

উপশিরোনাম: সঠিক নিয়মে আবেদন করতে গিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ; দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি, তদন্ত চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অনিয়ম, হয়রানি ও দালালনির্ভরতার অভিযোগ উঠেছে। সঠিক কাগজপত্র নিয়ে সরকারি নিয়মে আবেদন করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ভোগান্তির শিকার হলেও দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ মিলছে—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার সময় নানা ধরনের ত্রুটি দেখিয়ে তাদের আবেদন ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এতে একাধিকবার অফিসে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অন্যদিকে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে কথিতভাবে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে একই ধরনের আবেদন দ্রুত গ্রহণ করা হচ্ছে।
সোজা পথে ভোগান্তি, দালালের মাধ্যমে দ্রুত সেবার অভিযোগ
সেবাগ্রহীতাদের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন নিয়ে অফিসে গেলেও নানা কারণে তাদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেককে একাধিকবার অফিসে আসতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পর দ্রুত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যদি দালালের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
অফিসে সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন উৎপল মৃধা, সিমলা রানী বিশ্বাস, প্রবীর বিশ্বাস রাজু, অবনি বিশ্বাস ও করুনা রানী বিশ্বাস।
তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিয়ম মেনে পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে গেলেও বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। পরে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
তাদের ভাষ্য, বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং সরকারি সেবায় দালালনির্ভরতা বন্ধ করা সম্ভব হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পাশাপাশি অফিসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। একটি সূত্রের দাবি, অফিসের উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পালের সঙ্গে দালালদের যোগাযোগ রয়েছে এবং দালালনির্ভর সেবা কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অমিত কুমার পালের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সহকারী পরিচালকের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না।
ফলে দালালচক্র, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে অফিস কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তদন্তের দাবি
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা পেতে কোনো ধরনের দালালনির্ভরতা বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের সুযোগ থাকা উচিত নয়। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধ এবং স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক সেবা নিশ্চিত করবে।




