October 29, 2026

অন্যান্য

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

দুর্গাপূজা উপলক্ষে মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে পাঁচ ধরনের পণ্য দিয়ে দুই শতাধিক অসহায় ও নিম্নআয়ের হিন্দু পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সহায়’।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে একটি টোকেন দেওয়া হয়। এর বিপরীতে পাঁচ টাকা দিয়ে তাঁরা সংগ্রহ করেন পোলাওয়ের চাল, চিনি, ভোজ্যতেল, নারকেল ও একটি মুরগি।

উপকারভোগী রমেশ বলেন, মাত্র পাঁচ টাকায় এতগুলো প্রয়োজনীয় পণ্য পেয়ে তিনি আনন্দিত। এসব পণ্য দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পূজার আয়োজন করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা মো. কাজল রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. সাগর, সায়মুনসহ অন্যান্য সদস্য ও অতিথিরা।

সহায় সংগঠনের উপদেষ্টা মো. কাজল রহমান বলেন, আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলোর পূজার আনন্দ বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাগর জানান, পাঁচ টাকার বিনিময়ে পাঁচ ধরনের পণ্য বিতরণ তাঁদের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ।

স্থানীয়দের মতে, উৎসবের সময়ে নিম্নআয়ের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে মো. আকরাম ও হুজাইফা নামে দুই বছর বয়সী জমজ দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মেরকুটা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত দুই শিশু ওই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আক্কাস মিয়ার জমজ ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে দুই ভাই বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলাধুলা করছিল।

একপর্যায়ে তাদের খেলার বল পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। বলটি তুলতে গিয়ে প্রথমে এক ভাই পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। এ সময় তাকে বাঁচাতে অপর ভাইও পানিতে নামে। পরে দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়।

এদিকে, দীর্ঘক্ষণ দুই শিশুকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে তাদের উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

মাত্র দুই বছর বয়সী দুই সন্তানকে একসঙ্গে হারিয়ে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। জমজ দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে মেরকুটা উত্তরপাড়া গ্রামজুড়েও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জে সাংবাদিক লুৎফর সিকদারের আদরের কন্যা তাসনিম ইসলাম (নওমি)-এর ১২তম শুভ জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উপস্থিতিতে জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা ও বিভিন্ন আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তাসনিম ইসলাম (নওমি) গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তার জন্মদিন উপলক্ষে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের গোপালগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক লুৎফর সিকদার তার প্রিয় কন্যার জন্মদিনে আবেগঘন শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দেখতে দেখতে তার আদরের মেয়ের জীবনের ১২টি বছর পার হয়ে গেল। মেয়ের মিষ্টি হাসি ও নিষ্পাপ মুখ তার জীবনের সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। তিনি মেয়ের আগামী দিনগুলো অনাবিল আনন্দ, সাফল্য ও সুস্বাস্থ্যে ভরে উঠুক বলে কামনা করেন।

এদিকে নওমির ১২তম জন্মদিনে পরিবারের সদস্যরা তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুন্দর জীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। মহান আল্লাহ যেন তাকে একজন সৎ, যোগ্য ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার তৌফিক দান করেন এবং তার জীবনের প্রতিটি স্বপ্ন পূরণ করেন—এমন প্রার্থনাও করেন তারা।

পরিবারের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাবা লুৎফর সিকদার, মা, ভাই রেজোয়ান ইসলাম (সীমান্ত), ভাই রাজিব রায়হান, বড় ভাবী রুকাইয়া (রাইসা) এবং বড় বোন সানজিদা ইসলামসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়স্বজন।

প্রিয় নওমির জীবনের নতুন বছরটি আনন্দ, ভালোবাসা, সাফল্য ও সুন্দর মুহূর্তে পরিপূর্ণ হয়ে উঠুক—এই প্রত্যাশায় পরিবারের সবাই তাকে জানিয়েছেন একরাশ লাল গোলাপের শুভেচ্ছা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।

শুভ জন্মদিন, নওমি বাবু! 🎂🌸❤️

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের দড়ি লাপাং এলাকায় মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে পরিস্থিতি ক্রমেই আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছে।

নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা ও ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে এবং ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তিনি দড়ি লাপাং এলাকায় গিয়ে নদীভাঙনের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দুর্ভোগ, উদ্বেগ ও সমস্যার কথা শোনেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে দড়ি লাপাংসহ নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বসতভিটা ও মূল্যবান সম্পদ হারানোর আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। অতীতেও এ এলাকায় নদীভাঙনে বাড়িঘর বিলীন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পরিদর্শনকালে নদীভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এ সময় নবীনগর উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলামের। গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও
আজ ২০ অক্টোবর রবিবার
ছয় দিন পরও মৃত্যুদণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পারেনি তাঁর পরিবার।

