October 29, 2026

অন্যান্য

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

জুনিয়র শিক্ষার্থীকে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের আত্মরক্ষায় লাঠি হাতে নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থী ও তাঁর ভাইয়ের বাগ্‌বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার রূপ নেয়। রাত আড়াইটা পর্যন্ত এ নিয়ে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জায়েদ জামান দাবি করেন, ঘটনার রাতে মুক্তমঞ্চে বসে ছিলেন তাঁর মেজো ভাই অয়েজ জামান। তিনি আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ সময় বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে আইন বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাঁর ভাইকে মা-বাবা নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হয়রানি ও লাঞ্ছিত করেন।

অভিযোগে জায়েদ জামান আরও উল্লেখ করেন, দূর থেকে বিষয়টি দেখে তিনি এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁকেও গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের দিকে তেড়ে এসে মারধর করেন। এ সময় আইন বিভাগের ইমরান, জনি, সাইমুম, জয় শিকদার, মেহেদী, সাজিদ ও রাফি নামের শিক্ষার্থীরা তাঁকে ও তাঁর ভাইকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী তাঁদের দুজনকে আলাদা করে বাড়িতে চলে যেতে সহায়তা করেন। এরপর পরিসংখ্যান বিভাগের সহপাঠীরা এসে তাঁদের একটি অটোরিকশায় তুলে দেন। কিন্তু আইন বিভাগের মেহেদী এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিপ্র অটোরিকশাচালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তাঁদের নামিয়ে দেন এবং ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা এসে তাঁদের সরিয়ে নেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পরিসংখ্যান বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে গেলে তাঁদের সঙ্গেও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন জায়েদ জামান।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রক্টর দপ্তরে যান। এ সময় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের গেটের সামনে অবস্থান নেন।

পরবর্তী সময়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের হস্তক্ষেপে তাঁরা পেছনে সরে যান। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও লাঠি হাতে নিয়ে প্রক্টর দপ্তরের সামনে অবস্থান করেন।

পরে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাজিউর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দুই বিভাগের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের সমাধানে প্রক্টর দপ্তরে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আহসান বলেন, “গতকাল রাতে আইন বিভাগের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আইন বিভাগ ও পরিসংখ্যান বিভাগের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় আমি থানায় অবস্থান করছিলাম। বিষয়টি শুনে দ্রুত সেখানে চলে আসি।”

তিনি বলেন, “মেইন গেটে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাই এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলি। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেখানে এলে আমরা তাঁদের হাদি চত্বরে নিয়ে আসি। এরপর হাদি চত্বর থেকে তাঁদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়।”

প্রক্টর আরও বলেন, “এরপরও দেখা যায়, আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাদি চত্বরে অবস্থান করছেন। সেখানে আমরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পাঠাই। পাঠানোর পরও দেখা যায়, প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থানরত পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ধাওয়া করা হয়।”

ঘটনাটিকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “খুবই তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। আমি তাঁদের আশ্বস্ত করেছি যে, সোমবার বিকেল ৪টার মধ্যে আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হবে না। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

লৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ:

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) ঢাকা দক্ষিণ বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির নেতা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পিন্টু মিত্রকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পুস্তক ব্যবসায়ী নেতারা। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বাপুসের ঢাকা দক্ষিণ বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির সাবেক সভাপতি ও গোপালগঞ্জের পুস্তক ব্যবসায়ী নেতা বিকাশ চন্দ্র গোলদার।

সম্প্রতি এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় বিকাশ চন্দ্র গোলদার বলেন, পিন্টু মিত্র একজন দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী নেতা। তাঁকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

বিকাশ চন্দ্র গোলদার অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পিন্টু মিত্রকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, পুস্তক প্রকাশনা ও বিক্রয় খাত শিক্ষা এবং জ্ঞানচর্চার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের হয়রানির শিকার হতে হলে তাঁদের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

প্রতিবাদ বার্তায় পিন্টু মিত্রের মুক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে সারাদেশের পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতারা কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন বলেও সতর্ক করা হয়।

তবে পিন্টু মিত্রের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, মামলার বিবরণ এবং গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাবে।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর–কৃষ্ণনগর সড়কের কৃষ্ণনগর বাজারসংলগ্ন অংশটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে যায়। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী, অটোরিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষ্ণনগর বাজারসংলগ্ন সড়কের বেশ কিছু অংশে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় গর্তগুলো আরও গভীর হয়েছে। পানির নিচে গর্তের অবস্থান বোঝা না যাওয়ায় অনেক সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

