সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়। আয়োজকদের অভিযোগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মসজিদপাড়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি দখল, এতিম ও অসহায় পরিবারের সম্পদ আত্মসাৎ, মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি, এসব অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে সাংবাদিক এস এম রুবেলকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় রাহুল, আসাদুল হক, আবু বাক্কার, নূর মোহাম্মদ, জনি আলী ও আসমাউল হকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সাংবাদিক এস এম রুবেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী পরিবারের সম্পত্তি সুরক্ষা, হামলা-ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম আলোকিত স্বপ্নের বিডি’র সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ মিজানুর রহমানের মমতাময়ী মা মাহিরা বেগম (৬০) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর ৫টা ১৩ মিনিটের দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, দুই সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
এদিকে, মাহিরা বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আলোকিত স্বপ্নের বিডি পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোক প্রকাশকারীরা বলেন, মায়ের মৃত্যু যেকোনো সন্তানের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। এই কঠিন সময়ে তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের শক্তি কামনা করেন এবং মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
মরহুমা মাহিরা বেগমের মৃত্যুতে সাংবাদিক মহলে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান
ফারুক আহমদ , স্টাফ রিপোর্টার:
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ হত্যার দ্রুত বিচার এবং দৈনিক আমার দেশ-এর শ্রীপুর প্রতিনিধি এস এম জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন গাজীপুরের শ্রীপুরের কর্মরত সাংবাদিকরা। শ্রীপুর থানা মোড়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। তাঁরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে হত্যাকাণ্ড এবং সাংবাদিক হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক আলিফ হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ যাচাই ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তাঁরা। বক্তারা আরও বলেন, সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হত্যা, হুমকি কিংবা মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনা মুক্ত সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাঁরা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হয়রানি বন্ধ করা এবং পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার সুরক্ষা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
কর্মশালায় সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার সঙ্গে পেশাগত দায়বদ্ধতার সমন্বয় এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও দায়িত্বসংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন। প্রশিক্ষক ও রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব আব্দুস সবুর। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক রফিকুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সমাজের অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরার পাশাপাশি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন এবং দায়িত্বশীল সংবাদচর্চার মাধ্যমে গণমাধ্যমের মানোন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এ ধরনের প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধন এবং নৈতিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ডেইলি জনতার ডায়েরি’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মোঃ মমিনুল ইসলাম।
সত্য, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে ডেইলি জনতার ডায়েরির কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, জনসাধারণের সমস্যা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সমসাময়িক নানা বিষয় তুলে ধরার মাধ্যমে গণমাধ্যম হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মমিনুল ইসলাম।
তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “নিরপেক্ষ সংবাদ ও সবার অধিকার প্রতিষ্ঠায় ডেইলি জনতার ডায়েরি কাজ করে যাবে।”
ডেইলি জনতার ডায়েরির পক্ষ থেকে সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মমিনুল ইসলামকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের মানুষের নানা সমস্যা ও সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ প্রকাশ করে আসা সাংবাদিক নাদিরুজ্জামান আজমল নিজের সাংবাদিকতা, অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক মানসিক ক্লান্তির কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘মানুষের কথা বলতে গিয়ে একদিন একা হয়ে গেলে সাহস দেবে কে?’
পোস্টে নাদিরুজ্জামান আজমল লেখেন, গত কয়েক দিন ধরে তিনি নিজেকেই প্রশ্ন করছেন—‘আমি কি সত্যিই থেমে যাব?’
তিনি জানান, একটা সময় কোনো ঘটনা ঘটলেই তার ভেতর থেকে তাগিদ আসত বিষয়টি নিয়ে লিখতে হবে। মানুষের সমস্যা তুলে ধরতে হবে। যে মানুষটি নিজের কথা বলতে পারছেন না, তার হয়ে অন্তত কয়েকটি শব্দ লেখার চেষ্টা করতে হবে।
অষ্টগ্রামের সড়কের দুরবস্থা, মানুষের দুর্ভোগ, কৃষকের সমস্যা, স্বাস্থ্যসেবার সংকট ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ করেছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অন্যায়ের শিকার মানুষের কথাও তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বলে জানান।
তবে সবসময় এসব প্রতিবেদন বা প্রশ্নের পর কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাননি বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, অনেক সময় লিখেছেন, কিন্তু কোনো উত্তর আসেনি; প্রশ্ন করেছেন, কিন্তু পেয়েছেন নীরবতা। মানুষের জন্য দাঁড়ানোর পর সেই মানুষদের অনেককেই পরে পাশে না পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নাদিরুজ্জামান আজমল বলেন, সাংবাদিকতা তার কাছে শুধু পেশা নয়; মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মাধ্যম এবং নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকার চেষ্টা।
সাংবাদিকতা করতে গিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ও সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে ব্যক্তিগত আক্রোশ, প্রশ্ন তুললে কারও ইন্ধনে কাজ করা কিংবা অনিয়ম তুলে ধরলে শত্রুতার অভিযোগ ওঠে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘তাহলে একজন সাংবাদিক একসময় নিজের কাছেই প্রশ্ন করে, আমি আসলে কার জন্য লিখছি?’
