালন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

পদত্যাগের বিষয়ে আলাউদ্দিন শেখ সুমন বলেন, “আমি সবসময় পদ-পদবির চেয়ে সংগঠন ও দেশকে বড় করে দেখেছি। দীর্ঘদিন রাজপথে থেকেছি দলের গণতান্ত্রিক ও বহুদলীয় আদর্শ এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে।”

তিনি বলেন, “দলীয় নেতৃত্বের ভালোবাসা ও আস্থার কারণে বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছি। সর্বশেষ ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াটা আমার জন্য সম্মানের বিষয়। কিন্তু বর্তমান পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বাস্তবতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব শতভাগ সময় ও মনোযোগ দিয়ে পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

নিজের রাজনৈতিক পথচলায় সহযোগিতার জন্য দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আলাউদ্দিন শেখ সুমন বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে কখনো ব্যক্তিগত লাভ বা পদ-পদবির বিষয় ছিল না। দায়িত্বে না থাকলেও মানুষের কল্যাণে কাজ করা যায়। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ভবিষ্যতে আবারও সংগঠনের জন্য কাজ করার সুযোগ তৈরি হলে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে প্রস্তুত থাকব।”

পদত্যাগের মধ্য দিয়েও দলীয় আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই ছাত্রনেতা।

সাজেদুর রহমান, রংপুর প্রতিনিধি:

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে রংপুরের মিঠাপুকুরে মোটরসাইকেল র‍্যালি ও গণসংযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মিঠাপুকুর উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন ইউনিয়নে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাটি প্রদক্ষিণ করে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জামায়াতে ইসলামী, যুব বিভাগ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য হাফিজুর রহমান ফকিরের নেতৃত্বে র‍্যালিতে জামায়াত নেতা হারুন অর রশিদ, আব্দুল কাদের, আব্দুল আখের, সাফায়াত হোসেন, নাজমুল হক ও নুরুল হুদা আশরাফীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

র‍্যালিতে উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে মিঠাপুকুরে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারা আগামীকালের কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনসাধারণকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

র‍্যালিটি মিঠাপুকুর মডেল মসজিদ এলাকা থেকে শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিঠাপুকুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

আয়োজকদের দাবি, র‍্যালিটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে শেষ হয়েছে। এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লং মার্চ সফল করার লক্ষ্যে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী মেট্রো থানা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরীর শূরা সদস্য ও কোনাবাড়ী মেট্রো থানা আমীর ডাঃ মুহাঃ কবির হোসাইন।

মিছিলে কোনাবাড়ী মেট্রো থানার শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনসাধারণ অংশ নেন। মিছিলটি কোনাবাড়ীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাপ্ত হয়।

মিছিল শেষে দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে ডাঃ মুহাঃ কবির হোসাইন বলেন, “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিসহ জামায়াতে ইসলামীর সাত দফা দাবি দ্রুত মেনে নিতে হবে। দাবি মেনে না নিলে তা এক দফায় পরিণত হবে।”

তিনি আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লং মার্চ সফল করতে কোনাবাড়ীবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

ইফতিয়াজ সুমন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সমাজসেবক মো. কোহিনূর আলম। তিনি জনগণের পাশে থেকে একটি আধুনিক, উন্নত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

মো. কোহিনূর আলম বলেন, ছোটবেলা থেকেই কুরবাননগর ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য। ইউনিয়নবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চান তিনি।

তিনি মনে করেন, দক্ষ নেতৃত্ব, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কুরবাননগর ইউনিয়নের উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন, যুবসমাজের অগ্রগতি এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

কোহিনূর আলম বলেন, তার পরিবার থেকে তিনি মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা পেয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কুরবাননগর ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে আসছেন।

এলাকার বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাট মেরামত, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন বলেও জানান।

নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, সরকারি সুযোগ-সুবিধার সঠিক বাস্তবায়ন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তরুণদের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কুরবাননগর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, সুশাসিত ও মানবিক ইউনিয়ন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মোঃ রনি রজব, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী নির্বাচন, দলীয় কৌশল ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ নজরুল ইসলাম খান এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালনরত রুহুল কবির রিজভী।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।

বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন ও বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনে দলের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

সভায় স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম জোরদার, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা সভায় অংশ নিয়ে নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতির বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।