October 29, 2026

অন্যান্য

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে ৭২১/৭২২ নম্বরের এই ট্রেনের মাধ্যমে নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনী জেলার যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

এতে চট্টগ্রামে ট্রেন পরিবর্তনের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে একটি মাত্র রেক দিয়ে পুরো রুটে ট্রেনটি পরিচালিত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে চলাচল নিয়ে শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে মহানগর এক্সপ্রেসের সোমবারের চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের যাত্রা বাতিলের তথ্য পাওয়া গেছে। খালি রেকটি রোববার রাতে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭২১ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। পরে রাত ৩টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে ট্রেনটি সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানান, ২৬ অক্টোবর থেকে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে পরিচালনা করা হবে।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বর্ধিত রুটে ট্রেনটির যাত্রা উদ্বোধন উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের। এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো ঢাকা থেকে ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে যায়। অন্যদিকে, মহানগর এক্সপ্রেসে কক্সবাজার যেতে আগ্রহী পাঁচ জেলার যাত্রীদের আগে চট্টগ্রামে নেমে অন্য ট্রেন কিংবা বাসে করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হতো।

মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ সম্প্রসারণের ফলে নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীর যাত্রীরা একই ট্রেনে কক্সবাজার যেতে পারবেন। এতে সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন রুটে মহানগর এক্সপ্রেস চালুর খবরে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। ট্রেনটির বর্ধিত রুটের টিকিট বিক্রি শুরুর পর প্রথম দিনের টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়। পরবর্তী দিনগুলোর টিকিটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাহিদা দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ট্রেনটির আসনসংখ্যা ২ হাজার ৭০০-এর বেশি। রোববার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি মাত্র রেক দিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন পরিচালনা করা হলে সময়সূচি ঠিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সাপ্তাহিক ছুটি বাদে সপ্তাহের ছয় দিন চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রেনটি ঢাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা এবং কক্সবাজারে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় পাবে। এ সময়ের মধ্যে ইঞ্জিন পরিবর্তন, ট্রেন পরিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে হবে।

পথে কোনো কারণে ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হলে পরবর্তী যাত্রার নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
এর আগে চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটের বিজয় এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ জামালপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পর ট্রেনটির নিয়মিত বিলম্বের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই ট্রেনটিও একটি রেক দিয়ে আসা-যাওয়া করে।

সব মিলিয়ে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ জেলার যাত্রীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে যাত্রীদের স্বস্তি ধরে রাখতে ট্রেনটির নিয়মিত চলাচল ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নে ছয় সপ্তাহব্যাপী মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণে মনাকষা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৩৫ জন তরুণ অংশ নিচ্ছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণটি চলবে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় বেকার যুবকদের কারিগরি দক্ষতা অর্জন এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী তরুণেরা মোবাইল ফোন মেরামতের কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে নিজেরাই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন বলে আশা করছে বিজিবি। এতে তারা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে সুন্দর ও নিরাপদ জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাংগা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে ৩৫ জন যুবককে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ প্রদান করে ৫৩ বিজিবি। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, ৫৩ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আনিসুর রহমান, মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাৎ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মনাকষা বিওপি কমান্ডারসহ বিজিবির অন্যান্য সদস্য। বিজিবি জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোট শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নিজস্ব প্রতিবেদন।

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন ৫ নং ওয়ার্ডে শৈলডুবী এলাকায় একটি কারখানার ঝুট গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস এর একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
তবে আগুনের ভয়াবহ তীব্রতায় দ্রুত আগুন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বাসাবাড়িসহ পাশের একটি গোডাউনে আগুন লাগার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি বাসাবাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নিভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আগুনের তীব্রতায় অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঠিক কি কারনে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ কত সে সম্পর্কে এখনো অব্দি জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসে একটি ইউনিটের পানি শেষ হওয়ার পরই পাশের একটি ডিকে ফ্যাক্টরি থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। আগুন লাগার এক ঘন্টা পরে ফায়ার সার্ভিসের আরও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এই রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত এখনো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ,কক্সবাজার প্রতিনিধি।

মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে বিকেলে মন্ত্রী টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। মতবিনিময় সভা শেষে বাহারছড়া ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৪৬ জন সদস্যের মধ্যে জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে মোট ৯২ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচটি হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনিক চৌধুরী, টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ছিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রুম্মান মাহমুদ শৈশব,
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি :

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান করা হবে। এতে প্রমাণিত হয় সরকার পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে আন্তরিক। পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেট নির্ধারণ করেছে সরকার।

সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের ভবন, স্কুল কলেজের ভবনসহ সকল সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

২৩ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে মোংলার নারিকেলতলা মাঠে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের দাবিতে জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনা সিটি কপোর্রেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু একথা বলেন। ”নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই” শীর্ষক শ্লোগানে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের আয়োজনে এ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য সচিব ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র সমন্বয়কারী শরীফ জামিল।

জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খ্যাতিমান গবেষক শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, রিভার বাংলা সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, মোংলা পৌর বিএনপি’র সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী, শ্রমিক নেতা ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, কৃষক নেতা বদরুল আলম, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র, সচেতন ফাউন্ডেশনের মোঃ হাবিবুর রহমান, মিশনগ্রীন বাংলাদেশ’র আহসান রনি, হাওর অঞ্চলবাসীর জাকিয়া শিশির, কসমস সংস্থার মেহনাজ মালা, ব্রাইটার্স’র সাইদুর রহমান সিয়াম, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন’র মাসফিকুল হাসান টনি, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার’র জুবায়ের ইসলাম এবং ওয়েব ফাউন্ডেশন’র আসাদুজ্জামান তুহিন।

জনসমাবেশ সঞ্চলনায় ছিলেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ।

জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনা সিটি কপোর্রেশনের প্রশাসক নজরুল মঞ্জু আরো বলেন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পারলে আমদানি নির্ভরতা কমবে। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এতে জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। সভাপতির বক্তব্যে ”ধরা” এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র সমন্বয়কারী শরীফ জামিল বলেন জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে সারাদেশে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে। সরকার একনেকে সম্প্রতি রামপালে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন করায় আমরা আনন্দিত এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু সুন্দরবন সংরক্ষণে সরকারের সামগ্রিক ভূমিকা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা আশা করি সরকার শীঘ্রই রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্প বাতিল করবে। সরকার সুন্দরবন সংরক্ষণে বিজ্ঞান ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

জনসমাবেশের সঞ্চালক সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ বলেন দেশবাসী মহাপ্রাণ সুন্দরবন বিনাশী জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের বিরোধিতা করেছিলেন। আ্ওয়ামীলীগ সরকার তা অগ্রাহ্য করেই সুন্দরবন বিনাশী রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ নির্মান করে। আশা করি বর্তমান সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসহ প্রাণ প্রকৃতির ক্ষতি হবে এমন কোন প্রকল্প গ্রহণ করবেনা। বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তর হবে সবুজ, ন্যায্য, জনকেন্দ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

জনসমাবেশ শেষে বাঘ মহড়া, পুতুল খেলা, বাউল গান ও গাজীর গানের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক।

গাজীপুরের শ্রীপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে শারদীয় বিজয়া দশমী ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ভাওয়াল রাজাবাড়ি রাজকাচারী মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খায়রুল কবির মণ্ডল আজাদ, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি কাজিম উদ্দিন ফকির, রাজাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নাজমুল হুদা শাহীন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুহিদুল ইসলাম নয়ন, সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম মোড়ল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিনুর সরকার।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা বাবু ওমা কান্ত মল্লিক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অরুণ চন্দ্র দাস। সঞ্চালনা ও পরিচালনায় ছিলেন পীযূষ কুমার ঘোষ লিটন, অরুণ কুমার মল্লিক ও নিতাই চন্দ্র মণ্ডল।
আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল রাজাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি। নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ ও ৮ নম্বর রাজাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার প্রত্যাশায় শেষ হয় এ আয়োজন।

রিমন হোসেন, সৌদি আরব

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের শায়বাহ তেলক্ষেত্রে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে এই হামলায় দুইজন প্রবাসী কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তেলক্ষেত্রের একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা ড্রোনটি সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করে দেয়। তবে হামলার চেষ্টা চলাকালীন তেলক্ষেত্রের সীমানার বাইরে থাকা এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় সৌদি আরামকোর মূল পরিচালন কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি

পাঁচবিবি জয়পুরহাট প্রতিনিধি :

ঢাকঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার ধ্বনি, আতশবাজির ঝলকানি, সিঁদুর খেলা ও নেচে-গেয়ে আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা উৎসব প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

বুধবার দশমীর সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ থেকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য পৌরসভার মহাশ্মশান ঘাটের দিকে রওনা দেয়। এ সময় প্রতিটি মন্দিরে দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শ্মশান ঘাট পর্যন্ত প্রতিমা নিয়ে আসেন। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উপজেলা ও পৌরসভার মোট ৭৯’টি মন্দিরের প্রতিমা ছোট যমুনা নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। মহাশ্মশান ঘাট এলাকায় আগে থেকেই উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, রাজনীতিবিদ সহ সনাতন ধর্মাবলম্বী শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পৌর মহাশ্মশান ঘাটে এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোঃ তুহিন রেজা, পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তামবিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম ডালিম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হাসান আলী, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান সহ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনীতিবিদ ও পূজা উদযাপন কমিটির কঠোর নিরাপত্তা ও সর্বাত্মক সহযোগিতায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে এবছর দুর্গাপূজার সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বেশ খুশি।

আকতার হোসেন বকুল
০১৭৩৩-১৪১৬৩৯

রুম্মান মাহমুদ শৈশব
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:

সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ, মোংলা বন্দরের জেটি এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন ও মোংলা বন্দরে এল এনজি টার্মিনালের সম্ভব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও বাগেরহাট সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নির্বাচনের পর সরকারপ্রধানের এ সফরকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা, মোংলা বন্দরের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা সরেজমিনে পর্যালোচনা করবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন তিনি। সেখান থেকে নৌপথে পৌঁছাবেন মোংলা নৌঘাঁটিতে।

মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি ও বেজার প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর। এ সময় বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন, দাকোপ ও মোংলা বন্দর এলাকায় তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনা, মোংলা বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল—সব মিলিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুসহ উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের প্রত্যাশা, সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

প্রকৃতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট মহলের।