October 28, 2026

রাজনীতি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট চেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের গেদা পাড়ায় প্রচারণাকালে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং তাঁদের ভোটে নির্বাচিত হলে সব দাবি পূরণের আশ্বাস দেন।

আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ফ্যামিলি কার্ড কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সম্পত্তি নয়, বরং এটি জনগণের অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন।

বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভুল্লী উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের লক্ষীরহাট এলাকায় এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও এ কার্ড নিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার বিষয়টি জড়িয়ে প্রচার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ ১৮ কোটি মানুষের করের টাকা। তাই এটি কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে দল-মত নির্বিশেষে।

জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের সময়মতো সার সরবরাহ, সারের সিন্ডিকেট বন্ধ, বিদ্যুৎ ও তেলের দাম কমানো এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের দরকার কৃষকরা যেন ঠিকমতো সার পান। আমরা গ্যাস চাই, বিদ্যুৎ চাই। এসব দিতে না পারলে গদি ছেড়ে দিতে হবে।”

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জনগণের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে ডিসেম্বরের পর জনগণই সরকারের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁওয়ের শূন্য আসনে অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনকে তিনি জনগণের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে উল্লেখ করেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়নের কথা বলা হলেও পৌরসভার অনেক রাস্তা এখনো কাঁচা। বর্ষাকালে এসব রাস্তায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানান তিনি।

নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকেও অর্থায়নের চেষ্টা করে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াতের এই প্রার্থী। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়ার অঙ্গীকার করে তিনি মাদক ব্যবসা ও এর পেছনে সহযোগিতার অভিযোগ তুলে ধরেন।

তবে মাদক ব্যবসা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তাঁর এসব অভিযোগের পক্ষে বৈঠকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনী উঠান বৈঠকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন বলেছেন, নির্বাচিত হলে কৃষকদের সারের সমস্যা সমাধানে সংসদে গিয়ে খোলা বাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি এলাকার রাস্তাঘাট পাকা করা, মাদক নির্মূল এবং ঠাকুরগাঁও শহরকে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভুল্লী উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, কয়েক দিন আগে এ আসনের মানুষ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন এবং এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। ভুল্লী-রুহিয়াকে উপজেলা করা, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এসব উন্নয়নকাজ সামনের দিকে এগিয়ে নিতে একজন সংসদ সদস্য প্রয়োজন। এ জন্য তিনি ভোটারদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
কৃষকদের সমস্যা তুলে ধরে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, এলাকার কৃষকেরা সারের সংকটে ভুগছেন। নির্বাচিত হলে সংসদে গিয়ে খোলা বাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেবেন। একই সঙ্গে এলাকার যেসব রাস্তা এখনো চলাচলের অনুপযোগী, সেগুলো পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, হিন্দু-মুসলিমসহ বাংলাদেশের সব মানুষকে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ও নাগরিক সুবিধা ভোগ করবেন। মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না—এমন সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় তিনি জানান, এলাকার একটি মন্দিরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
মাদক সমস্যাকে এলাকার অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁও থেকে মাদক নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এ ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশাসনের প্রতিও মাদক বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
ঠাকুরগাঁও শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, শহরের চারপাশ দিয়ে একটি রিং রোড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সড়কটি বাইপাস হিসেবে কাজ করবে এবং বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওকে একটি সুন্দর, আধুনিক ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত শহর নির্মাণের ক্ষেত্রে জনগণের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উঠান বৈঠকে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত রাখা, কৃষকদের সমস্যা সমাধান, মাদক নির্মূল ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য তাঁকে নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত জনগণকেই নিতে হবে

মোঃ রনি রজব ভোলাহাট উপজেলা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি :

আগামী ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক জনাব তারেক রহমান রাজশাহীতে আগমন করতে যাচ্ছেন। তাঁর এই আগমন উপলক্ষে তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও স্বাগতম জানিয়েছেন ভোলাহাট উপজেলার ৩ নং দলদলী ইউনিয়ন শাখা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সনি আকরাম।

এক বার্তায় তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজশাহী সফরকে সফল ও সার্থক করার আহ্বান জানান।

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্ম, বসবাস ঢাকার আশুলিয়ায়। নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনে কখনো ঠাকুরগাঁওয়ে আসেননি। জেলাটিতে নেই আত্মীয়স্বজন কিংবা পরিচিতজনও। অথচ সেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য আব্দুল আলীম নিজামী। তার নির্বাচনি প্রতীক বটগাছ।

