October 29, 2026

অপরাধ

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ৪১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ৯ নম্বর ময়েনপুর ইউনিয়নের শুকুরের হাট বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে শুকুরের হাট বাজারে মো. আল-আমিনের মালিকানাধীন একটি গোডাউনের ভেতরে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে—এমন গোপন তথ্য পায় মিঠাপুকুর থানা পুলিশ। পরে তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করলে চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের তল্লাশি করে ৪১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আল-আমিন (৩৫), পিতা মো. তোফাজ্জল হোসেন, পূর্ব গেনারপাড়া, মিঠাপুকুর; ওয়াদুদ সরকার (৩০), পিতা মৃত আব্দুল জলিল, পূর্ব গেনারপাড়া, মিঠাপুকুর; তহসিন মিয়া (৩৭), পিতা জমশেদ আলী, কাশিমপুর পোড়াচাকলা, মিঠাপুকুর; এবং রফিকুল ইসলাম (২৯), পিতা মো. ফজলুল হক, কাশিমপুর পোড়াচাকলা, মিঠাপুকুর।

মিঠাপুকুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শনিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলায় পৃথক অভিযানে ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫ গ্রাম গাঁজা ও নগদ ১ হাজার ৪০০ টাকাসহ মুকুল রায় (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে অপর একটি অভিযানে ভারতীয় একটি ষাঁড় গরু জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় অভিযান চালায় বালাপাড়া বিওপির একটি টহল দল। হাবিলদার মোঃ মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এক ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তি হলেন শ্রী মুকুল রায় (৪৫)। তিনি ঠাকুরগঞ্জ গ্রামের মৃত শিবেন্দ্র রায়ের ছেলে। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫ গ্রাম গাঁজা ও নগদ ১ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।

এদিকে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পানবাড়ী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মোঃ খাদেমুল ইসলামের নেতৃত্বে পাটগ্রামের ক্যাম্পের পাড় এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সীমান্তের ডিএএমপি ৭/১৪-এস পিলার থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের দিক থেকে কয়েকজন বাংলাদেশি চোরাকারবারিকে একটি গরু নিয়ে আসতে দেখা যায়।

বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা গরুটি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ভারতীয় একটি ষাঁড় গরু জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানায়, দুটি পৃথক অভিযানে আটক ভারতীয় গরু ও উদ্ধারকৃত মাদকসহ মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪৩ হাজার ২১৭ টাকা।

আটক মুকুল রায়কে উদ্ধারকৃত মাদকসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিমলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক ভারতীয় ষাঁড় গরুটির বিষয়েও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ডিমলা থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, বিজিবির হস্তান্তর করা মুকুল রায়কে জেলা আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এ.কে পলাশ, কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১০ হাজার ৮৮৮ পিস ইয়াবা ও ৫১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় জেলা পুলিশের সব থানা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উদ্যোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে একযোগে ৫৬টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানে ১৩ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ৯ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় আরও ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার ৮৮৮ পিস ইয়াবা ও ৫১ কেজি গাঁজা।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা, মোবাইল কোর্ট ও বিচারিক আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানায়, মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।

জেলা পুলিশ আরও জানায়, মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

এ.কে. পলাশ, কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লা নগরীতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে অভিযান পরিচালনা করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। অভিযানে দুটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দুই ভবনমালিককে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর ঝাউতলা ও বাদুরতলা ডাক্তারপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে ঝাউতলা এলাকায় ডা. আব্দুল করিমের বাসভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ কারণে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে বাদুরতলা ডাক্তারপাড়া এলাকায় নোমান নামের এক ব্যক্তির একটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কুসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভবনমালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, নগরীতে ডেঙ্গু মশার উপদ্রবের হটস্পট শনাক্ত, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে থাকতে না দেওয়ার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