এ ঘটনায় হতবাক স্বজন ও প্রতিবেশীরা। অন্যদিকে, নজরুলের মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে সেদিনই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)।

নিহত নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে এসএসসি পাস করার পর ২০২২ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে মক্কা নগরীর পবিত্র হারাম শরিফে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় সাত মাস পর থেকে নজরুলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরে একদিন হঠাৎ ফোন করে তিনি জানান, কারাগারে বন্দি রয়েছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায়ও পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। এ সময় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন নজরুল।

নজরুলের বাবা আবদুল বাছির জানান, প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে তাঁর ছেলে সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে গত রোববার ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষবারের মতো কথা হয়।
আবদুল বাছির বলেন, ‘প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে সে কারাগারে ছিল। গত রোববার আমাকে ফোনে জানায়, সে সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এটাই তার সঙ্গে আমার শেষ কথা।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৪ অক্টোবর নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন তাঁরা। সৌদি আরবে অনৈতিক কাজের অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কী অভিযোগে, কোন মামলায় এবং কী প্রক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরিবারের সদস্যরা এখনো জানতে পারেননি।
নজরুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা সইতে না পেরে সেদিনই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর ফুফু আবেদা বেগম। স্বজনদের কাছে নজরুলের মৃত্যু যেন একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে না পারার গভীর অনিশ্চয়তা।

পরিবারের একমাত্র ভরসা হয়ে বিদেশে যাওয়া নজরুলের এমন পরিণতিতে বিরামপুর গ্রামের মানুষও হতবাক। তাঁর মৃত্যুদণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছেন।

মোঃ ফারুক আহমদ, গাজীপুর।

গাজীপুরের কোনাবাড়ির জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া গ্রুপের চার পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানায় বড় ধরনের জনবল ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আর্থিক সংকট, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও অতিরিক্ত জনবলের কারণ দেখিয়ে দ্বিতীয় দফায় একযোগে ৭৩৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কারখানার প্রধান ফটকে ছাঁটাই সংক্রান্ত নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই গেটের সামনে ভিড় জমান কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকরা। দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থান হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে; এলাকায় তৈরি হয় তীব্র অসন্তোষ ও চাপা উত্তেজনা।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ছাঁটাই কার্যকর হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন এবং কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকিং জটিলতা ও বকেয়া গ্যাস বিলের কারণে সংযোগ বন্ধ থাকায় গত ৬ জুন থেকেই কারখানাগুলোতে লে-অফ (সাময়িক কর্মবিরতি) চলছিল, যা দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে টিকে থাকার অংশ হিসেবে শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী কিছু পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে অতিরিক্ত জনবল ছাঁটাইয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হঠাৎ চাকরি হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন কয়েক দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শ্রম দিয়ে আসা কর্মীরা। কারখানা প্রাঙ্গণে অশ্রুসিক্ত চোখে সুইং অপারেটর ইয়াসমিন বেগম জানান, জীবনের ১৮টি বছর এই প্রতিষ্ঠানে কাটিয়ে আজ হঠাৎ বেকার হয়ে পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছেন তিনি। প্রায় ১৯ বছর ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আবেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবনের বড় একটি অংশ দিয়ে শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে পথে বসতে হচ্ছে।
শ্রমিকদের একযোগে এই ছাঁটাইয়ের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, বারংবার লে-অফ দেওয়ার পর এক নোটিশেই শত শত শ্রমিককে ছাঁটাই করা চরম অবিচার। তিনি অবিলম্বে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের সকল আইনানুগ পাওনা ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে শ্রম আইন অনুসরণ করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সকল বকেয়া ও সুবিধা দ্রুত পরিশোধ করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে কারখানা পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গিয়ে নতুন নিয়োগ দিলে আইন মোতাবেক এসব দক্ষ কর্মীরাই অগ্রাধিকার পাবেন।
যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানা এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, কেয়া গ্রুপের চার ইউনিটে কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাঁটাইয়ের প্রেক্ষিতে কারখানার প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৪ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের সীচা বাজারের সেটের টাইলসের কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে আজ।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমানের সহযোগিতায় এ কাজের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চন্ডিপুর ইউনিয়নের জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. রঞ্জু মিয়া, কাপাসিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদসহ চন্ডিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়নে টাইলসের কাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মীয় উপাসনালয়, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পূর্ব জোন। এ লক্ষ্যে তিন জেলার ১১টি উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় ৬৩টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কাজ করছে বাহিনীটি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