জেলায় দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল, সক্রিয় নেতাকর্মীও হাতে গোনা। সীমিত আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে চারটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় মাইক লাগিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন নিজামী। ভোটারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন লিফলেট। এভাবেই নিজের ঘোষিত আট দফা কর্মসূচির পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) তার সঙ্গে কথা হয়। নিজের জন্মস্থান চট্টগ্রাম কিংবা বসবাসের এলাকা ঢাকার পরিবর্তে ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচন করার কারণ জানতে চাইলে নিজামী বলেন, বাংলাদেশের যেখানেই উপনির্বাচন হবে, সেখানেই অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হলে এখানে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নিজামীর কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় ধর্মীয় অবমাননা ও কটূক্তি বন্ধে শক্তিশালী আইন প্রণয়ন। তার ভাষ্য, এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করলেও সংসদের বাইরে থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া কঠিন। তাই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নিজের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে চান তিনি।

নির্বাচনি মাঠে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় নিজামীর প্রচার সীমিত। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে তার প্রচারণা তেমন দৃশ্যমান নয়। নিজামী বলেন, আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় বড় পরিসরে প্রচার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। চারটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় মাইক লাগিয়ে প্রচার করছেন। তবে বিস্তৃত নির্বাচনি এলাকার সব ভোটারের কাছে এভাবে পৌঁছানো কঠিন। এ কারণে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমেও ভোটারদের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে দলের সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে নিজামী বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সক্রিয় নেতাকর্মী এখানে প্রায় নেই বললেই চলে। তবে ১৯৮৭ সাল থেকে দলটির প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ্জী হুজুরের অনুসারী একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে পাশে পেয়েছেন তিনি। প্রচারণার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ স্বেচ্ছায় তার পক্ষে কাজ করছেন বলেও দাবি করেন এই প্রার্থী।

ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানতে চাইলে নিজামী বলেন, তার কর্মসূচি শুধু এই আসনের জন্য নয়, সারা দেশের মানুষের জন্য। একজন সংসদ সদস্যের প্রধান দায়িত্ব জাতীয় পর্যায়ে আইন প্রণয়ন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভূমিকা রাখা। এলাকার উন্নয়ন বরাদ্দ পাওয়ার জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া নয়, উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি। তবে নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়িঘর তৈরি করে নিয়মিত অবস্থানের পরিকল্পনার কথাও জানান নিজামী।

ভোটারদের কাছে নিজের আট দফা কর্মসূচি তুলে ধরছেন এই প্রার্থী। এর মধ্যে ধর্মীয় অবমাননা ও কটূক্তি বন্ধে শক্তিশালী আইন প্রণয়ন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গে ২০০৩ সালে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সাধনপুরে হিন্দু শীল পরিবারের ১১ সদস্যকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করেন নিজামী। তার দাবি, মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই অনেক আসামির মৃত্যু হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনায় মামলা দায়ের থেকে শুরু করে তদন্ত, বিচার, আপিল ও রায় কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থা করতে চান তিনি। নিজামীর মতে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা গেলে এ ধরনের সহিংসতা কমানো সম্ভব। নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন আলীম নিজামী। ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটাররা তাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাবেন বলে আশা তার।

মুসলিম ভোটারদের ঈমানের তাগিদে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিজামী। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের আইনি সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদেরও বটগাছ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়া পাঁচ প্রার্থী হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।

মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে একটি পক্ষের মিথ্যা অপপ্রচার ও চরিত্রহননের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ওদের সঙ্গে সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা পরিষদ গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ফুলবাড়ী উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ গেটে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক আরাবুর রহমান পাশার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নবগঠিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাসু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক লোকমান হোসেন সরকার, সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মুকুল এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক।
এ ছাড়াও সমাবেশে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক মাস্টার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক, সদস্য সচিব অপূর্ব লাল সেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এইচ এম বাবুল, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মমিন, জাতীয়তাবাদী লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাফিজুর রহমান, তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান লাকু এবং ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুদ্দিন চিশতিয়া বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে বক্তারা জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও চরিত্রহননের তীব্র প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনের ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নীলফামারী প্রতিনিধি
​নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে জামায়াতে ইসলামী ইটাখোলা ইউনিয়ন শাখা আয়োজিত কর্মী সমাবেশে সর্বসম্মতিক্রমে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে গোলাম রব্বানী সরকারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এবং নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ যৌথভাবে হাত উঁচুরে ধরে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
​ইটাখোলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নুর ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মী সমাবেশের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘মানবতার সেবা ও দেশ পরিচালনার যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করা’।
​সমাবেশের মূল বক্তব্যসমূহ:
​প্রধান অতিথির বক্তব্য (নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার):
​বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিএনপির স্লোগান ছিল ‘সবার আগে দেশ’, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডে এখন মনে হচ্ছে সবার আগে বিএনপি। নতুন সরকারের ওপর জনগণের অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকলেও সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে ওঠেনি।”
​দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সংগঠনের সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক নিয়ম মেনে আমরা যোগ্য ও সৎ মানুষকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করি। অথচ অন্যান্য দলের ব্যক্তিরা নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে নিজেরাই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেন।”
​বিশেষ অতিথির বক্তব্য (নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ):
​তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী সব সময় জনগণের সেবা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। এলাকার উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
​মনোনীত প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া:
​আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণার পর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম রব্বানী সরকার ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন এবং আজীবন জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
​সমাবেশে জেলা, শহর ও উপজেলা জামায়াতের শীর্ষনেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন বামনডাঙা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. রাশেদুল ইসলাম বাবু। তাঁর পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হিসেবে চাঁদ মিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. শহিদুল ইসলাম মঞ্জু। দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন রাশেদুল ইসলাম বাবু।

পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বামনডাঙা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম শামীম জানান, সাংগঠনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে চাঁদ মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেওয়া হবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘কৃষি শ্রমিক সমাবেশ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি খামার শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার বিপুলসংখ্যক কৃষি শ্রমিক ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ‘কৃষি শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি খামার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাঃ মনিমুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ গোলাম রব্বানী। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা আবুজার গিফারী, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুস সবুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ কৃষিজীবি শ্রমিক ইউনিয়ন পৌর সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম। সমাবেশে বক্তারা কৃষি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, “কৃষি শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।” দেশের কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতিতে কৃষি শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরে তিনি তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কৃষি শ্রমিকদের নিরাপদ ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, ন্যায্য মজুরি প্রদান এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা আবুজার গিফারী বলেন, কৃষি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। দেশের কৃষি ও অর্থনীতির উন্নয়নে কৃষি শ্রমিকদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

‘ফখরুল বলেছেন, এটাই তাঁর শেষ নির্বাচন—এবার দেলাওয়ারকে বিজয়ী করতে হবে’

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে প্রচারণায় নেমে বিএনপির ভোটারদেরও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান। তাঁর দাবি, বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের আগে নিজের শেষ নির্বাচনের কথা বলেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে দেলাওয়ারকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ প্রধান বলেন, “শুধু জামায়াত নয়, এবার বিএনপিও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে।” তাঁর ভাষ্য, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের উন্নয়ন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের অগ্রগতির জন্য দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করা প্রয়োজন।
‘চাঁদাবাজি-দুর্নীতিমুক্ত ঠাকুরগাঁও চাই’
নির্বাচনী সভায় রাশেদ প্রধান বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের মতো উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তাঁর মতে, দেলাওয়ার হোসেন নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, “আমরা এই ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন করে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি দেখতে চাই না।” অবহেলিত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপির প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে জাগপা মুখপাত্র বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড, ঘরে ঘরে চাকরি এবং দেশের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
রাশেদ প্রধানের অভিযোগ, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের বেশি বিল দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, লুটপাট এবং কৃষকদের সার নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের বড় একটি অংশ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। সারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ নিয়ে অনিয়ম কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‘মজলুমের কষ্ট মজলুমই বোঝে’
দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাশেদ প্রধান বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে হলে সাধারণ মানুষের বাস্তবতা বুঝতে হবে। তাঁর দাবি, দেলাওয়ার হোসেন নিজেও নির্যাতিত মানুষের কষ্ট বোঝেন।
তিনি দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারার আহ্বান
নির্বাচনের ফলাফল সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাশেদ প্রধান বলেন, ভোটগ্রহণের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটার ও সমর্থকদের সতর্ক থাকতে হবে। ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান করে ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর বাড়ি ফেরার আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য, ভোটের ফলাফল যেন কেউ পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি ছেড়ে দিলে ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনে আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ এবং জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, কাদেমুল ইসলাম, আবদুল আলীম নিজামী ও হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
পরে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন মির্জা ফয়সল আমীন। ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি সদর, রুহিয়া ও নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। আসনটিতে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে।
উপনির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোটের সমীকরণ নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। এর মধ্যে রাশেদ প্রধানের বিএনপির ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে।