October 29, 2026

DailyJanotarDiary@gmail.com

ডেইলি জনতার ডায়েরি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে সংবাদ প্রতিবেদন ও বিভিন্ন ফিচারধর্মী কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।

মোঃ ফারুক আহমদ, গাজীপুর ।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বিকাশ ম্যানেজারকে গুলি করে দুই বস্তা টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা।
তসঙ্গে থাকা আরও দুই কর্মকর্তা ও গাড়িচালককে মারধর করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক বিকাশ কর্মকর্তাকে শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। আওতো বিকাশ ম্যানেজারের নাম হিমেল ৩৫। ইনি মাওনা বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার। আহত দুজনের নাম হচ্ছে মোহাম্মদ ফাহাদ হোসেন ৩০ ও মোঃ রিফাত২০ হোসেন এবং গাড়িচালকের নাম লাল মিয়া২৫। এই ঘটনাটি ৯ অক্টোবর রাতে শুক্রবারে শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় ঘটে। তারা বিকাশের বিভিন্ন আযান থেকে টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। টাকার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ কোটি। টাকা ভর্তি বস্তা নিয়ে তারা একটি প্রাইভেট কারে করে মাওনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। প্রাইভেট কার নাম্বার ঢাকা মেট্রো গ ৩৫০ ৭০১। বিকাশ কর্মীদের টাকা বহনকারী গাড়িটি কর্ণপুর এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা গাড়িটি রোধ করে এবং গাড়ি ক্লাস ভেঙ্গে ক্যাশ ম্যানেজারের পেটে গুলি করে। বাকিদের মারধর করে এমতাবস্থায় তাদেরকে টেনে গাড়ি থেকে নামিয়ে টাকা ভর্তি দুই বস্তা টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। সহযোগিতায় গুলিবিদ্ধ সহ আহতদের শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেলে পাঠানো হয়। শ্রীপুর উপজেলার জরুরী বিভাগের ডাক্তার অনিল সরকার বলেন , গরীবৃদ্ধ ব্যক্তিকে তাজউদ্দিনে পাঠানো হয়েছে এবং আহত বাকিদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। তবে হামলার শিকদার ব্যক্তিদের কোন নিরাপত্তা ছিল না বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা ওসি শাহিনুর আলম বলেন, তাদের পক্ষ থেকে আমাদেরকে কোন জরুরি কল অথবা থানায় কিছুই জানানো হয়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে বাকি বিস্তারিত জানাবে বলে জানিয়েছেন।

রনজিৎ সরকার রাজ দিনাজপুর প্রতিনিধী:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৭ নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন রসুলপুর গ্রামে কবিয়াল ক্ষিতীশ সরকারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডাকাতেরা একটি বাজাজ পালসার N160 মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, পাসপোর্ট, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। এতে আনুমানিক ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যদের খাবারে লবণ ও মরিচের সঙ্গে চেতনানাশক মেশানো হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর ফলে পরিবারের সদস্যরা অচেতন হয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রনজিৎ সরকার রাজ দিনাজপুর প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র অন্যতম অঙ্গসংগঠন তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক ৮১ সদস্য বিশিষ্ট দিনাজপুর জেলা শাখা তাঁতী দলের শক্তিশালী কমিটি গঠন ও অনুমোদন করা হয়েছে।
১০ অক্টোবর শুক্রবার বিকালে জানা যায়, চলতি মাসের গত ৪ তারিখে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ ও সদস্য সচিব হাজী মুজিবুর রহমানের স্বাক্ষরে উক্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং অনুমোদন করা হয়েছে।
অনুমোদিত কমিটির তালিকা মোতাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি-১জন রেজাউল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি-১জন আব্দুল করিম এবং সহ-সভাপতি আবু তাহের সিদ্দিকী সমেত ১৪ জন, সাধারণ সম্পাদক-১ জন হাসিনুর রহমান হাসু খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামসহ-১৩ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক-১ জন সেলিম হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল মুলক লেবু সমেত-১৩ জন এবং অবশিষ্ট নির্বাহী সদস্য আরিফুর রহমান, আলমগীর হোসেন, শাহীন কাদের, মাহবুবর রহমান, জয়নাল আবেদীন, ফিরোজ আলমসহ-২৭ জন সমন্বয়ে সর্বমোট ৮১ জনই সংগ্রামী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দ্বারা সুপারিশকৃত বিধায় জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল দিনাজপুর জেলা শাখা কমিটি অনুমোদন প্রাপ্ত হয়েছে।

দলের প্রতি গভীর আনুগত্য এবং গণতান্ত্রিক পন্থায় দলকে আরো শক্তিশালী, সুসংগঠিত, কার্যকর এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তৃনমুলে তরুণ নেতৃত্ব এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নাই।
এত সুন্দর কমিটি অনুমোদিত এবং উপহার দেয়ায় দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকরা কেন্দ্রীয় কমিটিকে কৃতজ্ঞতাসহ অভিনন্দন জানিয়েছে।

​মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হুজরাপুর উৎসব ক্লাবের উদ্যোগে এক বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
​শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় হুজরাপুর জোড়া মঠ,কাজি পাড়া,পাঠানপাড়া এলাকার বিভিন্ন অলিগলি, ড্রেন এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এই কার্যক্রমের শুভসূচনা করা হয়।
​ক্লাবের তরুণ ও উদ্যমী সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এলাকার সম্ভাব্য মশার প্রজননক্ষেত্র গুলোতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়। পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।​এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমিরুল,পিন্টু, মামুন,আশিফ,শাওন,ধলু ওস্থানীয় অন্যান্যরা। উৎসব ক্লাবের নেতৃবৃন্দ জানান, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ডেঙ্গুর মতো মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষায় তাদের এই সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
​এ ধরনের মহতী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী হুজরাপুর উৎসব ক্লাবের সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পুনিয়াউট মোড় এলাকায় অবস্থিত হারামাইন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা। প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পুরস্কার হিসেবে হেলিকপ্টারে ভ্রমণের সুযোগ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে চার শিক্ষার্থীকে হেলিকপ্টারে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে তাদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নূরানী, নাজেরা ও হিফজ—এই তিনটি বিভাগের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে তিনজনকে নির্বাচন করা হয়।

পাশাপাশি সারা বছর কোনো ধরনের অন্যায় বা অভিযোগে জড়িত না থাকা একজন শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে চার শিক্ষার্থী পেয়েছে এই ব্যতিক্রমী পুরস্কার।

হেলিকপ্টারে ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া চার শিক্ষার্থী হলো—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের আলাল হোসেনের ছেলে ইয়াছির আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উলচাপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে ছিয়াম আহমেদ, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মিজানুর রহমানের ছেলে আবু বকর ছিদ্দিক এবং নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে জাহিদুল হাসান।

মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ ক্বারী শাহ আহমাদ রিফাত। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃতী সন্তান। তাঁর পিতার নাম শাহ আলম।

২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নূরানী, নাজেরা ও হিফজ—এই তিনটি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো, ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত করা এবং নৈতিক চরিত্র গঠনে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের আয়োজন প্রতিবছর চালু রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে নবীনগর উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগের ঘোষণা দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। নবীনগর উপজেলার সন্তানরা এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ভর্তি বা অন্যান্য ফি নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ মুক্তাদির হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার।

গাজীপুরের কালীগঞ্জে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের গাজীপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে এ কমিটি গঠন করা হয়।

নবগঠিত কমিটিতে বিশ্বজিৎ আচার্যকে আহ্বায়ক এবং পলাশ পিনার্ট পিরিচকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। এছাড়া হেমন্ত চন্দ্র রায়, বাপ্পী ভিনসেণ্ট কস্তা ও আইভি সিংকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমিটিতে লিটন চন্দ্র সাহাকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রদীপ কুমার মিত্র(ভজন)সহ অন্যদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

কমিটিতে ৩৫ জন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে ৩০/০৯/২০২৬ইং
নবগঠিত এ কমিটির মাধ্যমে কালীগঞ্জে

আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের গাজীপুর জেলার আহ্বায়ক মি. অনিল লিউ কস্তা, সদস্য সচিব অরুণ প্রশাদ মজুমদার যৌথ স্বাক্ষরিত কালীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেন।
হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার রক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

মোঃ মিঠু মিয়া,
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ করেছে ফ্রেশ বাজার লিমিটেড। একই সঙ্গে স্থানীয় মন্দিরের উন্নয়নকাজে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির এলাকায় এ শাড়ি বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রেশ বাজার লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুল্লাহ শাহীন মন্ডলের পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় মন্দিরের উন্নয়নকাজে আর্থিক অনুদান প্রদানের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রেশ বাজার লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুল্লাহ শাহীন মন্ডল। তিনি ফ্রেশ বাজার লিমিটেড ও এন্টার টিভির সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

আয়োজকদের এ উদ্যোগকে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

স্থানীয়দের মতে, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অসহায় ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।

ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ২০০টি, দাবি চেয়ারম্যান প্রার্থীর

নাটোর প্রতিনিধি:

নাটোরের লালপুর উপজেলার কদমচিলান ইউনিয়নে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রায় এক হাজার নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মাওঃ কাজী মোঃ আব্দুল হালিম (মাস্টার)। তাঁর দাবি, ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০০টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।

তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে এসব নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছেন তিনি।