আজ ০৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সরজমিনে স্থানীয়রা জানান, সড়কের খানাখন্দে পড়ে কখনো অটোরিকশার মালামাল উল্টে যাচ্ছে, আবার কখনো যাত্রীসহ যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষও প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে এই পথ ব্যবহার করছেন।

নবীনগরের বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা নিয়ে এর আগেও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। ২০২৫ সালে জিনোদপুর বাজার থেকে দশমৌজা বাজার পর্যন্ত একটি সড়কের খানাখন্দ ও বর্ষাকালে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের দুর্ভোগের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

এদিকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সিতারামপুর সেতু থেকে কৃষ্ণনগর বাজার পর্যন্ত সড়ক পরিদর্শন করেছিলেন তৎকালীন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

সে সময় সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে জানা যায়, আশুগঞ্জ থেকে সদর পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

তবে কৃষ্ণনগর বাজারসংলগ্ন অংশের বর্তমান দুর্ভোগ নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই ভোগান্তির শেষ হবে কবে? আর কতদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে হবে?
স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও যাত্রীরা দ্রুত সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে টেকসই মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট নয়—দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়কটি সংস্কার করা হলে তবেই এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম):

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাউজানে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) রাউজান উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, চলতি বছর রাউজান উপজেলায় সর্বমোট ২৩৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম রাহাতুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অং চিং মারমা এবং রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, রাউজান পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জাফর চৌধুরী এবং রাউজান পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জুরুল হক।

এ সময় রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুণ পালিত বাসু, সাধারণ সম্পাদক সুমন দাশ গুপ্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু দে, রাউজান উপজেলা সনাতন ঐক্যবদ্ধ সমাজের সভাপতি ডাঃ লিটন শর্মা, সাংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পা কুমার দাশ, রাউজান উপজেলা জাগো হিন্দু পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিমাদ্রি পাল ইমন, অর্থ সম্পাদক ভোমর দাশ, বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি (বাগীশিক) রাউজান উপজেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক পাভেল চৌধুরী, মানস সরকার, ডাঃ জনি দাশ, সৈকত দে ও হৃদয় চক্রবর্তী, ছোটন ঘোষ, প্রান্ত,সোহেল দাশ, রূপস দাশ গুপ্ত, দোলন দে ত্রিপাল চৌধুরী, শংকর দে,বিশ্বজিৎ দাশ, সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মন্দির ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা সভায় অংশ নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। উৎসবকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে রাউজানে শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ আনন্দঘন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব হবে।

বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ ফারুক আহমদ:

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে বেক্সিমকো গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা। এ ঘটনায় কারখানা এলাকায় চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে কারখানার সাধারণ শ্রমিকরা ১০ দফা দাবি নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বেতন পরিশোধ করে না। অনেক সময় দুই মাস পরপর বেতন দেওয়া হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের ওভারটাইমের পারিশ্রমিকসহ অন্যান্য পাওনাও নিয়মিত পরিশোধ করা হয় না। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন, কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও তারা কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, তাদের সব ধরনের বেতন-ভাতা ও পাওনা পরিশোধ করতে হবে। বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করে কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই করা যাবে না। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

দাবিগুলো নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে তারা কারখানার প্রধান ফটকের সামনে আন্দোলনে নামেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়ে বুধবার বিকেলের মধ্যে মালিকপক্ষের কাছ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন রাজশাহী

মবকাণ্ডের পর স্থবির হয়ে পড়া রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) দাফতরিক কার্যক্রম তালা ভেঙে সচল করেছেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে রামেবির কার্যালয়ের তালা ভেঙে কর্মকর্তাদের দফতরে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়।

এ সময় মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন শিবলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবিরসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা উপাচার্যকে বাসা থেকে রামেবিতে নিয়ে আসেন।

তালা খোলার পর রামেবির কর্মকর্তারা নিজ নিজ দফতরে প্রবেশ করেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন।

মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, মঙ্গলবার মবের ঘটনা শোনার পর তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ লেখা একটি ব্যানার দেখতে পান। তবে ওই ব্যানারে থাকা ব্যক্তিদের কেউ ছাত্রদল বা যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে কোনো ধরনের মবতন্ত্র, দখলবাজি বা জোরজবরদস্তির সুযোগ নেই। বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী যুবদল এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছে। আইন মেনেই রামেবির কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে তারা ভূমিকা রেখেছেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেন বলেন, বহিরাগত কেউ কক্ষটিতে তালা ঝুলিয়েছিল। তালা খুলে কক্ষটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে রামেবির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্যকে একটি কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ ওঠে। উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে কাগজটি পড়তে দেওয়া হয়নি এবং লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি তাতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। পরে তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

মিলন বৈদ্য শুভ, চট্টগ্রাম (প্রতিনিধি):

চট্টগ্রাম জেলায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে পূজামণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নগরীর সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি অরুণ পালিত (বাসু), সহ-সভাপতি দীপক তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক সুমন দাশ গুপ্ত।

জানা গেছে, ২০২৬ সালে রাউজান উপজেলায় মোট ২৩৩ টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সভায় রাউজান উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পূজা চলাকালে সম্ভাব্য বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে পূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে পূজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটি, পূজা উদযাপন পরিষদ, স্বেচ্ছাসেবক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন পরিষদ, মণ্ডপ পরিচালনা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ

দীর্ঘ ১৬ বছর পর আগামী ১৫ নভেম্বর সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ছিল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিন। এদিন উৎসবমুখর পরিবেশে নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচনে ১৩ টি পদের বিপরীতে ২৯ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সভাপতি পদে সাইদুর বস্ত্রালয়ের মালিক মনিরুল ইসলাম মনি, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, আব্দুর রহমান এবং মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম বাবুসহ ৪ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। সহ-সভাপতি ২ টি পদের বিপরীতে জামাল উদ্দিন, শেখ শাহিনুর রহমান শাহিন, শেখ আবু তাহের, শেখ আসাদুজ্জামানসহ ৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম টোকন, রফিকুজ্জামান, রুমি ,সেলিনা খাতুন, আমিনুর রহমান মুন্না সহ ৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে সিদ্দিকুল ইসলাম, শেখ সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শের আলী, মনিরুজ্জামান খান, শেখ সিরাজুল ইসলাম, কোষাধাক্ষ পদে রজব আলী এবং মাহমুদুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক পদে ফারুক হোসেন, মনিরুল ইসলাম মিলন, প্রচার সম্পাদক পদে শেখ সাইফুল ইসলাম, শেখ লুৎফর রহমান এবং নির্বাহী সদস্য ৪ টি পদে শেখ হাফিজুল ইসলাম ,রাজু হোসেন, আবুল হোসেন, নুরুজ্জামান খান, আরাফাত হোসেন সহ ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সহকারী অধ্যাপক মোঃ আনিসুর রহমান, সদস্য জহরুল হক হুদা, শেখ শরিফুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শখের বশে ‘আনসিন বাংলাদেশ’ নামে পর্যটন ও ট্রাভেল ম্যাপ ওয়েবসাইট তৈরি করে দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন রবিন।

ব্যতিক্রমী এই ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার একটি ইন্টার‌অ্যাকটিভ ম্যাপ যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ভ্রমণ করা জেলাগুলো সহজেই নির্বাচন করে জানতে পারছেন—তারা দেশের মোট কতটি জেলা ভ্রমণ করেছেন।

ওয়েবসাইটে কোনো জেলা নির্বাচন করার পর ব্যবহারকারীর ভ্রমণ করা জেলাগুলোর ভিত্তিতে তৈরি হচ্ছে একটি সুন্দর কাস্টমাইজড ভিজ্যুয়াল। সেটি সহজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা যাচ্ছে। ফলে ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন ধরনের আগ্রহ ও উৎসাহ।

দেশের আটটি বিভাগের অধীনে থাকা ৬৪টি জেলাকে অত্যন্ত সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছে ওয়েবসাইটটিতে। ফলে যে কেউ নিজের ভ্রমণ করা জেলাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে নিজের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করতে পারছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ.এফ. রহমান হলের সাবেক শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন রবিনের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই নিজেদের ভ্রমণ করা জেলার ম্যাপ তৈরি করে তা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।

ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বাংলাদেশের অজানা ও আকর্ষণীয় স্থানগুলোকে তুলে ধরা এবং দেশের পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে ‘আনসিন বাংলাদেশ’ নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শখ থেকে শুরু করা এই উদ্যোগ কীভাবে দেশের ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে নতুন এক শেয়ারিং ট্রেন্ড তৈরি করেছে, সেটিই এখন ‘আনসিন বাংলাদেশ’-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রিমন হোসেন, সৌদি আরব

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হা’মলায় মো. সজিব নামে ২৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি যুবক নি’হত হয়েছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) দেশটিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সৌদি আরবের রিয়াদ দুতাবাসের ভেরিফাই পেইজে এক বিজ্ঞপ্তিতে সজিবের নিহত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

নি’হত সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় কয়েক বছর আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন ধরে জুবাইল শহরে কর্মরত ছিলেন তিনি।

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি আল আমিন সজিবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য, রোববারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় সজিব ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং সেখানেই প্রা’ণ হারান।