উপশিরোনাম: সঠিক নিয়মে আবেদন করতে গিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ; দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি, তদন্ত চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অনিয়ম, হয়রানি ও দালালনির্ভরতার অভিযোগ উঠেছে। সঠিক কাগজপত্র নিয়ে সরকারি নিয়মে আবেদন করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ভোগান্তির শিকার হলেও দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ মিলছে—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার সময় নানা ধরনের ত্রুটি দেখিয়ে তাদের আবেদন ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এতে একাধিকবার অফিসে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অন্যদিকে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে কথিতভাবে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে একই ধরনের আবেদন দ্রুত গ্রহণ করা হচ্ছে।

সোজা পথে ভোগান্তি, দালালের মাধ্যমে দ্রুত সেবার অভিযোগ

সেবাগ্রহীতাদের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন নিয়ে অফিসে গেলেও নানা কারণে তাদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেককে একাধিকবার অফিসে আসতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পর দ্রুত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যদি দালালের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

অফিসে সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন উৎপল মৃধা, সিমলা রানী বিশ্বাস, প্রবীর বিশ্বাস রাজু, অবনি বিশ্বাস ও করুনা রানী বিশ্বাস।

তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিয়ম মেনে পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে গেলেও বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। পরে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।

তাদের ভাষ্য, বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং সরকারি সেবায় দালালনির্ভরতা বন্ধ করা সম্ভব হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পাশাপাশি অফিসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। একটি সূত্রের দাবি, অফিসের উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পালের সঙ্গে দালালদের যোগাযোগ রয়েছে এবং দালালনির্ভর সেবা কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অমিত কুমার পালের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সহকারী পরিচালকের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না।

ফলে দালালচক্র, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে অফিস কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তদন্তের দাবি

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা পেতে কোনো ধরনের দালালনির্ভরতা বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের সুযোগ থাকা উচিত নয়। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধ এবং স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক সেবা নিশ্চিত করবে।

বিশেষ প্রতিনিধি : মোঃ ফারুক আহমদ।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আলম লজিস্টিক সিকিউরিটি গার্ড লিঃ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. বকুলের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা, মারমুখী আচরণ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনই এক ভুক্তভোগী নারী শারমিন আক্তারকে নার্সের চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে তাকে চাকরি দেওয়া হয়নি। উল্টো প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব ও হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

এ ঘটনায় গত (১৪ সেপ্টেম্বর-২০২৬) ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার কয়েকজন সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজার মো. বকুলের কাছে জানতে চান। এ সময় সাংবাদিকরা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করা হয়। ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের দাবি, একপর্যায়ে ম্যানেজার বকুল সাংবাদিকদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন এবং তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেন। এতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরে উপস্থিত সাংবাদিকরা বিষয়টি কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করেন এবং ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে চাকরির নামে অর্থ নেওয়া এবং হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে আলম লজিস্টিক সিকিউরিটি গার্ড লিঃ-এর ম্যানেজার মো. বকুলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামইরহাটে অভিযান চালিয়ে ৫২ কেজি নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় নিষিদ্ধ মাছ বিক্রির দায়ে এক মাছ ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ধামইরহাট সাপ্তাহিক হাটের মাছ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৫২ কেজি নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ করা হয়। পরে মাছ ব্যবসায়ী ছানাউল ইসলাম (৪০) কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযান পরিচালনা করেন ধামইরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজ। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আইয়ুব আলীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, পিরানহা একটি আগ্রাসী প্রজাতির মাছ। এটি জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়লে দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে দেশে পিরানহা মাছের চাষ, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ।

জব্দ করা পিরানহা মাছগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জে মুকসুদপুরে মিম আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছেন পুলিশ। স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে ধরে তাকে বেদম ভাবে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী তরীক সিকদার পলাতক রয়েছে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ভাবড়াশুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। দুপুরে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে মিমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর আগে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শাকপাইলদিয়া গ্রামের সিদাম মাঝির মেয়ে মিমের সঙ্গে তরীক সিকদারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় তরীকের প্রথম স্ত্রী ছিলেন। পরে মিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তরীককে বিয়ে করে।

বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল বলে স্থানীয়রা জানায়।

গতকাল রবিবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মিমকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ঘরের ভেতর তার মরদেহ পাওয়া যায়। এ সময় তরীক সিকদার বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।

মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাফিজুর ইসলাম বলেন, মিম আক্তার নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায় নাই। তবে মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাইবে।

পুলিশ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলমান। একই সঙ্গে নিহতের স্বামী তরীক সিকদারকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ছাইম খান গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়া প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশুড়িয়া গ্রামে রাতের আঁধারে ঘেরের মাছ চুরির চেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। আটক দুজন হলেন মোল্লাহাট এলাকার গ্রাম পুলিশ ফারুক ও কিরু শেখ। স্থানীয়দের দাবি, গতকাল রাত ১১টার দিকে সন্দেহজনকভাবে ঘের এলাকায় অবস্থান করায় তাদের আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ বাঁশুড়িয়া গ্রামে সম্প্রতি একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। চুরি প্রতিরোধ ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে স্থানীয়রা রাতে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতেও কয়েকজন এলাকাবাসী এলাকায় পাহারায় ছিলেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঘের এলাকায় দুই ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, ওই দুই ব্যক্তি ঘের থেকে মাছ চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে তাদের কাছে মাছ বা চুরির কোনো সরঞ্জাম পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, প্রথমে তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তাদের একজন গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা করা হয়।

এলাকাবাসীর পক্ষে তুহিন শেখ, মুরছালিন শেখ, নিয়ামত শেখ, রাজিব শেখ ও সুমন শেখ বলেন, “আমরা তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করি। পরে জানতে পারি তাদের একজন গ্রাম পুলিশ। এরপর আমরা তাদের পরিবারের সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে আনি। তাদের কাছে দুইজনকে হস্তান্তর করার সময় পুরো বিষয়টি ভিডিও করে রাখা হয়েছে, যাতে পরবর্তীতে তারা অস্বীকার করতে না পারে।”

তারা আরও বলেন, “আমাদের এলাকায় প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটছে। এ কারণে আমরা বাধ্য হয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। ভবিষ্যতে এলাকায় কোনো ধরনের চুরি হলে বা কেউ চুরির সঙ্গে জড়িত থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় চুরি প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও ঘেরগুলোতে টহল জোরদার করা হলে চুরির ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা। এ ঘটনায় আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি:

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ী বাজারে ৩৩ পিস ইয়াবাসহ আশিকুর রহমান নামের এক নেতা ও চিহ্নিত মাদক সম্রাটকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১২ই সেপ্টেম্বর রাতে শঠিবাড়ী বাজারে উপস্থিত সাধারণ জনগণ তাকে মাদকসহ হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

গ্রেফতারকৃত আশিকুর রহমান মিঠাপুকুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের জায়গীরহাট এলাকার হেমতপুর গ্রামের নূরুল আমীনের ছেলে। তিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও ডিলারি করে আসছিলেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রেফতারকৃত আশিকুর দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শঠিবাড়ী বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেট ও ডিলারি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। তার এই মাদক চক্রের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছিল। তার এই গ্রেফতারের খবরে এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে।

আশিকুর রহমানের গ্রেফতারের বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা ও স্থানীয় দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো অপকর্মে লিপ্ত হলে তার দায়ভার দল নেবে না। আশিকুর রহমান কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক,এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আশিকুর দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এলাকায় মাদকের রামরাজত্ব কায়েম করেছিল। তার ডিলারি আর সিন্ডিকেটের কারণে শঠিবাড়ী বাজারসহ পুরো উপজেলার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। কিন্তু আজ জনগণ তাকে হাতেনাতে ধরে প্রমাণ করে দিয়েছে যে, মাদকের সাথে কোনো আপস নেই।এলাকার অভিভাবকরা অবিলম্বে তার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন,পুলিশ নয়, আমাদের সন্তানদের বাঁচাতে আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হয়েছে। আমরা এই মাদক ডিলারের স্থায়ী মুক্তি চাই না,তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশের এই চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।