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আজমল বলেন, কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত যুদ্ধ করা তার উদ্দেশ্য নয়। কাউকে ছোট করা বা অপমান করে নিজেকে বড় করার ইচ্ছাও নেই। অষ্টগ্রামের সাধারণ মানুষের কথা আরও দূরে পৌঁছে দেওয়াই তার উদ্দেশ্য।
হাওরের মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন সংকটের কথাও পোস্টে তুলে ধরেন তিনি। বর্ষায় মানুষের জীবনযাপন, পানি কমে গেলে যোগাযোগের দুর্ভোগ, রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ভোগান্তি এবং কৃষকদের অনিশ্চয়তার বিষয়গুলো সামনে আনার কথা উল্লেখ করেন।
তার মতে, একটি সংবাদ দিয়ে পৃথিবী বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে একটি সংবাদ কখনো একজন মানুষের জন্য একটি দরজা খুলে দিতে পারে। একটি প্রতিবেদন কোনো কর্তৃপক্ষকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করতে পারে। আবার একটি প্রশ্ন এমন কোনো বিষয় সামনে আনতে পারে, যা অনেকেই দেখেও এতদিন না দেখার ভান করেছেন।
দীর্ঘদিনের এই পথচলায় বর্তমানে কিছুটা ক্লান্তি এসেছে জানিয়ে আজমল লিখেছেন, কখনো কখনো মনে হয় সব ছেড়ে দেবেন। কলম পাশে রেখে দেবেন, ক্যামেরা বন্ধ করে দেবেন এবং আর কোনো অভিযোগ শুনবেন না।
তবে অষ্টগ্রামের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অষ্টগ্রাম শুধু একটি উপজেলা নয়—এটি তার জন্মস্থান, কর্মক্ষেত্র এবং নিজের মানুষের জায়গা। তাই চাইলেও পুরোপুরি দূরে সরে যেতে পারবেন না।
নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি চুপ থাকলেও মানুষের সমস্যাগুলো কি থেমে থাকবে? অন্যায় কি থেমে যাবে? তার উত্তর—না।
সাংবাদিকতা কোনো পদ-পদবি, পুরস্কার কিংবা কাউকে খুশি করার জন্য করেননি বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন আজমল। তার ভাষায়, নিজের ভেতরের তাগিদ থেকেই তিনি লিখেছেন।
পোস্টের শেষদিকে তিনি লেখেন, ‘একজন সাংবাদিক যদি মানুষের কথা বলতে গিয়ে একদিন একা হয়ে যায়, তাহলে তাকে কে সাহস দেবে?’ এ প্রশ্নের উত্তর তিনি জানেন না। তবে এমন একজনের অপেক্ষায় আছেন, যিনি একদিন এসে বলবেন—‘ভাই, আপনি থামবেন না। আপনি লিখুন। আমরা আপনার সঙ্গে আছি।’
মানুষের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আহত, ক্লান্ত বা অভিমানী হতে পারেন, কিন্তু অষ্টগ্রামের মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতাকে সহজে শেষ করে দিতে পারবেন না।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লিখেছেন, ‘আমি জানি না আমি থামব কি না। তবে এটুকু জানি, আমাকে থামিয়ে দিলেও মানুষের প্রশ্নগুলো থামবে না।’
শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেওয়া ওই ফেসবুক পোস্টের পর সাংবাদিকতা ও অষ্টগ্রামের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার দীর্ঘদিনের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রেস-ক্লাব ট্রাস্টের, ঢাকা বিভাগ এর দক্ষিণ-অঞ্চলের, ফরিদপুর জেলার (সাবেক) ৫ জেলা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর শরীয়তপুর এই জেলা গুলোর প্রধান কার্যালয় এখন ফরিদপুরের বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রেস-ক্লাব ট্রাস্টের সেন্ট্রাল (চেয়ারম্যান) মাননীয়, জনাব: লায়ন মোঃ হেলাল উদ্দিন হিলু স্যার ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মোঃ মাসুম বিল্লাহ স্যার, এই দুইজনের সমতিক্রমে এই পাঁচ জেলার প্রধান কার্যালয় ফরিদপুর ঘোষণা করেন, এই কমিটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন, জনাব- এ, এফ, এম, কাইয়ুম জঙ্গি সিনিয়র- সাংবাদিক ও জেনারেল-সেক্রেটারি নির্বাচিত হলেন, প্রবীর কুমার তালুকদার সুজিৎ, সিনিয়র-সাংবাদিক, এই পাঁচটি জেলা সহ সকল উপজেলায় কমিটি নিয়োগ সহ সকল প্রকার নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া হইল, প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল সেক্রেটারি দয়দেরকে, তাই কমিটির প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল-সেক্রেটারি, আন্তর্জাতিক প্রেস-ক্লাব ট্রাস্টের মাননীয় (চেয়ারম্যান) জনাব, লায়ন মোঃ হেলাল উদ্দিন হিলু স্যার ও সিনিয়র (যুগ্ম-মহাসচিব) মোঃ মাসুম বিল্লাহ স্যারকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ যাপন করছে, বলে জানিয়েছেন। এদিকে আন্তরিক প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের পক্ষ থেকে এই পথচলা কে স্বাগত জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন সাংবাদিক গড়তে সকলে মিলে সুন্দর একটা বাংলাদেশ গড়বো। ইনশাআল্লাহ!
গাজীপুরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে দৈনিক গ্রাম বাংলার আলো পত্রিকার ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৫টায় গাজীপুর চৌরাস্তার ময়মনসিংহ রোডস্থ হাজী টাওয়ারে দৈনিক গ্রাম বাংলার আলো পত্রিকার কার্যালয়ে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারেক জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. ফিরোজ আল মামুন। এ সময় পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, বার্তা সম্পাদকসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। পরে বিশ্বশান্তি এবং দৈনিক গ্রাম বাংলার আলো পত্রিকার সার্বিক সাফল্য ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ডা. ফিরোজ আল মামুন বলেন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করাই একটি সংবাদপত্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্যতা, নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আলোচনা সভা শেষে দৈনিক গ্রাম বাংলার আলো পত্রিকার ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। এ সময় পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান অতিথিরা। কেক কাটার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
জমি রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার জটিলতা নিরসন, ভূমি অফিসের আমলাতান্ত্রিক হয়রানি বন্ধ এবং পেশাগত অধিকার সুরক্ষায় আন্দোলনে নেমেছেন দলিল লেখকরা। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল রাখা এবং ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ‘বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি’।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী জেলার পবা উপজেলা দলিল লেখক সমিতি শেডে অনুষ্ঠিত এক জেলা সমাবেশে এসব দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।
বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি এস এম আয়নাল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃসানাউল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা কমিটির শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বর্তমানে একদিনেই সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় জমি রেজিস্ট্রি সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট অসাধু আমলাগোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং বাড়তি অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে জমি রেজিস্ট্রির কাজ ভূমি অফিসে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি, দুর্নীতি ও দালালি বাণিজ্য চরম আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। সমাবেশ থেকে দলিল লেখকদের পেশাগত সুরক্ষায় ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়: ১. আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা। ২. দলিল প্রতি ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানীয় ভাতা নির্ধারণ। ৩. লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কারও মাধ্যমে দলিল মুসাবিদা ও দাখিল বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি। ৪. সমিতি বা কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞদের দলিল লেখার লাইসেন্স না দেওয়া। ৫. সরকারি খরচে থানা ও জেলা কার্যালয়ে দলিল লেখকদের জন্য বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ। ৬. গ্রহীতা ও দাতার সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে দলিল লেখার কারণে কোনো প্রকার আইনি জটিলতায় দলিল লেখকদের আসামি না করা। ৭. অবিলম্বে স্বায়ত্তশাসিত ‘দলিল লেখক কাউন্সিল’ গঠনের অনুমতি দেওয়া। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ রাজশাহী জেলা দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন,কোষাধ্যক্ষ নাজমুল হক,ভবানীগন্জ দলিল লেখক সমিতির ইদ্রিস আলী,সামছুর রহমান, মামুনুর রশীদ, দূর্গাপুর দলিল লেখক সমিতির আজিজুল হক বাচ্চু,আলমগীর হোসেন,চারঘাট দলিল লেখক সমিতির ইয়াচিন আলী, রুস্তম আলী, পুঠিয়া দলিল লেখক সমিতির আফজাল হোসেন, তানোর দলিল লেখক সমিতির আব্দুস সামাদ প্রাং,গোদাগাড়ী দলিল লেখক সমিতির গিয়াস উদ্দিন,পবা দলিল লেখক সমিতির আহসান হাবীব বাবু,বাঘা দলিল লেখক সমিতির শাহিন আলম প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, দ্রুত এসব যৌক্তিক দাবি মেনে না নেওয়া হলে সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) রাজৈর উপজেলা শাখার সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সংগঠনের থানার মোড় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়, সাংবাদিকদের ঐক্য ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিএমএসএফ রাজৈর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম ফেরদৌস হোসাইন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আউয়াল ফকির, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সানোয়ার হোসেন, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান সনেট, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এমারত ও কার্যকরী সদস্য মেহেদী হাসানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
সভায় সংগঠনের চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানো এবং সাংবাদিকদের পেশাগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এদিকে, বিভিন্ন জরুরি কাজে ব্যস্ত থাকায় সংগঠনের কয়েকজন সদস্য সভায় উপস্থিত হতে পারেননি।