আলহাজ্ব মাওঃ কাজী মোঃ আব্দুল হালিম (মাস্টার) বলেন, “সুপেয় পানি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। এলাকার মানুষ যেন পানির সংকটে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই ব্যক্তিগত অর্থায়নে নলকূপ স্থাপনে সহযোগিতা করছি। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় এলাকায় আরও নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহায়তার পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছেন।

তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে কদমচিলান ইউনিয়নের প্রয়োজনীয় এলাকাগুলোতে নলকূপ স্থাপনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

জুনিয়র শিক্ষার্থীকে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের আত্মরক্ষায় লাঠি হাতে নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থী ও তাঁর ভাইয়ের বাগ্‌বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার রূপ নেয়। রাত আড়াইটা পর্যন্ত এ নিয়ে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জায়েদ জামান দাবি করেন, ঘটনার রাতে মুক্তমঞ্চে বসে ছিলেন তাঁর মেজো ভাই অয়েজ জামান। তিনি আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ সময় বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে আইন বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাঁর ভাইকে মা-বাবা নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হয়রানি ও লাঞ্ছিত করেন।

অভিযোগে জায়েদ জামান আরও উল্লেখ করেন, দূর থেকে বিষয়টি দেখে তিনি এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁকেও গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের দিকে তেড়ে এসে মারধর করেন। এ সময় আইন বিভাগের ইমরান, জনি, সাইমুম, জয় শিকদার, মেহেদী, সাজিদ ও রাফি নামের শিক্ষার্থীরা তাঁকে ও তাঁর ভাইকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী তাঁদের দুজনকে আলাদা করে বাড়িতে চলে যেতে সহায়তা করেন। এরপর পরিসংখ্যান বিভাগের সহপাঠীরা এসে তাঁদের একটি অটোরিকশায় তুলে দেন। কিন্তু আইন বিভাগের মেহেদী এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিপ্র অটোরিকশাচালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তাঁদের নামিয়ে দেন এবং ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা এসে তাঁদের সরিয়ে নেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পরিসংখ্যান বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে গেলে তাঁদের সঙ্গেও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন জায়েদ জামান।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রক্টর দপ্তরে যান। এ সময় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের গেটের সামনে অবস্থান নেন।

পরবর্তী সময়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের হস্তক্ষেপে তাঁরা পেছনে সরে যান। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও লাঠি হাতে নিয়ে প্রক্টর দপ্তরের সামনে অবস্থান করেন।

পরে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাজিউর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দুই বিভাগের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের সমাধানে প্রক্টর দপ্তরে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আহসান বলেন, “গতকাল রাতে আইন বিভাগের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আইন বিভাগ ও পরিসংখ্যান বিভাগের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় আমি থানায় অবস্থান করছিলাম। বিষয়টি শুনে দ্রুত সেখানে চলে আসি।”

তিনি বলেন, “মেইন গেটে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাই এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলি। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেখানে এলে আমরা তাঁদের হাদি চত্বরে নিয়ে আসি। এরপর হাদি চত্বর থেকে তাঁদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়।”

প্রক্টর আরও বলেন, “এরপরও দেখা যায়, আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাদি চত্বরে অবস্থান করছেন। সেখানে আমরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পাঠাই। পাঠানোর পরও দেখা যায়, প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থানরত পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ধাওয়া করা হয়।”

ঘটনাটিকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “খুবই তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। আমি তাঁদের আশ্বস্ত করেছি যে, সোমবার বিকেল ৪টার মধ্যে আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হবে না। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

মোঃ রফিকুল ইসলাম সোহাগ, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কোরবান নগর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবুল কালাম স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ ও মতবিনিময় কার্যক্রম শুরু করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ইউনিয়নের মাইজবাড়ি বদিপুর গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন হাজি মো. নুরমিয়া মিয়া। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবুল কালাম বলেন, কোরবান নগর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মতামত, ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে তিনি আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর, আধুনিক ও সমৃদ্ধ কোরবান নগর ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চান। এ লক্ষ্যে তিনি আগামী নির্বাচনে সবার সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন আজাদ মাস্টার, আরছব আলী, সেক্রেটারি আবুল কালাম, মনির উদ্দিন, মনির আলী আকবর, আবু বক্কর সিদ্দিক, মেহেরাজ আলী, শফিকুল ইসলাম, ইমান আলী, ইউসুফ আলী, ফারুক মিয়া, সৈকত আলী, কালাই মিয়া, সোওয়াব আলী, সফর আলীসহ মাইজবাড়ি বদিপুর গ্রামের স্থানীয় সামাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সভায় উপস্থিত বক্তারা কোরবান নগর ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের মতবিনিময় সভা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগাযোগ ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময়ের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।