কোস্ট গার্ড জানায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে আসছে বাহিনীটি। এরই ধারাবাহিকতায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূর্ব জোনের আওতাধীন উপকূলীয় অঞ্চলের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

পূজাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে, যাতে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন।

এ ছাড়া প্রতিমা বিসর্জনের সময় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের বিশেষ ডুবুরি দল প্রস্তুত থাকবে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য বাহিনীর জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করা যাবে।

রনজিৎ সরকার রাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু।

সভায় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম, চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং জনসেবার মান আরও উন্নত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আফরোজ সুলতানা লুনা, বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরুফুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আহসান হাবীব সরকার, প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আমিরুল বাহার, বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, জাকির হোসেন রাজা, রাজিউর রহমান রাজু, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ শিপনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সভায় উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে জনসেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

রংপুর প্রতিনিধি:

গ্রামের সেই মেঠোপথ আর মাঠেঘাটে ঘুরে পাওয়া বাস্তবতার শিক্ষা থেকে জাতীয় পর্যায়ের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার মঞ্চ! মেধা, পরিশ্রম আর কৃষিকে ঘিরে নতুন স্বপ্নের গল্প লিখেছেন রংপুরের মিঠাপুকুরের সন্তান কৃষিবিদ মো. রিয়াদ মিয়া। কৃষককেন্দ্রিক স্মার্ট কৃষি ইকোসিস্টেমের উদ্ভাবনী মডেল নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ‘আইডিয়া ফেস্ট ২০২৫’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) দল।সেই দলের অন্যতম সদস্য রিয়াদ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার ও সনদ গ্রহণ করে অর্জন করেছেন গৌরব।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পুরস্কার বিতরণ ও সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকার শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে। ফাউন্ডেশনটির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে অর্থ পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। বিএনপি সব সময় মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে উল্লেখ করে তিনি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।
গত ১০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতাটির চূড়ান্ত পর্ব। ‘Farmer-Centered Smart Agricultural Ecosystem for Future Bangladesh’ শীর্ষক মডেলটির মাধ্যমে কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং কৃষিকে আরও লাভজনক, টেকসই ও রপ্তানিমুখী করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিযোগীরা।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০০টি দল অংশ নেয়। প্রাথমিক বাছাই শেষে ১৮টি দল সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেখান থেকে সাতটি দল চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ আয়োজনে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল।

প্রস্তাবিত মডেলে কৃষিসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও বাজারব্যবস্থাকে একটি জাতীয় নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কৃষক ও বাজারের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া মাটি, জলবায়ু ও বাজারের চাহিদা বিবেচনায় প্রিসিশন কৃষি, রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন, কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজন এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত সমন্বয় বাড়িয়ে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
চ্যাম্পিয়ন দলের অন্য সদস্যরা হলেন কৃষি অনুষদের ৭৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ মোস্তফা মুনিম এবং কৃষি অর্থনীতি অনুষদের ৭৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মুহাইমিনুল ইসলাম। রিয়াদ মিয়া কৃষি অর্থনীতি অনুষদের ৮০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর (আখিরারটারী) গ্রামের বাসিন্দা রিয়াদ মিয়ার বাবা মো. নুর ইসলাম এবং মা মোছা. রনজিনা বেগম। তিনি পাগলারহাট মঞ্জুশ্রী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি এবং মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

নিজেদের অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করে রিয়াদ মিয়া বলেন, এ অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। দেশের উন্নয়নে নিজেদের জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগানোর সুযোগ বড় প্রাপ্তি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি খাতকেও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

দলের সদস্য মারুফ মোস্তফা মুনিম বলেন, আমরা তাত্ত্বিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না; বরং তা বাস্তবে প্রয়োগ করে বাংলাদেশের কৃষির সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান খুঁজতে চাই।
আরেক সদস্য মো. মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং উৎপাদনকে দক্ষ ও বাজারমুখী করার প্রচেষ্টারই প্রতিফলন আমাদের এ মডেল।

মডেলটি সরকারের বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষিসেবার সমন্বয় বাড়বে, কৃষকের ন্যায্য মূল্যপ্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির পথ সুগম হবে।