

নিজস্ব প্রতিবেদক:
অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল (জেলা ৩১৫ এ১, বাংলাদেশ)-এর অন্তর্গত লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা সাভার। ক্লাবটির উদ্যোগে এবং লায়ন মোঃ হুমায়ুন কবিরের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত বিনামূল্যে ছানি অপারেশন ক্যাম্পে ২৬ জন রোগীর চোখে সফলভাবে ছানি অপারেশন ও লেন্স সংযোজন করা হয়েছে।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সাভারের আশুলিয়া ধামসোনা ইউনিয়নের সুবন্দী তালটেকী জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি রোগী বাছাই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে ছানি অপারেশনের জন্য রোগী নির্বাচন করা হয়।
বাছাই করা রোগীদের গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার আগারগাঁওস্থ বিএলএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ১৬ জন পুরুষ ও ১০ জন নারীসহ মোট ২৬ জন রোগীর চোখে ছানি অপারেশন ও লেন্স সংযোজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
অপারেশন শেষে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়ার পর রোগীদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে রোগীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা যায়।
তবে শারীরিক পরীক্ষার সময় ৯ জন রোগীর অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ায় তাঁদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চিকিৎসকরা আপাতত অপারেশন স্থগিত রাখেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসার পর তাঁদের পুনরায় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোগীদের যাতায়াত, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অপারেশন, লেন্স সংযোজন ও ওষুধপত্রসহ চিকিৎসার যাবতীয় খরচ লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা সাভার বহন করেছে।
বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা ও অপারেশনের সুযোগ পেয়ে রোগীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় এলাকাবাসীও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে লায়ন্স ক্লাব ও লায়ন মোঃ হুমায়ুন কবিরের উদ্যোগ মানুষের জন্য কল্যাণকর।
উল্লেখ্য, “Together We Rise, Together We Thrive” স্লোগানকে সামনে রেখে লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা সাভার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, স্বাস্থ্য ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে ক্লাবের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।




