

নিউজ ডেস্ক:
আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। ম্যাচটি আয়োজনের পেছনে আর্থিক উদ্দেশ্য রয়েছে—এমন আশঙ্কা থেকেই শুরুতে এই ম্যাচে খেলতে আগ্রহী ছিলেন না আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
বুধবার ভোরে বুয়েনস এইরেসে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষবার মাঠে নামবেন মেসি। এটিই জাতীয় দলের হয়ে তার ২০৮তম ও শেষ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।
মেসির বিদায়ী ম্যাচের প্রতিপক্ষ হতে রাজি হয়েছে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৯৩ নম্বরে থাকা বেনিন। তবে ম্যাচটি আয়োজনের বিষয়ে মেসি ও আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি—দুজনেরই শুরুতে কিছুটা আপত্তি ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইতালির সংবাদমাধ্যম গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ট জানিয়েছে, বিদায়ী ম্যাচটির আর্থিক উদ্দেশ্য নিয়ে মেসির আপত্তি ছিল। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসির মনে হয়েছিল—আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তার জনপ্রিয়তা ও নাম ব্যবহার করে আরও একবার বিপুল অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসি শুরুতে বিদায়ী ম্যাচের ধারণা নিয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। তার আশঙ্কা ছিল, তার বিদায়কে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি খেলতে সম্মতি দেন মেসি। আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনা ঘরের মাঠে কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গাজেত্তার দাবি, এএফএ এমন প্রতিপক্ষ খুঁজে বের করতে কলম্বিয়ার একটি এজেন্সিকে দায়িত্ব দিয়েছিল, যারা ম্যাচ খেলার জন্য কোনো পারিশ্রমিক দাবি করবে না।
বেনিনও মেসির বিদায়ী ম্যাচে খেলতে সম্মতি দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসির মতো একজন কিংবদন্তির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের অংশ হতে পারাটাকেই তারা বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখেছে।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অনন্য মেসি
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানেও তিনি অনন্য। ২০৮ ম্যাচ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০-এর বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের তালিকায় তিনি অন্যতম।
জাতীয় দলের হয়ে মেসি বিশ্বকাপের পাশাপাশি দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছেন। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জয় করে।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির গোলসংখ্যা ১২৫, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার চেয়ে তার গোল ৬৯টি বেশি।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির ম্যাচ সংখ্যাও অনন্য। আর্জেন্টিনার হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলেছেন জাভিয়ের মাসচেরানো। তার চেয়ে মেসি ৬১টি বেশি ম্যাচ খেলেছেন।
মেসির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদরিচও দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মদরিচ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যায় মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও তৈরি করেছেন।
আবেগঘন বিদায়
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্তকে বেদনাদায়ক বলেছিলেন মেসি। তার ভাষায়, আর্জেন্টিনাকে দেওয়ার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।
অবসরের সিদ্ধান্তের সময় মেসি বলেছিলেন, তিনি সবসময় আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন। শুধু সাম্প্রতিক সময়ে শিরোপা জয়ের সময় নয়, তার আগেও জাতীয় দলের হয়ে তিনি সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করেছেন।
মেসির কথায়, দেশের মানুষকে আনন্দ দেওয়া এবং ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টাইন হওয়ার গর্ব অনুভব করানোই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও অসংখ্য ব্যক্তিগত অর্জনের পর মেসির বিদায়ী ম্যাচ তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়; এটি আর্জেন্টিনা ও বিশ্ব ফুটবলের একটি স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।




